ঢাকার লালবাগ কেল্লা: নির্মাণ না হওয়ার পেছনের রহস্য

পুরান ঢাকার সরু গলির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ একটা জায়গায় এসে মনে হয় সময়টা থেমে গেছে।

চারদিকে যানজট, রিকশার বেল, হকারের চিৎকার, পাঁচতলা বাড়ির ভিড়। আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে লালবাগ কেল্লা। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো এই দেয়াল যেন চারপাশের এই হইচইকে পরোয়া করে না। নিজের মতো দাঁড়িয়ে আছে, চুপ করে।

কিন্তু এই কেল্লার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কী জানেন? এটা কখনো সম্পূর্ণ হয়নি।

লালবাগ কেল্লার নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ সালে। শেষ হয়নি আজ পর্যন্ত। সাড়ে তিনশো বছর ধরে একটি অসম্পূর্ণ দুর্গ দাঁড়িয়ে আছে ঢাকার বুকে।

কেন হয়নি? কী এমন ঘটেছিল যে মুঘল সাম্রাজ্যের এত বড় একটা প্রকল্প মাঝপথে থেমে গেল?

সেই গল্পে আছে একজন রাজপুত্রের স্বপ্ন, একজন বাবার কান্না, একটি মেয়ের অকালমৃত্যু, এবং একটি বিশ্বাস যে এই কেল্লা অশুভ।

ঢাকা তখন মুঘল সাম্রাজ্যের রত্ন

গল্পের শুরু করতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে। সেই সময়কার ঢাকার ছবিটা মাথায় আনতে হবে।

সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলাকে বলতেন জাতিসমূহের স্বর্গ। মুঘল আমলে বাংলা ছিল সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। মসলিন কাপড়ের জন্য বিশ্বজোড়া নাম। বুড়িগঙ্গার তীরে নোঙর করা শত শত বিদেশি জাহাজ। ইউরোপ থেকে আরব দেশ, সবাই আসছে বাংলার সম্পদের লোভে।

বিস্তারিত ঐতিহাসিক ওয়াটারকালার চিত্রকলায় মুঘল আমলের বুড়িগঙ্গার তীরে জাহাঙ্গীরনগর বন্দর, আরব ও ইউরোপীয় জাহাজ, মসজিদের মিনার, নদীতীরে মসলিন ব্যবসা

সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল এবং নাম দেওয়া হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর। তারপর থেকে ঢাকায় একের পর এক মুঘল স্থাপত্য গড়ে উঠছিল। মসজিদ, সমাধি, প্রাসাদ।

এই সমৃদ্ধ শহরে ১৬৭৮ সালে এলেন একজন বিশেষ অতিথি।

রাজপুত্র আজমের স্বপ্ন

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মুহম্মদ আজম শাহ যখন বাংলার সুবেদার হিসেবে ঢাকায় এলেন, তখন তার বয়স মাত্র বিশের কোঠায়।

তরুণ রাজপুত্র। উচ্চাকাঙ্ক্ষী। বাবার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশের গভর্নর। স্বাভাবিকভাবেই তিনি চাইলেন এমন কিছু গড়তে যেটা তার নাম ইতিহাসে লিখে রাখবে।

তিনি পরিকল্পনা করলেন বুড়িগঙ্গার তীরে একটি বিশাল দুর্গ নির্মাণ করবেন। শুধু দুর্গ নয়, পুরো একটি শাহি কমপ্লেক্স। দরবার হল, মসজিদ, বাগান, ফোয়ারা, প্রমোদ কক্ষ। দিল্লির লাল কেল্লা আর ফতেহপুর সিক্রির আদলে, কিন্তু বাংলার মাটিতে।

দুর্গের নাম রাখলেন ফোর্ট আওরঙ্গাবাদ। বাবার নামে।

১৬৭৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলো। হাজার হাজার শ্রমিক কাজে লাগলেন। বুড়িগঙ্গার তীর থেকে মাটি কাটা হচ্ছে, পাথর আসছে দূর থেকে, ইট পোড়ানো হচ্ছে।

কিন্তু কাজ বেশিদূর এগোনোর আগেই সব বদলে গেল।

দিল্লির ডাক: রাজপুত্রের প্রস্থান

দিল্লিতে সম্রাট আওরঙ্গজেব মারাঠা, শিখ এবং রাজপুতদের বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তার যোদ্ধা পুত্রকে দরকার।

রাজপুত্র আজমের কাছে দিল্লি থেকে বার্তা এলো। ফিরে আসতে হবে।

মাত্র পনের মাসের সুবেদারিত্বের পর আজম শাহ বাংলা ছেড়ে চলে গেলেন। তার স্বপ্নের দুর্গ পড়ে রইল অসম্পূর্ণ। শুধু ভিত আর কিছু দেয়াল উঠেছে।

যাওয়ার আগে তিনি অসম্পূর্ণ দুর্গটা নতুন সুবেদারের হাতে দিয়ে গেলেন। বললেন, এটা শেষ করে দেবেন।

সেই নতুন সুবেদারের নাম শায়েস্তা খান।

শায়েস্তা খান: যার নামে ঢাকার রাস্তা

শায়েস্তা খান বাংলার ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন।

তিনি ছিলেন মুঘল সম্রাজ্ঞী মুমতাজ মহলের ভাই, অর্থাৎ সম্রাট শাহজাহানের শ্যালক এবং আওরঙ্গজেবের মামা। পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

তিনি প্রথমবার বাংলার সুবেদার ছিলেন ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ পর্যন্ত। সেই আমলে তিনি পর্তুগিজ জলদস্যুদের তাড়িয়ে বাংলার নৌপথ নিরাপদ করেছিলেন। বলা হয় তার আমলে ঢাকায় এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। সেই প্রবাদটা আজও আছে।

আজমের চলে যাওয়ার পর ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান আবার বাংলার সুবেদার হলেন। অসম্পূর্ণ দুর্গের কাজ তিনি আবার শুরু করলেন।

কিন্তু তার জীবনে একটা দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছিল।

পরী বিবি: যার মৃত্যু থামিয়ে দিল সব কিছু

শায়েস্তা খানের মেয়ের নাম ইরান দুখত রহমত বানু। কিন্তু সবাই তাকে ডাকত পরী বিবি বলে। পরী মানে ফেরেশতা। সেই নামেই তিনি ইতিহাসে আছেন।

পরী বিবি ছিলেন শায়েস্তা খানের মেয়ে এবং মুঘল সম্রাজ্ঞী নূর জাহানের দুহিতা। অর্থাৎ তিনি ছিলেন মুঘল পরিবারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

পরী বিবি ছিলেন রাজপুত্র আজমের বাগদত্তা। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু আজম দিল্লি চলে গেলেন, আর পরী বিবি রয়ে গেলেন ঢাকায়।

১৬৮৪ সালে পরী বিবি মারা গেলেন, কেল্লার ভেতরেই।

হন্টিং ওয়াটারকালার ইলাস্ট্রেশনে লালবাগ কেল্লার ভেতরে চাঁদের নরম আলোয় পরী বিবির সাদা মার্বেলের সমাধি, দেয়ালে ফুলের নকশার টাইলস, মেঝেতে গোলাপের পাপড়ি

তার বয়স কত ছিল সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ বলেন বিশের কোঠায়, কেউ বলেন আরও কম। কিন্তু সবাই একমত, তিনি অকালে মারা গিয়েছিলেন।

একজন বাবার জন্য মেয়ের মৃত্যু কেমন ব্যথার, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু শায়েস্তা খানের সেই বেদনা আরও গভীর হয়েছিল একটা কারণে।

মেয়ের মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বিশ্বাস করলেন এই কেল্লা অশুভ। এই কেল্লার মধ্যেই তার মেয়ে মারা গেছেন। এখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া মানে এই অশুভ ছায়াকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া।

শায়েস্তা খান সাথে সাথে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলেন। আর কখনো পুনরায় শুরু করেননি।

একটি বাবার কুসংস্কার না বলে এটাকে বলা যায় একটি ভাঙা হৃদয়ের সিদ্ধান্ত। যে জায়গায় মেয়ে মারা গেছে, সেই জায়গাকে মহিমান্বিত করার কোনো ইচ্ছা তার আর ছিল না।

পরী বিবিকে কেল্লার ভেতরেই সমাহিত করা হলো। যে দুর্গ তার জীবনের শেষ আশ্রয় হয়েছিল, সেটাই হলো তার চিরন্তন আশ্রয়।

পরী বিবির পরিচয়: বিতর্ক থামেনি

পরী বিবি কে ছিলেন, এটা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে।

কিছু গবেষক দাবি করেন তিনি ছিলেন আসামের আহোম রাজার মেয়ে। মীর জুমলার আহোম অভিযানের পর আহোম রাজার মেয়েকে বন্দি করা হয়েছিল। পরে সম্রাট তাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে রাজপুত্র আজমের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু এই মত সংখ্যালঘু। বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন পরী বিবি ছিলেন শায়েস্তা খানের প্রিয় কন্যা।

পরী বিবির মা ছিলেন নূর জাহানের পরিবারের সদস্য। ফলে মুঘল রাজপরিবারের সাথে তার রক্তের সম্পর্ক ছিল।

যাই হোক না কেন, পরী বিবির মৃত্যু একটি বিশাল স্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে দিয়েছিল।

কেল্লার যা হলো এবং যা হলো না

শায়েস্তা খান কাজ বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু যেটুকু হয়েছিল সেটাও ছিল অসাধারণ।

কমপ্লেক্সের মাঝখানে তিনটি প্রধান ভবন সম্পূর্ণ হয়েছিল। পূর্বে দেওয়ান-ই-আম এবং হাম্মামখানা, পশ্চিমে মসজিদ, আর মাঝখানে পরী বিবির সমাধি। পানির চ্যানেল এবং ফোয়ারা দিয়ে তিনটি ভবন সংযুক্ত ছিল।

পরী বিবির সমাধি নির্মিত হয়েছিল সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে। সেই সময়ে ঢাকায় সাদা মার্বেল আনা মানে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা। কতটা ভালোবাসতেন মেয়েকে, একটু বোঝা যায়।

সমাধির ভেতরের চারটি কোণার কক্ষের দেয়াল ছিল সুন্দর গ্লেজড ফুলের টাইলস দিয়ে সজ্জিত।

কিন্তু মূল পরিকল্পনার তুলনায় যেটুকু হয়েছে সেটা অর্ধেকেরও কম।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রমাণিত হয়েছে আজম শাহের পরিকল্পনা ছিল আজকের কেল্লার দ্বিগুণ আকারের। বর্তমান কেল্লার পূর্ব দিকে আরও একটা বিশাল অংশ থাকার কথা ছিল যেটা প্রশাসনিক কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন বর্তমান কেল্লা হলো আজম শাহের মূল পরিকল্পনার মাত্র অর্ধেক অংশ।

অর্থাৎ আজকে আমরা যে কেল্লা দেখি সেটা আসলে একটা অসম্পূর্ণ স্বপ্নের অর্ধেক।

ভূতের গল্প এবং আসল রহস্য

পরী বিবির মৃত্যুর পর গুজব ছড়িয়ে পড়ল কেল্লায় ভূত আছে।

পুরান ঢাকায় এখনো বলা হয় পরী বিবির আত্মা রাতের বেলা কেল্লার গলিপথে ঘুরে বেড়ায়। কেউ কেউ বলেন রাতে কেল্লার ভেতর থেকে কান্নার শব্দ আসে।

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন পরী বিবির অতৃপ্ত আত্মা এখনো পুরান ঢাকার গলিতে ঘুরে বেড়ায়।

এই গল্পগুলো বিশ্বাস করা না করা আপনার ব্যাপার। কিন্তু একটা কথা সত্যি, কেল্লার ভেতরে গেলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। হয়তো ইতিহাসের ভার, হয়তো অসম্পূর্ণতার বেদনা, হয়তো শুধু কল্পনা। কিন্তু অনুভূতিটা হয়।

কেল্লার নিচে গোপন সুড়ঙ্গ

লালবাগ কেল্লার নিচে একটি জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা আছে যেটা সম্পূর্ণ নির্মিত হয়েছিল।

এই সুড়ঙ্গগুলো কোথায় গেছে সেটা নিয়ে আজও নিশ্চিত নয় সবাই। কেউ বলেন বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত গেছে। কেউ বলেন পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বের হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বেশিরভাগ সুড়ঙ্গের মুখ এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সুড়ঙ্গ এবং গোপন পথের অস্তিত্ব স্থানীয় কিংবদন্তিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

রাজধানী সরে গেল, ঢাকা ম্লান হলো

শায়েস্তা খান ১৬৮৮ সালে ঢাকা ছেড়ে চলে গেলেন।

তারপর ধীরে ধীরে ঢাকা তার গুরুত্ব হারাতে শুরু করল। মুঘল সাম্রাজ্য দুর্বল হলো, বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে সরে গেল।

রাজধানী না থাকলে কেল্লার কী দরকার। লালবাগ কেল্লা পরিত্যক্ত হলো।

ব্রিটিশরা এলো। ঢাকা বদলে গেল। ১৮৪৪ সালে এলাকার নাম আওরঙ্গাবাদ থেকে বদলে হলো লালবাগ, আর কেল্লার নাম হলো লালবাগ ফোর্ট।

তারপর দেশ স্বাধীন হলো। বাংলাদেশ হলো। লালবাগ কেল্লা হলো জাতীয় ঐতিহ্যস্থান।

আজকের কেল্লায় যা আছে

আজকে কেল্লায় গেলে তিনটি প্রধান স্থাপত্য দেখা যাবে।

দেওয়ান-ই-আম বা দরবার হল। এটাই সবচেয়ে বড় ভবন। এখানে একটি ছোট কিন্তু চমৎকার যাদুঘর আছে যেখানে মুঘল আমলের ক্ষুদ্রচিত্র, মুদ্রা, কার্পেট, ক্যালিগ্রাফি, এবং তলোয়ার ও আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষিত আছে।

পরী বিবির সমাধি। সাদা মার্বেলের এই সমাধি একটি মুঘল রাজকুমারীর অকালমৃত্যুর স্মৃতি বহন করছে। ভেতরে প্রবেশ সীমিত।

দক্ষিণ-পূর্ব কোণার ছোট কক্ষে আরেকটি ছোট সমাধি আছে যেটি পরী বিবির মেয়ে শামসাদ বেগমের বলে ধারণা করা হয়।

লালবাগ কেল্লা মসজিদ। তিন গম্বুজওয়ালা এই মসজিদ নির্মাণকাজও অসম্পূর্ণ ছিল কিন্তু পরে সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখনো সক্রিয় উপাসনার জায়গা।

কেল্লার ভেতরে চারবাগ শৈলীর বাগান আছে। মুঘল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চারটি পানির চ্যানেল দিয়ে বাগানটি চার ভাগে বিভক্ত।

সম্প্রতি শাহি হাম্মাম বা রাজকীয় স্নানাগার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এর জটিল পানি সরবরাহ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মুঘল প্রকৌশলের অসাধারণ নমুনা।

শেষ কথা: অসম্পূর্ণতার সৌন্দর্য

লালবাগ কেল্লা কখনো সম্পূর্ণ হয়নি। হয়তো হবেও না।

একটা রাজপুত্রের স্বপ্ন ছিল। তিনি চলে গেলেন। একজন বাবার মেয়ে ছিল। মেয়ে চলে গেল। একটি সাম্রাজ্যের গৌরব ছিল। সেটাও চলে গেল।

কিন্তু অসম্পূর্ণ এই কেল্লা দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের মধ্যে জমাটবদ্ধ একটি অপূর্ণ স্বপ্নের মতো।

পরী বিবির সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে যখন মানুষ ভাবেন, একজন বাবা মেয়ের মৃত্যুর শোকে পুরো একটা দুর্গের নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন বুকটা কেমন ভারী হয়ে যায়।

এই কেল্লা শুধু ইট-পাথরের সমাহার নয়। এটা একটা প্রেমের গল্প। একজন বাবার মেয়ের প্রতি এমন ভালোবাসার গল্প যে মেয়ে না থাকলে স্বপ্নও থাকে না।

পুরান ঢাকার কোলাহলের মাঝে আজও নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা এই অসম্পূর্ণ কেল্লা সেই গল্পটাই বলে যাচ্ছে, প্রতিটি পাথরে, প্রতিটি ইটে।

Comments are closed.