পৃথিবীর গভীরতম গর্ত: মানুষ যতদূর খুঁড়েছিল তারপর কী হলো?

রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে, নরওয়ের সীমান্তের কাছে, ভাঙা কংক্রিটের মেঝেতে মরচে পড়া একটি ধাতব ঢাকনা পড়ে আছে।

দেখতে অনেকটা একটি পুরনো맨হোলের মতো। চারপাশে ভাঙা দেয়াল, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ভবনের কঙ্কাল। কেউ না জানলে পাশ দিয়ে হেঁটে যাবেন, বুঝতেই পারবেন না এই সাধারণ ঢাকনার নিচে কী লুকিয়ে আছে।

কিন্তু এই ঢাকনার নিচে আছে পৃথিবীর গভীরতম গর্ত। মানুষ এ পর্যন্ত যতটা গভীরে খুঁড়তে পেরেছে তার চূড়ান্ত সীমা। এবং সেই গর্তের গল্পটা শুধু বিজ্ঞানের গল্প নয়, এটা মানুষের কৌতূহল, প্রতিযোগিতা, পরাজয়, এবং অবাক হয়ে যাওয়ার গল্প।

মাটির নিচে যাওয়ার প্রতিযোগিতা

১৯৫০-এর দশকে পৃথিবীটা ছিল একটা অদ্ভুত জায়গা। আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরকে হারাতে চাইছে। মহাকাশে রকেট পাঠানো হচ্ছে, পারমাণবিক বোমা তৈরি হচ্ছে, বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় কে এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে অঘোষিত যুদ্ধ।

সেই যুদ্ধের একটা অদ্ভুত ফ্রন্ট খুলল মাটির নিচে। আকাশের দিকে না উঠে, মাটির ভেতরে নামার প্রতিযোগিতা।

লক্ষ্য একটাই, পৃথিবীর আবরণ ভেদ করে ম্যান্টেলে পৌঁছানো। পৃথিবীর একেবারে ভেতরের স্তরে কী আছে সেটা সরাসরি দেখা।

আমেরিকা প্রথম চেষ্টা করল প্রজেক্ট মোহোল দিয়ে, ১৯৫৮ সালে। পরিকল্পনা ছিল মেক্সিকোর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে ড্রিল করে ম্যান্টেলে পৌঁছানো। ১৯৬১ সালে এই প্রজেক্ট সফলভাবে গুয়াডালুপে দ্বীপের কাছে ১১,৭০০ ফুট গভীর পানিতে ৪৪ ফুট বেসাল্টে ড্রিল করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক মতভেদ আর বাজেট সমস্যায় ১৯৬৬ সালে কংগ্রেস প্রজেক্টটার অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।

আমেরিকা হাল ছেড়ে দিল। কিন্তু সোভিয়েতরা ছাড়ল না।

কোলা সুপারডিপ বোরহোল: ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী খনন

১৯৭০ সালের ২৪ মে রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে, মুরমানস্ক প্রদেশে, আর্কটিক সার্কেলের ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে, সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা ড্রিল করা শুরু করলেন। লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব গভীরে যাওয়া।

শুরুতে ইউরালমাশ-৪ই নামের একটি তেলকূপ খননের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে নতুন উদ্দেশ্যে তৈরি ইউরালমাশ-১৫০০০ ড্রিলিং রিগ বসানো হয়, যার নামটাই বলে দেয় লক্ষ্য ছিল ১৫,০০০ মিটার।

কিন্তু মাটির নিচে যাওয়া মহাকাশে যাওয়ার চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়ল।

ড্রিল যখন সহজেই গ্রানাইটের মধ্য দিয়ে এগোছিল, তখন ৪.৩ মাইল বা ৬.৯ কিলোমিটারে পৌঁছে স্তরগুলো অনেক বেশি ঘন এবং ড্রিল করা কঠিন হয়ে গেল। ড্রিল বিট ভাঙতে শুরু করল এবং দল বারবার ড্রিলের দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য হলো।

ফলে ড্রিলের পথটা দেখতে অনেকটা ক্রিসমাস ট্রির মতো হয়ে গেল, কেন্দ্রীয় একটি শাফট থেকে বিভিন্ন দিকে শাখা বেরিয়ে গেল।

শিক্ষামূলক ইনফোগ্রাফিক ইলাস্ট্রেশনে এভারেস্ট ও ফুজির উচ্চতার তুলনায় কোলা বোরহোলের গভীরতা, পাশে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, নিচে পৃথিবীর স্তরচিত্রে ক্ষুদ্র ড্রিলের দাগ

তারপরেও বিজ্ঞানীরা থামলেন না। বছরের পর বছর খুঁড়তে থাকলেন।

১৯৮৯ সালে কোলা বোরহোল ৪০,২৩০ ফুট বা ১২,২৬২ মিটার গভীরতায় পৌঁছাল, পৃথিবীর গভীরতম মানবসৃষ্ট গর্ত হিসেবে রেকর্ড করল।

সংখ্যাটা বলতে সহজ, কিন্তু অনুভব করা কঠিন। একটু চেষ্টা করি।

এই গর্তের গভীরতা মাউন্ট এভারেস্ট এবং মাউন্ট ফুজি একটার উপর আরেকটা রাখলে যতটা উঁচু হয় তার সমান। এটা মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চেয়েও গভীর, যেটা সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর জায়গা।

তবু এটা পৃথিবীর পুরুত্বের মাত্র এক তৃতীয়াংশ ক্রাস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ম্যান্টেলে পৌঁছানো তো দূরের কথা।

যা আবিষ্কার হলো: বিজ্ঞানীরা নিজেরাই অবাক

কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে মাটির গভীরে এই অভিযানে যা পাওয়া গেল, তার কিছু কিছু বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণা একেবারে উল্টে দিল।

বেসাল্টের স্তর নেই। বিজ্ঞানীরা মনে করতেন পৃথিবীর ক্রাস্টে গ্রানাইটের নিচে বেসাল্টের একটি স্তর আছে। ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাত কিলোমিটার গভীরে গিয়ে দেখা গেল কোনো বেসাল্টের স্তর নেই। ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণে যে অনিয়মিততা দেখা গিয়েছিল সেটা আসলে রূপান্তরিত গ্রানাইটের কারণে হয়েছিল। এই একটি আবিষ্কারই ভূতত্ত্বের পাঠ্যবই বদলে দিতে বাধ্য করেছিল।

মাটির গভীরে পানি। পৃথিবীর এই গভীরতায় পানি থাকার কথা নয়, এটাই বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন। কিন্তু গর্তের তলায় পাওয়া গেল উত্তপ্ত খনিজ পানির পকেট, অকল্পনীয় চাপের নিচে আটকে থাকা, যেটা জিওকেমিক্যাল প্রক্রিয়ার সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছিল।

জীবনের অস্তিত্ব। এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার। সবচেয়ে বড় চমক ছিল জীবনের সন্ধান পাওয়া। মাটির চার মাইল গভীরে দুই বিলিয়ন বছরের পুরনো পাথরে ক্ষুদ্র প্ল্যাংকটন জীবাশ্ম পাওয়া গেল। এই মাইক্রোফসিলগুলো প্রায় ২৪টি প্রাচীন প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং সেগুলো জৈব যৌগে আবৃত ছিল যেটা সেই চরম চাপ ও তাপমাত্রায় টিকে ছিল।

মানুষ ভাবত এত গভীরে জীবনের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রকৃতি সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করল।

গ্যাসের অস্তিত্ব। অপ্রত্যাশিতভাবে পুরো বোরহোল জুড়ে হিলিয়াম, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এবং মাইক্রোব থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড পাওয়া গেল। মাটির এত গভীরে এই গ্যাসগুলোর উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।

তাপমাত্রা। বিজ্ঞানীরা প্রত্যাশা করেছিলেন প্রতিটি কিলোমিটারে তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট হারে বাড়বে। ১০,০০০ ফুট পর্যন্ত এই হিসাব ঠিকঠাক মিলছিল। কিন্তু তার পরে তাপমাত্রা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়তে শুরু করল।

১২ কিলোমিটার গভীরতায় পৌঁছে তাপমাত্রা হয়ে গেল ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৫৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এটা প্রত্যাশার প্রায় দ্বিগুণ।

এই তাপমাত্রায় ড্রিল বিট বাঁকা হয়ে যায়, পাইপ নরম হয়ে যায়। সেই গভীরতায় পাথরগুলো আর পাথরের মতো শক্ত ছিল না, বরং প্লাস্টিকের মতো নরম হয়ে ড্রিলের গর্তে গলে পড়তে শুরু করেছিল।

মাটির নিচের পৃথিবী কাউকে সহজে ভেতরে ঢুকতে দেয় না।

থেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

১৯৯২ সালে ড্রিলিং বন্ধ হয়ে গেল। কারণ একটাই, তাপমাত্রা। যন্ত্রপাতি আর কাজ করছে না। পাথর গলছে, গর্ত বুজে যাচ্ছে।

কিন্তু তখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর নতুন রাশিয়া প্রজেক্টটা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। বিজ্ঞানীরা সংগৃহীত নমুনা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে গেলেন।

১৯৯৪ সালে পঞ্চম বোরহোলের ড্রিলিং শুরু হয়েছিল ৮,২৭৮ মিটার থেকে। কিন্তু অর্থের অভাবে আগস্ট ১৯৯৪ সালে ৮,৫৭৮ মিটারে গিয়ে থেমে গেল।

তারপর ধীরে ধীরে সব গুটিয়ে গেল। ২০০৫ সালে পুরো প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেল, সরকারি অর্থায়ন শেষ হয়ে গিয়েছিল। ২০০৮ সালে সাইটটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হলো।

২০০৭ সালে বৈজ্ঞানিক দলটি ভেঙে দেওয়া হলো, যন্ত্রপাতি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে হস্তান্তর করা হলো এবং কিছু অংশ নষ্ট করে ফেলা হলো। ২০০৮ সালে সেই কোম্পানিও অলাভজনক হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেল।

আজকে সেখানে গেলে শুধু একটা মরচে পড়া ঢাকনা দেখা যাবে। একটি রাস্টিং সার্কেল, ফাটা কংক্রিটের মেঝেতে। কোনো বিশাল ডেরিক নেই, কোনো উজ্জ্বল স্মারক নেই।

নরকের কূপ: ইন্টারনেটের সবচেয়ে বিখ্যাত মিথ

কোলা বোরহোল নিয়ে একটা গল্প ইন্টারনেটে বহু বছর ধরে ঘুরছে। গল্পটা হলো সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা নাকি এই গর্তে একটা মাইক্রোফোন নামিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে মানুষের আর্তচিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন। নরকের মানুষের চিৎকার।

এই কারণেই নাকি ড্রিলিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এটা সম্পূর্ণ মিথ, কোল্ড ওয়ারের কল্পনা থেকে জন্ম নেওয়া গল্প যেটা ট্যাবলয়েড পত্রিকা ছড়িয়ে দিয়েছিল। বাস্তবে সেই গভীরতায় যন্ত্রপাতি যে শব্দ রেকর্ড করেছিল সেটা ছিল শুধু পাথরের শিফট করার ধীর গোঙানি এবং মেশিনের হাম।

কিন্তু গল্পটা থেকে গেছে। কারণ মানুষের মন গভীরতার সাথে রহস্য জুড়ে দিতে ভালোবাসে।

ইন্টারনেটে Kola Superdeep Borehole সার্চ করলে এখনো সাজেশনে আসে screams। স্থানীয়রা এটাকে Well to Hell বলে ডাকে।

পৃথিবী কতটা অজানা, সেটা বুঝিয়ে দিল এই গর্ত

বিষণ্ণ প্যানোরামিক চিত্রকলায় শীতের কোলা বোরহোলের পরিত্যক্ত সাইট, বরফে অর্ধেক ঢাকা ধ্বংসাবশেষ, সামনে মরচে পড়া ঢাকনা, স্বচ্ছ ভূগর্ভে অসম্ভব গভীর বোরহোলের সুতা

কোলা বোরহোলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আমরা নিজেদের গ্রহ সম্পর্কে কতটা কম জানি।

পৃথিবীর বাইরের স্তর মহাদেশীয় ক্রাস্ট প্রায় ২৫ মাইল বা ৪০ কিলোমিটার পুরু। তার নিচে ম্যান্টেল আরও ১,৮০০ মাইল। তারপর বাইরের কোর ১,৪০০ মাইল। তারপর ভেতরের কোর। কোলা বোরহোল এই বিশাল দূরত্বের মাত্র এক তৃতীয়াংশ ক্রাস্টে পৌঁছাতে পেরেছিল।

আমরা চাঁদের পৃষ্ঠ সম্পর্কে যতটা জানি, নিজেদের গ্রহের ভেতর সম্পর্কে ততটা জানি না।

এটা ভাবলে মাথা ঘুরে যায়। মঙ্গল গ্রহে রোভার পাঠিয়েছি, চাঁদে পা দিয়েছি, কিন্তু নিজের পায়ের তলার মাটির মাত্র ১২ কিলোমিটার নিচে যেতে পারিনি।

অন্যান্য দেশের চেষ্টা

কোলা বোরহোলই একমাত্র উচ্চাভিলাষী খনন প্রচেষ্টা নয়।

জার্মানি তাদের কন্টিনেন্টাল ডিপ ড্রিলিং প্রোগ্রামে ব্যাভারিয়ায় ৯.১ কিলোমিটার খুঁড়েছিল। কিন্তু ২৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় তারাও থামতে বাধ্য হয়েছিল।

সমুদ্রের তলদেশ থেকে ড্রিল করার চেষ্টাও হয়েছে। কারণ সমুদ্রের তলায় ক্রাস্ট অনেক পাতলা, মাত্র ছয় থেকে সাত কিলোমিটার। সেখান থেকে ড্রিল করলে ম্যান্টেলে পৌঁছানো তাত্ত্বিকভাবে সহজ।

আফ্রিকার উপকূলে ভারত মহাসাগরে একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র ড্রিলিং প্রজেক্টের কথা বলা হচ্ছে, যেটা হয়তো প্রথমবারের মতো ম্যান্টেলের নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে।

কিন্তু সেটা এখনো পরিকল্পনার স্তরে।

শেষ কথা: গভীরতা আমাদের বিনয়ী করে

কোলা বোরহোল ম্যান্টেলের নমুনা দিতে পারেনি বিজ্ঞানীদের। কিন্তু এর চেয়েও মূল্যবান কিছু দিয়েছে। মনে করিয়ে দিয়েছে পৃথিবী আমাদের সেরা মডেলের চেয়ে অনেক বেশি অদ্ভুত এবং অনেক বেশি স্তরিত।

বিশ বছরের বেশি সময় ধরে খোঁড়া হলো। লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ হলো। সেরা প্রকৌশলী আর বিজ্ঞানীরা কাজ করলেন। আর শেষ পর্যন্ত পৃথিবী বলল, এতটুকুই। আর নয়।

মানুষ পরাজিত হলো তাপমাত্রার কাছে, পৃথিবীর নিজস্ব তেজের কাছে।

কিন্তু এই পরাজয়টাও শিক্ষার। এটা প্রমাণ করেছে জীবন সেই জায়গায়ও লেগে থাকে যেখানে থাকার কথা নয়। পানি সেই গভীরতায়ও লুকিয়ে থাকে যেখানে থাকা সম্ভব মনে হয় না। পৃথিবী এখনো তার সব রহস্য খুলে দেয়নি।

রাশিয়ার সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে মরচে পড়া ঢাকনাটা এখনো পড়ে আছে। সেটা ঢেকে রেখেছে মানুষের সবচেয়ে গভীর পদচিহ্ন।

বাইরে থেকে দেখলে তুচ্ছ মনে হয়। ভেতরে কী আছে সেটা জানলে অবাক হতে হয়।

ঠিক পৃথিবীর মতোই।

Comments are closed.