সমুদ্রের নিচে অজানা সভ্যতার সন্ধান: মিথ না বাস্তব?

ছোটবেলায় অনেকেই হয়তো পড়েছেন আটলান্টিসের গল্প। সমুদ্রের তলায় ডুবে যাওয়া এক রহস্যময় সভ্যতা, যেখানে মানুষ ছিল অসাধারণ প্রযুক্তিসম্পন্ন, জ্ঞানী, শক্তিশালী। আর একদিন সেটা পুরোপুরি ডুবে গেল সমুদ্রের গভীরে। কেউ কখনো আর খুঁজে পেল না।

গল্পটা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু এটা কি শুধুই গল্প?

আসলে সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা সভ্যতার বিষয়টা কল্পকাহিনি নয়, বরং বাস্তব বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সমুদ্রের তলায় আসল শহর, আসল রাস্তা, আসল মন্দির খুঁজে পাওয়া গেছে। আর আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতি বছর নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে।

আজকে সেই গল্পগুলোই বলব। মিথ আর বাস্তবের মাঝের সীমারেখাটা কোথায়, সেটাও দেখব।

সমুদ্র কীভাবে শহর গিলে খেল?

এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে।

প্রায় বিশ হাজার বছর আগে পৃথিবী ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তখন ছিল শেষ বরফ যুগ। পৃথিবীর বিশাল অংশ ঢাকা ছিল বরফে। সমুদ্রের পানির স্তর ছিল আজকের চেয়ে প্রায় ১২০ মিটার নিচে। মানে আজকে যেখানে সমুদ্র, তখন সেখানে ছিল শুকনো মাটি, বন, মাঠ, আর মানুষের বসতি।

তারপর ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করল। হাজার হাজার বছর ধরে সমুদ্রের পানি বাড়তে লাগল। উপকূলের শহরগুলো একে একে ডুবে গেল। মানুষ উঠে গেল ভেতরের দিকে। কিন্তু শহর থেকে গেল সমুদ্রের তলায়।

বিজ্ঞানীরা হিসাব করেছেন, শেষ বরফ যুগের পর সমুদ্রের পানি বাড়ার কারণে পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় দশ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার ডুবে গেছে। এই বিশাল এলাকায় কত মানুষ বাস করত, কত শহর ছিল, সেটা ভাবলেই মাথা ঘুরে যায়।

বিশ হাজার বছর আগে সমুদ্র ছিল আজকের চেয়ে ১২০ মিটার নিচে

গ্রিসের পাভলোপেত্রি: পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ডুবন্ত শহর

১৯৬৭ সালে গ্রিসের দক্ষিণ উপকূলে একজন সমুদ্রবিজ্ঞানী পানির নিচে কিছু অদ্ভুত কাঠামো দেখতে পেলেন। পরে খোঁজ নিয়ে বোঝা গেল এটা একটা পুরো শহর, সমুদ্রের মাত্র চার মিটার গভীরে ডুবে আছে।

পাভলোপেত্রি নামের এই শহরটি প্রায় পাঁচ হাজার বছর পুরনো এবং এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ডুবন্ত শহর হিসেবে ধরা হয়। শহরটিতে রাস্তা আছে, দোতলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আছে, বাগান আছে, মন্দির আছে, কবরস্থান আছে, এমনকি জটিল পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আছে। শহরের মাঝে একটি বড় চত্বর ছিল যেখানে সম্ভবত বাজার বসত।

এই শহরটি এত পুরনো যে এটি সেই যুগের, যখন হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াডের ঘটনাগুলো ঘটেছিল বলে ধরা হয়। মানে ট্রয়ের যুদ্ধের সমসাময়িক একটি শহর আজও গ্রিসের উপকূলে পানির নিচে টিকে আছে।

গ্রিসের সমুদ্রতলে পাভলোপেত্রির প্রাচীন পাথরের রাস্তা ও ভবনের ভিত্তি, সবুজাভ জলের নিচে
পাভলোপেত্রি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ডুবন্ত শহর — হোমারের যুগের সমসাময়িক

মিশরের থোনিস-হেরাক্লেয়ন: ফারাওদের ডুবন্ত বন্দর

এই গল্পটা রীতিমতো রোমাঞ্চকর।

প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে থোনিস-হেরাক্লেয়ন নামে একটি শহরের উল্লেখ আছে। গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস এই শহরের কথা লিখে গেছেন। কিন্তু কয়েকশো বছর ধরে কেউ জানত না শহরটা আসলে কোথায়। অনেকে ভাবতেন হয়তো পুরো ব্যাপারটাই কল্পনা।

তারপর ১৯৯৯ সালে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঁক গোদিও আলেকজান্দ্রিয়ার কাছে আবু কির উপসাগরে সমুদ্রের তলায় সেই শহরের খোঁজ পেলেন। মিশরের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর হিসেবে থোনিস-হেরাক্লেয়ন ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের সাথে নীলনদের সংযোগ রক্ষা করত।

সেই তলিয়ে যাওয়া শহর থেকে উঠে এসেছে ফারাওদের মূর্তি, সোনার গহনা, প্রাচীন মন্দিরের পাথর, গ্রিক ও মিশরীয় দেবদেবীর ভাস্কর্য। দুই হাজার বছরের বেশি আগে ভূমিকম্প ও সমুদ্রের পানি বাড়ার কারণে শহরটি সমুদ্রে ডুবে যায়।

সাম্প্রতিক অভিযানে থোনিস-হেরাক্লেয়নের আমুন মন্দির কমপ্লেক্সের নতুন অংশ আবিষ্কৃত হয়েছে এবং পাশেই আফ্রোদিতিকে উৎসর্গিত একটি গ্রিক মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষণা এখনো চলছে।

রোমের ডুবন্ত রিসোর্ট: বাইয়া

প্রাচীন রোমে বাইয়া ছিল ধনীদের ছুটি কাটানোর জায়গা। ভূমধ্যসাগরের তীরে এই শহরে সম্রাট ও অভিজাতরা আসতেন বিশ্রাম নিতে। রোমান ইতিহাসে বাইয়ার খ্যাতি ছিল বিলাসবহুলতা এবং উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য।

সমুদ্রের নিচে প্রত্নতত্ত্ববিদরা মোজাইক, ভিলা, মূর্তি এবং উষ্ণ স্নানাগার খুঁজে পেয়েছেন যা রোমের সবচেয়ে ধনী নাগরিকদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার প্রমাণ দেয়।

আগ্নেয়গিরির কারণে এই অঞ্চলের ভূমি ধীরে ধীরে সমুদ্রে বসে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গবেষকরা এই ডুবন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক পার্কের ভেতরে একটি রোমান ভিলার অলংকৃত মোজাইক মেঝে আবিষ্কার করেছেন। শহরটি এখনো নতুন রহস্য উন্মোচন করছে।

ভারতের দ্বারকা: পুরাণের শহর না বাস্তব ইতিহাস?

এবার আসি সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সবচেয়ে রোমাঞ্চকর আবিষ্কারের কথায়।

হিন্দু পুরাণ ও মহাভারত অনুযায়ী, দ্বারকা ছিল শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী। অসাধারণ সুন্দর, অসম্ভব সমৃদ্ধ এই শহরটি কৃষ্ণের মৃত্যুর পর সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল। হাজার বছর ধরে মানুষ এটাকে পুরাণের গল্প বলে জেনে এসেছে।

কিন্তু ১৯৮০-র দশকে ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশানোগ্রাফি গুজরাটের উপকূলে সমুদ্রে ডুব দিয়ে যা পেল তাতে অনেকের চোখ কপালে উঠে গেল। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে পরিচালিত ডুবসাঁতারু অভিযানে প্রত্নতত্ত্ববিদ এস আর রাও সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে উপলব্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ অব্দে এখানে একটি নগর-রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে।

পাথরের দেয়াল, স্তম্ভ, নোঙর, মাটির পাত্র, তামার বস্তু সব মিলিয়ে পাঁচশোর বেশি প্রত্নবস্তু উদ্ধার হয়েছে এই অভিযানে।

এরপর আরও বড় বিতর্ক শুরু হলো ২০০১ সালে। ভারতের NIOT নামে একটি সরকারি সংস্থা গুজরাটের খাম্বাত উপসাগরে দূষণ পরীক্ষার কাজ করছিল। সোনার ইমেজিং করতে গিয়ে তারা সমুদ্রের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার গভীরে নিয়মিত জ্যামিতিক আকৃতির কাঠামো দেখতে পেল। পরবর্তী কার্বন ডেটিং বিশ্লেষণে দেখা যায় এই স্থান থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৭৫০০ অব্দের, অর্থাৎ কাঠামোগুলো প্রায় ৯,৫০০ বছর পুরনো হতে পারে।

যদি এটা সত্য হয়, তাহলে এটি হবে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শহর, মেসোপটেমিয়া ও মিশরীয় সভ্যতার চেয়েও বহু হাজার বছর আগের।

কিন্তু এখানেই বিতর্ক। এই আবিষ্কারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নমুনাগুলো নিয়ন্ত্রিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননের বদলে ড্রেজিং করে তোলা হয়েছিল। ফলে অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ যুক্তি দেন যে এই নমুনাগুলোকে নির্দিষ্টভাবে ওই স্থানের সাথে সংযুক্ত করা সম্ভব নয়।

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভির আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজি উইং দ্বারকা ও বেট দ্বারকার কাছে নতুন সাইড-স্ক্যান সোনার ও মাল্টিবিম সার্ভে করেছে এবং হরপ্পান-ধাঁচের পাথরের নোঙর, খোদাইকৃত মৃৎপাত্রের টুকরো, তামার আংটি এবং একটি এল-আকৃতির পাথর খণ্ড পেয়েছে।

গবেষণা চলছে। রহস্য এখনো সমাধান হয়নি।

আটলান্টিস: মিথ যেভাবে জন্ম নিয়েছিল

এতক্ষণ যে বাস্তব শহরগুলোর কথা বললাম, সেগুলো প্রমাণিত। কিন্তু আটলান্টিসের কথা না বললে এই লেখা অসম্পূর্ণ থাকবে।

আটলান্টিসের গল্পের উৎস হলো গ্রিক দার্শনিক প্লেটো। খ্রিস্টপূর্ব ৩৬০ অব্দে তিনি তাঁর দুটি গ্রন্থ টিমেউস এবং ক্রিটিয়াসে এই দ্বীপ সভ্যতার কথা লিখেছিলেন। বলেছিলেন এটি আটলান্টিক মহাসাগরের কোথাও ছিল এবং প্রায় নয় হাজার বছর আগে এক রাতের মধ্যে ডুবে গেছে।

কিন্তু ইতিহাসবিদদের বেশিরভাগই মনে করেন আটলান্টিস ছিল প্লেটোর একটি রূপকথার উপাদান, দার্শনিক আলোচনার হাতিয়ার। যে সভ্যতা অহংকারী হয়ে যায়, দেবতারা তাকে ধ্বংস করে দেন, এই নৈতিক বার্তা দিতেই তিনি এই গল্প তৈরি করেছিলেন।

রাতের ঝড়ে বিশাল ঢেউয়ে ডুবে যাচ্ছে প্রাচীন দ্বীপ সভ্যতা, পাহাড়ে জ্বলজ্বলে মন্দির
আটলান্টিস হয়তো শুধুই গল্প, কিন্তু সেই গল্পের পেছনের সত্যটা বাস্তব

কিন্তু তারপরেও আটলান্টিস খোঁজার চেষ্টা থামেনি। বাহামাস থেকে আজোরেস, ক্রেট থেকে আন্টার্কটিকা, পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই কেউ না কেউ আটলান্টিস আছে বলে দাবি করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রযুক্তি যেভাবে বদলে দিচ্ছে সব কিছু

সমুদ্রের নিচের এই হারানো দুনিয়াগুলো খোঁজার কাজ আগে ছিল প্রায় অসম্ভব। ডুবুরিরা সীমিত গভীরতায় সীমিত সময়ের জন্য কাজ করতে পারতেন। কিন্তু প্রযুক্তি এখন সেই সীমানা ভেঙে দিচ্ছে।

সোনার ইমেজিং এখন সমুদ্রের তলায় বিশাল এলাকার ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে পারে। রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল বা ROV এমন গভীরতায় পৌঁছাতে পারে যেখানে মানুষের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। আন্ডারওয়াটার ড্রোন দ্রুত বড় এলাকা ম্যাপ করতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরো শহরকে ডিজিটালি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে, যাতে বিশেষজ্ঞরা হাজার বছর আগের রাস্তায় ভার্চুয়ালি হেঁটে বেড়াতে পারছেন।

২০২৪ সালে অ্যান্টিকিথেরা জাহাজডুবির স্থানে নতুন অভিযানে আধুনিক রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এবং থ্রিডি স্ক্যানিং ব্যবহার করে প্রায় ৩০০টি বস্তু উদ্ধার হয়েছে এবং সেখানে দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজডুবির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সমুদ্র আজও হুমকি

এই গল্পের একটা আধুনিক দিকও আছে। প্রাচীন শহরগুলো একসময় সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল বরফ গলে সমুদ্রের পানি বাড়ার কারণে। আজকেও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলছে, সমুদ্রের পানি বাড়ছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূল, মালদ্বীপ, প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপগুলো, এই সব জায়গার মানুষ আজকে সেই একই বিপদের মুখে যে বিপদের মুখে ছিল পাভলোপেত্রি বা থোনিস-হেরাক্লেয়নের মানুষেরা।

ডুবন্ত সভ্যতাগুলো অধ্যয়ন করা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশগত পরিবর্তন মানব সমাজকে ইতিহাস জুড়ে রূপ দিয়েছে। হাজার বছর পরে হয়তো অন্য কোনো সভ্যতার মানুষ আমাদের শহরগুলোও সমুদ্রের তলায় খুঁজে পাবে।

শেষ কথা

সমুদ্রের নিচে সভ্যতা আছে কিনা এই প্রশ্নের উত্তর এখন নিশ্চিতভাবে হ্যাঁ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ডুবন্ত শহর, ডুবন্ত বন্দর, ডুবন্ত মন্দির খুঁজে পাওয়া গেছে। এগুলো মিথ নয়, বাস্তব প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার।

আটলান্টিসের মতো কাল্পনিক গল্পগুলো হয়তো পুরোপুরি সত্যি নয়। কিন্তু সেই গল্পগুলোর পেছনে যে সত্য লুকিয়ে আছে, সেটা হলো মানুষ সমুদ্রের কাছে বাস করেছে, সমুদ্রের কোলে সভ্যতা গড়েছে, আর সমুদ্র একদিন সেটা আবার নিজের মধ্যে নিয়ে নিয়েছে।

পৃথিবীর মহাসাগরগুলো আসলে একটি বিশাল জাদুঘর। এই জাদুঘরের বেশিরভাগ প্রদর্শনীই আমরা এখনো দেখিনি। যত দিন যাচ্ছে, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, সমুদ্র তার রহস্য একটু একটু করে খুলে দিচ্ছে। আর প্রতিটি নতুন আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, মানুষের ইতিহাস আমরা যতটুকু জানি তার চেয়ে অনেক অনেক পুরনো এবং অনেক বেশি বিস্তৃত।

Comments are closed.