মহাভারতের কর্ণ: ভিলেন নাকি ট্র্যাজিক হিরো?
মহাভারত পড়তে বসলে একটা চরিত্র আছে যাকে ঠিক ভিলেন বলতে মন চায় না, আবার সম্পূর্ণ নায়কও বলা যায় না। তবু চোখ বারবার তার দিকে ফেরে। মন বারবার তার জন্য ব্যথিত হয়।
সেই চরিত্রের নাম কর্ণ।
মহাভারতে যুদ্ধ হয়েছে পাণ্ডব বনাম কৌরব। ধর্ম বনাম অধর্ম। কৃষ্ণ যুদ্ধের আগে অর্জুনকে গীতার জ্ঞান দিয়েছিলেন কারণ অর্জুন দ্বিধায় পড়েছিলেন। কিন্তু সেই মহাযুদ্ধে একজন মানুষ ছিলেন যার জীবনটাই ছিল একটা দীর্ঘ যুদ্ধ, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই।
জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কর্ণের জীবন ছিল একটার পর একটা অবিচারের গল্প। তিনি ভুল মানুষের পক্ষে ছিলেন, এটা সত্য। কিন্তু সেই ভুলের পেছনে ছিল এমন কিছু কারণ যেগুলো জানলে রাগ করতে পারবেন না, কষ্ট পাবেন।
আজকে কর্ণের পুরো গল্পটা বলব। বিচার আপনারাই করবেন।
একটি নদীতে ভেসে যাওয়া শিশু
গল্পের শুরু একটি শিশুকে দিয়ে যে জন্মেছিল কিন্তু মা তাকে কোলে নেননি।
কুন্তী তখন অবিবাহিতা রাজকুমারী। ঋষি দুর্বাসার বরে তিনি একটি মন্ত্র পেয়েছিলেন যার মাধ্যমে যেকোনো দেবতাকে আহ্বান করলে সন্তান লাভ করা সম্ভব। কৌতূহলবশত তিনি সূর্যদেবকে আহ্বান করলেন। সূর্যদেব এলেন, এবং একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হলো।
সেই শিশু জন্মেছিল কবচ ও কুণ্ডল নিয়ে। কবচ ছিল শরীরের সাথে লাগানো এক অলৌকিক বর্ম যেটা তাকে অজেয় করে রেখেছিল। কুণ্ডল ছিল সোনার কানের দুল যেটা ছিল তার জন্মগত পরিচয়ের চিহ্ন।
কিন্তু কুন্তী সমাজের ভয়ে সেই শিশুকে রাখতে পারলেন না। অবিবাহিত মায়ের সন্তান, এই কলঙ্ক তিনি বহন করতে রাজি ছিলেন না। তিনি শিশুটিকে একটি ঝুড়িতে রেখে নদীতে ভাসিয়ে দিলেন।
একটু থামুন এখানে।

একজন মা তার সদ্যোজাত সন্তানকে নদীতে ভাসিয়ে দিলেন। সেই মুহূর্তটা কেমন ছিল কুন্তীর জন্য, সেটা হয়তো কল্পনা করা যায়। কিন্তু সেই শিশুর জন্য সেটা কেমন ছিল, সেটা ভাবলে বুকটা ভারী হয়ে আসে।
সেই ভাসতে থাকা শিশুকে কুড়িয়ে পেলেন অধিরথ ও রাধা, একজন সারথি ও তার স্ত্রী। তারা শিশুটিকে নিজের ছেলের মতো মানুষ করলেন। নাম রাখলেন বসুষেণ, যদিও পরে তিনি পরিচিত হলেন কর্ণ নামে।
কর্ণের জীবনের প্রথম অবিচারটা এটাই। তিনি জন্মেছিলেন এক মহারানীর ঘরে, কিন্তু বড় হলেন সারথির ঘরে। তার প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে রইল বছরের পর বছর।
শিক্ষার দরজা বন্ধ: দ্রোণাচার্যের প্রত্যাখ্যান
কর্ণ বড় হওয়ার সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে এই ছেলে অসাধারণ। ধনুর্বিদ্যায় তার আগ্রহ ও প্রতিভা ছিল অতুলনীয়।
সেই যুগে শ্রেষ্ঠ গুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য, যিনি পাণ্ডব ও কৌরবদের শিক্ষা দিতেন। কর্ণ তাঁর কাছে শিক্ষা নিতে গেলেন।
দ্রোণাচার্য জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? কোন বংশের সন্তান?
কর্ণ সত্যি বললেন। আমি সারথি অধিরথের পুত্র।
দ্রোণাচার্য প্রত্যাখ্যান করলেন। তাঁর কাছে শুধু ক্ষত্রিয়রাই শিক্ষা পেতে পারে, সারথির ছেলে নয়।
এই মুহূর্তটা কর্ণের জীবনের একটি বাঁক। তিনি হাল ছাড়লেন না। পরশুরামের কাছে গেলেন, যিনি শুধু ব্রাহ্মণদের শেখান। কর্ণ নিজেকে ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দিলেন এবং পরশুরামের কাছ থেকে সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করলেন।
কিন্তু এখানেও ভাগ্য তার সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলল।
একদিন পরশুরাম ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কর্ণের কোলে মাথা রেখে। একটি পোকা কর্ণের উরু কামড়াতে শুরু করল। রক্ত পড়ছিল, যন্ত্রণা হচ্ছিল, কিন্তু কর্ণ নড়লেন না। গুরুর ঘুম ভাঙতে পারবেন না।
পরশুরাম জেগে উঠে সব দেখলেন। এত কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা কোনো ব্রাহ্মণের থাকে না, এটা ক্ষত্রিয়ের ধর্ম। তিনি বুঝলেন কর্ণ মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন।
রাগে তিনি অভিশাপ দিলেন, সবচেয়ে বেশি যখন প্রয়োজন হবে তখন তুমি আমার শেখানো বিদ্যা ভুলে যাবে।
কর্ণ মাথা নত করলেন। কারণ সত্যিই তিনি মিথ্যা বলেছিলেন। কিন্তু কেন বলেছিলেন? কারণ সত্যি পরিচয়ে শিক্ষার দরজা ছিল বন্ধ।
এটা কি তার দোষ নাকি সমাজের?
রঙ্গভূমির অপমান: যেদিন দুর্যোধন এলেন
এবার আসি কর্ণের জীবনের সেই দিনটির কথায় যেদিন তার ভাগ্য আমূল পরিবর্তন হয়েছিল।
হস্তিনাপুরে পাণ্ডব ও কৌরবদের শিক্ষা শেষে একটি প্রদর্শনী হচ্ছিল। রঙ্গভূমিতে সব রাজপুত্ররা তাদের দক্ষতা দেখাচ্ছিলেন। অর্জুন তার তীরন্দাজি দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করলেন।
তখন একজন অপরিচিত তরুণ রঙ্গভূমিতে প্রবেশ করলেন। গায়ে কবচ, কানে কুণ্ডল, চেহারায় এক অদ্ভুত তেজ। তিনি অর্জুনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি এর চেয়েও ভালো করতে পারি।
সেই তরুণ ছিলেন কর্ণ।
কিন্তু তখনই বাধা এলো। প্রতিযোগিতা করতে হলে জানতে হবে সে কোন বংশের। নিয়ম হলো শুধু রাজপুত্ররাই রাজপুত্রের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।
কর্ণ সারথির পুত্র। তিনি যোগ্য নন।
সভায় হাসি উঠল। ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ কেউ চেঁচিয়ে বলল, সারথির ছেলে এখানে কী করতে এসেছ? ফিরে যাও।
কর্ণ দাঁড়িয়ে রইলেন। একা। অপমানিত।
ঠিক তখনই দুর্যোধন এলেন। তিনি সভার সামনে ঘোষণা করলেন, আমি কর্ণকে অঙ্গরাজ্যের রাজা মনোনীত করলাম। এখন তুমি কি প্রতিযোগিতা করতে পারবে?
সেই মুহূর্তে কর্ণের চোখ ভরে উঠেছিল। সারা জীবন যে মানুষ পরিচয়হীনতার কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচেছিলেন, তাকে একটি মানুষ রাজার মর্যাদা দিলেন।
এই ঘটনাটি বুঝতে না পারলে কর্ণের পুরো চরিত্রটাই বোঝা যাবে না।
বন্ধুত্বের ঋণ: কেন কর্ণ দুর্যোধনের পাশে থাকলেন
দুর্যোধন ভালো মানুষ ছিলেন না, এটা মহাভারতই বলে। তিনি ছিলেন ঈর্ষাপরায়ণ, প্রতিহিংসাপরায়ণ, অহংকারী।
কিন্তু কর্ণের প্রতি তিনি যা করেছিলেন সেটা ছিল খাঁটি। সেদিন রঙ্গভূমিতে যখন সবাই কর্ণকে অপমান করছিল, দুর্যোধন একা এগিয়ে এসেছিলেন। কোনো স্বার্থ ছাড়া নয়, কিন্তু সেই মুহূর্তে কর্ণের যা দরকার ছিল সেটা তিনি দিয়েছিলেন। সম্মান।
কর্ণ সেই ঋণ ভুলতে পারেননি।
পরে যখন কৃষ্ণ এলেন কর্ণের কাছে, বললেন পাণ্ডবদের পক্ষে আসুন, আপনি আসলে পাণ্ডব, কুন্তীর জ্যেষ্ঠ পুত্র, তাহলে আপনিই হবেন রাজা। কর্ণ প্রত্যাখ্যান করলেন।
তিনি বললেন, সারা জীবন যখন কেউ আমাকে চিনত না, দুর্যোধন আমার পাশে ছিলেন। এখন তার বিপদে আমি তাকে ছেড়ে যাব? এটা কি বীরের ধর্ম?
এই জবাবটা পড়লে কর্ণকে দোষ দিতে পারি কি? তিনি ভুল পক্ষে ছিলেন, এটা সত্য। কিন্তু তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করতে রাজি ছিলেন না। কৃতজ্ঞতাবোধ তাঁর কাছে ধর্মের চেয়ে কম ছিল না।
কুন্তীর স্বীকারোক্তি: বড় দেরিতে
যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে কুন্তী এলেন কর্ণের কাছে। তিনি সত্যি বললেন। তুমি আমার ছেলে। তুমি পাণ্ডব।
কর্ণ শুনলেন। চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন, মা, এতদিন কোথায় ছিলেন আপনি? যখন দ্রোণাচার্য আমাকে ফিরিয়ে দিলেন, তখন? যখন রঙ্গভূমিতে আমাকে অপমান করা হচ্ছিল, তখন? আপনি কি একবারও বলেছিলেন এ আমার ছেলে?
এই প্রশ্নের জবাব কুন্তীর কাছে ছিল না।
কর্ণ বললেন, আমি দুর্যোধনের পক্ষ ছাড়ব না। কিন্তু আপনার সাথে একটি প্রতিশ্রুতি করছি। অর্জুন ছাড়া আর কোনো পাণ্ডবকে আমি হত্যা করব না। যুদ্ধ শেষে আপনার পাঁচ ছেলেই থাকবেন, হয় কর্ণ থাকবেন না হয় অর্জুন।
এই প্রতিশ্রুতিটা কর্ণের চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরিচয়। যে মা তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তার সন্তানদের রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কোনো বিনিময় ছাড়া।
ইন্দ্রের চাতুরি এবং কবচ-কুণ্ডলের বিসর্জন
কর্ণের কবচ ও কুণ্ডলের কথা আগে বলেছিলাম। এটা ছিল তার জীবন রক্ষার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
অর্জুনের বাবা ইন্দ্র জানতেন এই কবচ-কুণ্ডল থাকলে তার ছেলে কর্ণকে কখনো হারাতে পারবে না। তাই তিনি ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে কর্ণের কাছে ভিক্ষা চাইতে এলেন।
কর্ণ ছিলেন বিখ্যাত দাতা। তাঁর দানশীলতার কথা সারা রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল। কেউ কখনো তার কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেনি।
সূর্যদেব স্বপ্নে এসে সতর্ক করলেন, ছদ্মবেশী ব্রাহ্মণ কবচ-কুণ্ডল চাইবে, দিও না।
কিন্তু কর্ণ পরদিন সেই ব্রাহ্মণকে দেখে বললেন, আপনি কী চান?
ইন্দ্র চাইলেন কবচ ও কুণ্ডল।
কর্ণ এক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন। তারপর নিজের শরীর থেকে কবচ ছিঁড়ে, কান থেকে কুণ্ডল খুলে দিয়ে দিলেন।
ইন্দ্র লজ্জিত হলেন। তিনি বললেন, তুমি জানতে কি আমি কে?
কর্ণ বললেন, হ্যাঁ।
ইন্দ্র হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তাহলেও দিলে কেন?
কর্ণ বললেন, আমি দানবীর কর্ণ। কেউ আমার কাছে কিছু চেয়ে ফিরে গেছে এমন ঘটনা আগে হয়নি, ঈশ্বরের বেলায়ও হবে না।
এই মুহূর্তটা পড়তে পড়তে থামতে হয়। এই মানুষটাকে ভিলেন বলা যায় কি?
কুরুক্ষেত্রের শেষ দিন
যুদ্ধের সতেরোতম দিনে কর্ণ ও অর্জুনের মুখোমুখি যুদ্ধ হলো। মহাভারতের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তগুলোর একটি।
কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে গেল। তিনি রথ থেকে নেমে চাকা তোলার চেষ্টা করলেন। এই মুহূর্তে অর্জুনকে অনুরোধ করলেন যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে, কারণ শাস্ত্র মতে নিরস্ত্র বা অসুবিধাগ্রস্ত যোদ্ধাকে আক্রমণ করা অধর্ম।
কৃষ্ণ তখন অর্জুনকে বললেন, এই লোক এখন ধর্মের কথা বলছে। কিন্তু দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় কোথায় ছিল এর ধর্মজ্ঞান? অভিমন্যুকে অন্যায়ভাবে ঘিরে হত্যার সময় কোথায় ছিল?

অর্জুন তীর ছুড়লেন। কর্ণ পড়ে গেলেন।
কর্ণ মরেননি সেই তীরে। তিনি মরলেন পরশুরামের অভিশাপে, কারণ সবচেয়ে বেশি দরকারের মুহূর্তে তিনি বিদ্যা ভুলে গেলেন। তিনি মরলেন মাটি দেবীর অভিশাপে, কারণ একবার অসাবধানে একটি গরুর বাছুর মারা গিয়েছিল তার হাতে। তিনি মরলেন জন্মের সেই ভুল পরিচয়ের মূল্য চুকিয়ে দিয়ে।
কর্ণ মাটিতে পড়ে থাকলেন। তাঁর মৃত্যুর পর কৃষ্ণ অর্জুনকে বললেন, আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বীর মারা গেল।
ভিলেন নাকি ট্র্যাজিক হিরো?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই।
কর্ণ দুর্যোধনের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন, যে দুর্যোধন অন্যায় করেছিলেন। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় তিনি চুপ ছিলেন, এমনকি একটি কটু কথাও বলেছিলেন। পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্রে তিনি অংশীদার ছিলেন।
এগুলো তার দোষ, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু পাশাপাশি এটাও সত্যি যে এই মানুষটি জন্মের আগে থেকেই পরাজিত ছিলেন। মা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। সমাজ তাঁকে পরিচয় দেয়নি। শিক্ষার দরজা বন্ধ ছিল। রঙ্গভূমিতে অপমান করা হয়েছিল। আর যখন সত্যিটা জানার সুযোগ এলো, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
তবুও তিনি দান করেছিলেন অকাতরে। প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন শেষ পর্যন্ত। বিশ্বাসঘাতকতা করেননি যে তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন তার সাথে।
পৃথিবীর সাহিত্যে এমন চরিত্র খুব কম আছে যে এক সাথে এত সঠিক এবং এত ভুল। এত শক্তিশালী এবং এত অসহায়। এত মহৎ এবং এত দুর্ভাগা।
কর্ণ ভিলেন নন। আবার নিখুঁত নায়কও নন।
কর্ণ হলেন মহাভারতের সবচেয়ে মানবিক চরিত্র। কারণ তিনি ভুল করেছেন, কিন্তু ভুলের পেছনে ছিল এমন যন্ত্রণা যেটা আমরা হয়তো কেউই সহ্য করতে পারতাম না। তিনি হেরেছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি।
হাজার বছর পরেও কর্ণের গল্প মানুষের বুকে আঘাত করে কারণ এই গল্পটা শুধু একজন যোদ্ধার গল্প নয়। এটা সেই প্রতিটি মানুষের গল্প যে জীবনে সঠিক সুযোগটা পায়নি, যাকে সমাজ কখনো মেনে নেয়নি, যে সারাজীবন লড়াই করেছে কিন্তু ইতিহাস তাকে ভিলেনের তালিকায় রেখেছে।
সেই কর্ণকে মনে রাখুন।
Comments are closed.