বাংলার ইতিহাস পড়তে বসলে একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করা যায়।
মুঘল আমলের কথা আমরা জানি। ব্রিটিশ আমলের কথা জানি। পাল সাম্রাজ্যের কথা কিছুটা জানি। কিন্তু মাঝখানের একটা দীর্ঘ অধ্যায় আমাদের পাঠ্যবইয়ে প্রায় অনুপস্থিত। সেটা হলো বাংলার সুলতানি আমল।
অথচ এই সুলতানি আমলেই বাংলা প্রথমবারের মতো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমবারের মতো বাংলার মানুষ নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দিতে শুরু করেছিল। প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষা রাজদরবারে স্থান পেয়েছিল।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামটি হলো ইলিয়াস শাহী বংশ।
ইলিয়াস শাহী বংশ ছিল বাংলার সুলতানি আমলের প্রথম স্বাধীন রাজবংশ। তাদের শাসন ছিল ১৩৪২ থেকে ১৪৮৭ সাল পর্যন্ত, মাঝে দুটি বিরতি ছাড়া। প্রায় দেড়শো বছর।
এই দেড়শো বছরের গল্পটা আজকে বলব। একজন পারসিয়ান যুবকের বাংলার মাটিতে এসে রাজা হওয়ার গল্প, দিল্লির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ের গল্প, এবং একটি সভ্যতার জন্মের গল্প।
বিভক্ত বাংলা: ইলিয়াস শাহের আগের অবস্থা
গল্পের শুরু করতে হবে ইলিয়াস শাহের আগে থেকে। কারণ তিনি কী করেছিলেন সেটা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে বাংলা তখন কেমন ছিল।
চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাংলা ছিল তিনটি টুকরায় বিভক্ত।
দিল্লি সুলতানাত বাংলাকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করে রেখেছিল। উত্তরে লখনৌতি, পূর্বে সোনারগাঁও, আর দক্ষিণে সাতগাঁও। তিনটি আলাদা শহর, তিনটি আলাদা শাসক, তিনটি আলাদা প্রশাসন।
এই বিভাজনের কারণ ছিল দিল্লির রাজনৈতিক কৌশল। বাংলা যদি এক থাকে তাহলে শক্তিশালী হয়ে স্বাধীনতা চাইবে। তাই ভাগ করে রাখো।
কিন্তু দিল্লির সুলতানাতের শক্তিও তখন কমছিল। তিনটি প্রদেশের শাসকরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। বাংলার মানুষ মাঝখানে পড়ে ভুগছিল।
এই পরিস্থিতিতে মঞ্চে এলেন একজন মানুষ। ইলিয়াস শাহ ছিলেন পূর্ব পারস্যের সিজিস্তান অঞ্চলের অধিবাসী, এক অভিজাত পরিবারের সন্তান।
একজন পারসিয়ানের বাংলা জয়
ইলিয়াস শাহের উত্থানের গল্পটা রীতিমতো চলচ্চিত্রের কাহিনির মতো।
শুরুতে তিনি দিল্লির মালিক ফিরুজের অধীনে কাজ করতেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে দিল্লি ছেড়ে বাংলায় চলে আসেন। এখানে সাতগাঁওয়ের প্রাদেশিক গভর্নর ইজ্জুদ্দিন ইয়াহিয়ার অধীনে চাকরি নেন এবং নিজের যোগ্যতায় মালিক পদে উন্নীত হন।
তারপর ঘটল সেই মুহূর্ত যেটা ইতিহাস বদলে দিল।
১৩৩৮ সালে ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর ইলিয়াস শাহ সাতগাঁওয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেন এবং দিল্লি থেকে স্বাধীনভাবে সুলতান হিসেবে নিজেকে ঘোষণা দিলেন।
কিন্তু শুধু সাতগাঁও নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না।

তিনি লখনৌতির সুলতান আলাউদ্দিন আলী শাহ এবং সোনারগাঁওয়ের সুলতান ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ দুজনকেই পরাজিত করলেন। ১৩৪২ সালের মধ্যে সমগ্র বাংলা তার অধীনে এল।
তিন টুকরা বাংলা এক হলো। প্রথমবারের মতো।
তিনি এই একীভূত অঞ্চলের নাম দিলেন বাংলাহ এবং এখানকার মানুষদের নাম দিলেন বাঙালি।
এই তথ্যটা একটু থামিয়ে ভাবুন। বাঙালি শব্দটার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি প্রথম এলো ইলিয়াস শাহের আমলে। একজন পারসিয়ান বংশোদ্ভূত সুলতান বাঙালি পরিচয়টাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেন।
শাহ-ই-বাঙালা: যে উপাধি ইতিহাসে অমর
ইলিয়াস শাহ শুধু বাংলা একত্রিত করেই থামেননি। তিনি সেই সময়ের উপমহাদেশের অন্যতম সাহসী সামরিক অভিযানকারীতে পরিণত হলেন।
তিনি টেরাই সমভূমি পেরিয়ে কাঠমান্ডু উপত্যকায় প্রবেশ করলেন। তার বাহিনী স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির ধ্বংস করল এবং তিন দিন ধরে কাঠমান্ডু শহর লুট করে প্রচুর সম্পদ নিয়ে ফিরে এলো।
এরপর তিনি উড়িষ্যা অভিযান চালান। জাজপুর, কটক সব সাবাড় করে চিলিকা হ্রদ পর্যন্ত পৌঁছান এবং প্রচুর হাতিসহ বিশাল সম্পদ নিয়ে ফেরেন।
এরপর তিনি আসামে কামরূপ রাজ্য আক্রমণ করলেন এবং গুয়াহাটি দখল করলেন। তিনিই ছিলেন প্রথম মুসলিম শাসক যিনি গুয়াহাটি জয় করেছিলেন।
পূর্বে আসাম, উত্তরে নেপাল, দক্ষিণ-পশ্চিমে উড়িষ্যা, এবং পশ্চিমে বিহার পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তৃত হলো। সমকালীন ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফিফ তাকে উপাধি দিলেন শাহ-ই-বাঙালা, শাহ-ই-বাঙালিয়ান, সুলতান-ই-বাঙালা।
বাংলার সুলতান। বাঙালিদের রাজা।
দিল্লির বিরুদ্ধে একলা লড়াই
ইলিয়াস শাহের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হলো দিল্লির বিরুদ্ধে তার স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।
১৩৫৩ সালের নভেম্বরে দিল্লির সুলতান ফিরুজ শাহ তুঘলক বাংলা আক্রমণ করলেন। এটা ছিল দিল্লির পক্ষ থেকে একটা স্পষ্ট বার্তা, বাংলা দিল্লির অধীনে থাকবে।
ইলিয়াস শাহ সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধ না করে একলা দুর্গে আশ্রয় নিলেন। সেই দুর্গের নাম একদলা।

একদলার যুদ্ধে দিল্লির বাহিনী বাংলাকে পরাজিত করতে পারল না। শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাথে একটি সন্ধি হলো এবং বাংলা দিল্লিকে কিছু করের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইলিয়াস শাহ বাংলার স্বাধীন শাসক হিসেবে থেকে গেলেন।
মানে বাংলা হারেনি। দিল্লির বিশাল বাহিনী এসেও বাংলার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারেনি।
সন্ধির পর দুই দেশের মধ্যে উপহার ও দূত বিনিময় হলো ১৩৫৫, ১৩৫৬, ১৩৫৭ এবং ১৩৫৮ সালে। শত্রু থেকে বন্ধু।
সিকান্দার শাহ: পিতার পরাজয়ের প্রতিশোধ
ইলিয়াস শাহের পর সিংহাসনে বসলেন তার পুত্র সিকান্দার শাহ। তিনি পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করলেন।
১৩৫৯ সালে দিল্লির সুলতান ফিরুজ শাহ তুঘলক দ্বিতীয়বার বাংলা আক্রমণ করলেন। কিন্তু এবার সিকান্দার শাহ দিল্লির সুলতানকে পরাজিত করলেন। দুই পক্ষ শান্তিচুক্তি সই করল এবং দিল্লি বাংলার স্বাধীনতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিল।
এই স্বীকৃতিটা বিশাল গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির সুলতানাত নিজে মুখে স্বীকার করল বাংলা স্বাধীন।
সিকান্দার শাহ প্রায় ত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। এই সময়ে তিনি পাণ্ডুয়ায় আদিনা মসজিদ নির্মাণ করলেন ১৩৬৮ সালে এবং গৌড়ে কোতোয়ালি দরওয়াজা নির্মাণ করলেন।
আদিনা মসজিদের কথাটা বিশেষভাবে বলতে হয়। এটি ছিল মধ্যযুগীয় ভারতের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটি। আজও মালদা জেলায় এই মসজিদের ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে আছে, সেই গৌরবের সাক্ষী হয়ে।
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: কবির সাথে বিতর্কের সুলতান
ইলিয়াস শাহী বংশের সবচেয়ে বিচিত্র এবং আলোচিত শাসক ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। তিনি সিকান্দার শাহের পুত্র এবং মিং সাম্রাজ্যের চীনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন এবং বাণিজ্যকে উৎসাহ দিয়েছিলেন।
তার রাজত্বকালে চীনা পর্যটক মা হুয়ান বাংলায় এসেছিলেন। মা হুয়ানের বর্ণনায় পাণ্ডুয়া শহর ছিল তখন একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র, শহরের দেয়াল অত্যন্ত মজবুত, বাজার সুশৃঙ্খল, দোকানপাট পাশাপাশি সারিবদ্ধ।
কিন্তু গিয়াসউদ্দিনকে বিখ্যাত করেছে আরেকটি গল্প।
পারসিয়ান কবি হাফিজের সাথে তার চিঠির আদানপ্রদানের কথা ইতিহাসে লেখা আছে। হাফিজ ছিলেন সেই যুগের সবচেয়ে বড় ফার্সি কবি। গিয়াসউদ্দিন তাকে বাংলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। হাফিজ একটি কবিতায় উত্তর দিয়েছিলেন যেটাতে সমুদ্রযাত্রার ভয়ের কথা বলেছিলেন। গিয়াসউদ্দিন পাল্টা কবিতা লিখেছিলেন।
একজন রাজা কবিতায় কবির সাথে তর্ক করছেন, এটা সেই আমলের সাংস্কৃতিক পরিশীলনের একটা ছবি।
গিয়াসউদ্দিনের রাজত্বকালে কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।
এখানে একটু থামুন। একজন মুসলিম সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দু পুরাণের সবচেয়ে পবিত্র গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ হলো। এই ঘটনাটা সুলতানি আমলের বাংলার ধর্মীয় সহিষ্ণুতার একটা অসাধারণ প্রমাণ।
রাজা গণেশের বিদ্রোহ: ইলিয়াস শাহী বংশের প্রথম পতন
ইলিয়াস শাহী বংশের ইতিহাসে একটি নাটকীয় অধ্যায় আছে যেটা খুব কম মানুষ জানেন।
পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে রাজা গণেশ নামে একজন শক্তিশালী হিন্দু জমিদার ইলিয়াস শাহী বংশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতা দখল করলেন।
১৪১৫ সালে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি এবং ইলিয়াস শাহী বংশের দুর্বলতার কারণে সাইফুদ্দিন হামজা শাহের শাসন উৎখাত হয়ে যায়।
কিন্তু এখানে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।
রাজা গণেশ হিন্দু ছিলেন কিন্তু তার পুত্র যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন এবং জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে বসলেন।
জালালউদ্দিনের রাজত্ব সংক্ষিপ্ত হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি আরাকানের পুনর্দখলে সাহায্য করলেন এবং স্থাপত্য ও শাসনে আরও বেশি বাংলাদেশি উপাদান আনলেন।
একজন হিন্দু রাজার ছেলে মুসলমান হয়ে বাংলার সুলতান হলেন। ইতিহাস কখনো কখনো এতটাই অপ্রত্যাশিত হয়।
ইলিয়াস শাহী বংশের পুনরুদ্ধার
গণেশ বংশের পতনের পর ইলিয়াস শাহী বংশ আবার ক্ষমতায় ফিরে এলো।
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের বংশধর মাহমুদ শাহ ১৪৩৬ সালে নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে বসলেন এবং ইলিয়াস শাহী বংশ পুনরুদ্ধার করলেন।
পাণ্ডুয়া থেকে নয়জন রাজা একশো বছর ধরে বাংলা শাসন করলেন। তারা প্রাসাদ, দুর্গ, সেতু, মসজিদ এবং সমাধিসৌধ নির্মাণ করলেন।
নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ শাহ চতুর্থ পাণ্ডুয়া থেকে রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করলেন ১৪৩৭ সালে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে।
গৌড় নামটা বাংলার ইতিহাসে বিশেষ স্থান পেয়েছে। আজকের মালদা জেলার এই শহর ছিল সেই সময়ের বাংলার রাজধানী। এর ধ্বংসাবশেষ আজও দাঁড়িয়ে আছে।
সংস্কৃতির বিকাশ: ইলিয়াস শাহী আমলের উত্তরাধিকার
ইলিয়াস শাহী বংশের সবচেয়ে বড় অবদান শুধু সামরিক বিজয়ে নয়। তাদের আমলে বাংলার সংস্কৃতি যেভাবে বিকশিত হয়েছিল সেটা আজকের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ভিত্তির একটি বড় অংশ।
বাংলা সুলতানাতে পারসিয়ান ছিল প্রধান সরকারি, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভাষা। কিন্তু সুলতানদের আমলেই বাংলা ভাষা প্রথমবার রাজদরবারে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল।
একটা ব্যাপার ভাবুন। বাংলা ভাষায় আজকে আমরা কথা বলি, লিখি, গান গাই। এই ভাষাটা রাজভাষার মর্যাদা পেয়েছিল ইলিয়াস শাহী আমলে। একজন পারসিয়ান বংশোদ্ভূত সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায়।
মালাধার বসু শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেছিলেন এবং গুণরাজ খান উপাধি পেয়েছিলেন। হিন্দু কবিরা মুসলিম সুলতানের দরবারে সম্মান পাচ্ছেন, বাংলায় সাহিত্য রচনা করছেন।
সুলতানাতে ধর্মীয় বহুত্ববাদ ছিল। অমুসলিম সম্প্রদায় শান্তিতে সহাবস্থান করত।
এই ধর্মীয় সহাবস্থানের সংস্কৃতিটা বাংলার একটা বিশেষ পরিচয় হয়ে উঠেছিল।
ইলিয়াস শাহী বংশের পতন
১৪৮৭ সালে এই বংশের শেষ শাসক জালালউদ্দিন ফতেহ শাহকে তার নিজের হাবশি প্রাসাদরক্ষী কমান্ডার শাহজাদা বারবক হত্যা করলেন এবং সুলতান বারবক শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে বসলেন।
ভেতর থেকেই পতন। নিজের প্রাসাদরক্ষীর হাতেই শেষ হলো একটি যুগ।
দেড়শো বছরের ইলিয়াস শাহী শাসনের অবসান হলো। কিন্তু তারা যে বীজ বুনে গিয়েছিলেন, বাংলার একটা আলাদা সত্তা, বাঙালি পরিচয়, বাংলা ভাষার গুরুত্ব, সেই বীজ থেকে যাওয়া গাছ আজও আমাদের ছায়া দিচ্ছে।
শেষ কথা: ইতিহাসের যে অধ্যায় আমরা ভুলে গেছি
পাল সাম্রাজ্যের মতো ইলিয়াস শাহী বংশও আমাদের পাঠ্যবইয়ে সঠিক মনোযোগ পায় না। অথচ এই বংশের অবদান অসাধারণ।
প্রথমবার বাংলা একটি অখণ্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল এই আমলে। বাঙালি নামটার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এসেছিল এই আমলে। বাংলা ভাষা দরবারে জায়গা পেয়েছিল এই আমলে। হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে একটি মিশ্র সংস্কৃতির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এই আমলে।
কেউ কেউ ইলিয়াস শাহকে বাংলার আলেকজান্ডার বা নেপোলিয়নের সমতুল্য মনে করেন।
অতিরঞ্জিত কিনা সেটা বিতর্কের বিষয়। কিন্তু এটুকু অস্বীকার করার উপায় নেই, ইলিয়াস শাহী বংশ বাংলার ইতিহাসে এমন একটা অধ্যায় লিখে গেছেন যেটা না জানলে আমাদের পরিচয়ের একটা বড় অংশ অজানা থেকে যায়।
Comments are closed.