মিনিমালিস্ট জীবনযাপন: কম জিনিসে বেশি সুখী হওয়ার পথ
একবার ঘরের দিকে তাকান।
আলমারিতে কতগুলো জামা আছে যেগুলো গত এক বছরে একবারও পরেননি? ড্রয়ারে কতগুলো জিনিস আছে যেগুলো কেনার সময় মনে হয়েছিল খুব দরকার, কিন্তু এখন শুধু জায়গা নিচ্ছে? বইয়ের তাকে কতগুলো বই আছে যেগুলো কেনা হয়েছে কিন্তু পড়া হয়নি?
এখন আরেকটু গভীরে যান। ফোনে কতগুলো অ্যাপ আছে যেগুলো মাসে একবারও খোলেন না? ইমেইল ইনবক্সে কতগুলো অপঠিত মেইল জমে আছে? মাথায় কতগুলো অসম্পূর্ণ কাজের তালিকা ঘুরছে যেগুলো নিয়ে সারাক্ষণ একটা অস্বস্তি লাগে?
যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে একটু ভারী লাগে, তাহলে এই লেখাটা আপনার জন্য।
কারণ আমরা প্রায় সবাই একটা অদৃশ্য বোঝা বহন করে চলেছি। জিনিসের বোঝা, তথ্যের বোঝা, প্রত্যাশার বোঝা, সম্পর্কের বোঝা। এই বোঝাগুলো আমরা নিজেরাই জমিয়েছি, কখনো সচেতনভাবে, কখনো না জেনে।
মিনিমালিজম বলছে এই বোঝাগুলো একটু একটু করে নামানো যায়। এবং নামালে হালকা লাগে। অনেক হালকা।
মিনিমালিজম মানে কি সব ছেড়ে দেওয়া?
প্রথমেই একটা ভুল ধারণা ভাঙা দরকার।
মিনিমালিজম শুনলে অনেকে মাথায় আনেন একটা সাদা খালি ঘর। একটা ম্যাট্রেস, একটা টেবিল, কিছু নেই। বা হিমালয়ে গিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া। বা ফেসবুক ডিলিট করে জঙ্গলে বসবাস।
এটা মিনিমালিজম নয়।
মিনিমালিজম হলো একটা সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটা হলো আমার জীবনে কী সত্যিকার মূল্যবান সেটা বেছে নেওয়া, এবং বাকি সব থেকে সরে আসা।
এটা প্রতিটি মানুষের জন্য আলাদা। কারো জন্য হয়তো এর মানে হলো পঞ্চাশটা জামার বদলে বিশটা রাখা। কারো জন্য মানে হলো সপ্তাহে একদিন ফোন বন্ধ রাখা। কারো জন্য মানে হলো অপ্রয়োজনীয় সম্পর্ক থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা।
মিনিমালিজম কোনো কঠোর নিয়মের বই নয়। এটা একটা দৃষ্টিভঙ্গি।
সেই দৃষ্টিভঙ্গিটা হলো, কম জিনিস, কিন্তু ভালো জিনিস। কম সম্পর্ক, কিন্তু গভীর সম্পর্ক। কম কাজ, কিন্তু অর্থবহ কাজ।
গল্পটা শুরু হয়েছিল দুটো আমেরিকান ছেলের হাত ধরে
মিনিমালিজম আধুনিক রূপে জনপ্রিয় হয়েছে মূলত জোশুয়া ফিল্ডস মিলবার্ন এবং রায়ান নিকোডেমাসের হাত ধরে। তারা নিজেদের ডাকেন দ্য মিনিমালিস্টস।
দুজনই ছিলেন আমেরিকার কর্পোরেট দুনিয়ায় সফল মানুষ। ভালো চাকরি, বড় বেতন, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় জীবন পরিপূর্ণ।
কিন্তু ভেতরে একটা শূন্যতা ছিল। প্রতিদিন কাজে যাওয়া, কাজ করা, টাকা আয় করা, আরও বেশি জিনিস কেনা। তারপর আরও বেশি টাকা আয়ের জন্য আরও বেশি কাজ। একটা চাকার মধ্যে ঘুরতে থাকা ইঁদুরের মতো।
জোশুয়া তার মায়ের মৃত্যুর পর হঠাৎ থামলেন। মায়ের পুরনো বাড়ি গুছাতে গিয়ে দেখলেন ঘরভর্তি জিনিস। অনেক জিনিস। যেগুলোর বেশিরভাগ কোনো কাজে আসেনি।
তখন তিনি নিজের দিকে তাকালেন। নিজের বড় বাড়িতেও হাজারো জিনিস। কিন্তু সুখ?
সেই প্রশ্ন থেকে শুরু হলো তার মিনিমালিজমের যাত্রা। রায়ানকেও সাথে নিলেন। দুজন মিলে একটা ব্লগ শুরু করলেন, তারপর বই লিখলেন, ডকুমেন্টারি হলো, পডকাস্ট হলো।
আজকে তাদের বার্তা পৌঁছে গেছে কোটি মানুষের কাছে। এমনকি বাংলাদেশেও।
আমরা কেন এত জিনিস কিনি?
এই প্রশ্নটার উত্তর বোঝা দরকার। কারণ মিনিমালিজমের দিকে যেতে হলে আগে বুঝতে হবে আমরা কেন এর উল্টো দিকে যাচ্ছিলাম।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন কেনাকাটার সময় মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। সেই ভালো লাগার অনুভূতিটা আসলে নতুন জিনিস কেনার মুহূর্তে, সেই জিনিস পাওয়ার প্রত্যাশায়।
জিনিসটা হাতে এলে ডোপামিন কমে যায়। তখন আবার নতুন কিছু কিনতে ইচ্ছে করে।
এই চক্রকে বলা হয় হেডোনিক ট্রেডমিল। আমরা যত বেশি পাই, তত বেশি চাই। সুখের স্তর আসলে পরিবর্তন হয় না।
এর সাথে যোগ হয় সমাজের চাপ। অমুকের বাড়িতে নতুন ফ্রিজ হয়েছে, আমাদেরটাও বদলাতে হবে। পাড়ার সবাই বিদেশ ঘুরতে গেছে, আমরাও যেতে হবে। কোম্পানিতে সবাই আইফোন ব্যবহার করে, আমিও করব।
এই তুলনামূলক চাওয়াটাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন কিপিং আপ উইথ দ্য জোনসেস। প্রতিবেশীর সাথে পাল্লা দেওয়া।
কিন্তু গবেষণা বলছে এই পাল্লায় জিতে কেউ সুখী হয়নি। কারণ প্রতিবেশীরাও পাল্লা দিচ্ছে, তারাও সুখী নয়।
এটাই মিনিমালিজম ভাঙতে চায়। এই চক্রটাকে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মিনিমালিজম
একটা কথা বলে নেওয়া দরকার।
মিনিমালিজম মূলত পশ্চিমা, মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষদের আন্দোলন। যাদের কাছে অনেক বেশি আছে তারা বলছেন কম রাখব।
বাংলাদেশে যিনি প্রতিদিন সংসার চালানোর চিন্তায় থাকেন, তাকে মিনিমালিজম শেখানো হাস্যকর।
কিন্তু বাংলাদেশের শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এই ধারণাটা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
ঢাকার একটা ছোট ফ্ল্যাটে পরিবার। ঘরে জায়গা কম, কিন্তু জিনিস অনেক। শপিং মলে গেলে মনে হয় সব কিছু দরকার। ইএমআইতে কেনা ফ্রিজ শেষ হতে না হতেই নতুন মডেল আসে, পুরনোটা পুরোনো মনে হয়।
আর মানসিক দিক থেকে? ঢাকায় যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা, অফিসের চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার সুখী ছবি দেখে নিজেকে অপর্যাপ্ত মনে হওয়া। এই মানসিক জঞ্জালটা বাংলাদেশের শহুরে মানুষের একটা বাস্তব সমস্যা।
মিনিমালিজম এখানেও কাজ করে।
জিনিসের মিনিমালিজম: ঘর হালকা হলে মন হালকা হয়
প্রথম দিয়ে শুরু করি যেটা সবচেয়ে দৃশ্যমান। ঘরের জিনিস।
জাপানি কনমারি পদ্ধতির কথা হয়তো শুনেছেন। মেরি কনডো নামে একজন জাপানি মহিলা একটা পদ্ধতি তৈরি করেছেন। প্রতিটি জিনিস হাতে তুলে নিন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন এটা কি আমার মনে আনন্দ দেয়? যদি উত্তর না হয়, বিদায় দিন।
এই পদ্ধতিটা সহজ শোনালেও করা কঠিন। কারণ আমরা জিনিসের সাথে স্মৃতি জড়িয়ে ফেলি। পুরনো চিঠি, পুরনো খেলনা, উপহার পাওয়া জিনিস যেটা কখনো ব্যবহার হয়নি কিন্তু ফেলতে পারছি না।
একটু অন্যভাবে ভাবুন। আপনি সেই স্মৃতিটাকে ভালোবাসেন, জিনিসটাকে নয়। স্মৃতিটা আপনার মাথায় আছে, জিনিসটা না থাকলেও স্মৃতি যাবে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটু বাস্তব কথা। একসাথে সব ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। একটা ড্রয়ার দিয়ে শুরু করুন। সেই ড্রয়ারের জিনিসগুলো বের করুন। গত এক বছরে যেটা ব্যবহার হয়নি সেটা হয় দিয়ে দিন, বিক্রি করুন, নয়তো ফেলুন।
পরের সপ্তাহে আরেকটা ড্রয়ার। তারপর একটা আলমারির একটা অংশ।
ধীরে ধীরে ঘর হালকা হবে। এবং একটা অদ্ভুত অনুভূতি হবে। ঘরটা বড় মনে হবে। শ্বাস নিতে সহজ লাগবে। সকালে উঠে আলমারি খুললে ঠিকমতো পোশাক খুঁজে পাবেন।
গবেষণায় দেখা গেছে বিশৃঙ্খল পরিবেশে থাকলে কর্টিসোল হরমোন বাড়ে, যেটা মানসিক চাপের সাথে যুক্ত। পরিপাটি, কম জিনিসের পরিবেশ মানসিক শান্তি বাড়ায়।
সময়ের মিনিমালিজম: সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
জিনিসের পরে আসে সময়।
আমাদের প্রতিদিনের ক্যালেন্ডার দেখুন। সকাল থেকে রাত, একটার পর একটা কাজ, একটার পর একটা মিটিং, একটার পর একটা দায়িত্ব। এতকিছুর মাঝে নিজের জন্য কতটুকু সময় আছে?
মিনিমালিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি বলে, সব কিছুতে হ্যাঁ বলতে হবে না।
না বলতে শিখুন। এটা কঠিন, বিশেষত বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে। কারণ এখানে না বলা মানে অবাধ্যতা, অকৃতজ্ঞতা, সম্পর্ক নষ্ট করা বলে মনে করা হয়।
কিন্তু প্রতিটি হ্যাঁ মানে কোথাও একটা না। আপনি যখন একটা অপ্রয়োজনীয় বাড়তি কাজে হ্যাঁ বলছেন, তখন নিজের পরিবারের সাথে সময়ে না বলছেন। নিজের পছন্দের বইটা পড়তে না বলছেন।
প্রতিটি দিনের শুরুতে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটা কাজ কী? সেই তিনটা শেষ করুন আগে। বাকি সব গৌণ।
এই ধারণাটাকে বলা হয় ইটেন্সনাল লিভিং বা উদ্দেশ্যমূলক জীবনযাপন। প্রতিটি সিদ্ধান্ত সচেতনভাবে নেওয়া।
ডিজিটাল মিনিমালিজম: ফোনের স্ক্রিন থেকে মুক্তি
আধুনিক জীবনে সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলা এখন হয়তো ঘরে নয়, ফোনে।
গড়ে একজন মানুষ দিনে প্রায় তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এই সময়ের বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং।
স্ক্রোল করার সময় মাথায় কী আসছে? কারো সুন্দর ছুটির ছবি দেখে নিজের ছুটি হয় না বলে মন খারাপ। কারো পদোন্নতির পোস্ট দেখে নিজের পদোন্নতি হচ্ছে না বলে হতাশা। কারো নতুন বাড়ির ছবি দেখে নিজের ভাড়া বাসার কথা মনে হয়।
এই তুলনাগুলো আমাদের অসুখী করে। এবং আমরা জেনে জেনে এটা করতে থাকি।
ডিজিটাল মিনিমালিজম বলছে সচেতনভাবে ডিজিটাল জীবনকে ছাঁটাই করুন।
ফোন থেকে সেই অ্যাপগুলো ডিলিট করুন যেগুলো শুধু সময় নেয়, কিছু দেয় না। নোটিফিকেশন বন্ধ করুন। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া চেক করবেন না।
সপ্তাহে একটা দিন ডিজিটাল ডিটক্স করুন। ফোন রেখে দিন কোথাও। দেখুন কেমন লাগে।
প্রথম দিনটা কঠিন যাবে। কারণ ফোন না থাকলে হাতটা কোথায় যাবে বুঝতে পারবেন না। এই অস্বস্তিটাই প্রমাণ করে আমরা কতটা আসক্ত।
কিন্তু সেই দিনের শেষে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি আসবে। মাথাটা হালকা লাগবে। চারপাশের পৃথিবীটা একটু বেশি সুন্দর দেখাবে।
সম্পর্কের মিনিমালিজম: কম সম্পর্ক, গভীর সম্পর্ক
মিনিমালিজমের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিকটা হলো সম্পর্ক।
আমাদের সামাজিক জীবন অনেক সময় অনেক সম্পর্ক দিয়ে ভর্তি। ফেসবুকে পাঁচশো বন্ধু, কিন্তু সত্যিকারের বিপদে কাউকে ফোন করতে দ্বিধা হয়। অফিসে দশজনের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে হয়, কিন্তু একজনের সাথেও মনের কথা বলা হয় না।
মিনিমালিজম বলছে সব সম্পর্ক একই মূল্যের নয়। এবং সব সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সমান শক্তি দেওয়াটা সম্ভব নয়।
কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলো আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আনন্দ দেয়, শক্তি দেয়। আর কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলো শুধু শক্তি খরচ করে, নেতিবাচকতা ছড়ায়, আপনাকে পেছনে টানে।
এখানে সরাসরি বলছি, সব টক্সিক সম্পর্ক এক ঝটকায় ছেড়ে দিন এটা বলছি না। পারিবারিক সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, এগুলো জটিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এই মানুষটার সাথে সময় কাটালে কি আমি ভালো অনুভব করি? নাকি ক্লান্ত, ছোট, বা নেতিবাচক লাগে?
যে সম্পর্কগুলো ভালো লাগায়, সেগুলোতে আরও বেশি সময় দিন। যেগুলো লাগায় না, সেগুলোতে ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হতে দিন।
অর্থের মিনিমালিজম: কম কেনা, বেশি সঞ্চয়
মিনিমালিস্ট জীবনযাপনের একটা অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো টাকা বাঁচে।
যখন আপনি সচেতনভাবে কম কেনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই খরচ কমে। ইএমআইয়ের চাপ কমে। মাসের শেষে হাতে কিছু থাকে।
কিন্তু এটা শুধু টাকা বাঁচানোর গল্প নয়। এটা সময় বাঁচানোর গল্পও।
ভাবুন আপনার জীবনের কতটা সময় চলে যায় অর্থ উপার্জনে এমন জিনিস কিনতে যেগুলো আসলে দরকার নেই। যদি কম জিনিস কিনতেন, কম অর্থ লাগত, কম কাজ করতে হতো, আরও বেশি সময় পেতেন যেটা সত্যিকার অর্থে গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগাতে পারতেন।
মিনিমালিস্ট অর্থনীতিবিদরা একটা হিসাব দেন। যেকোনো জিনিস কেনার আগে ভাবুন এই জিনিসটার দাম আমার কতঘণ্টার কাজের সমান? সেই ঘণ্টাগুলো কি এই জিনিসটার জন্য দেওয়া সার্থক?
এই একটা প্রশ্ন অনেক অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বাঁচাতে পারে।
মিনিমালিজম এবং পরিবেশ
মিনিমালিজমের একটা বড় দিক যেটা নিয়ে কম কথা হয় সেটা হলো পরিবেশ।
আমরা যত বেশি কিনি, তত বেশি উৎপাদন হয়, তত বেশি দূষণ হয়, তত বেশি বর্জ্য তৈরি হয়। বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গায় যে দূষণ, রাস্তায় যে আবর্জনা, সেটার একটা বড় অংশ আসছে এই অতিরিক্ত ভোগ সংস্কৃতি থেকে।
গার্মেন্টসের বাতিল কাপড়, প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, এগুলো আমাদের পরিবেশকে ধ্বংস করছে।
মিনিমালিস্ট জীবনযাপন মানে পরিবেশের উপর কম চাপ। কম কেনা মানে কম উৎপাদন, কম বর্জ্য, কম দূষণ।
এটা শুধু নিজের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও।
কীভাবে শুরু করবেন? বাস্তব পরামর্শ
এতক্ষণ তত্ত্বের কথা হলো। এবার বাস্তব।
শুরুটা ছোট করুন। আজকেই আলমারি উল্টে ফেলতে হবে না। একটা ড্রয়ার, একটা শেলফ, একটা ব্যাগ। সেখান থেকে শুরু করুন।
ত্রিশ দিনের চ্যালেঞ্জ করুন। প্রথম দিন একটা জিনিস বাড়ি থেকে বের করুন। দ্বিতীয় দিন দুটো। তৃতীয় দিন তিনটো। ত্রিশ দিনে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচশো জিনিস বের হবে। দেখুন কতটা হালকা লাগে।
এক মাস নতুন কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকুন, শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া। দেখুন আসলে কতটুকু দরকার ছিল।
ফোনের অ্যাপ অডিট করুন। যেগুলো গত এক মাসে ব্যবহার করেননি সেগুলো ডিলিট করুন।
আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের পাঁচটা মুহূর্ত মনে করুন। সেগুলোতে কি দামি কোনো জিনিস ছিল? নাকি মানুষ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ছিল?
বেশিরভাগ মানুষ দেখতে পান তাদের সুখের স্মৃতিগুলোতে জিনিস নেই। আছে মানুষ, আছে প্রকৃতি, আছে মুক্তির অনুভূতি।
শেষ কথা: কম মানে শূন্য নয়, কম মানে যথেষ্ট
মিনিমালিজমের মূল কথাটা হলো এটা।
কম মানে কিছু নেই, এটা নয়। কম মানে ঠিক যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকু।
একটা পূর্ণ জীবনের জন্য আসলে বেশি জিনিস লাগে না। একটা আরামদায়ক বিছানা, কিছু প্রিয় মানুষ, কাজ যেটা অর্থবহ মনে হয়, সুস্বাস্থ্য, আর মাঝে মাঝে নিজের মতো সময়।
এই কয়টা জিনিস পেতে আসলে কত জিনিসের দরকার?
সেই প্রশ্নটা নিয়ে ভাবুন। উত্তরটা হয়তো আপনাকে অবাক করবে।
কারণ যা আছে তাতেই হয়তো সব আছে। শুধু চোখটা একটু সরিয়ে দেখতে হবে। যা নেই তার দিক থেকে সরিয়ে, যা আছে তার দিকে।
সেই দেখার পথটাই মিনিমালিজম।
Comments are closed.