<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ফরিদ মোল্লা, Author at ইতিবৃত্ত</title>
	<atom:link href="https://itibritto.com/author/faridmolla31/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://itibritto.com/amp/author/faridmolla31/</link>
	<description>বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র</description>
	<lastBuildDate>Fri, 27 Mar 2026 10:43:14 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>
	<item>
		<title>ভ্লাদিমির পুতিন: গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠার গল্প</title>
		<link>https://itibritto.com/vladimir-putin/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 25 Aug 2018 21:54:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=9845</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" fetchpriority="high" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images-1024x576.jpg 1024w" sizes="(max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div>
<p>তিনি পশ্চিমা শক্তির হুংকারের মুখে দাঁড়িয়ে তার নিজ শক্তিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তিনি যেমন ছিলেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দাপটের সাথে এগিয়ে চলা একজন নেতা তেমনি তার দেশের অভ্যন্তরেও ছিলেন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও উন্নত জীবনযাত্রার মাধ্যমে রাশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার পক্ষে সোচ্চার।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/vladimir-putin/">ভ্লাদিমির পুতিন: গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠার গল্প</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir-Putin-Images-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div><p>একটা সময় ছিল যখন সমগ্র বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত । একভাগে ছিল সমাজতন্ত্র অপর ভাগে ছিল পুঁজিবাদ। সমাজতন্ত্রের নেতৃত্বে ছিল সোভিয়েত <strong><a href="https://itibritto.com/zor-empire/">রাশিয়া</a></strong> এবং পুঁজিবাদের নেতৃত্বে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এই পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতার পর পুঁজিবাদ জয় লাভ করে অপরদিকে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটে। এরই সাথে সাথে বিশ্বে একক শক্তি হিসেবে মার্কিনীদের উত্থান হয়। অপরদিকে সোভিয়েত রাশিয়ার ক্ষমতা লোপ পায়। কিন্তু রাশিয়া তার হারানো শক্তি ও ঐতিহ্য ফিরে পেতে মরিয়া ছিল সর্বদা। এর অংশ হিসেবে একজন দক্ষ শাসকও খুঁজছিল তারা। এই পরিস্থিতিতেই উত্থান হয় ভ্লাদিমির পুতিন এর। যার মধ্যে রাশিয়ার মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তারা তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে। যদিও শুরুর দিকে তাদের এই স্বপ্নকে বাস্তবতা বিবর্জিত কল্পনা হিসেবে অনেকেই মনে করেছেন। কিন্তু বর্তমানে পুতিন তার কর্ম দিয়ে এই স্বপ্নকে অনেকটাই বাস্তবতার কাছে নিয়ে এসেছে।তবে পুতিনের আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনের গল্পটা কখনো সহজ-সরল ছিল না। পুতিনের জীবন ও রাশিয়ার নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে এই নিবন্ধে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #008000;"><strong>ভ্লাদিমির পুতিনের পরিচয়</strong></span></h3>
<p>ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি <strong><a href="https://itibritto.com/russian-jar-and-russian-revolution/">রাশিয়া</a></strong>র প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৫২ সালে লেলিনগ্রাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োজিত একজন নৌবাহিনীর সদস্য ও তার মাতা ছিলেন একজন কারখানা শ্রমিক।তার দাদা ছিলেন পেশায় একজন বাবুর্চি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির। ধরাবাঁধা পড়াশুনায় তার মনোযোগ ছিল কম। তিনি কঠিন পরিবেশে সেন্ট পিটার্সবার্গে(লেলিনগ্রাদের অপর নাম) বেড়ে উঠেন।</p>
<figure id="attachment_9859" aria-describedby="caption-attachment-9859" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="size-full wp-image-9859" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/young-world-leaders-presidents-thumb640.jpg" alt="" width="640" height="787" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/young-world-leaders-presidents-thumb640.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/young-world-leaders-presidents-thumb640-244x300.jpg 244w" sizes="(max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-9859" class="wp-caption-text">শৈশবে পুতিন; Source:demilked.com</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong><span style="color: #008000;">ভ্লাদিমির পুতিনের শিক্ষা জীবন</span></strong></h3>
<p>১৯৬০ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়।তিনি লেলিনগ্রাদের একটি প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন।সেখানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর ১৯৬৮ সালে কারিগরী ইন্সটিটিউটের অধীনে একটি হাই স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭০ সালে সেখান থেকে তিনি পাশ করে বের হন।</p>
<figure id="attachment_9860" aria-describedby="caption-attachment-9860" style="width: 237px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class=" wp-image-9860" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir_Putin_in_KGB_uniform.jpg" alt="" width="237" height="373" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir_Putin_in_KGB_uniform.jpg 200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Vladimir_Putin_in_KGB_uniform-190x300.jpg 190w" sizes="(max-width: 237px) 100vw, 237px" /><figcaption id="caption-attachment-9860" class="wp-caption-text">কেজিবির ইউনিফর্মে পুতিন; Source: Wikipedia</figcaption></figure>
<p>কিন্তু স্কুল জীবন শেষ করার পূর্ব থেকেই তার একমাত্র ব্রত ছিল সোভিয়েত রাশিয়ার তৎকালীন বিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি তে যোগদান করা।সেসময় থেকেই তিনি জানতেন যে গোয়েন্দা সংস্থায় তাকে যোগ করতে হলে অবশ্যই রাশিয়ান সেনাবাহিনী অথবা আইন বিভাগের ছাত্র হতে হবে।তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে করেই হোক তাকে আইন বিভাগে পড়তেই হবে অর্থাৎ তখন থেকে তার শিক্ষা জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া।</p>
<figure id="attachment_9855" aria-describedby="caption-attachment-9855" style="width: 460px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9855" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-2.jpg" alt="" width="460" height="305" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-2.jpg 460w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-2-300x199.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 460px) 100vw, 460px" /><figcaption id="caption-attachment-9855" class="wp-caption-text">বন্ধুর সাথে পুতিন; Source: eng.putin.kremlin.ru/bio</figcaption></figure>
<p>পুতিনের অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও প্রচেষ্টার ফলে ১৯৭০ সালে রাশিয়ার বিখ্যাত লেলিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। তার বিভাগে ১০০ ছাত্রের মধ্যে মাত্র যে ১০ জন ছাত্র তাদের স্কুল সমাপ্ত করার পর পরই ঐ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল পুতিন ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। ১৯৭৫ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে আইন বিভাগ থেকে পাশ করে বের হন।১৯৮০ সালের গোঁড়ার দিকে তিনি তার স্বপ্নের দেখা পান অর্থাৎ গোয়েন্দা বাহিনী তে যোগদান করেন।শুরু হয় তার জীবনের চ্যালেঞ্জিং পথ চলা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong><span style="color: #008000;">কর্মজীবনে পুতিন</span></strong></h3>
<p>গোয়েন্দা বাহিনীতে যোগদানের পর প্রথমে তার পদায়ন হয় জাতীয় গোয়েন্দা বাহিনীতে। সেখানে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখায় বদলি হন। সেখানে পাঁচ মাসের মত কাজ করার পর তাকে অপারেশন ও পুনঃপ্রশিক্ষন কোর্সে পাঠানো হয়। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আবার কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখায় ফিরে আসেন। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এ দ্বিতীয় মেয়াদে কাজ করার সময়ে তিনি ফরেন ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য মস্কোতে পাঠানো হয়। সেখানে এক বছর কাটানোর পর তিনি লেলিনগ্রাদে ফিরে যান, সেখানকার প্রধান কেজিবি শাখায় তিনি প্রায় সাড়ে চার বছর কাজ করেন। তারপর তিনি মস্কোতে ফিরে আসেন সেখানে তিনি কেজিবি ১নং স্কুলে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জার্মানিতে যাবার সকল প্রশিক্ষণ সেখানেই সমাপ্ত হয়। এই প্রশিক্ষণ শেষে তিনি গোয়েন্দা-বৃত্তির জন্য জার্মানিতে গমন করেন।সেখান থেকে তিনি সকল তথ্য কেন্দ্রীয় কেজিবি সদরে প্রেরণ করতেন। তাছাড়া জার্মানিতে নিযুক্ত সকল কেজিবি সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এসব কাজ তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে থাকতেন।</p>
<figure id="attachment_9856" aria-describedby="caption-attachment-9856" style="width: 369px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class=" wp-image-9856" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-3.jpg" alt="" width="369" height="246" /><figcaption id="caption-attachment-9856" class="wp-caption-text">কর্মজীবনের শুরুর দিকে পুতিন,; Source: eng.putin.kremlin.ru/bio</figcaption></figure>
<p>১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ – এই পাঁচ বছর পুতিন রাশিয়ান এজেন্ট হিসেবে পূর্ব জার্মানিতে কাজ করেন। জার্মানিতে কাজ করাকালীন তিনি পদন্নোতি পেয়ে প্রথমে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং পরে আবারও পদন্নোতি পেয়ে বিভাগীয় প্রধানের প্রধান সহকারী হন। ১৯৮৯ সালে জার্মান রিপাবলিকে কাজ করা রাশিয়ান এজেন্টদের জন্য প্রদেয় মেডেল ও সম্মাননায় ভূষিত হন “ন্যাশনাল পিপলস আর্মি”’ এর প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ সেবার পুরস্কার হিসেবে।</p>
<h3><strong><span style="color: #008000;">রাজনীতিতে পুতিন</span></strong></h3>
<p>১৯৯৭ সালে ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপতির অফিস সহকারী চিফ অব স্টাফ এবং প্রধান নিয়ন্ত্রিত দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক দপ্তরের চিফ অব স্টাফ কাজ শুরু করেন। তার কিছুদিন পরেই তিনি ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে আসে পুতিনের জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। সেসময়কার রাষ্ট্রপতি তাকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অল্পকাল অতিবাহিত করার পর রাষ্ট্রপতি ইয়েলতসিন পুতিনের মধ্যে রাশিয়ার অস্তমিত সূর্যের পূনর্দয় ঘটানোর ক্ষমতা দেখতে পান। সেইজন্যই ২০০০ সালের শুরুর দিকে ইয়েলতসিন পুতিনকে আপদ-কালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।</p>
<figure id="attachment_9861" aria-describedby="caption-attachment-9861" style="width: 1100px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9861" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/150313152955-04-vladimir-putin-0313-super-169.jpg" alt="" width="1100" height="619" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/150313152955-04-vladimir-putin-0313-super-169.jpg 1100w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/150313152955-04-vladimir-putin-0313-super-169-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/150313152955-04-vladimir-putin-0313-super-169-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/150313152955-04-vladimir-putin-0313-super-169-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1100px) 100vw, 1100px" /><figcaption id="caption-attachment-9861" class="wp-caption-text">প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করছেন পুতিন,; Source: CNN</figcaption></figure>
<p>২০০০ সালের মার্চ মাসে পুতিন প্রথমবারের মত রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর পর তার সামনে নানা চ্যালেঞ্জ এসে দেখা দেয় কারণ স্নায়ুযুদ্ধের পর সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের রাশিয়া সামাজিক,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রায় সব দিক হতে খুব খারাপ অবস্থায় চলে যায়। বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করে, সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে নেমে যায়। এই অবস্থা থেকে রাশিয়াকে টেনে তোলা মোটেই সহজসাধ্য কাজ ছিল না। একদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ চাপ অপরদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। পুতিন জানতেন তিনি এসব কিছু করতে ব্যর্থ হলে তার জনপ্রিয়তা চরম-মাত্রায় হ্রাস পাবে। যার দরুন তাকে ক্ষমতা থেকেও সড়ে দাঁড়াতে হতে পারে । এসব চাপ সত্ত্বেও তার রাশিয়াকে পুনরায় বিশ্বশক্তির কাতারে নিয়ে যাওয়া ও রাশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নের অদম্য ইচ্ছা থেকেই তিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করা শুরু করেন। তার একাগ্র কর্তব্যনিষ্ঠা ও তীক্ষ্ণ মেধার জোরে রাশিয়ার আসন্ন পতন থেকে অনেকটা টেনে তোলেন যার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি আবার ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে দ্বিতীয়বারের-মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদ সফলতার সাথে শেষ করার পর ২০০৮ সালের মে মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি না হওয়ার পিছনে কারণ হল রাশিয়ার কোন রাষ্ট্রপতি টানা দুই মেয়াদের বেশি সময় শাসন করার কোন বিধান নাই। ফলে তিনি ২০০৮ সাল হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বেই বহাল থাকেন। ২০১১ সালে পুতিন রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। ১১ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর সর্বশেষ ২০১৮ সালের মার্চ মাসের নির্বাচনে ৭৬% ভোট পেয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়াকে টানা প্রায় ১৯ বছর ধরে শাসন করে যাচ্ছেন।</p>
<figure id="attachment_9858" aria-describedby="caption-attachment-9858" style="width: 730px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9858" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-5.jpg" alt="" width="730" height="442" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-5.jpg 730w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/vp-5-300x182.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 730px) 100vw, 730px" /><figcaption id="caption-attachment-9858" class="wp-caption-text">১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর পুতিন, Source: ittefaq.com.bd</figcaption></figure>
<p>পুতিন রাশিয়ার শাসন ক্ষমতায় এত দীর্ঘদিন ধরে থাকার পিছনে কারণ হল তার জনপ্রিয়তা ও তার দক্ষ নেতৃত্ব।তিনি পশ্চিমা শক্তির হুংকারের মুখে দাঁড়িয়ে তার নিজ শক্তিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তিনি যেমন ছিলেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দাপটের সাথে এগিয়ে চলা একজন নেতা তেমনি তার দেশের অভ্যন্তরেও ছিলেন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও উন্নত জীবনযাত্রার মাধ্যমে রাশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার পক্ষে সোচ্চার। তিনি রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ২২০০ বাড়ী নির্মাণ করে দেন। তার সময়ে ঘটে যাওয়া তাপদাহে মৃত্যুবরণ করা প্রত্যেক পরিবারকে ১ মিলিয়ন রুবল করে অর্থ সহায়তা করা হয়। তাছাড়া তিনি রাশিয়ার কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন এবং সামরিক ক্ষেত্রে রাশিয়া কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।বর্তমানে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি ও নিজেদের সামরিক সক্ষমতার পরিসর দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি করছে। যদিও রাশিয়া সামরিক ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় ইতোমধ্যে প্রবেশ করে ফেলেছে। তবে এতসব কিছুর পরও পুতিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লাও কিন্তু হালকা না। তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ একনায়কিত আচরণ ও অন্যায়ভাবে বহির্বিশ্বে হস্তক্ষেপের মত বহ অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তথ্যসূত্রঃ<br />
http://eng.putin.kremlin.ru/bio<br />
https://www.history.com/topics/vladimir-putin<br />
http://loraku.com/%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B0<br />
https://www.bbc.com/bengali/news-44034901</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-8070" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/vladimir-putin/">ভ্লাদিমির পুতিন: গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠার গল্প</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আরব বসন্তঃ ইতিহাসে মরীচিকাময় এক রক্তাক্ত বিপ্লব</title>
		<link>https://itibritto.com/arab-spring/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 15 Aug 2018 19:38:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=9674</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="720" height="462" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3.jpg 720w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3-300x193.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3-210x136.jpg 210w" sizes="auto, (max-width: 720px) 100vw, 720px" style="aspect-ratio: 720/462;" /></div>
<p>পৃথিবীর ইতিহাসে যেসকল বড় বড় পরিবর্তন হয়েছে তার অধিকাংশই সাধিত হয়েছে বিপ্লবের মাধ্যমে। তাই বিপ্লবকে প্রগতির জন্য এক আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রেনেসাঁ,শিল্প-বিপ্লব,বলশেবিক বিপ্লবকে এখনো পৃথিবীর ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন বিপ্লব হিসেবে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সকল বিপ্লব সমর্থনকারী ব্যক্তির মনে বিপ্লব মানেই হল সাধারণ মানুষের মুক্তি,অধিকার প্রতিষ্ঠা,ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসও অনেকটা তাই সমর্থন করে। [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/arab-spring/">আরব বসন্তঃ ইতিহাসে মরীচিকাময় এক রক্তাক্ত বিপ্লব</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="720" height="462" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3.jpg 720w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3-300x193.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/kuva_3-210x136.jpg 210w" sizes="auto, (max-width: 720px) 100vw, 720px" style="aspect-ratio: 720/462;" /></div><p>পৃথিবীর ইতিহাসে যেসকল বড় বড় পরিবর্তন হয়েছে তার অধিকাংশই সাধিত হয়েছে বিপ্লবের মাধ্যমে। তাই বিপ্লবকে প্রগতির জন্য এক আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রেনেসাঁ,শিল্প-বিপ্লব,বলশেবিক বিপ্লবকে এখনো পৃথিবীর ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন বিপ্লব হিসেবে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সকল বিপ্লব সমর্থনকারী ব্যক্তির মনে বিপ্লব মানেই হল সাধারণ মানুষের মুক্তি,অধিকার প্রতিষ্ঠা,ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসও অনেকটা তাই সমর্থন করে। কিন্তু কখনো কখনো এর বিপরীতও হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের মুক্তি, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা নাও হতে পারে। তারই সাক্ষ্য বহন করে একবিংশ শতাব্দীতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় বিপ্লব “আরব বসন্ত”। আরব বসন্ত যে লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সংঘটিত হয়েছিল অর্থাৎ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জনসাধারণের অধিকার রক্ষা ও স্বৈরশাসনের অবসান করা এসবের সব কিছুই আজ প্রায় মরীচিকা। তবে আরব বসন্তের মাধ্যমে আরবে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা সত্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #008000;"><strong>আরব বসন্তের সূত্রপাতঃ</strong>  </span></h3>
<p>ডিসেম্বর ২০১০ <strong><a href="https://itibritto.com/biography-of-mohamed-bouazizi/">বুয়াজিজি</a></strong> নামক এক শিক্ষিত মুদি দোকানদার প্রকাশ্য নিজ শরীরে আগুন লাগিয়ে দেন। আর এটি ছিল তৎকালীন তিউনিসিয়ার বিদ্যমান দুর্নীতি,অপশাসন,মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ। বুয়াজিজি ছিলেন একজন শিক্ষিত যুবক পড়াশুনা শেষ করে চাকরীর জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন চাকুরী না পেয়ে স্বল্প পুঁজি নিয়ে মুদি দোকান নিয়ে বসেন। কিন্তু পুলিশের দুর্নীতি ও ঘুষের স্বীকার হয়ে তার এই সামান্য ব্যবসাও পণ্ড হয়ে যায়। ফলে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরেও ন্যায় বিচার না পেয়ে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে বেন আলী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এই আগুন নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে সকল তিউনিস প্রতিবাদীর রক্তে। ফলে আন্দোলন দানা বাঁধে। ২৬ ডিসেম্বর <strong><a href="https://itibritto.com/biography-of-mohamed-bouazizi/">বোয়াজিজি</a></strong> মৃত্যুবরণ করলে এই আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। প্রথমে এই আন্দোলন সমগ্র তিউনিসিয়া কে উত্তাল করে তোলে। পরবর্তীতে তা সীমান্ত ছাড়িয়ে মিশর,সিরিয়া,ইয়েমেন,বাহরাইন,ইয়েমেন,লিবিয়াসহ প্রায় সমগ্র আরব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়েই বেন আলীর পতন হয় এবং একইসাথে তথাকথিত অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধানদের পতনও শুরু হয়ে যায়।</p>
<figure id="attachment_9675" aria-describedby="caption-attachment-9675" style="width: 700px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9675" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Mohamed-Bouazizi-Arab-Spring-Tunisia.jpg" alt="" width="700" height="314" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Mohamed-Bouazizi-Arab-Spring-Tunisia.jpg 700w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/Mohamed-Bouazizi-Arab-Spring-Tunisia-300x135.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 700px) 100vw, 700px" /><figcaption id="caption-attachment-9675" class="wp-caption-text">আরব বসন্তের সূত্রপাতকারী বোয়াজিজি; Source: popularresistance.org</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #008000;"><strong>আরব বসন্তের বিস্তারঃ</strong></span></h3>
<p>৪ জানুয়ারি ২০১১ থেকে তিউনিসিয়ায় আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে ১৪ জানুয়ারি বেন আলী তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা থেকে অব্যাহতি নেন এবং পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।এতে আপাত দৃষ্টিতে বিদ্রোহীরা সফলতা লাভ করলে এর ঢেউ পার্শ্ববর্তী দেশেও আঘাত হানে। প্রথমেই এই খড়গ উঠে মিশরের উপর। মিশরে প্রায় ৩০ বছর ধরে একক শাসন পরিচালনা করে যাওয়া হুসনী মোবারকের সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিশরের সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে এবং তাহারীর স্কয়ারে একত্রিত হয়।</p>
<figure id="attachment_9676" aria-describedby="caption-attachment-9676" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9676" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ast.jpg" alt="" width="600" height="400" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ast.jpg 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ast-300x200.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-9676" class="wp-caption-text">আরব বসন্তের সময় তিউনিশিয়া</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<p>ফলে বাধ্য হয়ে হুসনী মোবারক কে ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা থেকে নেমে আসতে হয়। এতে জনগণ উল্লাসে ফেটে পড়ে। প্রায় একই সময়ে অন্যদিকে লিবিয়ার সাধারণ জনগণও দীর্ঘস্থায়ী একনায়ক <strong><a href="https://itibritto.com/biography-of-muammar-gaddafi/"> মোয়াম্মার গাদ্দাফি</a></strong>র বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। কিন্তু গাদ্দাফি এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি আন্দোলনকারী জনগণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি বরং আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিদ্রোহীদের কে ইউরোপ ও আমেরিকা জোট অস্ত্র সরবরাহ করে ফলে লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধের আকার ধারণ করে। এই অবস্থা দীর্ঘ নয় মাস চলার পর ২০ অক্টোবর<strong><a href="https://itibritto.com/biography-of-muammar-gaddafi/"> গাদ্দাফি</a></strong> পরাজিত ও নিহত হন। অপরদিকে <strong><a href="https://itibritto.com/syrian-crisis/">সিরিয়া</a></strong>র সরকার বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু বাশার আল আসাদ বিদ্রোহীদের কে মাথা তুলে ধারাতে দেননি। ফলে বাশার আল আসাদ বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে থাকে যা আজও বিদ্যমান রয়েছে। একইভাবে ইয়েমেনে স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল্লাহ সালেহের পতন গটে এবং ক্ষমতায় আসেন আব্দুরাব্বে মানসুর। বাহরাইনে বিদ্রোহ দেখা দিলেও তা ব্যাপকতা লাভ করতে পারেনি। তবে সেখানেও অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়াও আরবের অন্যান্য অঞ্চলেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পরছিল যদিও ঐসব অঞ্চলে এই বিপ্লব ততটা সাফল্য লাভ করতে পারেনি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #008000;"><strong>আরব বসন্তের ফলাফল কি ছিল?</strong> </span></h3>
<p>অনেকটা ঢাক-ঢোল পিটিয়েই পশ্চিমা মিডিয়া তিউনিসিয়ায় শুরু হওয়া বিপ্লব কে আরব বসন্ত হিসেবে প্রচার করে এবং এই বিপ্লবকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। আরব বসন্ত শেষ হয়ে যাওয়ার সাত বছর পরে এসে এখন অনেকেরই জানার ইচ্ছা যে আসলে আরব বসন্ত তার কাঙ্ক্ষিত দাবী পূরণ করতে পেরেছে কিনা? বা আরব বসন্তের প্রভাব কতটুকু?</p>
<p>যে তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র ,সুশাসন ও মানবাধিকারের আলো জ্বালানোর জন্য নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন বুয়াজিজি সেখানে এখনো পূরণ হয়নি বুয়াজিজির স্বপ্ন। ১৪ জানুয়ারি ২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বেন আলী পদত্যাগ করার পর গনতান্ত্রিকভাবেই ক্ষমতায় আসেন ঘানুচি। তিনিও পরিবর্তিত হয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেজি সাঈদের আগমন হয়। কিন্তু তিউনিসিয়ার জনগণের জীবনমানের কোন উন্নতি হয়নি। এখনো সেখানে সাত লক্ষ লোক বেকার। তার উপরে মুদ্রাস্ফীতি ও সাধারণ জনগণের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ। সব মিলিয়ে তিউনিসিয়া খুব ভাল অবস্থানে নেই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মিশরে মোবারক কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে <strong><a href="https://itibritto.com/muslim-brotherhood/">মুসলিম ব্রাদারহুড</a></strong> গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় আসেন। মুহাম্মদ মুরসী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই বছর শাসন পরিচালনার পর সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে নেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিসির উত্থান হয়। ফলে মিশরে আবার জনগণের স্বাধীনতা খর্ব হয়। এদিকে মুরসীসহ তার দলের বহু নেতা কর্মী এখন জেলে দিনাতিপাত করছে।</p>
<figure id="attachment_9677" aria-describedby="caption-attachment-9677" style="width: 900px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9677" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ase.png" alt="" width="900" height="576" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ase.png 900w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ase-300x192.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ase-768x492.png 768w" sizes="auto, (max-width: 900px) 100vw, 900px" /><figcaption id="caption-attachment-9677" class="wp-caption-text">মিশরে আরব বসন্ত</figcaption></figure>
<p>লিবিয়াতে অবস্থা আরও খারাপ। গাদ্দাফি থাকা কালে লিবিয়াতে গণতান্ত্রিক অধিকার না থাকলেও লিবিয়ার সাধারণ জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণ ও জীবন যাত্রার মান নিশ্চিত ছিল। কিন্তু আরব বসন্তের পর লিবিয়াতে গৃহ যুদ্ধ দেখা দেয়। লিবিয়ার সাধারণ জনগণের হাতে পশ্চিমারা অস্ত্র তুলে দেয় এবং ন্যাটোর হস্তক্ষেপের কারণে লিবিয়ার কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে  বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠীর শাসন গড়ে উঠে যা বর্তমানেও বজায় রয়েছে। ফলে লিবিয়ার সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপর্যস্ত।</p>
<p>একইভাবে সিরিয়া তে আজ হাজার হাজার নারী শিশুর রক্তের স্রোত আরব বসন্তের মূল্য দিচ্ছে।আরব বসন্তের সূচনালগ্ন  হতে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ কে উৎখাত করার জন্য সাধারণ জনগণ বিদ্রোহ করে তাদের কে মার্কিনীরা অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়ে আন্দোলন কে আরও বেগবান করে তোলে। অপরদিকে যখন বাশার পরাজিত হওয়ার পথে তখনই তার পাশে এসে দাঁড়ায় রাশিয়া ও ইরান ।ফলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়। যা আজও জীবিত। ফলে আরব বসন্ত সিরিয়ার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেবার পরিবর্তে তাদের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংস করে দিয়ে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার তাজা প্রাণ।</p>
<p>একইভাবে ইয়েমেন ও বাহরাইনে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। জন্ম নিয়েছে নতুন জঙ্গীগোষ্ঠী বিপর্যস্ত হয়েছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। কিন্তু ফিরে আসেনি আরব বসন্তের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। নিশ্চিত হয়নি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<figure id="attachment_9678" aria-describedby="caption-attachment-9678" style="width: 625px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9678" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ass.jpg" alt="" width="625" height="400" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ass.jpg 625w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/ass-300x192.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 625px) 100vw, 625px" /><figcaption id="caption-attachment-9678" class="wp-caption-text">আরব বসন্তের ফল হিসেবে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ, Source: foreignpolicy.com</figcaption></figure>
<p>আরব বসন্ত ছিল গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলা ঝুলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে পশ্চিমা বিশ্বের অস্ত্র ব্যবসা, তেল আমদানি ও তাদের মদদ-পুষ্ট শাসকের ক্ষমতায় বসানোর একটি এজেন্ডা মাত্র। যা আজ বর্তমান বিশ্বের সামনে স্পষ্ট। যদিও তারা তাদের এই এজেন্ডা তে বহুলাংশে সফল। মধ্যপ্রাচ্যকে আরও কতদিন এই আরব বসন্তের মূল্য পরিশোধ করতে হয় তাই এখন দেখার বিষয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তথ্যসূত্রঃ</p>
<p><a href="https://ourislam24.com/2016/08/03/%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%25">https://ourislam24.com/2016/08/03/%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%</a></p>
<p><a href="http://www.prothomalo.com/international/article/755809">http://www.prothomalo.com/international/article/755809</a></p>
<p><a href="http://old.dhakatimes24.com/2016/03/04/104362">http://old.dhakatimes24.com/2016/03/04/104362</a></p>
<p><a href="http://archive.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDZfMTNfMTRfMV80XzFfMTM3NjUy">http://archive.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDZfMTNfMTRfMV80XzFfMTM3NjUy</a></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/arab-spring/">আরব বসন্তঃ ইতিহাসে মরীচিকাময় এক রক্তাক্ত বিপ্লব</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বাধীন কুর্দিস্তান আন্দোলন: কুর্দিদের স্বপ্নের রাষ্ট্র বাস্তবায়ন সম্ভব?</title>
		<link>https://itibritto.com/kurdistan-movement/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 09 Aug 2018 00:30:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[সাম্প্রতিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=9561</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="720" height="405" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/lead_720_405.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="কুর্দিস্তান আন্দোলন" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/lead_720_405.jpg 720w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/lead_720_405-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 720px) 100vw, 720px" style="aspect-ratio: 720/405;" /></div>
<p>কুর্দি জাতিই সম্ভবত সবচাইতে বড় জাতি যারা নিজেদের বিশাল জনগোষ্ঠী ও ভূমি নিয়েও অন্যের অধীনে পরাধীন হয়ে আছে।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/kurdistan-movement/">স্বাধীন কুর্দিস্তান আন্দোলন: কুর্দিদের স্বপ্নের রাষ্ট্র বাস্তবায়ন সম্ভব?</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="720" height="405" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/lead_720_405.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="কুর্দিস্তান আন্দোলন" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/lead_720_405.jpg 720w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/lead_720_405-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 720px) 100vw, 720px" style="aspect-ratio: 720/405;" /></div><p><span style="font-weight: 400;">আধুনিক বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র মূলত জাতিরাষ্ট্র যেখানে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হল জাতীয়তাবাদ। তবে এখনও অনেক জাতি রয়েছে যাদের ভাষা,সংস্কৃতি,নিজস্ব ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদী চেতনা থাকার পরও শুধু কপাল দোষেই তাদের কপালে স্বাধীনতার স্বাদ জোটেনি। কুর্দি জাতি এদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কুর্দি জাতিই সম্ভবত সবচাইতে বড় জাতি যারা নিজেদের বিশাল জনগোষ্ঠী ও ভূমি নিয়েও অন্যের অধীনে পরাধীন হয়ে আছে।পৃথিবীতে যে সকল জাতি বা জনগোষ্ঠী নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে কুর্দি জাতিগোষ্ঠী তাদের মধ্যে অন্যতম। এই বৃহৎ জাতি গোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ফলে তারা একত্র হয়ে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে না পারলেও বিচ্ছিন্নভাবেই তারা তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরাকের কুর্দিরা তাদের অধিকার আদায়ে অধিক সোচ্চার এমনকি তারা অন্যদের চাইতে অধিক সুসংগঠিত।</span></p>
<h3><span style="color: #008000;"><b>কুর্দিস্তানের পরিচয়ঃ</b></span></h3>
<p><span style="font-weight: 400;">কুর্দিস্তান হল মধ্যপ্রাচ্যের একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলে যারা বসবাস করে তাদের কে কুর্দি বলা হয়। কুর্দিরা প্রায় সবাই কুর্দি ভাষায় কথা বলে।কিন্তু কুর্দিদের এই অঞ্চলটি এখন আর তাদের নিজেদের অধীনে নেই।কুর্দিদের বিশাল অঞ্চলটি তাদের পার্শ্ববর্তী প্রধানত চারটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে গেছে। এই অঞ্চল সমূহ হল ইরাক,ইরান,তুরস্ক ও সিরিয়া। অর্থাৎ এই চারটি অঞ্চলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়া কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলকেই কুর্দিস্তান বলা হয়। আধুনিক কালে কুর্দিস্তান বলতে তুরস্কের পূর্বের কিছু অংশ, ইরাকের উত্তরের অংশ,ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও সিরিয়ার উত্তরে কিছু অংশকে বুঝায়। যদিও আবার এসব বিভক্ত কুর্দিদের নিজেদের মধ্যেই অন্তর্দ্বন্দ্ব বিদ্যমান।</span></p>
<figure id="attachment_9567" aria-describedby="caption-attachment-9567" style="width: 800px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9567" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image1.jpg" alt="কুর্দিস্তানের অবস্থান" width="800" height="653" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image1.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image1-300x245.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image1-768x627.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><figcaption id="caption-attachment-9567" class="wp-caption-text">কুর্দিস্তানের অবস্থান<br />Source: wikimedia</figcaption></figure>
<h3><span style="color: #008000;"><b>কুর্দিদের পূর্ব ইতিহাসঃ</b></span></h3>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকের ছিন্নবিচ্ছিন্ন তুর্কি জাতির পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে কুর্দিরা আজকের এই শোচনীয় অবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছে। কুর্দিদের ইতিহাস বেশ পুরনো। সর্বপ্রথম ১২শ শতকে সেল</span><span style="font-weight: 400;">জু</span><span style="font-weight: 400;">ক সুলতান সাঞ্জার কুর্দিস্তান নামটি সরকারীভাবে ব্যবহার করেন। তিনি এই কুর্দিস্তানকে একটি প্রদেশের মর্যাদা প্রদান করেন এবং এর রাজধানী নির্ধারণ করেন বাহার শহরকে।সেলজুকদের পর এই অঞ্চলের ক্ষমতা চলে যায় অটোমানদের হাতে। অটোমানরা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে তাদের শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করেন।এই সময়ে কুর্দিদের স্বাধীন হবার কোন সুযোগ ছিল না। কেননা তৎকালীন সময়ে অটোমানরা তাদের দক্ষ সৈন্যবাহিনী দিয়ে তাদের বিশাল সাম্রাজ্যকে কঠোর হাতে শাসন করত।ফলে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মত ক্ষমতা কুর্দিদের ছিল না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯২০ সালের পর যখন অটোমান সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক পতন শুরু হয় তখন অন্যান্যদের মত কুর্দিরাও তাদের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠে। শুরুর দিকে তুর্কিদের সাথে পশ্চিমাদের সেভরা চুক্তির খসড়াতে কুর্দিদের স্বাধীনতার জন্য গণভোটের উল্লেখ ছিল। কিন্তু এই চুক্তি ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে লুসান চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ককে স্বাধীনতা দেয়া হয় এবং এই চুক্তির মাধ্যমে কুর্দিদের গণভোটের বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করা হয়। ফলে এর সাথে সাথে কুর্দিদের স্বাধীনতার প্রশ্নও চাপা পড়ে যায়। এর পর ব্রিটিশ ও ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুর্দিস্তান কে তাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের (ইরাক,ইরান,তুরস্ক ও সিরিয়া) মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়।     </span></p>
<h3><span style="color: #008000;"><b>বিভক্ত কুর্দিদের অবস্থাঃ</b></span></h3>
<p><span style="font-weight: 400;">কুর্দিরা প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবার পর থেকে তারা আর একক কুর্দি জাতি সত্তার পরিচয় বহন করতে পারছে না। তাদের কে আজ আলাদা আলাদা পরিচয়ে পরিচিত হতে হচ্ছে। যারা তুরস্কে আছে তাদেরকে তুর্কি কুর্দি,যারা ইরাকে আছে তাদেরকে ইরাকি কুর্দি, যারা ইরানে আছে তাদের কে ইরানী কুর্দি ও যারা সিরিয়া তে আছে তাদেরকে সি</span><span style="font-weight: 400;">রী</span><span style="font-weight: 400;">য় কুর্দি পরিচয় নিয়ে ঘুরতে হয়। তাদের অবস্থাও ভিন্ন ভিন্ন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রথমেই আসা যাক তুর্কি কুর্দিদের প্রশ্নে, ১৯২৩ সালে কুর্দিরা বিভক্ত হবার পর সবচেয়ে বেশি কুর্দিদের ঠাই হয় তুর্কিতে। বর্তমানে তুরস্কের মোট জনসংখ্যার ২০% কুর্দি জনগণ। কিন্তু শুরু থেকেই তুর্কিরা কুর্দিদের আলাদা ভাষা,সংস্কৃতি কে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠে। এমনকি জোর করে তাদের কুর্দি পরিচয়ের স্থলে তুর্কি পরিচয়কে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এমনকি কুর্দিদের ভাষাকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং ১৯৯১ সাল পর্যন্ত কুর্দিদের মাতৃভাষা তুরস্কে নিষিদ্ধ ছিল। এই সময়ে কুর্দিরাও বসে ছিল না। ১৯২৩ সালের পর থেকে স্বাধীন কুর্দি প্রতিষ্ঠার দাবীতে কুর্দিরা বেশ কয়েকটি বিদ্রোহ করে কিন্তু তুর্কি শাসকরা তা কঠোর হাতে দমন করে। </span></p>
<figure id="attachment_9568" aria-describedby="caption-attachment-9568" style="width: 725px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9568" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image2.jpg" alt="কুর্দি ও তুর্কি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ, " width="725" height="400" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image2.jpg 725w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image2-300x166.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 725px) 100vw, 725px" /><figcaption id="caption-attachment-9568" class="wp-caption-text">কুর্দি ও তুর্কি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ<br />Source: .banglanews24.</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯৭৮ সালে কুর্দিরা পৃথক রাষ্ট্রের দাবীতে গড়ে তোলে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি(পিকেকে)। ফলে স্বাধীনতার দাবীতে কুর্দিরা নতুন ভাবে বিদ্রোহ শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৪ সালে তুর্কিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করে এতে প্রায় ৪০ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়।কিন্তু তাদের এই বিপ্লব ব্যর্থ হয়। ফলে তুর্কিরা কৌশলে পিকেকে কে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে দেয়।সর্বশেষ ২০১৫ সালে আই এস দের সাথে কুর্দিদের হতাহতের বিষয় কে কেন্দ্র করে তুরস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কুর্দিদের সম্পর্ক আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ফলে তুর্কি সরকার আই এস ও পিকেকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান ঘোষণা করে। এতে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়। এটি ছিল মূলত কুর্দিদের দমিয়ে রাখার জন্য এক ধরনের কৌশল। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরাকি কুর্দিদের অবস্থা অন্যদের তুলনায় অনেকটা ভাল। এই ভাল হওয়ার পিছনে তাদেরকে লড়াই সংগ্রামও করতে হয়েছে সবচাইতে বেশি।১৯২৩ সালে তারা ইরাকীদের অধীনে যাওয়ার পর থেকেই তারা তাদের অধিকার আদায়ে অধিক সোচ্চার ছিল। ১৯৪৬ সালে কুর্দিরা ইরাকের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন লাভের জন্য বারজানীর নেতৃত্বে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি(কেডিপি) গড়ে তোলে। তাদের আন্দোলনের মুখেই ইরাকী সরকার কুর্দিদের নাগরিকত্ব দান করতে সম্মত হয়। পরবর্তীতে নানা চ</span><span style="font-weight: 400;">ড়া</span><span style="font-weight: 400;">ই উতরাই পেরিয়ে সাদ্দামের যুগে প্রবেশ করে</span><span style="font-weight: 400;">।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সাদ্দামের সাথেও তাদের বিরোধ বাধে। ফলে ইরান-ইরাক যুদ্ধে কুর্দিরা ইরান কে সমর্থন দেয় এতে সাদ্দাম ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের উপর দমন পীড়ন শুরু করে এতে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক কুর্দি নিহত হয়।সর্বশেষ ১৯৯১ সালে তারা তাদের বহুল প্রতীক্ষিত স্বায়ত্তশাসন লাভ করে।এরপরই তাদের মধ্যে স্বাধীনতার জন্য নতুন করে সোচ্চার হয়ে যায়। যার ফলে সর্বশেষ ২০১৭ সালে কুর্দিস্তানে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট হয়</span><span style="font-weight: 400;">।</span><span style="font-weight: 400;"> এই গণভোটে ৯২% কুর্দিরা স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয় কিন্তু ইরাকী কেন্দ্রীয় সরকার এই গণভোটকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তুরস্কও গণভোটের বিপক্ষে কথা বলেন।ফলে বর্তমানে ইরাকী তুর্কিদের স্বাধীনতার প্রশ্নও আটকে গেছে।</span></p>
<figure id="attachment_9570" aria-describedby="caption-attachment-9570" style="width: 850px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9570" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/p27-kurdish-movement-2.jpg" alt="কুর্দিস্তান আন্দোলন" width="850" height="565" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/p27-kurdish-movement-2.jpg 850w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/p27-kurdish-movement-2-300x199.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/p27-kurdish-movement-2-768x510.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 850px) 100vw, 850px" /><figcaption id="caption-attachment-9570" class="wp-caption-text">কুর্দিস্তান আন্দোলন</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">সিরিয়াতে মোট ১০% এর কাছাকাছি কুর্দি জনগণ রয়েছে। এদের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষের মত। সিরি</span><span style="font-weight: 400;">য়া</span><span style="font-weight: 400;">র অধীনে যাওয়ার পর থেকে তাদের কে জোর করে আর</span><span style="font-weight: 400;">বী</span><span style="font-weight: 400;">য়করন করার চেষ্টা চলছে। সিরিয় সরকার সবসময় তাদের উপর কুর্দির স্থলে আরবী কে প্রাধান্য দেয়। ১৯৬০ সালের পর থেকে সিরিয়াতে কুর্দিদের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তারা তাদের অধিকার আদায় করতে পারছে না। তার উপরে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসার পর সেখানে আইএস জঙ্গি-গোষ্ঠীর উত্থান হয়েছে। ফলে তাদের উপর একদিকে যেমন আসাদ সরকারের দমন পীড়ন রয়েছে সাথে আইএসদের  মোকাবেলা কর</span><span style="font-weight: 400;">তে হয়</span><span style="font-weight: 400;">।</span><span style="font-weight: 400;"> তাই সিরিয়ার কুর্দিরা রয়েছে সবচাইতে খারাপ অবস্থায়। এমনকি তাদের স্বাধীনতা লাভের আশা একেবারে </span><span style="font-weight: 400;">নেই</span><span style="font-weight: 400;"> বললেই চলে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরানের কুর্দিদের অবস্থাও একই। ইরান যেহেতু </span><span style="font-weight: 400;">শি</span><span style="font-weight: 400;">য়া অধ্যুষিত অঞ্চল তাই সুন্নি কুর্দিরা এখানে উপযুক্ত মর্যাদা পাবে না এটাই স্বাভাবিক হিসেবে ধরতে হবে। বাস্তবতাও তাই</span><span style="font-weight: 400;">। </span><span style="font-weight: 400;">ইরান সর্বদা কুর্দিদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখে। তাদের দাবী দাওয়া কঠোর হাতে দমন করে । ফলে ইরানে কুর্দিরা শোষণ আর বঞ্চনার প্রতীক হয়েই আছে। </span></p>
<h2><span style="color: #008000;"><b>কুর্দিদের ভবিষ্যৎঃ</b></span></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">এত আলোচনার পরেও প্রশ্ন থেকে যায় এই অঞ্চলের কুর্দিদের ভবিষ্যৎ </span><span style="font-weight: 400;">কী</span><span style="font-weight: 400;"> ? আগামীতে কি হবে তাদের ভাগ্যে? তাদের ভবিষ্যৎ </span><span style="font-weight: 400;">কী</span><span style="font-weight: 400;"> হবে তা </span><span style="font-weight: 400;">জা</span><span style="font-weight: 400;">নতে হলে কিছুটা পিছনে ফিরে তাকানো দরকার। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ইরাকের গণভোটের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে ইরাকের ৯২ ভাগ কুর্দি নাগরিক নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবার পরও তাদের স্বাধীনতা আটকে গেছে।এসময় তাদের পিছনে পশ্চিমাদের সমর্থন থাকলেও তাদের পার্শ্ববর্তী সকল রাষ্ট্র তাদের এই গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে। তার উপরে তুর্কি ও ইরান সরাসরি এই অঞ্চলে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম নিতে পারেনা বলে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। আর তারা ইরাকি কুর্দি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার কারণ হল তারা জানে যে ইরাকের কুর্দিরা স্বাধীনতা অর্জন করে ফেললে তাদের নিজের দেশের কুর্দিদের দমিয়ে রাখা যাবে না। তাই তারা বরাবরই কুর্দিদের স্বাধীনতার প্র</span><span style="font-weight: 400;">শ্নে দ্বিমত পোষণ করে আসছে </span><span style="font-weight: 400;"> । আর ইরাকও কখনো কুর্দি অধ্যুষিত তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলটি হাতছাড়া করতে চাইবে না। আর তুর্কি ও ইরানের কুর্দিরা তো মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগই পাচ্ছে না। সুতরাং তাদের স্বাধীনতার প্রশ্ন এখন অনেক দূরে। তাই সহজে বলা যাচ্ছে যে কুর্দিরা অচিরেই স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে না।</span></p>
<figure id="attachment_9569" aria-describedby="caption-attachment-9569" style="width: 700px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9569" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image3.jpg" alt="সিরিয় কুর্দিদের উপর বিমান হামলা" width="700" height="357" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image3.jpg 700w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/08/image3-300x153.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 700px) 100vw, 700px" /><figcaption id="caption-attachment-9569" class="wp-caption-text">সিরিয় কুর্দিদের উপর বিমান হামলা<br />Source: .banglagazette</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">সুন্নি মতাদর্শ লালন-কারী কুর্দিরা সকলদিক দিয়ে আজ শোষিত বঞ্চিত। তাদের এই শোষণ বঞ্চনার সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা ও ইজরায়েল তাদের কে নিজেদের প্রয়োজনে এ-অঞ্চলে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। যা আবার এই অঞ্চলের শান্তি বিনষ্টের মত কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কুর্দিদের উপর যে সব অঞ্চলেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত ব্যাপার ঘটছে তা আজ আর অস্বীকার করা যায় না।তাই সকল শান্তিপ্রিয় মানুষ মাত্রই আশা থাকবে যে কুর্দিদের উপর যে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে তা যেন অচিরেই বন্ধ হয়। একই সাথে তাদের নিয়ে ইজরাইল ও পশ্চিমাদের যে গোপন পরিকল্পনা তারও যেন অবসান ঘটে। </span></p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8070 aligncenter" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/kurdistan-movement/">স্বাধীন কুর্দিস্তান আন্দোলন: কুর্দিদের স্বপ্নের রাষ্ট্র বাস্তবায়ন সম্ভব?</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পানামা খাল : বিশ্ববাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট</title>
		<link>https://itibritto.com/panama-canal/</link>
					<comments>https://itibritto.com/panama-canal/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 29 Jul 2018 18:29:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অবাক বিশ্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=9411</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="2000" height="1000" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9.jpg 2000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9-768x384.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9-1024x512.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 2000px) 100vw, 2000px" style="aspect-ratio: 2000/1000;" /></div>
<p>সমগ্র পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর একভাগ স্থল। তবে এই স্থল ও জলভাগের বণ্টন সর্বদা সুষমভাবে হয় না বা মানুষের চাহিদামত হয় না। একদিকে যেমন জলভাগের উপর সেতু তৈরি করা হয় । অপরদিকে স্থলভাগ কে কেটে জলভাগে রূপ দেয়া হয়। এইসব জলভাগকে কৃত্রিম জলভাগ হিসেবেই গণনা করা হয়। অধিকাংশ সময়েই অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/panama-canal/">পানামা খাল : বিশ্ববাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="2000" height="1000" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9.jpg 2000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9-768x384.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/474a7b9c-1031-11e6-b819-0631f9f050b9-1024x512.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 2000px) 100vw, 2000px" style="aspect-ratio: 2000/1000;" /></div><p>সমগ্র পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর একভাগ স্থল। তবে এই স্থল ও জলভাগের বণ্টন সর্বদা সুষমভাবে হয় না বা মানুষের চাহিদামত হয় না। একদিকে যেমন জলভাগের উপর সেতু তৈরি করা হয় । অপরদিকে স্থলভাগ কে কেটে জলভাগে রূপ দেয়া হয়। এইসব জলভাগকে কৃত্রিম জলভাগ হিসেবেই গণনা করা হয়। অধিকাংশ সময়েই অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই ধরনের প্রকল্পকে গ্রহণ করা হয়। এধরনের বৃহৎ প্রকল্পের অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল সুয়েজ খাল ও পানামা খাল। তবে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পানামা খালের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সুয়েজ খালের চেয়ে অনেক উপরে। পানামা খালকে কেন্দ্র করে শুধু অর্থনৈতিক কারণই আবর্তিত হয়নি বরং অনেকাংশে বিশ্ব রাজনীতিও একে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তাই অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে পানামা খালের গুরুত্ব অত্যন্ত সুউচ্চে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong><span style="color: #008000;">পানামা খাল:<br />
</span></strong></h3>
<p>পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয়। যেটি সমগ্র বিশ্বের কাছে পানামা খাল হিসেবেই সমধিক পরিচিত। পানামা খাল আমেরিকা মহাদেশের স্থলভাগকে আলাদা করেছে। একইসাথে প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর কে একত্র করেছে। ১৯০৪ সালে এটির খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে এর কাজ সমাপ্ত হয়। এটি খননে দায়িত্ব পালন করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর দৈর্ঘ্য ৬৫ কি.মি এবং প্রস্থ ৩০-৯০ মিটার পর্যন্ত। তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় প্রায় ৮২ কি.মি। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু ভূপৃষ্ঠ অতিক্রম করে পানামা খাল প্রবাহিত হয়েছে এবং অপর পাশের বিশাল জলরাশিকে একত্রিত করেছে। এত উঁচু দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে বহু চ্যালেঞ্জ নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এর রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জটিল। এমনকি এখান দিয়ে জাহাজ পারাপার করার জন্যও অনুসরণ করা হয় বিশেষ প্রক্রিয়া। পানামা খাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকার সাথে ইউরোপ,অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বাণিজ্যকে নতুন রূপ দান করেছে।পানামা খালের কল্যাণে উত্তর আমেরিকার এক উপকূলের জাহাজ  দক্ষিণ আমেরিকার অন্য উপকূলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৬৫০০ কিমি পথ কম পাড়ি দিতে হয়। আমেরিকা যাওয়ার ক্ষেত্রে এশিয়া,ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার জাহাজ সমূহকেও প্রায় ৩৫০০ কিমি পথ কম অতিক্রম করতে হয়।</p>
<figure id="attachment_9420" aria-describedby="caption-attachment-9420" style="width: 581px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9420" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Panama_Canal_Map_EN.png" alt="" width="581" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Panama_Canal_Map_EN.png 581w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Panama_Canal_Map_EN-291x300.png 291w" sizes="auto, (max-width: 581px) 100vw, 581px" /><figcaption id="caption-attachment-9420" class="wp-caption-text">পানামা খালের অবস্থান; Source: Wikipedia</figcaption></figure>
<h3><span style="color: #008000;"><b>পানামা খালের ইতিহাস:<br />
</b></span></h3>
<p>আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই এ অঞ্চলে পর্তুগীজ,স্প্যানিশ,ফরাসী,ইংরেজ ও ডাচরা গমন করতে থাকে পাশাপাশি বাণিজ্যও সম্প্রসারণ করতে থাকে। ফলে এ অঞ্চলে যখন ইউরোপীয়দের বাণিজ্য গড়ে উঠে তখন এ-অঞ্চলে চলাচলের জন্য ও মালামাল পরিবহনের জন্য দক্ষিণ আমেরিকার বহু পথ ঘুরে উত্তর আমেরিকার উপকূলে যেতে হত। তাই এই দীর্ঘ পথকে সংক্ষিপ্ত করার জন্য চিন্তা করা শুরু হয়। সর্বপ্রথম ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রী ভাস্কো নুয়েঞ্জ ডি বালবোয়াইন এ বিষয়ে মতপ্রকাশ করেন যে প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ সাধন করা উচিত। কিন্তু তৎকালীন স্প্যানিশ রাজা তার এই প্রস্তাব কে উড়িয়ে দেন। তবে তার পরবর্তী রাজা পঞ্চম চার্লস তার এই প্রস্তাব কে বিবেচনা করার জন্য ১৫৩৪ সালে একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটি এই প্রস্তাব কে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন পেশ করে। এই প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেন যে এই অঞ্চলে একটি জাহাজ চলাচল করতে পারে এমন খাল খনন করা অসম্ভব।ফলে খাল খনন করার পরিকল্পনা ঐ-জায়গায়ই স্থগিত হয়ে যায়।</p>
<figure id="attachment_9413" aria-describedby="caption-attachment-9413" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9413" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-2.jpg" alt="" width="600" height="400" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-2.jpg 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-2-300x200.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-9413" class="wp-caption-text">আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে একত্রিত করেছে পানামা খাল ;Source:kalerkantho.com</figcaption></figure>
<p>এরপর কেটে যায় বহুবছর । উনিশ শতকের শেষের দিকে এই অঞ্চলটি ফ্রান্সের নজরে আসে এবং ফ্রান্স খাল খননের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু এটি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ কেননা এই অঞ্চলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু তাছাড়া তখন পানামার এই অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম ও বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ।সকল প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ১৮৮১ সালে ফ্রান্স পানামা খালের খনন কাজ শুরু করে। কিন্তু কারিগরি দক্ষতার অভাব,প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, শ্রমিকদের উচ্চ-মৃত্যুহার প্রভৃতি কারণে ফ্রান্স খাল খনন কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।এই খাল খনন করতে গিয়ে ফ্রান্সের প্রায় বিশ হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়।</p>
<figure id="attachment_9414" aria-describedby="caption-attachment-9414" style="width: 464px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9414" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-3.jpg" alt="" width="464" height="424" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-3.jpg 464w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-3-300x274.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 464px) 100vw, 464px" /><figcaption id="caption-attachment-9414" class="wp-caption-text">নির্মাণাধীন পানামা খাল; Source:neelnokkhotro.wordpress.com</figcaption></figure>
<p>এরপর আরও কিছুদিন অতিবাহিত হয়। এরপর এই খাল খননের জন্য এগিয়ে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ কারিগর দিয়ে এটি নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু বিপত্তি বাধে অন্য জায়গায়। তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলটি কলম্বিয়ার অধীনে ছিল। ফলে কলম্বিয়া-মার্কিনীদের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া না হওয়ায় এই কাজ আটকে যায়। ফলে ১৯০৩ সালে কলম্বিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদে এক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং এতে পানামা কলম্বিয়া আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। তারপর ১৯০৪ সালেই পানামা সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খাল খননের অনুমতি প্রধান করে। ফলে ১৯০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে খাল খনন করা শুরু হয় এবং ১০ বছর খনন কাজ চলার পর ১৯১৪ সালে এটি সম্পন্ন হয়। এই খাল খনন করতে গিয়ে মার্কিনীদের সকল উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয় এবং বিরল রোগের জন্য প্রায় ৫৬০০ শ্রমিকের অকাল মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong><span style="color: #008000;">কিভাবে পানামা খাল দিয়ে জাহাজ চলে?:</span></strong></h3>
<p>পানামা খাল যেহেতু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে এত উপরে কিভাবে পানি ধরে রাখা হয়? আবার কিভাবেই এর উপর দিয়ে জাহাজ চলাচল করে? এখানকার পানি ধরে রাখা থেকে শুরু করে জাহাজ চলাচল পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়াই কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পানামা খালে মোট তিন জোড়া জল কপাট রয়েছে যে গুলো পানামা খালকে সমুদ্রপৃষ্ঠ ধাপে ধাপে ৮৫ ফুট পর্যন্ত উপরে তুলে দিয়েছে।</p>
<figure id="attachment_9422" aria-describedby="caption-attachment-9422" style="width: 518px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-9422 " src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/panamacanal2012-001-lake-gatun-locks.jpg" alt="" width="518" height="332" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/panamacanal2012-001-lake-gatun-locks.jpg 418w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/panamacanal2012-001-lake-gatun-locks-300x192.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/panamacanal2012-001-lake-gatun-locks-210x136.jpg 210w" sizes="auto, (max-width: 518px) 100vw, 518px" /><figcaption id="caption-attachment-9422" class="wp-caption-text">পানামাতে জাহাজ চলাচলের প্রতিকী চিত্র</figcaption></figure>
<p>জলকপাটগুলো দুইটি ধাতব কব্জার দ্বারা তৈরি। প্রতিটি কব্জা ৭ ফুট মোটা এবং অবস্থান অনুযায়ী ৪৭ ফুট থেকে ৮২ ফুট পর্যন্ত উঁচু। জাহাজ চলাচলের সময় এসব কব্জা খুলে/বন্ধ করে পানির স্তর জাহাজ চলাচল উপযোগী করা হয়। পানামা খালে গাট্টন লেক ও গাইলার্ডকাট নামক দুইটি চ্যানেলে রয়েছে এই চ্যানেলেই মূলত এই জলকপাট সমূহ কাজ করে। পানামা খালে ঢুকার পূর্বেই জাহাজ সমুহকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। কারণ এই খাল দিয়ে বর্তমানে একই সময়ে মাত্র দুইটি জাহাজ চলাচল করতে পারে যদিও ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত এই খাল দিয়ে মাত্র একটি জাহাজ চলতে পারত। চ্যানেল দিয়ে জাহাজ পারাপারের জন্য চ্যানেলের উভয় পাশে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্রেন কাজ করে।</p>
<figure id="attachment_9417" aria-describedby="caption-attachment-9417" style="width: 800px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9417" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-5.jpg" alt="" width="800" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-5.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-5-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-5-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/pl-5-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><figcaption id="caption-attachment-9417" class="wp-caption-text">পানামা খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলের চিত্র; Source: blog.bdnews24.com/alauddinvuian/171221</figcaption></figure>
<p>তাছাড়াও পানি অপসারণ ও যোগান দিয়ে উঁচু স্থানে পানির স্তর সমান করার জন্য কাজ করে অত্যন্ত শক্তিশালী কয়েকটি পাম্প। চ্যানেলের প্রস্থ ১১০ ফুট হওয়ার করনে ১১০ ফুটের কম প্রশস্ত জাহাজ কেবল মাত্র প্রবেশ করতে পারে।তবে ১১০ ফুটের বেশী চওড়া জাহাজের পরিমাণ খুব কম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #008000;"><strong>পানামা খালের গুরুত্ব:<br />
</strong></span></h3>
<p>পানামা খাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-পশ্চিম উপকূলে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ৮০০০ কিমি পথ কমিয়ে দিয়েছে। একইভাবে উত্তর আমেরিকার উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার অপর উপকূলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩৫০০ পথ কমিয়ে দিয়েছে। এই খাল দিয়ে বছরে প্রায় ৬০০০ জাহাজ চলাচল করে এবং দৈনিক গড়ে ৫০/৬০টি জাহাজ চলাচল করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-গামী প্রায় ৫৫% জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। সমগ্র বিশ্ববাণিজ্যের ৫% সংঘটিত হয় এই পথে। পানামা খালের মাধ্যমে পানামা প্রজাতন্ত্র বছরে ৭০-৮০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করে যা পানামার জাতীয় আয়ের এক-তৃতীয়াংশ।</p>
<figure id="attachment_9424" aria-describedby="caption-attachment-9424" style="width: 1000px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9424" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/canaltourbanner.jpg" alt="" width="1000" height="500" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/canaltourbanner.jpg 1000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/canaltourbanner-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/canaltourbanner-768x384.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1000px) 100vw, 1000px" /><figcaption id="caption-attachment-9424" class="wp-caption-text">পানামা খাল দিয়ে পরিবহণ; Source: Visitor Panama</figcaption></figure>
<p>পানামা খাল নির্মাণের পর থেকে এর সকল রক্ষণাবেক্ষণের ও শুল্ক উত্তোলন সকল কিছুর দায়িত্ব ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। পানামা খালটি দুইটি অংশে বিভক্ত ছিল একটি অংশের দায়িত্ব পানামার হাতে থাকলেও বাকি অংশের দায়িত্ব ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। কিন্তু কার্যত সম্পূর্ণ নীতিনির্ধারণী দায়িত্বই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। চুক্তি অনুযায়ী পানামা খালের রাজস্ব পানামার কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও পানামা তার রাজস্বের সামান্য অংশই পেত।ফলে ১৯৬০ সালে পানামাতে মার্কিন বিরোধী আন্দোলন দেখা দেয়। ফলে মার্কিনীরা পানামার সাথে চুক্তি করে ১৯৭৯ সালের মধ্যে ৬০% মালিকানা পানামার হাতে হস্তান্তর করার বিষয়ে একমত হয়। একইসাথে ১৯৭৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে পানামা খালকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ঘোষণা করা হয় যাতে করে পানামা এই নৌপথের জাহাজ চলাচলের উপর ইচ্ছাকৃত কোন হস্তক্ষেপ করতে না পারে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পানামা কমিশনের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা যৌথভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু ১৯৯৯ সালে পানামা খালের পূর্ণ মালিকানা পানামার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পানামা খালের একমাত্র মালিক পানামা রাষ্ট্র। তারপরও পরোক্ষভাবে পানামা খালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে। আর তা থাকার পিছনে কারণ হল মার্কিনীদের সামরিক ও বাণিজ্যিক সকল জাহাজ ও নৌযান পানামা খালের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।</p>
<p>তথ্যসূত্রঃ</p>
<p><a href="http://www.kalerkantho.com/print-edition/oboshore/2015/07/04/240972">http://www.kalerkantho.com/print-edition/oboshore/2015/07/04/240972</a></p>
<p><a href="https://neelnokkhotro.wordpress.com/2012/07/21/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2/">https://neelnokkhotro.wordpress.com/2012/07/21/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2/</a></p>
<p><a href="https://blog.bdnews24.com/alauddinvuian/171221">https://blog.bdnews24.com/alauddinvuian/171221</a></p>
<p><a href="https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2">https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2</a></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/panama-canal/">পানামা খাল : বিশ্ববাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/panama-canal/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সুলতান মাহমুদ গজনবী: নায়ক নাকি খলনায়ক?</title>
		<link>https://itibritto.com/biography-sultan-mahmud-ghaznavi/</link>
					<comments>https://itibritto.com/biography-sultan-mahmud-ghaznavi/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 23 Jul 2018 19:33:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=9282</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1200" height="630" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="সুলতান মাহমুদ গজনবী" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1-300x158.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1-768x403.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1-1024x538.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" style="aspect-ratio: 1200/630;" /></div>
<p>ভারতীয় ইতিহাসে যে সকল রাজ্য বিজেতা নিজ যোগ্যতাবলে ইতিহাসের স্বর্ণ-সিংহাসনে আরোহণ করেছেন সুলতান মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। সুলতান মাহমুদ গজনবী আফগান সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে যে পরিমাণ অভিযান পরিচালনা করছেন এবং বিজয় লাভ করেছেন, এই পরিমাণ যুদ্ধ বিজেতা ইতিহাসে খুব কমই রয়েছে। তার কাছে যুদ্ধ পরিচালনা ছিল একধরনের সহজাত প্রবণতা যার কারণে তিনি ক্ষমতায় [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-sultan-mahmud-ghaznavi/">সুলতান মাহমুদ গজনবী: নায়ক নাকি খলনায়ক?</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1200" height="630" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="সুলতান মাহমুদ গজনবী" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1-300x158.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1-768x403.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-of-Ghazni_0-1-1024x538.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" style="aspect-ratio: 1200/630;" /></div><p><span style="font-weight: 400;">ভারতীয় ইতিহাসে যে সকল রাজ্য বিজেতা নিজ যোগ্যতাবলে ইতিহাসের স্বর্ণ-সিংহাসনে আরোহণ করেছেন সুলতান মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। সুলতান মাহমুদ গজনবী আফগান সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে যে পরিমাণ অভিযান পরিচালনা করছেন এবং বিজয় লাভ করেছেন, এই পরিমাণ যুদ্ধ বিজেতা ইতিহাসে খুব কমই রয়েছে। তার কাছে যুদ্ধ পরিচালনা ছিল একধরনের সহজাত প্রবণতা যার কারণে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রায় প্রতি বছরই কোন না কোন অভিযান পরিচালনা করেছেন পাশাপাশি বিজয়ও লাভ করেছেন। তার জীবদ্দশায় সর্বাধিক অভিযান পরিচালনা করেন ভারতের বিরুদ্ধে। শুধু ভারতেই তিনি ১৭ বার অভিযান প্রেরণ করেন এবং কাকতালীয় হলেও সত্য প্রতিবারই তিনি জয় লাভ করেন। আফগান ইতিহাসে সুলতান মাহমুদ একজন ধর্মভীরু সাহসী বীরযোদ্ধা। অপরদিকে ভারতীয় হিন্দু ইতিহাসে তিনি একজন দস্যু, শান্তি বিনষ্টকারী, লুণ্ঠনকারী ও নির্দয়, ক্ষমতার অপ-ব্যবহারকারী। সুতরাং সুলতান মাহমুদ ইতিহাসে দ্বৈত চরিত্রের এক উজ্জ্বল প্রতীক।</span></p>
<figure id="attachment_9285" aria-describedby="caption-attachment-9285" style="width: 576px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9285" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/sultan-mehmood-ghaznavi.jpg" alt="গজনবী" width="576" height="384" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/sultan-mehmood-ghaznavi.jpg 576w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/sultan-mehmood-ghaznavi-300x200.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 576px) 100vw, 576px" /><figcaption id="caption-attachment-9285" class="wp-caption-text">গজনবী<br />Source: best photos war &#8211; Blogger</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস বিখ্যাত বিজেতা সুলতান মাহমুদ ৯৭১ সালে বর্তমান আফগানিস্তানে সবুক্তগিন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল সবুক্তগিন।  ৯৯৭ সালে তার পিতার মৃত্যু হলে সুলতান মাহমুদ তার অপর ভাই ইসমাইলের সাথে গজনবী সাম্রাজ্যের শাসনভার দখলের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এতে মাহমুদ তার ভাইকে পরাজিত করে গজনির শাসন ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নেন। তখন গজনবী সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল বর্তমান আফগানিস্তান ও খোরাসান বা পূর্ব পারস্য। এসময়ে এ-অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দেখা দিলে সুলতান মাহমুদ তা কঠোর হস্তে দমন করেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">শাসন কার্যের শুরুতে সুলতান মাহমুদ সামানিদ বংশের আনুগত্য স্বীকার করে আমির উপাধি গ্রহণ করে শাসনকার্য শুরু করলেও ১০০০ সালের শুরুর দিকে সামানিদদের  অধীনতা অস্বীকার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সরাসরি আব্বাসী খলিফার আস্থা অর্জন করে নিজেকে আব্বাসী খিলাফতের অধীনস্থ শাসক হিসেবে ঘোষণা করে সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন। এর পর থেকেই ইতিহাসে তিনি সুলতান মাহমুদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সুলতান মাহমুদ দীর্ঘকাল শাসন কার্য পরিচালনার পর ১০৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য বিজয়াভিযান পরিচালনা করেন এবং বীরত্বের সহিত সাফল্য লাভ করেন।  </span><span style="font-weight: 400;">       </span></p>
<h2><b>সুলতান মাহমুদ এর ভারত আক্রমন এবং বিজয়</b></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান মাহমুদ গজনবী র সিংহাসনে আরোহণ করার পর পরই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন দিয়ে তার সামরিক অভিযানের সূচনা হয়। সাময়িক সফলতা লাভ করার পর নিজ সামরিক সক্ষমতার উপর আত্মবিশ্বাস অর্জন করায় ভারত আক্রমণের সংকল্প করেন। তার জীবদ্দশায় সর্বমোট সতের বার ভারত আক্রমণ করেন। তার  ভারত অভিযান শুরু হয় ১০০০ সালে এবং ১০২৬ পর্যন্ত বার বার ভারত আক্রমণ করেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান মাহমুদ ১০০০ সালে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে অভিযানের সূচনা হয়। এই অভিযানে খাইবার গিরিপথ অতিক্রম করে ভারতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং সফলতা লাভ করেন। এর মাধ্যমে সুলতান মাহমুদের সফলতার যে ভিত রচিত হয় তার ধারাবাহিতায় ১৭ বার ভারতে অভিযান করেন এবং প্রত্যেকবারই সাফল্য লাভ করেন।</span></p>
<figure id="attachment_9291" aria-describedby="caption-attachment-9291" style="width: 450px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9291" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-Ghazni.jpg" alt="সুলতান মাহমুদ" width="450" height="236" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-Ghazni.jpg 450w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Mahmud-Ghazni-300x157.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 450px) 100vw, 450px" /><figcaption id="caption-attachment-9291" class="wp-caption-text">সুলতান মাহমুদ<br />Source: Epic World History &#8211; Blogger</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রথম অভিযানের অল্পকাল পরেই জয়পালের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করে তাকে পরাজিত করেন এবং ধনদৌলত লাভ করেন। তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযান প্রেরণ করেন ১০০৪ সালে ভীর এবং ১০০৬ সালে মুলতানের বিরুদ্ধে, উভয় যুদ্ধেই সুলতান মাহমুদ জয় লাভ করেন । এর পর একে একে ১০০৮ সালে আনন্দ পাল, কাংরা, নগরকোট, ১০০৯ সালে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ,   ১০১৪ সালে খানেশ্বর, ১০১৮ সালে কৌনজ ও মাথুরার বিরুদ্ধে এবং ১০২০ সালে গোয়ালিয়র ও কালিঞ্জরের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন, তার জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভারত অভিযান হল ১০২৬ সালে সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা। আর জাঠদের বিরুদ্ধে ১০২৭ সালের অভিযানের মধ্যদিয়ে ভারতে তার অভিযানের সমাপ্তি সংঘটিত হয়।</span></p>
<h2><b>সুলতান মাহমুদ কর্তৃক সোমনাথ মন্দির অভিযান</b></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান মাহমুদ ভারতে যে অভিযানের জন্য বিখ্যাত এবং একই সাথে সমালোচিত বা বিতর্কিত হয়ে আছেন সেটি হল সোমনাথ মন্দির বিজয়। সোমনাথ মন্দিরটি কাথিয়াবাড়ের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ছিল। সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরের ধন-দৌলত ও ঐশ্বর্যের সংবাদ পেয়ে এটি বিজয়ের ইচ্ছা পোষণ করেন। এজন্য তিনি বিশাল এক সৈন্য বাহিনী নিয়ে সোমনাথের দিকে অগ্রসর হন। তার অগ্রসর হওয়ার সংবাদ পেয়ে গুজরাটের রাজাসহ বেশ কয়েকজন  রাজপুত রাজা ও অসংখ্য রাজপুত সৈন্য সুলতান মাহমুদকে প্রতিরোধ করার জন্য কৃত-সংকল্পবদ্ধ হন। কিন্তু সুলতান মাহমুদের সামনে কোন বাধাই টিকতে পারল না। সুলতান মাহমুদের সাথে প্রতিপক্ষের তুমুল যুদ্ধ বাধে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিশাল রাজপুত পরাজিত ও নিহত হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক রাজপুত নিহত হয়। ফলে সুলতান মাহমুদ জয়লাভ করে এবং সোমনাথ মন্দিরের প্রতিমা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।</span></p>
<figure id="attachment_9287" aria-describedby="caption-attachment-9287" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9287" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/destruction-of-somnath-temple-mahmud-ghazni-gay-islamic-terrorist.jpg" alt="সোমনাথ মন্দির অভিযান" width="600" height="450" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/destruction-of-somnath-temple-mahmud-ghazni-gay-islamic-terrorist.jpg 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/destruction-of-somnath-temple-mahmud-ghazni-gay-islamic-terrorist-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/destruction-of-somnath-temple-mahmud-ghazni-gay-islamic-terrorist-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-9287" class="wp-caption-text">সোমনাথ মন্দির অভিযান<br />Source: heveblog &#8211; WordPress.com</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">এই মন্দির হতে তিনি প্রভূত ধন সম্পদ লাভ করেন, এই সম্পদের মধ্যে শুধু স্বর্ণের পরিমাণই ছিল প্রায় চল্লিশ মণ। কথিত আছে সুলতান মাহমুদ যখন মন্দিরের প্রতিমা ধ্বংস করছিলেন এর পূর্বে ব্রাহ্মণ রাজা প্রতিমা না ভাঙ্গার জন্য প্রচুর পরিমাণ ধন সম্পদ দিতে সম্মত হন কিন্তু সুলতান মাহমুদ এসব প্রত্যাখ্যান করেন। এর পিছনে সুলতান মাহমুদের বক্তব্য ছিল &#8211; ইতিহাস আমাকে প্রতিমা ব্যবসায়ীর চেয়ে প্রতিমা ধ্বংসকারী হিসেবে মনে রাখুক। তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। তবে তিনি যে সোমনাথ মন্দিরের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন এবং লুণ্ঠন করেছেন তা সত্য।</span></p>
<h2><b>সুলতান মাহমুদ কেন বার বার</b> <b>ভারত আক্রমণ করেন </b><span style="font-weight: 400;"> </span></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">একক কোন নির্দিষ্ট কারণে সুলতান মাহমুদ বার বার ভারত আক্রমণ করেন নি। এর পেছনে নানাবিধ কারণ বিদ্যমান। যদিও অনেকেরই ধারনা যে সুলতান মাহমুদ কেবল ভারতের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন ও হিন্দু ধর্মের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই ভারত আক্রমণ করেছন। তবে  আধুনিক ঐতিহাসিক-গন এ-মতবাদকে এক পাক্ষিক ও সংকীর্ণ ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের পিছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই ছিল মুখ্য। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কেননা সুলতান মাহমুদ সিংহাসনে আরোহণ করার পূর্বেই রাজপুত-হিন্দু রাজাদের সাথে গজনবীর কর প্রদানের মত বেশ কিছু চুক্তি বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সুলতান মাহমুদের সিংহাসনে আরোহণের পর যখন তিনি সাফাবিদ ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদের দমনে ব্যস্ত ছিলেন তখন সুযোগ বুঝে রাজপুত রাজারা সকল চুক্তি অস্বীকার করে এবং সুলতানের আনুগত্য অস্বীকার করে। ফলে বাদ্য হয়ে সুলতান মাহমুদ তাদের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তাছাড়াও সুলতান মাহমুদ যখন অভ্যন্তরীণ সকল বিদ্রোহ দমন করে তার সামরিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে সমর্থ হলেন, তার পর পরই তার সামনে অন্য আরেকটি চ্যালেন্স ছিল তার সামরিক দক্ষতাকে রাজ্যের বাহিরে প্রতিষ্ঠা করা ও তার রাজ্য বিজয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপদান করা। এরই ধারাবাহিকতায় সুলতান মাহমুদ তার সৈন্যবাহিনীকে গড়ে তোলেন এবং ভারত আক্রমণে উদ্বুদ্ধ হন।</span></p>
<figure id="attachment_9292" aria-describedby="caption-attachment-9292" style="width: 950px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9292" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1-1.jpg" alt="সুলতান মাহমুদ গজনবী" width="950" height="475" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1-1.jpg 950w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1-1-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1-1-768x384.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 950px) 100vw, 950px" /><figcaption id="caption-attachment-9292" class="wp-caption-text">সুলতান মাহমুদ গজনবী</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের পিছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল গজনীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। তখনকার সময়ে ভারত ছিল ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ এক সমৃদ্ধ জনপদ। সুতরাং  সুলতান মাহমুদ লক্ষ করলেন যে যদি গজনী ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক সফলতা লাভ করতে পারে তা হলে ভারতের ধন সম্পদ সীমিত আকারে হলেও গজনীতে স্থানান্তরিত হবে ফলে এতে গজনীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধিত হবে। এই লক্ষকে সামনে রেখে সুলতান মাহমুদ ভারত আক্রমণ করেন এবং সফলও হন। ফলে  সুলতান মাহমুদ ভারত থেকে বহু ধন সম্পদ গজনীতে নিয়ে যান। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান মাহমুদের ভারত জয়ের পেছনে তার সামরিক দক্ষতার প্রমাণ ও ইতিহাসে একজন বিখ্যাত বিজেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করাও তার অন্যতম প্রধান লক্ষ ছিল। কেননা  তিনি শুধু বিজয় অভিযান ও সফলতা লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, ভারতে কোন স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ফলে ভারতে তিনি কোন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। </span></p>
<h2><b>যেসব কারণে সুলতান মাহমুদ ইতিহাসে বিখ্যাত</b></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাসে সুলতান মাহমুদ বহুমাত্রিক প্রতিভাধর হিসেবেই সমধিক পরিচিত। তিনি একাধারে ছিলেন ধর্মভীরু, বীর যোদ্ধা,দক্ষ প্রশাসক, শিল্পসাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক,  ন্যায় বিচারক ও রাজ্য বিজেতা। সুলতান মাহমুদের ধর্মভীরুতা সম্পর্কে বহু কল্প-কাহিনী রচিত হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করতেন এছাড়াও প্রচুর নফল নামাজ আদায় করতেন। কথিত আছে তিনি ফরজ-সুন্নত নামায আদায় করার পরও দৈনিক একশত রাকাত নফল নামায আদায় করতেন। তাছাড়াও তিনি নিয়মিত কুরান পাঠ করতেন এবং অন্যান্য ধর্মীয় কর্মকাণ্ড যথাযথ পালন করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মভীরু ও সর্বদা আল্লাহর উপর আস্থা স্থাপনকারী।</span></p>
<figure id="attachment_9289" aria-describedby="caption-attachment-9289" style="width: 660px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9289" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/timthumb.jpg" alt="সুলতান মাহমুদ গজনবী" width="660" height="330" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/timthumb.jpg 660w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/timthumb-300x150.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 660px) 100vw, 660px" /><figcaption id="caption-attachment-9289" class="wp-caption-text">সুলতান মাহমুদ গজনবী</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এসব গুন থাকার পরও তার যে গুন তাকে সমধিক পরিচিতি এনে দিয়েছে সেটি হল তার সামরিক দক্ষতা। তিনি সমগ্র জীবনই অতিবাহিত করেছেন যুদ্ধ -বিগ্রহের মধ্যে দিয়ে। কেননা সিংহাসনে আরোহণ করে প্রথমেই তাকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে ব্রতী হতে হয় এবং পরবর্তীতে বাহিরের অন্যান্য শত্রুদের মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে সামানিদ ও ভারতীয়দের মত প্রশিক্ষিতসব সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সফলতা লাভ করতে হয়। তিনি জীবনে যুদ্ধে পরাজয়ের স্বাদ খুব কমই ভোগ করছেন। কেননা মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধেই সর্বাধিক যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন যেখানে তিনি পরাজয় বরন করেননি বললেই চলে।</span></p>
<figure id="attachment_9286" aria-describedby="caption-attachment-9286" style="width: 999px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9286" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1000px-Tomb_of_Sultan_Mahmud_of_Ghazni_in_1839-40.jpg" alt="সুলতান মাহমুদের সমাধি" width="999" height="728" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1000px-Tomb_of_Sultan_Mahmud_of_Ghazni_in_1839-40.jpg 999w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1000px-Tomb_of_Sultan_Mahmud_of_Ghazni_in_1839-40-300x219.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1000px-Tomb_of_Sultan_Mahmud_of_Ghazni_in_1839-40-768x560.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/1000px-Tomb_of_Sultan_Mahmud_of_Ghazni_in_1839-40-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 999px) 100vw, 999px" /><figcaption id="caption-attachment-9286" class="wp-caption-text">সুলতান মাহমুদের সমাধি<br />Source: eAnswers</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান মাহমুদের আর একটি গুন তাকে মহান করে রেখেছে সেটি হল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা দান। তার সময়ে গজনীর দরবার জ্ঞানী -গুনিদের মিলনস্থলে পরিণত হয়। সুলতান মাহমুদ নিজে বিভিন্ন সাহিত্য আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকতেন। তার দরবারে শাহনামার রচয়িতা ফেরদৌসি, দার্শনিক ফারাবী, ঐতিহাসিক উৎবী, আখ্যান রচয়িতা বাইহাকী, কবি আলগারী, উজারী প্রভৃতি জ্ঞানী-গুনিদের দ্বারা অলংকৃত ছিল। তাছাড়া  বিখ্যাত আল বিরুনিও তার দরবারে কিছুদিন পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন। ভারত থেকে বহু মূল্যবান বই-পুস্তক ও পাণ্ডুলিপি তার দরবারের জ্ঞান বিজ্ঞানের পথকে অনেকটা সুপ্রসিদ্ধ করে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাকে গজনীর নেপোলিয়ন বলে আখ্যায়িত করা হয়। তবে নেপোলিয়নের মত সফলতা তিনি লাভ করতে পারেন নি। কেননা তিনি শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে রাজ্য জয়ই করেছেন কিন্তু কোন স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। তার বিরুদ্ধে পরধর্ম সম্পর্কে অসহিষ্ণুতার অভিযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি সত্য নয়। কেননা তিনি যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়া অন্য ধর্মের কোন জনসাধারণের উপর অত্যাচার করেননি । সুলতান মাহমুদের চরিত্রে ভিন্নতা থাকলেও তিনি সাহসী বীর যোদ্ধা হিসেবেই ইতিহাসে সমধিক পরিচিত হয়ে আছেন। তিনি ভবিষ্যতেও সকল বীর যোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। </span></p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8070 aligncenter" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-sultan-mahmud-ghaznavi/">সুলতান মাহমুদ গজনবী: নায়ক নাকি খলনায়ক?</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/biography-sultan-mahmud-ghaznavi/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মহাত্মা গান্ধী: অহিংসাই ছিল যার আমৃত্যু সাধনা</title>
		<link>https://itibritto.com/biography-of-mahatma-gandhi/</link>
					<comments>https://itibritto.com/biography-of-mahatma-gandhi/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 23 Jul 2018 17:16:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=9271</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="5120" height="2880" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/quotes-from-mahatma-gandhi-to-boost-your-self-confidence-mobile-desktop-iphone-5120x2880.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="মহাত্মা গান্ধী" decoding="async" loading="lazy" style="aspect-ratio: 5120/2880;" /></div>
<p>মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী! ভারতের জাতির পিতা। যিনি সকলের কাছে মহাত্মা গান্ধী নামেই সমধিক পরিচিত। মহাত্মা শব্দের মানে হল মহান যে আত্মা। তার অসামান্য অবদানের জন্য তাকে মহাত্মা উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলনের জন্য জনসাধারণের অতি নিকটে চলে আসেন এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সমগ্র বিশ্বে যে সকল জাতি নিজেদের উপর সকল শোষণের অবসান ঘটিয়ে [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-of-mahatma-gandhi/">মহাত্মা গান্ধী: অহিংসাই ছিল যার আমৃত্যু সাধনা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="5120" height="2880" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/quotes-from-mahatma-gandhi-to-boost-your-self-confidence-mobile-desktop-iphone-5120x2880.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="মহাত্মা গান্ধী" decoding="async" loading="lazy" style="aspect-ratio: 5120/2880;" /></div><p><span style="font-weight: 400;">মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী! ভারতের জাতির পিতা। যিনি সকলের কাছে মহাত্মা গান্ধী নামেই সমধিক পরিচিত। মহাত্মা শব্দের মানে হল মহান যে আত্মা। তার অসামান্য অবদানের জন্য তাকে মহাত্মা উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলনের জন্য জনসাধারণের অতি নিকটে চলে আসেন এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সমগ্র বিশ্বে যে সকল জাতি নিজেদের উপর সকল শোষণের অবসান ঘটিয়ে স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে তাদের সকলেরই এক বা একাধিক অগ্রদূতের সুনিপুণ নেতৃত্বের দ্বারা তা অর্জন করেছে। তেমনি ভারতীয় জাতিও যে আলোকবর্তিকার সাহায্যে ব্রিটিশ শাসন শোষণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তিনি হলেন মহাত্মা গান্ধী। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহাত্মা গান্ধী উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সত্ত্বেও তার জীবনের সকল আভিজাত্য ও বিলাসিতা পরিত্যাগ করে সাধারণ জনসাধারণের কাতারে নেমে আসেন। শুধু সাধারণের কাতারে এসেই ক্ষান্ত ছিলেন না বরং জনসাধারণের অধিকার আদায়ে সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন। সর্বোপরি তিনি ভারতের জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ভারতীয় জাতিকে স্বাধীনতার পথে দাবিত করেছিলেন। ভারতীয় জাতিকে সত্যাগ্রহ ও স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তার পরিবর্তেই ভারতের স্বাধীনতা সূচিত হয়েছিল। তাই ভারত তথা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁকে মনে রাখবে। তাই তাঁর শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও মৃত্যু পর্যন্ত বিষয়াবলী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে।</span></p>
<figure id="attachment_9274" aria-describedby="caption-attachment-9274" style="width: 580px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9274" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Motivational-Story-of-Mahatma-Gandhis-Childhood-When-an-inspector-visited-his-school-Gandhi-refused-to-lie.jpg" alt="মহাত্মা গান্ধী " width="580" height="325" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Motivational-Story-of-Mahatma-Gandhis-Childhood-When-an-inspector-visited-his-school-Gandhi-refused-to-lie.jpg 580w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/Motivational-Story-of-Mahatma-Gandhis-Childhood-When-an-inspector-visited-his-school-Gandhi-refused-to-lie-300x168.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 580px) 100vw, 580px" /><figcaption id="caption-attachment-9274" class="wp-caption-text">মহাত্মা গান্ধী<br />Source: MotivateMe.in</figcaption></figure>
<h2><strong>মহাত্মা গান্ধীর পরিচয় ও প্রাথমিক জীবন</strong></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">ভারতের স্বাধীনতার অগ্রদূত, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সম্মোহনী রাজনীতির পুরোধা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালে পোরবন্দরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল করমচাঁদ গান্ধী। করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন প্রবন্ধের দেওয়ান (প্রধান মন্ত্রী)। তার মায়ের নাম ছিল পুতলিবা। পুতলিবা ছিলেন করমচাঁদ গান্ধীর চতুর্থ স্ত্রী। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহাত্মা গান্ধী ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মাতৃভক্ত একজন মানুষ। অপরদিকে তার মাতা ছিলেন একজন একনিষ্ঠ ধর্মানুরাগী। ফলে ছোটবেলা থকেই মহাত্মা গান্ধী জীবের প্রতি অহিংসা, নিরামিষ ভোজন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির জন্য উপবাস করাকে নিজের মধ্যে রপ্ত করতে শিখেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মাত্র ১৩ বছর বয়সে মা-বাবার পছন্দে কাস্তবাই নামে ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  তার এই সহধর্মিণী সকল আন্দোলন সংগ্রামে তাকে সর্বদা সমর্থন দিয়ে যেতেন। তিনি মোট চারজন পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। যদিও মহাত্মা গান্ধী ৩৭ বছর বয়স হতে সকল নারী সংসর্গ পরিত্যাগ করেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বাল্যকালে তিনি পোরবন্দর ও রাজকোটে পড়ালেখা করেছেন। পরবর্তীতে গুজরাটের ভবনগরের সামালদাস কলেজ থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। এর পর ১৮৮৮ সালে ১৯ বছর বয়সে পরিবারের ইচ্ছায় ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ডে যান এবং সেখানে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনে ভর্তি হন। লন্ডনে রাজকীয় জীবন যাপন করার সুযোগ থাকলেও তা তিনি পরিত্যাগ করে ভারতীয় রীতির সহজ সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি লন্ডনে বসেও তার মায়ের উপদেশ সর্বদা মেনে চলতেন। কথিত আছে যে বিলেত যাবার সময় মহাত্মা গান্ধীর মা তাকে মাংস, মদ ও নারী এই তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে শপথ করান এবং বিলেত গিয়েও তার মায়ের শপথ পূরণ করেন। তিনি লন্ডনের যে গুটি কয়েক নিরামিষভোজী দোকান ছিল সেখান হতেই খাবার গ্রহণ করতেন। বিলেতে থাকাকালেই তিনি হিন্দুধর্ম নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করেন এবং হিন্দুধর্ম বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।  এর বাহিরে তিনি ইসলাম ধর্ম, খ্রিস্টানধর্ম ও বৌদ্ধধর্মে বিষদ জ্ঞান অর্জন করেন।</span></p>
<figure id="attachment_9276" aria-describedby="caption-attachment-9276" style="width: 1140px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9276" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/185850_3_dcea181b26e391658450f90a6a7477b000f38a9a_large.jpg" alt="মহাত্মা গান্ধী" width="1140" height="750" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/185850_3_dcea181b26e391658450f90a6a7477b000f38a9a_large.jpg 1140w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/185850_3_dcea181b26e391658450f90a6a7477b000f38a9a_large-300x197.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/185850_3_dcea181b26e391658450f90a6a7477b000f38a9a_large-768x505.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/185850_3_dcea181b26e391658450f90a6a7477b000f38a9a_large-1024x674.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1140px) 100vw, 1140px" /><figcaption id="caption-attachment-9276" class="wp-caption-text">মহাত্মা গান্ধী<br />Source: Mihaaru</figcaption></figure>
<h2><b>দক্ষিণ</b> <b>আফ্রিকায়</b> <b>মহাত্মা</b> <b>গান্ধী</b></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">বিলেত থেকে ফিরে তিনি কিছুদিনের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে ভারতীয়দের উপর বর্ণবৈষম্যের নামে যে অন্যায় অবিচার চলছিল তা দেখে তিনি খুব মর্মাহত হন। ফলে তিনি আরও বেশ-কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন। তৎকালীন সময়ে সেখানে ভারতীয়দের কোন ভোটাধিকার ছিল না এবং সকল ক্ষেত্রেই তারা শ্বেতাঙ্গদের চাইতে নিচুস্তরের হিসেবে বিবেচিত হত। ফলে ১৯৯৪ সালে গান্ধী সেখানে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস গঠন করেন। এর মাধ্যমে সেখানে ভারতীয়দেরকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। ১৯৯৭ সালে তাঁর ভারতের সংক্ষিপ্ত সফরকালে শ্বেতাঙ্গ মব তাকে হত্যার চেষ্টা করে । কিন্তু তিনি তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপই নেন নি । কারণ তিনি মনে করতেন ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য কোন গোষ্ঠীকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯০৬ সালে ট্রান্সভাল কর্তৃপক্ষ এশিয়াটিক রেজিট্রেশন অ্যাক্ট প্রকাশ করলে তিনি তার প্রতিবাদ জানান এবং জনসাধারণকেও এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করেন। তখন তিনি জনগণদের নিয়ে অহিংস আন্দোলন বা সত্যাগ্রহ আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং মোটামুটি সফলও হন। এর মাধ্যমেই গান্ধীর আদর্শ ও সত্যাগ্রহ আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।</span></p>
<figure id="attachment_9277" aria-describedby="caption-attachment-9277" style="width: 624px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9277" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/85572097_gettyimages-2673991.jpg" alt="দক্ষিণ আফ্রিকায় মহাত্মা গান্ধী" width="624" height="351" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/85572097_gettyimages-2673991.jpg 624w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/85572097_gettyimages-2673991-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 624px) 100vw, 624px" /><figcaption id="caption-attachment-9277" class="wp-caption-text">দক্ষিণ আফ্রিকায় মহাত্মা গান্ধী<br />Source: un-fair &#8211; WordPress.com</figcaption></figure>
<h2><b>মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন</b></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হলেও তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে তিনি ভারতে ফিরে এলে। তিনি ভারতে এসে সরাসরি কংগ্রেসের ব্যানারে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯১৮ সালে মহাত্মা গান্ধী জমিদারদের বিরুদ্ধে চম্পারন ও খেদা নামে আন্দোলন শুরু করে। সে সময় জমিদাররা তাদের মিলিশিয়া দিয়ে কৃষকদের উপর অত্যাচার চালাত, কৃষকদের উপর অন্যায়ভাবে করারোপ করা হত ফলে কৃষকরা দিনে দিনে দরিদ্র হতে থাকে এবং তাদের উপর অন্যায়-জুলুম বেড়েই চলছিল। এই পরিস্থিতিতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে কৃষকদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কৃষকদের পক্ষে যখন কথা বলার মত কেউ ছিল না তখন মহাত্মা গান্ধী তাদের পাশে এসে দাঁড়ান এবং গড়ে তোলেন চম্পারন ও খেদা আন্দোলন। আর গান্ধীর এই আন্দোলন ছিল অহিংস আন্দোলন ফলে ইংরেজদের ইশারায় জমিদাররা বাধ্য হয়ে সকল অবৈধ কর বাতিল করে এবং কৃষকদের ভর্তুকি দেয়াসহ দুর্ভিক্ষের অবসান না হওয়া পর্যন্ত কর উত্তোলন বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে গান্ধী সাধারণ কৃষক-প্রজাদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।</span></p>
<figure id="attachment_9278" aria-describedby="caption-attachment-9278" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9278" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/79039791-1024x1024.jpg" alt="মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন" width="1024" height="736" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/79039791-1024x1024.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/79039791-1024x1024-300x216.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/79039791-1024x1024-768x552.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-9278" class="wp-caption-text">মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন<br />Source: Getty Images</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যাকাণ্ড হলে মহাত্মা গান্ধী তার তীব্র সমালোচনা করেন। একদিকে যেমন ব্রিটিশদের অন্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন। অপরদিকে  একইভাবে ভারতীয়দের হিংসাত্মক প্রতিশোধ পরায়ণ নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি নিজেদের স্বায়ত্তশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাজ আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯২১ সালে তিনি কংগ্রেসের নির্বাহী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং স্বরাজ আন্দোলন কে সামনে রেখে আন্দোলন পরিচালনা ও দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যান। তার সময়ে কংগ্রেস পার্টি অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ জনসাধারণের পার্টিতে পরিণত হয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহাত্মা গান্ধী র অন্যতম রাজনৈতিক অবদান হল স্বদেশী আন্দোলন গড়ে তোলা। তিনি স্বদেশী আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে ভারতীয়দের কে বিদেশী বস্ত্র ও পণ্য বর্জন করার জন্য আহবান করেন। তিনি নিজেও বিলেতি পণ্য বর্জন করে খাদির চাকা ঘুরিয়ে বস্ত্র তৈরি করে তা পরিধান করতেন এবং ভারতীয় মহিলাদের কে খাদির চাকা ঘুরানো তে সম্পৃক্ত করেন।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯২২ সালে গান্ধীর নেতৃত্বেই অসহযোগ আন্দোলন গড়ে উঠে। প্রথমে এই আন্দোলন অহিংস থাকলে তা সহিংস রূপ লাভ করে। ফলে গান্ধীর বিরুদ্ধে আদালত ছয় বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। যদিও পরবর্তীতে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।</span></p>
<figure id="attachment_9279" aria-describedby="caption-attachment-9279" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-9279" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/khilaft_movement.jpg" alt=" অসহযোগ আন্দোলন" width="600" height="371" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/khilaft_movement.jpg 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/07/khilaft_movement-300x186.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-9279" class="wp-caption-text">অসহযোগ আন্দোলন<br />Source: Tutorialspoint</figcaption></figure>
<p><span style="font-weight: 400;">তাছাড়াও তিনি স্বরাজ আন্দোলন ও লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৩০ সালে ইংরেজরা লবণের উপর অতিরিক্ত করারোপের প্রতিবাদে তিনি সোচ্চার হন। তিনি ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা হেটে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এলাহাবাদ থেকে ডান্ডিতে পৌঁছান এবং সেখানে যান নিজে লবণ তৈরির জন্য। তার সাথে হাজার হাজার ভারতীয় লবণ তৈরির এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করে লন্ডনের গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সর্বোপরি ইংরেজরা ভারত স্বাধীনতা আইন পাস করার পেছনে গান্ধীর নিয়ম তান্ত্রিক আন্দোলন ও ব্রিটিশদের সাথে অহিংস-নীতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে অবদান রেখেছে। </span></p>
<h2><b>যেভাবে হত্যা করা হয় মহাত্মা গান্ধী</b> <b>কে</b></h2>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নাথুরাম গডসে নামক এক উগ্রবাদী হিন্দু মহাত্মা গান্ধী কে নতুন দিল্লীর বিরলা ভবনে গুলি করে হত্যা করে। যে মহাত্মা গান্ধী অহিংসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য সমগ্র বিশ্বে বিখ্যাত ছিল সেই মহাত্মা গান্ধী ই তার নিজ দেশে অহিংসার স্বীকার হয়ে নিহত হন। মহাত্মা গান্ধী কে হত্যার কারণ হিসেবে নাথুরাম উল্লেখ করেন যে গান্ধীর কারণেই হিন্দুদের পুণ্যভূমি দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং তিনি আরও অভিযোগ করেন যে গান্ধীর কারণেই মুসলিম অধিক শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছিল। নাথুরাম উগ্রবাদী হলেও তিনি অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত ছিলেন না। তিনি ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত হিন্দু ধর্মের একজন বিজ্ঞ পণ্ডিত। তিনি গান্ধীর সত্যাগ্রহন ও রাষ্ট্রভাষা হিন্দির বিরোধিতার সেন্টিমেন্ট ও গোঁড়া হিন্দুত্ব-বাদী নীতি দিয়ে হিন্দুদের মধ্যে বৃহৎ একটি শ্রেণীর সমর্থন আদায় করেন। ফলে তিনি মহাত্মা গান্ধীর মত একজন বিখ্যাত ব্যক্তিকে হত্যা করেও অনুতাপ করেন নি । পাশাপাশি গোঁড়া হিন্দুদের নিকটও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। ১৯৪৯ সালে ভারতের আদালত নাথুরামকে ফাঁসির আদেশ দেয়, ঐ-বছরই ১৮ই নভেম্বর নাথুরামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মৃত্যুর পরেও যেসব ব্যক্তি তাদের কর্ম দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন মহাত্মা গান্ধী তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি অহিংসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি দিয়ে অধিকার আদায়ের স্বপ্ন দেখতেন এবং সর্বদা নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাবী আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। ভারতীয়দের মধ্যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তোলার জন্য স্বদেশী আন্দোলন গড়ে তোলেন যা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে এবং ইংরেজদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করে। মহাত্মা গান্ধী ই ভারতীয়দের স্বাধীনতা লাভের স্বপ্ন দেখায় যা ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে। তাই বলা যায় যে ভারতীয় ইতিহাসে যেসকল সূর্যসন্তান জন্মগ্রহণ করেন মহাত্মা গান্ধীর অবস্থান তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে। তাই মহাত্মা গান্ধীকে ভারতীয় জাতীর পিতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।</span></p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8070 aligncenter" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-of-mahatma-gandhi/">মহাত্মা গান্ধী: অহিংসাই ছিল যার আমৃত্যু সাধনা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/biography-of-mahatma-gandhi/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস</title>
		<link>https://itibritto.com/history-of-north-koreas-political-evolution/</link>
					<comments>https://itibritto.com/history-of-north-koreas-political-evolution/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 28 Jun 2018 20:00:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=8748</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="কিম জং উন" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div>
<p>কোরিয়াও দীর্ঘদিন অন্যদের দ্বারা শাসিত হবার পর কোরীয় জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং জন্ম নেয় উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া নামক দুইটি পৃথক রাষ্ট্রের</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/history-of-north-koreas-political-evolution/">উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="কিম জং উন" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/artsfon.com-95808-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div><p>আধুনিক বিশ্বে জাতি রাষ্ট্রের উত্থান হওয়ার সাথে সাথেই পুরাতন সব রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে নতুন নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হতে থাকে। ফলে পুরাতন নগর রাষ্ট্রের স্থলে জাতি রাষ্ট্রের উত্থান হয়।কোরিয়ার ইতিহাসও এর ব্যতিক্রম নয়। কোরিয়াও দীর্ঘদিন অন্যদের দ্বারা শাসিত হবার পর কোরীয় জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং জন্ম নেয় উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া নামক দুইটি পৃথক রাষ্ট্রের। ফলে শুরু হয় দুই কোরিয়ার মধ্যে আলাদা শাসন ও অর্থব্যবস্থা ।</p>
<p>উত্তর কোরিয়ায় একনায়ক-তান্ত্রিক শাসনের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্ব গণমাধ্যমের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তাছাড়া মার্কিনীদের সাথে উত্তেজনার জের ধরে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসে। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন থেকে যায় যে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের মত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরাশক্তির বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার মত ক্ষুদ্র দেশের বিরোধের কারণ কি? তাছাড়া উভয়ের মধ্যে ভৌগলিক দূরত্ব হাজার হাজার মাইল। আর দুই কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বিভেদের কি হবে? তারা কি কোন দিন আবার একত্র হবে? এসকল প্রশ্নের উত্তর এবং উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে থাকছে এবারের আলোচনায়।</p>
<h2><strong>কোরিয়ার</strong> <strong>পূর্ব</strong><strong>&#8211;</strong><strong>ইতিহাস</strong><strong>:</strong></h2>
<p>বিশ্বের অন্যান্য  সকল রাষ্ট্রের ন্যায় কোরিয়ারও নিজস্ব প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। ইতিহাসের দীর্ঘ গতিধারায় নানা ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করে বর্তমান কোরিয়ার জন্ম-হয়েছে। যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এসে কোরিয়া দুই ভাগ হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া হিসেবে রূপ লাভ করেছে তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে দুই কোরিয়ার ইতিহাসই অভিন্ন।</p>
<figure id="attachment_8752" aria-describedby="caption-attachment-8752" style="width: 760px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8752" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/bmaqyp9nqjkwx3wi63ru.jpg" alt="উত্তর কোরিয়ার অবস্থান, " width="760" height="1103" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/bmaqyp9nqjkwx3wi63ru.jpg 760w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/bmaqyp9nqjkwx3wi63ru-207x300.jpg 207w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/bmaqyp9nqjkwx3wi63ru-706x1024.jpg 706w" sizes="auto, (max-width: 760px) 100vw, 760px" /><figcaption id="caption-attachment-8752" class="wp-caption-text">উত্তর কোরিয়ার অবস্থান, Source: seafoodnet.info</figcaption></figure>
<p>যখন থেকে কোরিয়া উপদ্বীপের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ঠিক তখন থেকেই কোরিয়ার অধিবাসীরা ছিল কৃষি ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত। এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় এখানেও লোহা/ব্রোঞ্জের আবিষ্কারের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধিত হয়।  খ্রিষ্টীয় ৫ম শতকের দিকে এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি উপজাতি গোষ্ঠীর উত্থান হয়।  ফলে কোরিয়া  উপদ্বীপের শাসন কাদের হাতে থাকবে এজন্য এখানকার উপজাতিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কলহ দেখা দেয়। এরই সূত্র ধরে এখানে অন্য সকল উপজাতি গোষ্ঠীদের পরাজিত করে ৬৬৮ সালে সিলা নামক এক গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে এবং শুরু হয় এ অঞ্চলে কেন্দ্রাংশ শাসন। তারা  ৯৩৫ সাল পর্যন্ত তাদের শাসন ক্ষমতা ধরে রাখে। এর-পরবর্তী সময়ে তাদের কে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসে &#8220;গরিইয়ো&#8221; সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে চীনাদের প্রভাব সবচাইতে বেশি ছিল। তারা  দীর্ঘকাল ক্ষমতা ভোগ কারার পর ১৩৯২ সালে তাদের শাসনাবসান হয়। তাদের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যায় &#8220;জোসোন&#8221; বংশের হাতে। এই জোসানদের আমলেই কোরিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের স্থলে চীনের কনফুসিয়াস ধর্মমত আধিপত্য লাভ করে। ফলে কোরিয়ায় সরাসরি চীনের প্রভাব প্রতিপত্তি লাভ করে। ১৯১০ সালে কোরিয়া জাপানের অধীনে যাওয়ার আগে পর্যন্ত জোসানদের হাতেই কোরিয়ার শাসনভার ছিল। ফলে ১৯১০  সালে জোসান বংশের পতন হয় এবং কোরিয়া হতে চীনের প্রভাব বিলুপ্ত হয়।</p>
<h2><strong>জাপান</strong> <strong>শাসনের</strong> <strong>অধীনে</strong> <strong>কোরিয়া</strong><strong>:</strong></h2>
<p>কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চীনা মদদ-পুষ্ট জোসানদের দুঃশাসন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোরিয়ার সাধারণ জনতা সোচ্চার হয়। ফলে তারা  তৎকালীন শাসকদের বিরুদ্ধে ও চীনাদের আন্দোলন শুরু করে। ফলে তাদেরকে দমানোর জন্য তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু এদিক দিয়ে আন্দোলনকারীদের জাপান মদদ দিতে থাকে ফলে কোরীয় উপদ্বীপে বিশৃঙ্খলতা দেখা দেয়। এর মধ্যদিয়ে আবার কোরিয়া  কে কেন্দ্র করেই ১৯০৫ সালে রুশ-জাপান  সংগঠিত হয়। এতে জাপান জয় লাভ করে। ফলে কোরিয়ায় সরাসরি জাপানের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ১৯১০ সালে সরাসরি কোরিয়া দখল করে জাপানের অধীনস্থ করে ফেলে। এরই মধ্যে সেখানে জোসানদের কে পরাজিত ও বিতাড়িত করে জাপানের আনুগত্য গোষ্ঠী ক্ষমতা গ্রহণ করে নেয়।</p>
<figure id="attachment_8754" aria-describedby="caption-attachment-8754" style="width: 1280px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-8754 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/DSC00512.jpg" alt="জাপানের বিরুদ্ধে কোরিয়ার জনগণের বিপ্লবের চিত্র" width="1280" height="960" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/DSC00512.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/DSC00512-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/DSC00512-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/DSC00512-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/DSC00512-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" /><figcaption id="caption-attachment-8754" class="wp-caption-text">জাপানের বিরুদ্ধে কোরিয়ার জনগণের বিপ্লবের চিত্র, Source: Picture Lights</figcaption></figure>
<p>এর পরবর্তী সময় হতে কোরিয়ায় সরাসরি জাপানি শাসন চলতে থাকে। তারা কোরিয়াকে ব্যবহার করে ব্যাপক শিল্প সমৃদ্ধি গড়ে তোলে। অপরদিকে স্বাধীনতাকামী কোরীয় জনসাধারণ জাপানের এই ধরনের উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। জাপান শাসক গোষ্ঠী স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীকে শান্তি বিনষ্টকারী, দেশদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং এসব স্বাধীনতাকামীদের চীনের এজেন্ট বলেও উল্লেখ করে জাপানিরা। এসব স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করে জাপান। ফলে তারা  ঐক্যবদ্ধ কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। তারা  জাপান শাসকের খড়গ হস্তে থেকে রক্ষা পাবার জন্য চীনে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে বিদেশী সরকার গড়ে তোলে। কিন্তু এই বিদেশী সরকার অনেক চেষ্টা তদবির করেও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ করতে পারেনি।</p>
<p>কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পর জাপানের আগ্রাসী নীতি রুখে দেয়া ও কোরীয় উপদ্বীপের জাপানি উপনিবেশগুলো কি হবে তা নির্ধারণ করান জন্য ১৯৪৩ সালে কায়রোতে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানরা একত্রিত হয়। সেখানে কোরিয়াকে স্বাধীনতা দান ও সেখান হতে জাপানকে বিতাড়িত কারার প্রস্তাব গৃহীত হয়।পরবর্তীতে তেহরান সম্মেলনে সোভিয়েত ইউনিয়নও এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করে। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর হাতে জাপান পরাজিত হয়ে কোরিয়া হতে বিদায় নেয়। এসময়ই জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি নামের দুইটি শহর মার্কিন পারমাণবিক বেমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যা জাপানের মেরুদণ্ড কে পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে দেয়। আর এভাবেই কোরিয়া হতে জাপান শাসনের চির অবসান হয় এবং ১৯৪৫ সালের ১৫ই আগস্ট কোরিয়াকে স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।</p>
<h2><strong>দ্বিতীয়</strong> <strong>বিশ্বযুদ্ধ</strong> <strong>পরবর্তী</strong> <strong>সময়ে</strong> <strong>উত্তর</strong> <strong>কোরিয়া</strong><strong>:</strong></h2>
<p>দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালীন সময়ে জাপানকে পরাজিত করার লক্ষ নিয়ে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত উভয়েই কোরিয়ায় অবস্থান নেয়। কিন্তু যুদ্ধোত্তর কালে কোরিয়ার শাসন ব্যবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয় কেননা মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র চায় কোরিয়ায় তার অনুসারী হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। অপরদিকে সোভিয়েত চায় কোরিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। অর্থাৎ কোরিয়াকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টতা লাভ করে। ফলে দুই  শক্তির প্রতিযোগিতায় কোরিয়া বলির পাঠায় পরিণত হয়ে ৩৮ ডিগ্রি সমান্তরাল রেখায় বিভক্ত হয়ে পরে। অর্থাৎ কোরিয়া দুই ভাগ হয়ে যায়। কোরিয়ার দক্ষিণাংশে মার্কিনীদের অনুসরণে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অপরদিকে  উত্তরাংশে সোভিয়েতদের অনুকরণে কিম-জং ইলের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার পথ চলা শুরু হয়।</p>
<figure id="attachment_8755" aria-describedby="caption-attachment-8755" style="width: 960px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8755" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/slide_12.jpg" alt="কোরিয়া যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধরত সৈন্যবাহিনী" width="960" height="720" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/slide_12.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/slide_12-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/slide_12-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/slide_12-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" /><figcaption id="caption-attachment-8755" class="wp-caption-text">কোরিয়া যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধরত সৈন্যবাহিনী<br />Source: SlidePlayer</figcaption></figure>
<p>কিন্তু এসময় উভয় অঞ্চলের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আক্রমণের আশঙ্কায় দিনাতিপাত চলতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫০ সালে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার উপর আক্রমণ করে বসে ফলে শুরু হয় কোরীয় গৃহযুদ্ধ। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিনীরা দক্ষিণ ও সোভিয়েত উত্তর কোরিয়ার পক্ষ নিয়ে সাহায্য করতে থাকে। ফলে রুশ-মার্কিন প্রক্সিওয়ারের রূপ লাভ করে। যুদ্ধের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় সমগ্র অংশ দখল করে ফেলে। ফলে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়ে পরে এবং কৌশলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের কে পিছু হঠতে বাধ্য করে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাহায্যে চীনা বাহিনী যোগ দিলেও কোন লাভ হয়নি। উত্তর কোরীয় সৈন্যদের কে ৩৮ ডিগ্রী রেখার উপরে নিয়ে যাওয়ার পর মার্কিনীদের কৌশলে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া সমাজতান্ত্রিক কায়দায় শাসন কার্য পরিচালনা করতে থাকে।</p>
<p>উত্তর কোরিয়ায় কিম ইল সুং এর নেতৃত্বে শাসন চলতে থাকে। তিনি সকল সম্পদের উপর ব্যক্তি মালিকানা বিলুপ্ত করে দেন। কল-কারখানাসহ সকল সম্পদের উপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে  বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ থাকার পরও উত্তর কোরিয়া আশানুরূপ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে পারেনি। এর পিছনে অন্যতম কারণ হল দুর্নীতি। কিম ইল সুং  সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করেন। তার পর ক্ষমতায় আসেন তার পুত্র কিম জং ইল। তার সময়ে ব্যাপক বন্যার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ফলে এতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়। তার সময়ে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক যুগে প্রবেশ। ২০০২সালে সর্বপ্রথম তাদের বিরুদ্ধে জর্জ ডব্লিউ বুশ গণ বিধ্বংসী অস্ত্র রাখার অভিযোগ তোলে প্রথমদিকে উত্তর কোরিয়া তা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ২০০৫ সালে নিজেদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে নেয়। এসময় তারা দাবী করে যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে নিজেদের  সুরক্ষিত রাখার জন্য তাদের এই পারমানবিক অস্ত্র দরকার।</p>
<h2><strong>পারমানবিক যুগে উত্তর কোরিয়ার প্রবেশ ও পরবর্তী ইতিহাস:</strong></h2>
<p>কিম জং ইলের শাসনের শুরু থেকেই তিনি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উপরে জোর আরোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পারমানবিক প্রকল্প শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।সর্বপ্রথম ২০০৫ সালে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের কথা স্বীকার করে এবং এর পরের বছরই অর্থাৎ ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এতে সমগ্র বিশ্ব উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে ভাবতে শুরু করে এবং এতে উত্তর কোরিয়াও নিজেদের কে পারমানবিক দেশের কাতারে নিয়ে যায়। কিন্তু এতে উত্তর কোরিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিম জং ইল নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন নি। যদিও এসময় উত্তর কোরিয়ায় অর্থনৈতিক দুরবস্থা দেখা দেয়।</p>
<figure id="attachment_8756" aria-describedby="caption-attachment-8756" style="width: 3600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8756" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/6007db64.jpg" alt="উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমা বহনকারী রকেট, " width="3600" height="2400" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/6007db64.jpg 3600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/6007db64-300x200.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/6007db64-768x512.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/6007db64-1024x683.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 3600px) 100vw, 3600px" /><figcaption id="caption-attachment-8756" class="wp-caption-text">উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমা বহনকারী রকেট, Source: VIPワイドガイド &#8211; Livedoor.biz</figcaption></figure>
<p>২০০৮ সালের দিকে ইলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উত্তরাধিকার বিষয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এসময় তার তৃতীয় পুত্র কিম জং উন তার অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করে। এর মধ্যেই ২০০৯ সালের ২৫ শে মে উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয়বারের মত পারমানবিক পরীক্ষা চালায় এবং এটি ছিল সফল পারমানবিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার কারণ হিসেবে অধিকাংশের মতামত হল -নিজেদের সংকট-কালীন সময়েও উত্তর কোরিয়া পারমানবিক অস্ত্র গবেষণা থেকে পিছপা হয়নি তা প্রমাণ করতেই এই পারমানবিক পরীক্ষা চালায়। ২০০৯ সালের জুনেই ঘোষণা দেয়া হয় যে কিম জং ইলের পর কোরিয়ার নেতৃত্ব দিবেন কিম জং ইলের তৃতীয় ছেলে কিম জং উন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মৃত্যুর পর ২৮ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে কিম জং উন কে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।</p>
<figure id="attachment_8758" aria-describedby="caption-attachment-8758" style="width: 960px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-8758 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/f960x0-180181_180199_0.jpg" alt="কিম জং উন " width="960" height="599" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/f960x0-180181_180199_0.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/f960x0-180181_180199_0-300x187.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/f960x0-180181_180199_0-768x479.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" /><figcaption id="caption-attachment-8758" class="wp-caption-text">কিম জং উন Source: El Intransigente</figcaption></figure>
<h2><strong>কিম জং উনের উত্থান:</strong></h2>
<p>কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার শাসন ক্ষমতা দখল করার পর  পরই তার নিকটতম সকল প্রতিদ্বন্দ্বীদের কে হত্যা ও প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সরিয়ে তার শাসনের পথকে কণ্টক-মুক্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উনের রাজনৈতিক হত্যার একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এতে দেখা যায় যে ২০১১ সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কিম জং উন সর্বমোট ৩৪০ জনকে বিভিন্নভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ।যাদের মধ্যে ১৪০ জনই সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বাকিদের মধ্যে তার নিকট আত্মীয় ,ভাই ও তার শাসনের জন্য বাধা হতে পারে এমন লোকজন অন্যতম।</p>
<p>কিম জং উন শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেছিলেন যে কিম তার বাবার মত শক্ত-হাতে রাজ্য শাসন করতে পারবেন না এবং তার হাতেই হয়ত উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের এককেন্দ্রিক শাসনের অবসান হতে পারে।কিন্তু কিম সকল সম্ভাবনা কে উড়িয়ে দিয়ে কঠোর হাতে শাসন শুরু করেন। তিনি একদিকে যেমন তার সকল প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেন অপরদিকে রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদসমুহ নিজেই দখল করে নেন। ফলে অতি দ্রুতই কিম উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌম শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক প্রকল্প ও সামরিক সক্ষমতা কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। তার সময়ে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকবার পারমানবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। তার নেতৃতেই হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানো হয় এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের কাতারে নিয়ে যায়। যা প্রায় সাত হাজার কি.মি দূরের লক্ষবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম। ফলে এখন উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করার জন্য সক্ষমতা লাভ করে। যা মার্কিন-উত্তর কোরিয়ার স্নায়ুযুদ্ধকে আরও ঘনীভূত করে।আর উনের এসব কার্যক্রম মার্কিনী সহ সমগ্র বিশ্বের তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েই করতে হয়েছে।</p>
<p>শুরুর দিকে অনেকে উনের এই কার্যক্রমকে পাগলামি ও আত্মহত্যার সামিল বলে মনে করলেও বর্তমানে অনেকেই মনে করছে যে উনের নেতৃত্বেই উত্তর কোরিয়ার প্রভাব পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা গত মাসেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার শাসকদ্বয় বৈঠক করেছে। যাকে অনেকেই মনে করছে এটি উনের একধরনের সফলতা। তাছাড়াও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও তার ঐতিহাসিক বৈঠক ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।তাই এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বর্তমানে কিম জং উন কঠোর হাতে যোগ্য একনায়কের ন্যায় শাসন কার্য পরিচালনা করছেন।</p>
<p>উত্তর কোরিয়া সকল বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও তাদের পারমানবিক প্রকল্প ও সমাজতন্ত্রের নামে একনায়ক-তান্ত্রিক শাসন পরিচালনা করে যাচ্ছে। দুই কোরিয়া ভাগ হওয়ার পর হতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ কয়েকজন শাসকের হাতে ক্ষমতার হাত বদল হলেও উত্তর কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন শাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। এই হাত বদল আবার অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রেই হয়েছে। ফলে এখানে যেমন সাধারণ জনগণ রাজনীতির বাইরে ছিল তেমনি এখানে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ব্যাপকভাবে হরণ করা হয়েছে। তারা সমগ্র বিশ্বের থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থেকেও শুরুতে রাশিয়া ও পরে চীনের সহায়তায় বর্তমানেও টিকে রয়েছে।</p>
<p>জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে কোন কঠোর ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারে না চীনের ভেটো পাওয়ার থাকার কারণে। তবে অনেকে আবার মনে করেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নব্য ঘাটি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যখানে ব্যালেন্স অব পাওয়ার রক্ষায় উত্তর কোরিয়ার মত এমন একটি দেশ থাকার দরকার রয়েছে। তবে যে যাই বলুক না কেন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা ও উনের একরোখামী আচরণ সত্যিই শান্তিকামী মানুষের মনকে সর্বদা উৎকণ্ঠার মধ্য রাখে। তাই শান্তিকামী বিশ্ব মাত্রই উত্তর কোরিয়া সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8070 aligncenter" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/history-of-north-koreas-political-evolution/">উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/history-of-north-koreas-political-evolution/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>খলিফা হারুন অর রশিদ: আরব্যোপন্যাসের নায়কের গল্প</title>
		<link>https://itibritto.com/harun-rashid/</link>
					<comments>https://itibritto.com/harun-rashid/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 Jun 2018 05:00:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=8087</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="হারুন অর রশিদ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div>
<p>চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।  চাঁদ এখন যৌবন কাল শেষ করে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার দিকে তাই সন্ধ্যারাতেই আলোর বিচ্ছুরণ শুরু করে না,রাত ঘনীভূত হবার পর তার আলোর কার্যকারিতা শুরু হয়। তাই কিছুদূরে বাচ্চাদের কান্নার শব্দ শোনা গেলেও অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সামনের দিকে আগাতে হল। যারা  এগিয়ে যাচ্ছে  সংখ্যা দুইজন হলেও দূর থেকে আরও [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/harun-rashid/">খলিফা হারুন অর রশিদ: আরব্যোপন্যাসের নায়কের গল্প</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="হারুন অর রশিদ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/Harun_al-Rashid_Civ5-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div><p>চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।  চাঁদ এখন যৌবন কাল শেষ করে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার দিকে তাই সন্ধ্যারাতেই আলোর বিচ্ছুরণ শুরু করে না,রাত ঘনীভূত হবার পর তার আলোর কার্যকারিতা শুরু হয়। তাই কিছুদূরে বাচ্চাদের কান্নার শব্দ শোনা গেলেও অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সামনের দিকে আগাতে হল। যারা  এগিয়ে যাচ্ছে  সংখ্যা দুইজন হলেও দূর থেকে আরও বেশ কয়েকজন তাঁদের  উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। বেশ কিছু বালুময় বিস্তৃর্ণ পথ পাড়ি দেবার পর কান্নার আওয়াজ যে দিক থেকে আসছে ঠিক সেদিকেই নিভুনিভু আগুনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সুতরাং আরও কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে তাদের নিকটে অথচ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে শিশুদের কান্না এবং ওখানে আগুন দিয়ে কি করা হচ্ছে তার পর্যবেক্ষণ চলছে। প্রথম দর্শনে দেখা গেল একজন ভদ্র মহিলা চুলায় কিছু রান্না করছে এবং তার পাশে দুইজন শিশু খাবারের জন্য কান্না করছে যদিও মহিলাটি বাচ্চাদের অতিশীঘ্রই খাবার দেবার আশ্বাস দিচ্ছে। এভাবে বেশকিছু সময় অতিবাহিত হল।  দুইজন আগন্তুক ঠায় দাঁড়িয়ে এসব চিত্র দেখে যাচ্ছে। একজন আগন্তুকের বয়স খানিকটা বেশী হলেও অপরজন ছিল পাক্কা যুবক। এসব চিত্র দেখার ফাঁকেফাঁকে আগন্তুক-দ্বয় নিজেদের মধ্যে কিছু ছোট ছোট আলাপও করছে । এরই মধ্যে চাঁদও আলো ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে, সবকিছু আরও স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও যখন দেখা গেল মহিলা বাচ্চাদের কে যে স্বল্প সময়ের আশ্বাস দিচ্ছে তা শেষ হচ্ছে না। তখন আগন্তুক দুইজন মহিলার দিকে এগিয়ে গেল এবং জিজ্ঞেস করল বাচ্চাদের এভাবে কান্নার প্রকৃত কারণ কি। তখন মহিলা অত্যন্ত অসহায়তার সাথে  বলতে লাগল- এই দুই বাচ্চা আমার সন্তান, আমার স্বামী যুদ্ধে শহিদ, আমি সারাদিন চেষ্টা করেও তাদের জন্য কোন খাদ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। তাই তাদের সান্ত্বনা দেবার জন্য পাতিলের মধ্যে পাথর সিদ্ধ করছি এবং অপেক্ষা করছি কখন তারা কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।  তখন আগন্তুক লোকদের মধ্যে প্রথম-জন খুব মর্মাহত হলেন এবং পাশের যুবককে তাদের খাবারের জন্য নিজ কাঁধে করে আটা এবং খেজুর নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন।  যেই কথা সেই কাজ। অল্প সময়ের মধ্যে খাদ্য নিয়ে ফিরে এলেন যুবক। এর অল্প সময় পরই মহিলা জানতে পারল তার জন্য খাদ্য বহন করে নিয়ে আসা ব্যক্তিই খলিফা হারুন অর রশিদ ।</p>
<h2><strong>হারুন অর রশিদের পরিচয়:</strong></h2>
<p>ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র হারুন অর রশিদ ৭৬৬ সালের ২৪শে মার্চ আব্বাসী খিলাফতের অধীনস্থ রাই নামক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আল মাহদী ও মাতার নাম খাইজুরান। বাল্যকালে তিনি  ইয়াহিয়া  বর্মাকের নিকট বিদ্যা শিক্ষা লাভ করেন এবং ইয়াহিয়ার মতই একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হন। ৭৮৬ সালে হাদির মৃত্যুর পর আব্বাসী বংশের ৫ম শাসক হিসেবে ২০ বছর বয়সে খিলাফতের মসনদে আরোহণ করেন তিনি। দক্ষতার সাথে দীর্ঘদিন শাসন করার পর ৮০৯ সালে তুস নগরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তার তিন ছেলেকে রেখে যান। তারা  ছিল আমিন,মাপুন ও মুতা-সিম। তার ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনীত হয় তার ছেলে আমিন। হারুন অর রশিদের শাসনকালে বিজ্ঞান,ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য তার শাসনকালকে আব্বাসী খিলাফতের স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে ।</p>
<figure id="attachment_8088" aria-describedby="caption-attachment-8088" style="width: 250px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-8088 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/a.png" alt="হারুন অর রশিদ" width="250" height="353" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/a.png 250w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/a-212x300.png 212w" sizes="auto, (max-width: 250px) 100vw, 250px" /><figcaption id="caption-attachment-8088" class="wp-caption-text">খলিফা হারুন অর রশিদ, ,http://epicworldhistory.blogspot.com</figcaption></figure>
<h2><strong>হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক সাফল্য:</strong></h2>
<p>হারুন অর রশিদ আব্বাসী খিলাফতের মসনদে আরোহণ করার অল্পকাল সময়ের মধ্যেই খারেজীরা বিদ্রোহ শুরু করে দেয়। প্রথমে মসুলে এই বিদ্রোহ দেখা দিলেও পরবর্তীতে তা আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানে ছড়িয়ে পড়ে। এসব অঞ্চলে খারেজীদের কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আল ওয়ালিদ, হারুন অর রশিদ প্রথমে তাকে হত্যা করে দমন করলেও তার আরেক নারী উত্তরাধিকারী হিসেবে লায়লা নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। লায়লা নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর এই আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে এবং আরব ইতিহাসে জোয়ান অব আর্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পাশাপাশি ইরাক পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। খারেজীদের এই তীব্র আন্দোলন দমন করার জন্য খলিফা কঠোর নীতি গ্রহণ করেন এবং খারেজিদের পরাজিত করে লায়লাকে স্বাভাবিক নারীসুলভ জীবনে ফিরে যেতে সুযোগ প্রদান করেন।  এতে খারেজী আন্দোলন দমন করা হয় এবং হারুন অর রশিদ রাজনৈতিক সাফল্য লাভ করেন।</p>
<p>বাইজানটাইনদের সাথে আল মাহদীর সময় হতেই আব্বাসীদের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। তখনকার সময়ে হারুন বাইজানটাইনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফলতা লাভ করার জন্যই রশিদ উপাধি লাভ করেন। হারুন অর রশিদ ক্ষমতা লাভ করার পরও এই বিরোধ বর্তমান থাকে। ফলে তার শাসনের শুরুর দিকে ৭৯১ সালে বাইজানটাইন শাসক আইরিনের সাথে বিরোধ দেখা দিলে হারুন সফলতা লাভ করেন এবং বাইজানটাইনরা কর প্রদানের শর্তে চুক্তি করে। কিন্তু বাইজানটাইনদের শাসনক্ষমতা পরিবর্তন হবার পর নাইসেফোরাস ক্ষমতায় এসে পূর্বের কর দানের চুক্তি অস্বীকার ও আব্বাসীদের বিরোধিতা শুরু করে। তাকে সমুচিত  জবাব দেয়ার জন্য খলিফা নাইসেফোরাসের বিরুদ্ধে সৈন্য পরিচালনা করেন এতে নাইসেফোরাস ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ৮০৮ সালে আবার বিদ্রোহ করলে আবারও তাকে পরাজিত করেন রশিদ। ঐতিহাসিকদের মতে শুধু এরকম চুক্তি ভঙ্গ দুইবারই হয়নি বরং হারুন অর রশিদের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বেশ কয়েকবার এরকম ঘটনা ঘটেছে কিন্তু বার বারই হারুন অর রশিদ জয় লাভ করে তার বীরত্ব প্রমাণ করেছেন।</p>
<figure id="attachment_8089" aria-describedby="caption-attachment-8089" style="width: 730px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8089" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/b.png" alt="হারুন অর রশিদ কর্তৃক যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষন(প্রতীকি)" width="730" height="411" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/b.png 730w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/b-300x169.png 300w" sizes="auto, (max-width: 730px) 100vw, 730px" /><figcaption id="caption-attachment-8089" class="wp-caption-text">হারুন অর রশিদ কর্তৃক যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষন(প্রতীকি) https://en.qantara.de/content/caliphs-and-assassins-between-myth-and-reality</figcaption></figure>
<p>হারুন অর রশিদের শাসনকালে অন্যতম ঘটনা হল আফ্রিকায় বিদ্রোহ দমন। হারুন অর রশিদ ক্ষমতায় আরোহণ করার পর পরই আফ্রিকায় বিদ্রোহ দেখা দেয়।  সেখানে বিদ্রোহ দমন  করার জন্য হারসামা কে প্রেরণ করেন। হারসামার অসাধারণ রণনৈপুণ্যে সেখানে বিদ্রোহ দমন করে এবং ইব্রাহিম ইবনে আগলাব কে সেখানকার শাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এর পরবর্তীতে সেখানে বংশানুক্রিমভাবে আগলাবি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই আব্বাসী খিলাফতকে সুসংহত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে শাসনকে কণ্টক-মুক্ত করে এবং রাজনৈতিক সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করেন ।</p>
<h2><strong>হারুন অর রশিদের অবদান:</strong></h2>
<p><a href="https://itibritto.com/hazrat-abu-bakr-ra/"><strong>ইসলামের ইতিহাস</strong></a> তথা আরব বিশ্বের ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে হারুন অর রশিদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। তিনি যেমন  ছিলেন সমরকৌশলী তেমনি প্রজারঞ্জক শাসকও। তিনি রাতের আঁধারে সমস্ত সাম্রাজ্য ঘুরে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন। তার এই প্রজাহৈতেষী গুন নিয়ে বহু আরব্য উপন্যাস-গল্পগাঁথা রচিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য অবদান সমূহ হল ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি,গরিবদুঃখীদের জন্য সরাইখানা চালু করা,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নতুন নতুন মসজিদ -মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা।</p>
<p>তার সময়ে নৌযোগাযোগ উন্নত হবার কারণে সুদূর ইউরোপের সাথে আব্বাসী খিলাফতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তার শাসনাধীন এলাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা প্রধান করা হয়। ফলে ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। তার আমলে অন্যতম একটি আমূল পরিবর্তনকারী ঘটনা হল &#8220;আল বিমারিস্তান&#8221; নামক চিকিৎসালয় স্থাপন। এটি ছিল বৃহৎ আকারের একটি চিকিৎসালয় যেখানে মুসলিম বিশ্বের নামকরা সব চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সেখানে সেবা প্রদান ও গবেষণা কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে &#8220;আল রাজি&#8221; ছিলেন অন্যতম। এই চিকিৎসালয় আব্বাসী খেলাফতের বাসিন্দাদের জন্য ভূস্বর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।</p>
<figure id="attachment_8090" aria-describedby="caption-attachment-8090" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8090" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/c.png" alt="হারুন অর রশিদ কর্তৃক নির্মিত আল বিমারিস্তান চিকিৎসা কেন্দ্র " width="640" height="359" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/c.png 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/c-300x168.png 300w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-8090" class="wp-caption-text">হারুন অর রশিদ কর্তৃক নির্মিত আল বিমারিস্তান চিকিৎসা কেন্দ্র http://www.islamibarta.com</figcaption></figure>
<p>তার সময়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সমূহ হল আরবদের পানির কষ্ট লাঘব করার জন্য ১০ লক্ষ দিনার ব্যয়ে নির্মিত &#8220;নাহরে যুবাইদা&#8221;। আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস,শফি,আসমায়ী,আব্দুল্লাহ বিন নোয়াস প্রভৃতি জ্ঞানীগুণী  ও কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা দান এবং ইব্রাহিম মসুলীর মত বিখ্যাত গায়কদের নিজ দরবারে আশ্রয় প্রদান করা।</p>
<h2><strong>ধর্মীয় বিচারে হারুন অর রশিদ:</strong></h2>
<p>হারুন অর রশিদ শুধু একজন দক্ষ প্রজাহৈতেষী শাসকই ছিলেন না বরং মনে প্রাণে একজন খাটি মুসলমানও ছিলেন।  তিনি ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবনেও ইসলাম ধর্মকে  পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য একনিষ্ঠ-ভাবে কাজ করে গিয়েছেন।  ব্যক্তি জীবনে তিনি যে একজন ধার্মিক ছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা  তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ ও সুন্নত নামাজ ছাড়াও দৈনিক একশত রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি তার জীবদ্দশায় সর্বমোট নয় বার হজ্জ পালন করেছেন। তিনি যে বছর যুদ্ধ বিগ্রহের জন্য হজ্জ পালন করতে অক্ষম হতেন সে বছর তিনি নিজ খরচে তিনশত জনকে হজ্জ করাতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন তিনি কিভাবে তার প্রজাদের শাসন করছেন তার জন্য আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতা করতে হবে। তাই তিনি শাসন পরিচালনায় কুরান শরিফকে অনুসরণ করতেন এবং ইসলাম ধর্মভিত্তিক শাসন কার্য পরিচালনা করতেন। হারুন অর রশিদ ছিলেন হানাফি সুন্নি মুসলমান। ইমাম আবু হানিফা হানিফা মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা হলেও তার সময়েই এটি ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে। কারণ তার পৃষ্ঠপোষকতায় আবু ইউসুফ নামক এক ব্যক্তি হানাফি মতকে উচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। তাছাড়াও তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে হানাফি মাজহাবের পাঠ শিক্ষা দেয়া হত। তার পৃষ্ঠপোষকতা বহু ইসলামী গ্রন্থ আরবীতে অনূদিত  হয় ও ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।</p>
<figure id="attachment_8091" aria-describedby="caption-attachment-8091" style="width: 604px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-8091" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/d.png" alt="নৈশভ্রমনে হারুন অর রশিদ " width="604" height="850" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/d.png 604w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/d-213x300.png 213w" sizes="auto, (max-width: 604px) 100vw, 604px" /><figcaption id="caption-attachment-8091" class="wp-caption-text">নৈশভ্রমনে হারুন অর রশিদ https://www.pinterest.com/pin/426364289694968797/</figcaption></figure>
<p>হারুন অর রশিদ শুধু একজন ধর্মীয় শাসকই ছিলেন না বরং সমগ্র বিশ্ব ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। তার নৈশভ্রমন ও মানব কল্যাণের স্তুতি নিয়ে বহু আরব্য উপন্যাস রচিত হয়েছে। যাতে তার প্রশংসা কীর্তি,ধার্মিকতা ও মানব কল্যানের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে কোন কোন ঐতিহাসিক এসব উপন্যাস-সাহিত্যকে বাস্তবতার অতিরঞ্জন বলে অভিহিত করেছেন। তবে  তার সম্পর্কে গল্প উপন্যাস সত্য বা বাস্তবতা বিবর্জিত যাই হোক না কেন তিনি যে একজন শ্রেষ্ঠ শাসক তাতে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোন মতপার্থক্য নাই। তার প্রশাসনিক দক্ষতার কারণেই আব্বাসী খিলাফতের শাসন দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর এই ভিত্তির উপর দাড়িয়েই তার পরবর্তীতে আব্বাসী খিলাফত দীর্ঘদিন শাসন ক্ষমতায় টিকে ছিল। হারুন অর রশিদের অন্যতম উত্তরাধিকারী আল মামুন হাত ধরে তা আরো সুসংগঠিত হয়। এসব  কৃতিত্বের দাবিদার হিসেবে হারুন অর রশিদ কে স্বীকৃতি দেয়াই যেতে পারে। কেননা বলা হয়ে থাকে তার কারণেই আব্বাসী খিলাফত দীর্ঘ প্রায় পাঁচশত বছর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।</p>
<h4><strong>তথ্যসূত্র</strong></h4>
<p>ইসলামের ইতিহাস – কে আলি</p>
<p><a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/benqt60/29426500">http://www.somewhereinblog.net/blog/benqt60/29426500</a></p>
<p><a href="http://www.sonalimedia.com/details.php?id=29432">http://www.sonalimedia.com/details.php?id=29432</a></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/harun-rashid/">খলিফা হারুন অর রশিদ: আরব্যোপন্যাসের নায়কের গল্প</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/harun-rashid/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাত, সংকট ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ</title>
		<link>https://itibritto.com/palestine-israel-conflict/</link>
					<comments>https://itibritto.com/palestine-israel-conflict/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 29 May 2018 05:00:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=7920</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1600" height="1049" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="ফিলিস্তিন" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন.jpg 1600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন-300x197.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন-768x504.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন-1024x671.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1600px) 100vw, 1600px" style="aspect-ratio: 1600/1049;" /></div>
<p>কয়েক যুগ ধরে চলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অন্যতম ঘটনা হল আরব-ইসরায়েল সংকট। ইসরায়েল যেমন চাচ্ছে তাদের স্বপ্ন রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা করতে, ঠিক অন্যদিকে ফিলিস্তিনও চাচ্ছে তাদের ন্যায্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার।  এসব কিছু মিলিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এখনো উত্তপ্ত। গেল কিছুদিন আগে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা লাভ করে। এসময় একদিকে যখন শান্তি প্রতিষ্ঠাতার মাইল ফলক দাবী করে যুক্তরাষ্ট্র [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/palestine-israel-conflict/">ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাত, সংকট ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1600" height="1049" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="ফিলিস্তিন" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন.jpg 1600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন-300x197.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন-768x504.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিন-1024x671.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1600px) 100vw, 1600px" style="aspect-ratio: 1600/1049;" /></div><p>কয়েক যুগ ধরে চলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অন্যতম ঘটনা হল আরব-ইসরায়েল সংকট। <a href="https://itibritto.com/birth-of-israel/">ইসরায়েল</a> যেমন চাচ্ছে তাদের স্বপ্ন রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা করতে, ঠিক অন্যদিকে ফিলিস্তিনও চাচ্ছে তাদের ন্যায্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার।  এসব কিছু মিলিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এখনো উত্তপ্ত। গেল কিছুদিন আগে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা লাভ করে। এসময় একদিকে যখন শান্তি প্রতিষ্ঠাতার মাইল ফলক দাবী করে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থাপন করছে ঠিক একই সময় অন্য-প্রান্ত গাজায় ফিলিস্তিনদের উপর দিয়ে চলতে মৃত্যুর মিছিল। তবে কেন এই হাজার হাজার ফিলিস্তিনী নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও আন্দোলনে গিয়ে মৃত্যুকে সাদরে গ্রহণ করে নিচ্ছে? আর কেনইবা ইসরায়েলিরা তাদের উপর আক্রমণ করছে? <a href="https://itibritto.com/birth-of-israel/">ইসরায়েলিদের</a> কি আসলেই এই অঞ্চলে থাকার অধিকার আছে? আন্তর্জাতিক বিশ্বের ভূমিকা কি ঠিকমত পালন করা হচ্ছে? ফিলিস্তিনদের ভবিষ্যৎ কি?  এসব প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। তবে কেউ কেউ এর পেছনের কারণগুলো জানে আবার অনেকেই হয়তো জানেনা। তাদের জন্যই এই পর্বটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সকল সংকট ও পেছনের কথা ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ।</p>
<figure id="attachment_7923" aria-describedby="caption-attachment-7923" style="width: 964px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7923" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিশু-হত্যার-পর-প্রতিবাদে-মিছিল.jpg" alt="শিশু হত্যার পর প্রতিবাদে মিছিল" width="964" height="672" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিশু-হত্যার-পর-প্রতিবাদে-মিছিল.jpg 964w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিশু-হত্যার-পর-প্রতিবাদে-মিছিল-300x209.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিশু-হত্যার-পর-প্রতিবাদে-মিছিল-768x535.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 964px) 100vw, 964px" /><figcaption id="caption-attachment-7923" class="wp-caption-text">শিশু হত্যার পর প্রতিবাদে মিছিল; Source: Daily Mail</figcaption></figure>
<h2><strong>ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি: </strong></h2>
<p>মধ্যপ্রাচ্যে <a href="https://itibritto.com/birth-of-israel/">ইসরায়েলদের</a> জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস শত বছরের চেয়েও কম। কিন্তু বহুকাল আগে খ্রিস্টের জন্মের পূর্বে এ অঞ্চলে তাদের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায় সেসময় তারা <a href="https://itibritto.com/birth-of-israel/">ইসরায়েল</a> হিসেবে আলাদাভাবে পরিচয় লাভ করে নি।</p>
<p>ইসরায়েলরা মুসা (আ:) এর বংশধর তাই তাওরাতে বর্ণিত ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি ‘ক্যানান’কেই বর্তমানে ফিলিস্তিন, জেরুজালেম এবং জর্ডন, সিরিয়া, মিশরের কিছু অংশ হিসেবে ইসরায়েলরা দাবী করে, যদিও তাদের এ দাবির পিছনে অন্যদের মতানৈক্য রয়েছে। যিশুর আবির্ভাবের পর তাদের ক্ষমতার পট পরিবর্তন হতে থাকে, এর ধারাবাহিতায় খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতকের দিকে কনস্টান্টিনোপল সাম্রাজ্য কর্তৃক তাদের ক্ষমতা হারাতে থাকে, তার পরবর্তী সময়ে ৭ম শতকে তারা পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পরে।</p>
<figure id="attachment_7924" aria-describedby="caption-attachment-7924" style="width: 960px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7924" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিল্পীর-তুলিতে-প্রাচীন-জেরুজালেমে-ইহুদীদের-বাস.jpg" alt="শিল্পীর তুলিতে প্রাচীন জেরুজালেমে ইহুদীদের বাস" width="960" height="496" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিল্পীর-তুলিতে-প্রাচীন-জেরুজালেমে-ইহুদীদের-বাস.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিল্পীর-তুলিতে-প্রাচীন-জেরুজালেমে-ইহুদীদের-বাস-300x155.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/শিল্পীর-তুলিতে-প্রাচীন-জেরুজালেমে-ইহুদীদের-বাস-768x397.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" /><figcaption id="caption-attachment-7924" class="wp-caption-text">শিল্পীর তুলিতে প্রাচীন জেরুজালেমে ইহুদীদের বাস; Source: Pinterest</figcaption></figure>
<p>এরপর ক্রুসেডের মধ্যদিয়ে কিছু সময়ের জন্য <a href="https://itibritto.com/world-politics-and-jerusalem-last-part/">জেরুজালেম</a> খ্রিষ্টানদের হাতে চলে যায় এবং ১১৮৭ সালে আবার মুসলমানদের হাতে চলে আসে। এসব ডামাডোলে এ অঞ্চলে ইহুদিদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পরে যার দরুন তারা ইউরোপে পাড়ি জমাতে শুরু করে। ফলে রাশিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পরে এবং জেরুজালেম থেকে তাদের অবস্থান প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে। অপরদিকে ১৮৮২ সালে রাশিয়ার ইহুদীদের দ্বারা &#8220;জায়ন&#8221; আন্দোলন শুরু হয়।</p>
<p>জায়ান হল জেরুজালেমের একটি পাহাড়, যাকে তারা ঐক্যবদ্ধ হবার নিদর্শন হিসেবে গ্রহণ করে এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও আলাদা ইহুদী রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৮৯৭ সালে &#8220;জায়োনিস্ট&#8221; সংঘ গড়ে তোলে। তারপর থেকেই তারা ধীরে ধীরে প্যালেস্টাইন অঞ্চলে অল্প পরিমাণে আগমন করতে থাকে। এরই ধারাবাহিতায় ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় আর্থার ব্যালফোর কর্তৃক প্রকাশিত হয় &#8220;ব্যালফোর ঘোষণা&#8221;। যার প্রধান বক্তব্য হল প্যালেস্টাইন অঞ্চলে ইহুদীদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গড়ে তোলা।</p>
<figure id="attachment_7925" aria-describedby="caption-attachment-7925" style="width: 397px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7925" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/জায়োনিস্ট-সংঘের-লোগো.jpg" alt="জায়োনিস্ট সংঘের লোগো" width="397" height="336" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/জায়োনিস্ট-সংঘের-লোগো.jpg 397w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/জায়োনিস্ট-সংঘের-লোগো-300x254.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 397px) 100vw, 397px" /><figcaption id="caption-attachment-7925" class="wp-caption-text">জায়োনিস্ট সংঘের লোগো; Source: izionist.org</figcaption></figure>
<p>এদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অটোমানদের হাত থেকে ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। ফলে প্যালেস্টাইন অঞ্চলে ইহুদীদের আগমন বৃদ্ধি পায়। তার উপরে ১৯৩৩ সালে হিটলার কর্তৃক ইহুদী নিধন শুরু হলে এই অংক বিশাল হয়ে দাড়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময় বিপুল পরিমাণ ইহুদী সমগ্র বিশ্ব থেকে এখানে এসে জড়ো হয়। ফলে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাদের সংখ্যা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে তা অঞ্চলের স্থানীয় আরব মুসলিমদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দেখা দেয়। তাছাড়া ইহুদীদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তারা প্যালেস্টাইনের নতুন নতুন ভূমি অধিগ্রহণ করতে থাকে যা প্যালেস্টাইনসহ তার আশে-পাশের আরবরা সহজে মেনে নিতে পারেনি। ফলে শুরু হয় ইহুদী বনাম আরব বিরোধ।</p>
<p>এরমধ্যেই গঠিত ইহুদীদের সন্ত্রাসী সংঘটন &#8220;ইর্গুন কিং&#8221; যাদের নেতৃত্বে ১৯৪৬ সালের জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে বোমা বিস্ফোরণ সহ আরও বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যার অধিকাংশই ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ফলে ইহুদী-মুসলিম সংঘাত চরমে উঠে। এইসময়ে ব্রিটিশরা চাতুর্যের সাথে এই অঞ্চলে দায়িত্ব জাতিসংঘের হাতে অর্পণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার নাম করে এ অঞ্চল থেকে বিদায় নেয়।</p>
<p>জাতিসংঘ ১৯৪৭ সালে <a href="https://itibritto.com/world-politics-and-jerusalem/">জেরুজালেমসহ</a> সমগ্র প্যালেস্টাইন অঞ্চলকে তিন ভাগে ভাগ করে-পশ্চিমাংশে ইসরায়েল, পূর্বাংশে প্যালেস্টাইন এবং জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাখা  হয়। এরপর ১৯৪৮ সালের ১৫মে জাতিসংঘ <a href="https://itibritto.com/birth-of-israel/">ইসরায়েলকে</a> স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর পরই ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া স্বীকৃতি দান করে। অপরদিকে কৌশলে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার বিষয়টি এড়িয়ে যায়। যা আরবলীগ কর্তৃক ব্যাপক সমালোচিত হয়। ফলে শুরু হয় আরব-ইসরায়েল সংঘাত এতে জড়িয়ে পরে মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক প্রভৃতি আরব রাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় আরব-ইসরায়েলদের মধ্যে ১৯৫৬ ও ১৯৬৭ সালে বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই সংঘাত বর্তমান পর্যন্ত গড়িয়েছে যদিও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্যালেস্টাইনরা সকলের সহায়তা হারিয়ে একাই লড়ে যাচ্ছে ইসরায়েলদের বিরুদ্ধে।</p>
<figure id="attachment_7926" aria-describedby="caption-attachment-7926" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7926" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/আরব-ইসরায়েল-যুদ্ধ-১৯৬৭.jpg" alt="আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ ১৯৬৭" width="1024" height="640" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/আরব-ইসরায়েল-যুদ্ধ-১৯৬৭.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/আরব-ইসরায়েল-যুদ্ধ-১৯৬৭-300x188.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/আরব-ইসরায়েল-যুদ্ধ-১৯৬৭-768x480.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-7926" class="wp-caption-text">আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ ১৯৬৭, Source: timesofisrael.com</figcaption></figure>
<h2><strong>প্যালেস্টাইনের উপর ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও অত্যাচার:</strong></h2>
<p>১৯৪৭ সালে যখন প্যালেস্টাইনকে দুই ভাগ করে তখন মোট ভূমির ৫৭% ইসরায়েলকে এবং বাকি ৪৩% দেয়া হয় প্যালেস্টাইনকে। যদিও এই ভাগ করা ছিল প্যালেস্টাইনের উপর বড় ধরনের অবিচার। কারণ তখন প্যালেস্টাইনের জনসংখ্যা ছিল ইসরায়েলের তুলনায় অধিক। কিন্তু এখানেই শেষ নয় ইসরায়েলকে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সীমানা নির্দিষ্ট না করে দেয়ার সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে তারা প্রায় ৭৭% ভূমি দখল করে নেয়।</p>
<p>এর ফলে ফিলিস্তিনদের উপর নেমে আসে নির্মম অত্যাচার নির্যাতন ও তাদেরকে করা হয় বাস্তুহারা। এতে শুরু হয় ফিলিস্তিনের হত্যা মিছিল যা বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্যালেস্টাইন পশ্চিম তীর ও গাজায় নামে মাত্র স্বায়ত্তশাসন লাভ করে কিন্তু চারপাশে ইসরায়েলের বহুতল বসতি ও ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের ফলে প্যালেস্টাইনদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।</p>
<figure id="attachment_7927" aria-describedby="caption-attachment-7927" style="width: 1100px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7927" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/মানচিত্রে-ইসরাইলের-ভূমি-দখল.png" alt="মানচিত্রে ইসরাইলের ভূমি দখল" width="1100" height="738" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/মানচিত্রে-ইসরাইলের-ভূমি-দখল.png 1100w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/মানচিত্রে-ইসরাইলের-ভূমি-দখল-300x201.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/মানচিত্রে-ইসরাইলের-ভূমি-দখল-768x515.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/মানচিত্রে-ইসরাইলের-ভূমি-দখল-1024x687.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1100px) 100vw, 1100px" /><figcaption id="caption-attachment-7927" class="wp-caption-text">মানচিত্রে ইসরাইলের ভূমি দখল; Source: ifamericaknew.org</figcaption></figure>
<p>২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে প্যালেস্টাইনের রাজনৈতিক সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চালাতে থাকে হত্যাকাণ্ড এবং এর পিছনে বিশ্ব মিডিয়াসহ প্রথম বিশ্বের দেশসমুহ সমর্থন দিতে থাকে। ২০১৪ সালে হামাস গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের অত্যাচারের জবাব দেয়ার জন্য মিসাইল ছোড়া শুরু করে। কিন্তু ইসরায়েলের আধুনিক সমরাস্ত্রের সামনে তাদের এই মিসাইল নিছক প্রতিবাদ মাত্র। অপর দিকে ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের সামরিক/বেসামরিক মানুষদের উপর  চালায় ভয়াবহ নারকীয় হত্যাকাণ্ড, দেড়-মাসের অধিক সময় ধরে চলতে থাকা এ-যুদ্ধে প্রায় তিন হাজারের অধিক প্যালেস্টাইনের নাগরিক নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়। তার-পরবর্তী  সময়ে থেমে থেমে প্যালেস্টাইন সীমান্তে চলে গ্রেপ্তার, খুন, নির্যাতন। এর ধারাবাহিতায় গত ১৫মে ২০১৮, প্যালেস্টাইনের ৭০তম নাকবা দিবসের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর উপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৬০জন নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়। যাকে ইসরায়েল নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা হিসেবে প্রচার করছে, যা স্পষ্টতই একধরনের প্রোপাগান্ডা।</p>
<figure id="attachment_7928" aria-describedby="caption-attachment-7928" style="width: 599px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7928" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিনে-ইসরাইলের-বিমান-হামলা.jpg" alt="ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বিমান হামলা" width="599" height="330" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিনে-ইসরাইলের-বিমান-হামলা.jpg 599w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিনে-ইসরাইলের-বিমান-হামলা-300x165.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 599px) 100vw, 599px" /><figcaption id="caption-attachment-7928" class="wp-caption-text">ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বিমান হামলা;<br />Source: thedawn-news.org</figcaption></figure>
<h2><strong>ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের ভূমিকা: </strong></h2>
<p>প্যালেস্টাইনে হাজারো নিরীহ শিশু, নারী-পুরুষ নিহত হচ্ছে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি-ক্রিয়া কি? বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব মানবাধিকারের বিষয়ে সোচ্চার থাকলেও আজ কেন তারা শুধু প্যালেস্টাইনের বিষয়ে নীরব তা শান্তিকামী মানুষদের মনে প্রশ্ন থেকে যায়। তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখা উচিত। ইসরায়েলের জন্মের সূত্রপাত হয় বর্তমানের অন্যতম সুশীল রাষ্ট্র যুক্তরাজ্যে। তাদের জন্মলগ্ন হতেই ব্রিটিশরা তাদের সাহায্য করে আসছে। ফলে তারা প্যালেস্টাইনের সকল অন্যায় অবিচার দেখেও সবক্ষেত্রে থাকে নীরব।</p>
<figure id="attachment_7929" aria-describedby="caption-attachment-7929" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7929" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানী-নারীর-প্রতিবাদ.jpg" alt="ফিলিস্তানী নারীর প্রতিবাদ " width="600" height="330" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানী-নারীর-প্রতিবাদ.jpg 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানী-নারীর-প্রতিবাদ-300x165.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-7929" class="wp-caption-text">ফিলিস্তানী নারীর প্রতিবাদ ;Source: aimislam.com</figcaption></figure>
<p>তার-পরবর্তীতে যে দেশটির ভূমিকা উল্লেখ করতেই হবে সেটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তারা সেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়কাল হতে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে চলছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইসরায়েলকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আরব-ইসরায়েলের যুদ্ধের পর আরব অঞ্চল যখন বিশ্বের উপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় হুমকির মুখে পড়ে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরবদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, অপরদিকে তাদের আশঙ্কাও ছিল যদি আরব বিশ্ব একত্র হয়ে যায় তখন কি হবে, কিভাবে তাদের দমিয়ে রাখবে।</p>
<figure id="attachment_7930" aria-describedby="caption-attachment-7930" style="width: 565px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7930" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/রক্তাক্ত-শিশুর-লাশ-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা.jpg" alt="রক্তাক্ত শিশুর লাশ নিয়ে ফিলিস্তানীরা;" width="565" height="300" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/রক্তাক্ত-শিশুর-লাশ-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা.jpg 565w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/রক্তাক্ত-শিশুর-লাশ-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা-300x159.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 565px) 100vw, 565px" /><figcaption id="caption-attachment-7930" class="wp-caption-text">রক্তাক্ত শিশুর লাশ নিয়ে ফিলিস্তানীরা; Source: aljazeera.com</figcaption></figure>
<p>এই আশঙ্কা থেকে ব্যাকআপ ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলকে মদদ দিয়ে তাদের হাতে রাখে, এর বাহিরেও বহু সংখ্যক ইহুদী ব্যবসায়ী মার্কিন মুল্লুকে বহু ধন বিনিয়োগ করে ফলে ইহুদীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল। ফলে ইসরায়েলের সকল অপরাধ মার্কিনীদের সামনে ম্লান হয়ে যায় এবং ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বকে সমর্থন করে। অপরদিকে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের  বিষয়টি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের ছুতা ছুড়ে সমর্থন দিয়ে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় মার্কিন তথা পশ্চিমা লেজুড়বৃত্তি করা দেশ সমূহ সহসাই ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে নেয়।</p>
<figure id="attachment_7931" aria-describedby="caption-attachment-7931" style="width: 760px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7931" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/যুক্তরাষ্ট্রের-প্রেসিডেন্ট-ট্রাম্প-এবং-ইসরাইলের-প্রেসিডেন্ট-নেতানিয়াহু.jpg" alt="যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট " width="760" height="380" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/যুক্তরাষ্ট্রের-প্রেসিডেন্ট-ট্রাম্প-এবং-ইসরাইলের-প্রেসিডেন্ট-নেতানিয়াহু.jpg 760w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/যুক্তরাষ্ট্রের-প্রেসিডেন্ট-ট্রাম্প-এবং-ইসরাইলের-প্রেসিডেন্ট-নেতানিয়াহু-300x150.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 760px) 100vw, 760px" /><figcaption id="caption-attachment-7931" class="wp-caption-text">যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু; Source:nbcnews.com</figcaption></figure>
<p>কিন্তু এখন প্রশ্ন থেকে যায় আরব বিশ্ব প্যালেস্টাইনের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার নয় কেন? এর পিছনে প্রধান কারণ হল সৌদি আরব, মিশর, কাতার স্পষ্টতই মার্কিনদের আঙুলের ইশারায় চলছে। ফলে মার্কিনীদের মতের বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না। তাছাড়া ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়াদের নিজেদের অবস্থাই নাজুক অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার জন্য। তুরস্ক ও ইরান কিছু প্রতিবাদের ভাষা ব্যাবহার করলেও এর পিছনে প্রধান কারণ থাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ। ফলে ফিলিস্তিনের পাশে শক্ত অবস্থান নিয়ে কেউই দাঁড়াচ্ছে না। সুতরাং স্রোতের বিপরীতেই চলতে হচ্ছে স্বাধীনতাকামী এই মুসলিম দেশটি।</p>
<figure id="attachment_7932" aria-describedby="caption-attachment-7932" style="width: 800px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7932" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/লাশের-মিছিল-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা.jpg" alt="লাশের মিছিল নিয়ে ফিলিস্তানীরা" width="800" height="533" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/লাশের-মিছিল-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/লাশের-মিছিল-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা-300x200.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/লাশের-মিছিল-নিয়ে-ফিলিস্তানীরা-768x512.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><figcaption id="caption-attachment-7932" class="wp-caption-text">লাশের মিছিল নিয়ে ফিলিস্তানীরা; Source: 972mag.com</figcaption></figure>
<h2><strong>ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ: </strong></h2>
<p>ফিলিস্তিনের আগামীর ভবিষ্যৎ কি হবে? আসলেই কি ফিলিস্তিনীরা স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারবে নাকি স্বাধীনতা তাদের কাছে সারাজীবন স্বপ্ন হিসেবেই থেকে যাবে? তা যদিও সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে পূর্বের ইতিহাস এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে কিছুটা ভবিষ্যৎ আভাস পাওয়া সম্ভব। তাহলে প্রথমেই একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক-</p>
<p>১৮২২ সালে প্যালেস্টাইন অঞ্চলে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল ২৪,০০০ এর কাছাকাছি যা তখনকার এ অঞ্চলের বসবাসরত জনসংখ্যার ১০% এর নিচে। তার-পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে ১৯২২ সালের দিকে ৬৫,০০০ এ উপনীত হয়। এটি ছিল মূল জনসংখ্যার প্রায় ১৬% এর মত। কিন্তু এর মধ্যে ব্যালফোর ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ায় এবং হিটলারের ইহুদীরা বিশাল আকারে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ-অঞ্চলে আগমন করতে থাকে। ফলে ১৯৩৬ সালে তার পরিমাণ দাড়ায় ৩ লক্ষতে, আর ১৯৪৮ সালে এই পরিমাণ পৌঁছে যায় ৬ লক্ষে। বর্তমান ইসরায়েলের জনসংখ্যা প্রায় ৮৫ লক্ষাধিক।</p>
<figure id="attachment_7933" aria-describedby="caption-attachment-7933" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7933" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিনীদের-প্রতিবাদে-ইসরায়েলি-পুলিশের-হামলা.jpg" alt="ফিলিস্তিনীদের প্রতিবাদে ইসরায়েলি পুলিশের হামলা" width="600" height="399" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিনীদের-প্রতিবাদে-ইসরায়েলি-পুলিশের-হামলা.jpg 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তিনীদের-প্রতিবাদে-ইসরায়েলি-পুলিশের-হামলা-300x200.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-7933" class="wp-caption-text">ফিলিস্তিনীদের প্রতিবাদে ইসরায়েলি পুলিশের হামলা; Source: mideast-times.com</figcaption></figure>
<p>অপরদিকে প্যালেস্টাইনের জনসংখ্যা ১৯৪৮ সালে যেখানে ছিল ১কোটি ১০ লক্ষের মত, বর্তমান সময়ে তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫লক্ষের কাছাকাছি এবং তাদের উপর চলমান হত্যাকাণ্ড ও বাস্তু-চ্যুত করার কারণে এই সংখ্যা ক্রম পতনের দিকে। তাছাড়া প্যালেস্টাইনকে ভাগ করার সময় ৪৩%ভূমি প্যালেস্টাইনদের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ইজরাইলের ভূমি আগ্রাসনের কারণে তা কমে ৩৩% এসে দাঁড়িয়েছে এবং এই আগ্রাসন বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।</p>
<figure id="attachment_7934" aria-describedby="caption-attachment-7934" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7934" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/হামাসের-রাজনৈতিক-কর্মসূচিতে-নেতারা.png" alt="হামাসের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতারা" width="1024" height="565" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/হামাসের-রাজনৈতিক-কর্মসূচিতে-নেতারা.png 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/হামাসের-রাজনৈতিক-কর্মসূচিতে-নেতারা-300x166.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/হামাসের-রাজনৈতিক-কর্মসূচিতে-নেতারা-768x424.png 768w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-7934" class="wp-caption-text">হামাসের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতারা; Source: bdnews.one</figcaption></figure>
<p>এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে ইসরায়েলের আগ্রাসন কে যদি না ঠেকানো যায় তবে অচিরেই এ-অঞ্চল থেকে প্যালেস্টাইন নামের একটি জাতিসত্তার বিলুপ্তি ঘটে যাবে। যেমনটা ঘটেছিল রেড ইন্ডিয়ান ও হূন জাতির ক্ষেত্রে। যেহেতু প্যালেস্টাইনদের এই নিধনের পেছনে বিশ্ব-মোড়ল রাষ্ট্রসমূহের পরোক্ষ ইন্ধন রয়েছে, তাই এ দাবীকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। অপরদিকে হামাসের প্রতিরোধে ইসরায়েল প্যালেস্টাইনদের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। তাই যদি হামাস ও ফাতাহ সকল ভেদাভেদ/কোন্দল ভুলে একই পতাকা-তলে সমবেত হয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় এবং আরব-লীগের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকে তাহলে এ-অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ স্বাধীন প্যালেস্টাইনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়া সম্ভব। তবে  ফাতাহ -হামাস কি একই পতাকা তলে সমবেত হবে এবং আরবলীগ কি তাদের ভূমিকা পালন করতে পারবে তা এখন দেখার বিষয়।</p>
<figure id="attachment_7935" aria-describedby="caption-attachment-7935" style="width: 1600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7935" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানীদের-প্রতিবাদ.jpg" alt="ফিলিস্তানীদের প্রতিবাদ" width="1600" height="1067" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানীদের-প্রতিবাদ.jpg 1600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানীদের-প্রতিবাদ-300x200.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানীদের-প্রতিবাদ-768x512.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/ফিলিস্তানীদের-প্রতিবাদ-1024x683.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1600px) 100vw, 1600px" /><figcaption id="caption-attachment-7935" class="wp-caption-text">ফিলিস্তানীদের প্রতিবাদ; Source: gulf-insider.com</figcaption></figure>
<p>প্যালেস্টাইন তথা মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা এই নির্মম হত্যা যজ্ঞ, নির্যাতন সমগ্র বিশ্বের শান্তিকামী সকল মানুষকে আহত করে। আধুনিক সকল সমরাস্ত্র ব্যবহার করে ফিলিস্তিনের হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশু ও নারীর বুক ঝাঁঝরা করে মানবাধিকারকে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলছে। বিশ্বের যেসব দেশ মানবাধিকারের কথা বলে ফেনা তুলে ফেলে তারাও নিজেদের স্বার্থে এখানে নীরব । অপরদিকে জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যদি ইসরায়েল ফিলিস্তিনদের উৎখাত করেই ফেলে তার-পরবর্তী  লক্ষবস্তু হবে এর পার্শ্ববর্তী অন্যদেশ সমূহ অর্থাৎ জর্ডান, সিরিয়া, মিশর। এতে এ-অঞ্চলের অবস্থা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আসংখা থাকবে না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ এবং এ-অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7647 aligncenter" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/palestine-israel-conflict/">ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাত, সংকট ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/palestine-israel-conflict/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সেভেন সিস্টারস: ভারতের বিরোধপূর্ণ সাত অঞ্চল ও রাজনৈতিক কারণ</title>
		<link>https://itibritto.com/seven-sisters/</link>
					<comments>https://itibritto.com/seven-sisters/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফরিদ মোল্লা]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 18 May 2018 20:00:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=7563</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="800" height="391" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="সেভেন সিস্টারস" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg-300x147.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg-768x375.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" style="aspect-ratio: 800/391;" /></div>
<p>তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ও গণতান্ত্রিক বিশ্বে জবাবদিহিতার অবিচ্ছেদ মাধ্যম হিসেবে গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার  হয়েছে। এই অবাধ স্বাধীন গণমাধ্যমের কল্যাণে আজ আমরা পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া সকল বিষয় সম্পর্কে যেমন জানতে পারছি তেমনি কোথাও কোন অন্যায়-অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তা জানতে পেরে পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও পারছি। প্যালেস্টাইনের মত স্বাধীনতাকামীদের জন্য মানবিক সমর্থন থেকে শুরু [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/seven-sisters/">সেভেন সিস্টারস: ভারতের বিরোধপূর্ণ সাত অঞ্চল ও রাজনৈতিক কারণ</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="800" height="391" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="সেভেন সিস্টারস" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg-300x147.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/AAEAAQAAAAAAAAeGAAAAJGM5YTlhY2I1LTY2ZTktNDcwOC05YjYzLTEyMDBhYjc5NTgzYg-768x375.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" style="aspect-ratio: 800/391;" /></div><p>তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ও গণতান্ত্রিক বিশ্বে জবাবদিহিতার অবিচ্ছেদ মাধ্যম হিসেবে গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার  হয়েছে। এই অবাধ স্বাধীন গণমাধ্যমের কল্যাণে আজ আমরা পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া সকল বিষয় সম্পর্কে যেমন জানতে পারছি তেমনি কোথাও কোন অন্যায়-অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তা জানতে পেরে পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও পারছি। প্যালেস্টাইনের মত স্বাধীনতাকামীদের জন্য মানবিক সমর্থন থেকে শুরু করে মানব-বন্ধন পর্যন্ত করছি। আর পিছনে গণমাধ্যমও তাদের জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এই অবস্থার ব্যত্যয় ঘটে গণমাধ্যমে ওঠে আসে না অনেক দু:খ দুর্দশা ও স্বাধীনতার দাবি-দাওয়ার চিত্র। আজ এমনই এক জনপদের চিত্র তুলে ধরব। যার অবস্থা আফ্রিকার কোন দেশে নয় আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতেই এই চিত্র বিদ্যমান, হ্যাঁ ভারতের সেভেন সিস্টারস এর কথাই বলছি। আজকের পর্বে থাকছে ভারতের সেভেন সিস্টারস এর পরিচয় এবং তাদের সম্পর্কে কিছু চিত্র।</p>
<h3><strong>সেভেন সিস্টারস: </strong></h3>
<p>ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি অঞ্চলকে একত্রে সেভেন সিস্টারস বলা হয়। এই অঞ্চলগুলো হল আসাম, মিজোরাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মনিপুর, নাগাল্যান্ড। পাহাড়-পর্বত ঘেরা এই অঞ্চলটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের নিদর্শন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাছাড়া এটির বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্য লাভ করার পিছনে অন্যতম কারণ হল এ অঞ্চলের অধিবাসী। কেননা এখানে প্রায় অর্ধশতাধিক জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন ধর্মের লোকজনের বাস। সুতরাং জাতিগত বৈচিত্র্য,  প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, জীবনযাত্রার ভিন্নতা তাদেরকে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এদের সকলের একত্রে আয়তন প্রায় ২.৫ লক্ষ বর্গ কি.মি এবং জনসংখ্যা প্রায় ৩.৮ কোটি। এদের উত্তরে ভুটান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীন, পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলে মায়ানমার এবং পশ্চিমে বাংলাদেশ।  শুধু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অল্প একটু জায়গা সিকিমের সাথে মিলিত হয়ে ভারতের মূল ভূ-খণ্ডের সাথে একত্রিত হয়েছে। তবে উল্লেখ করার মত বিষয় হল এই অঞ্চল সমূহ কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, বিভিন্ন সময় নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ভারতের সাথে একত্র হয়।</p>
<figure id="attachment_7569" aria-describedby="caption-attachment-7569" style="width: 606px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7569" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-অবস্থান.png" alt="সেভেন সিস্টারসের অবস্থান " width="606" height="615" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-অবস্থান.png 606w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-অবস্থান-296x300.png 296w" sizes="auto, (max-width: 606px) 100vw, 606px" /><figcaption id="caption-attachment-7569" class="wp-caption-text">সেভেন সিস্টারসের অবস্থান<br />Source: Wikimedia.org</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong>প্রাক-কথন:</strong></h3>
<p>সেভেন সিস্টারস এর এ অঞ্চল সমূহ কখনোই ভারতের কোন  অংশ বা ভারতের কোন অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে ছিল না। ভারতের সাথে যুক্ত হবার পূর্বে এদের সকলেই তাদের নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শাসন ভোগ করত। এমনকি যখন আর্যরা সমগ্র ভারত দখল করে নিয়েছিল তখনও এ-অঞ্চলে গারো, খাসিয়া, নাগ, মিজোদের মত অনার্যরাই তাদের নিজেদের শাসন পরিচালনা করত। পূর্বকালে এ-অঞ্চল সমূহ প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। অঞ্চল সমূহ হল-মনিপুর, ত্রিপুরা ও আসাম।</p>
<p>ব্রিটিশ পরবর্তী যুগে এসে আসাম ভেঙ্গে যথাক্রমে নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয় ও অরুণাচল গঠিত হয়। ব্রিটিশদের আগমনের পূর্বে আসাম স্বাধীন থাকলেও ব্রিটিশরা আগমনের পর একে তাদের শাসনের আওতায় নিয়ে আসে এবং একে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারত স্বাধীনতার পর ভারতের একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ হিসেবে আসামকে মর্যাদা দিয়ে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে রাখা হয়।</p>
<p>মনিপুর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবার পিছনে কাহিনী হল-প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মনিপুরী রাজা বার্মা কর্তৃক আক্রান্ত হতে পারেন এই ভয়ে ব্রিটিশ শাসকদের সাহায্য কামনা করেন। ফলে এতদিন ধরে ব্রিটিশরা মনিপুর অধিকার করতে না পারলেও এই সুযোগে মণিপুরকে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে নিয়ে আসে। কিন্তু এসময় তারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত। ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর ১৯৪৯ সালে মণিপুরের রাজা বুধচন্দ্রের সহায়তায় মণিপুর কে ভারতের অধীনে নিয়ে আসে।</p>
<figure id="attachment_7570" aria-describedby="caption-attachment-7570" style="width: 800px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7570" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-পার্বত্য-অঞ্চলের-জনবসতি.png" alt="সেভেন সিস্টারসের পার্বত্য অঞ্চলের জনবসতি " width="800" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-পার্বত্য-অঞ্চলের-জনবসতি.png 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-পার্বত্য-অঞ্চলের-জনবসতি-300x225.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-পার্বত্য-অঞ্চলের-জনবসতি-768x576.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/সেভেন-সিস্টারসের-পার্বত্য-অঞ্চলের-জনবসতি-86x64.png 86w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><figcaption id="caption-attachment-7570" class="wp-caption-text">সেভেন সিস্টারসের পার্বত্য অঞ্চলের জনবসতি</figcaption></figure>
<p>মুঘলদের শাসনের শেষের দিক থেকেই ত্রিপুরা নিজেদের শাসন ভোগ করে আসছিল। ব্রিটিশদের সময়কালেও ত্রিপুরা মহারাজা এ-অঞ্চলে শাসন পরিচালনা করতেন। কিন্তু এসময় ব্রিটিশদের সাথে তাদের সমঝোতা গড়ে উঠে। ভারত স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে বাংলার গণমুক্তি পরিষদ আন্দোলনের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে ভারতের সাথে একীভূত করা হয়। ১৯৬২ সালে একীভূত অঞ্চল হিসেবে ভারতের কেন্দ্র হতে শাসিত হতে থাকে, সর্বশেষ ১৯৭২ সালে তাদেরকে প্রদেশের মর্যাদা দান করা হয়।</p>
<h3><strong>বর্তমান অবস্থাঃ</strong></h3>
<p>জাতিগত ভিন্নতা, ভারতীয়দের শোষণের শাসন, স্বায়ত্ত শাসনের দাবী, স্বাধীন হবার আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি কারণে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে এদের উষ্ণ-সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কোন কোন সময় এই বিরোধ  সশস্ত্র সংঘাতে রূপ ধারণ করে। কেননা ইতিমধ্যে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী, যাদেরকে ভারত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং ভারতের দাবী এসব সংগঠনকে পাকিস্তান ও চীন মদত দিচ্ছে যাতে ভারতের এ-অঞ্চলকে ভারত থেকে আলাদা করতে পারে। তবে এসব সংগঠনের দাবী তারা শুধু স্বাধীনতার দাবীতে তাদের নিয়মতান্ত্রিক পন্থার আশ্রয় নিয়েছে। যেহেতু ভারতীয়রা তাদের কে স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন হতে দিবে না তাই তারা দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।</p>
<p>তাছাড়া এসব অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবার পেছনে এখানকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী এমন কি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত ঘটনা ঘটে। জাতিগত দাঙ্গা, চোরাচালান, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের মত ঘটনা এখানে হরহামেশাই ঘটে থাকে।</p>
<p>এই অঞ্চলে সর্বপ্রথম স্বাধীনতার দাবী তোলে নাগারা। ভারত স্বাধীনতা লাভ করার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৪ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে তারা নিজেদেরকে স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে স্বাধীন নাগাল্যান্ড গঠনের দাবী করে। কিন্তু ভারত তাদের এই স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি ফলে পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে নাগাল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী সংগঠন “নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল” কর্তৃক তাদের স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের আয়োজন করে এতে নাগাল্যান্ড জয়লাভ করে। কিন্তু এবারও ভারত তাদের এই দাবীকে প্রত্যাখ্যান করে এবং ১৯৬৩ সালে তাদের কে আসাম থেকে আলাদা করে ভারতে ১৬তম প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর থেকেই “নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল” বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে পরে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তারা সশস্ত্র পথ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ফলে ভারতীয় বাহিনীর সাথে তাদের নানা সংঘর্ষ বাধে।</p>
<p>এর পরবর্তী সময়ে ১৯৮০ সালে গঠিত হয় “ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড” তারা চীনের মাও সে তুং এর আদলে বৃহৎ নাগা রাষ্ট্র গঠনে সোচ্চার ছিল। তাছাড়া “নাগাল্যান্ড ফেডারেল আর্মি” নামে আরেকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রয়েছে। দাবি করা হয় তাদের প্রায় শতাধিক সেনা চীনে প্রশিক্ষণরত। তবে ভারত সরকার তাদের উপর ব্যাপক হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের কে অনেকটা দুর্বল করে ফেললেও তাদের স্বাধীনতার দাবী আজও জীবিত।</p>
<figure id="attachment_7573" aria-describedby="caption-attachment-7573" style="width: 450px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7573" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/front01-b.jpg" alt="উলফা প্রধান পরেশ বড়ুয়ার সাথে উলফার সদস্যরা " width="450" height="353" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/front01-b.jpg 450w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/front01-b-300x235.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/front01-b-279x220.jpg 279w" sizes="auto, (max-width: 450px) 100vw, 450px" /><figcaption id="caption-attachment-7573" class="wp-caption-text">উলফা প্রধান পরেশ বড়ুয়ার সাথে উলফার সদস্যরা<br />Source: nEWS BD71</figcaption></figure>
<p>আসাম প্রদেশের স্বাধীনতার দাবীকে নাকচ করে দেবার জন্য ভারত যে দমন নীতি গ্রহণ করে এরই ফল হিসেবে আসামে জন্ম নেয় বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এর মধ্যে প্রধান সংগঠন হল “ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম” বা উলফা। ১৯৭৯ সালে আসামকে স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারা আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকেই তারা সংগ্রামী পথ অবলম্বন করে আসছে। তাদের এই পথ রুদ্ধ করে দেবার জন্য ভারতীয় প্রশাসন বরাবরই সোচ্চার ছিল। তাদের কার্যকলাপকে এ অঞ্চলে কঠোর হাতে দমন করার জন্য ১৯৯০ সালে উলফাকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তাদের কার্যক্রম থেমে যায়নি। তারা বিভিন্ন গোপন পন্থা ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে । দাবি করা হচ্ছে তারা পার্শ্ববর্তী দেশের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে তাদের অস্ত্র যোগান থেকে শুরু করে তাদের নেতাদের গা-ঢাকা দিয়ে পালিয়ে থাকা পর্যন্ত সকল কাজে এই পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকেই বেছে নিচ্ছে। তাছাড়াও এ-অঞ্চলে এনডিএফবি, ডি এইচ ডি, এন এস সি এর মত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে।</p>
<p>এর বাহিরে সেভেন সিস্টারস অঞ্চলের প্রধান প্রধান স্বাধীনতাকামী সংগঠন গুলো হল -অরুণাচলে অরুণাচল ড্রাগন ফোর্স, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব অরুণাচল। মেঘালয়ে গারো ন্যাশনাল কাউন্সিল, এ এন বি সি, এইচ ইন এল সি। মণিপুরে -ইউনাইটেড লিভারেশন ফ্রন্ট, পিপলস লিবারেশন আর্মি, মনিপুর লিবারেশন আর্মি। মিজোরামে এইচ পি সি, বি এন এল এফ ও মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট। ত্রিপুরায় ত্রিপুরা পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা প্রভৃতি সংগঠন নিজ নিজ অঞ্চলে স্বাধীনতার দাবীতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। তবে তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল তারা নিজেরা সুসংগঠিত না।</p>
<p>অপর দিকে ভারতের প্রশাসনের দমন নীতির কারণে তাদের অগ্রযাত্রা বহুদূর আগাতে পারে নি। ভারত সরকার এসব অঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় বহু অতিরিক্ত সৈন্যবাহিনী মোতায়েন করে রেখেছে। ফলে তারা এ অঞ্চলে অনেকটা অঘোষিত সামরিক শাসন পরিচালনা করছে। এ অঞ্চলের জাতীয়তাবাদী চেতনা কে ধ্বংস করার জন্য প্রশাসন কর্তৃক নানা রকম সুবিধা প্রদান করে ভারতের অন্য সমতল অঞ্চল থেকে এখানে জনসংখ্যা স্থানান্তর করে নতুন বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। এসব নতুন অধিবাসী ও সেনাবাহিনীর যৌথ নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে এসব অঞ্চলের স্থায়ী অধিবাসীরা। ফলে অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী বাধ্য হয়ে সরকারের সাথে শান্তি চুক্তি করছে। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বহু স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।</p>
<h3><strong>পার্শ্ববর্তী এলাকার সাথে তাদের সম্পর্ক: </strong></h3>
<p>বর্তমানে সেভেন সিস্টারস অঞ্চলের সাথে তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সম্পর্ক কেমন এই বিষয়ে তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন সময়ের সংবাদপত্রের বর্ণনা এবং ভারত সরকারের এই অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসব বিশ্লেষণ করে এবিষয়ে তাদের সম্পর্কে ধারনা করা হয় এই অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চীন, পাকিস্তান, মায়ানমার, বাংলাদেশ, নেপাল প্রভৃতি দেশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা পেয়ে থাকে। কোন কোন সময় এসব দেশের সরকার বা অন্য কোন নির্দিষ্ট গ্রুপের সহায়তা লাভ করে থাকে।</p>
<p>ধারনা করা হয় নাগাল্যান্ডের বিদ্রোহী সংগঠন চীন কর্তৃক সরাসরি সহায়তা লাভ করে এমনকি নাগাল্যান্ডের কয়েকশত বিদ্রোহী নিয়মিতভাবে চীনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণে ব্যস্ত। কিন্তু চীন এই দাবী বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। অপরদিকে আসামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা সরাসরি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই এর সরাসরি মদতপুষ্ট বলে মনে করা হয় এবং  তারা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বলে ধারনা করা হয়। এছাড়াও উলফা তাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিভিন্নস্থানে গোপন আস্তানা ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তুলেছে। তাদের উল্লেখযোগ্য আস্তানা সমূহ হল নাগাল্যান্ডের মন জেলায় মায়ানমার সীমান্তে, আসামের নলবাড়ি, ভুটান ও বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রামে তাদের ক্যাম্প রয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তবে ভুটান সরকার তাদের একটি ক্যাম্প সনাক্ত করে তা ধ্বংস করে ফেলে।</p>
<figure id="attachment_7574" aria-describedby="caption-attachment-7574" style="width: 600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-7574" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/বাংলাদেশের-বাঙ্কার-হতে-উদ্ধারকৃত-ভারতীয়-বিচ্ছিনতাবাদীদের-অস্ত্র-সরঞ্জাম.png" alt="বাংলাদেশের বাঙ্কার হতে উদ্ধারকৃত ভারতীয় বিচ্ছিনতাবাদীদের অস্ত্র সরঞ্জাম " width="600" height="400" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/বাংলাদেশের-বাঙ্কার-হতে-উদ্ধারকৃত-ভারতীয়-বিচ্ছিনতাবাদীদের-অস্ত্র-সরঞ্জাম.png 600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/বাংলাদেশের-বাঙ্কার-হতে-উদ্ধারকৃত-ভারতীয়-বিচ্ছিনতাবাদীদের-অস্ত্র-সরঞ্জাম-300x200.png 300w" sizes="auto, (max-width: 600px) 100vw, 600px" /><figcaption id="caption-attachment-7574" class="wp-caption-text">বাংলাদেশের বাঙ্কার হতে উদ্ধারকৃত ভারতীয় বিচ্ছিনতাবাদীদের অস্ত্র সরঞ্জাম</figcaption></figure>
<p>বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটে যে অস্ত্র-বোঝাই বাঙ্কারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল তাকে উলফার আস্তানা হিসেবে অনেকের দাবী। তাছাড়া তারা বাংলাদেশের ভূমিকে বিভিন্নভাবে ব্যাবহারের চেষ্টা করে যাচ্ছে ১৯৯৭ সালে উলফার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক “অনুপ চেটিয়া” ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পরেন এবং দীর্ঘদিনের মামলা জটিলতার পথ পাড়ি দিয়েও সে রক্ষা পায়নি। ২০১৩ সালের দিকে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হয়। তাছাড়াও বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী সদস্য বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তান, থাইল্যান্ডে গমন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাছাড়াও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী মায়ানমার ও নেপালের রুট ব্যবহার করে চীন ও পাকিস্তান থেকে অস্ত্র আমদানি করে।</p>
<p>এই অঞ্চলের স্বাধীনতা দাবীর পেছনে প্রধান কারণ হল এই অঞ্চলের ভিন্ন জাতিসত্তা যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং নিজেদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে চায়। তার উপর ভারতীয় কর্তৃক তাদের উপর শোষণের শাসন। তাদের এই স্বাধীনতার দাবী কতটুকু যৌক্তিক তা সময়ই বলে দিবে। অপরদিকে ভারতীয় সরকারের পক্ষ হতে তাদেরকে দমিয়ে রাখার নামে তাদের উপর নিপীড়ন ও তাদের কে সন্ত্রাসী হিসেবে নিষিদ্ধ করা কি যুক্তিসঙ্গত কিনা তাও ভাববার বিষয়। তবে শান্তিকামী মানুষদের আশা ভারত সরকার তাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে চলে আসবে। যদিও ইতোমধ্যে এই রকম কিছু শান্তি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে কিন্তু তা সম্মেলিত বিদ্রোহীদের সাথে হয়নি। তাছাড়া আধুনিক গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যদি সম্ভব হয় গণভোটেরও আয়োজন করা যেতে পারে যেমনটা হয়েছে যুক্তরাজ্যে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার ইস্যুতে।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/seven-sisters/">সেভেন সিস্টারস: ভারতের বিরোধপূর্ণ সাত অঞ্চল ও রাজনৈতিক কারণ</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/seven-sisters/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
