কল্পনা করুন—রাতের গভীরে, মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, বরফে ঢাকা এক নির্জন পর্বতে নয়জন অভিজ্ঞ হাইকার হঠাৎ নিজেদের তাঁবু ভেতর থেকে ছুরি দিয়ে কেটে, প্রায় খালি পায়ে আর হালকা পোশাকে ছুটে বেরিয়ে আসছেন অন্ধকারে—কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। এই ঘটনাই আজ পরিচিত “দিয়াতলভ পাস রহস্য” নামে, বিশ শতকের অন্যতম ভয়ঙ্কর ও অমীমাংসিত মৃত্যুরহস্য হিসেবে। ছয় দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বিজ্ঞানী, তদন্তকারী ও গবেষকরা আজও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল। আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্য সিরিজের এই পর্বে চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ভয়ঙ্কর ঘটনার বিস্তারিত।
অভিযানের শুরু: ১৯৫৯ সালের জানুয়ারি
১৯৫৯ সালের ২৩ জানুয়ারি, সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নয়জন শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী একটি দুঃসাহসিক শীতকালীন ট্রেকিং অভিযানে বের হন। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইগর দিয়াতলভ, যার নামানুসারেই পরবর্তীতে এই স্থানের নামকরণ হয় “দিয়াতলভ পাস”। দলের লক্ষ্য ছিল উত্তর উরাল পর্বতমালার ওতোর্তেন পর্বতে আরোহণ করা—একটি কঠিন শীতকালীন রুট, যা সোভিয়েত পর্বতারোহণ মানদণ্ডে সর্বোচ্চ স্তরের (গ্রেড III) অভিযান হিসেবে বিবেচিত হতো। দলের সদস্যরা সবাই ছিলেন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত হাইকার, যাদের আগে একাধিক কঠিন শীতকালীন অভিযানের অভিজ্ঞতা ছিল।
শেষ ক্যাম্প ও নিখোঁজ হওয়া
২৫ জানুয়ারি দলটি একটি প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছায়, যেখান থেকে তাদের অভিযানের মূল পর্ব শুরু হয়। ২৮ জানুয়ারি একজন সদস্য, ইউরি ইউদিন, অসুস্থতার কারণে দল থেকে ফিরে আসেন—আর এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তার জীবন বাঁচিয়ে দেয়। বাকি নয়জন সদস্য এগিয়ে যান হোলাত সিয়াখল পর্বতের ঢালে, যাকে স্থানীয় মানসি জনগোষ্ঠীর ভাষায় বলা হয় “মৃতদের পাহাড়”। ১ ফেব্রুয়ারি তারা পর্বতের ঢালে তাঁবু স্থাপন করেন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
দলের সাথে পূর্বনির্ধারিত সময়ে যোগাযোগ না হওয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হতে সময় লেগে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি উদ্ধারকারী দল পরিত্যক্ত তাঁবুটি খুঁজে পায়।
তাঁবুর সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য
উদ্ধারকারীরা যা দেখতে পান তা ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। তাঁবুটি ভেতর থেকে ছুরি দিয়ে কাটা হয়েছিল—বাইরে থেকে নয়। তাঁবুর ভেতরে খাবার, জুতা, গরম কাপড়সহ প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে দলটি তাড়াহুড়ো করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই তাঁবু ছেড়ে পালিয়েছিল। তাঁবু থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে, বনের কিনারায় একটি বড় দেবদারু গাছের নিচে প্রথম দুইজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়—তারা ছিলেন প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায়, খালি পায়ে, চরম ঠান্ডার মধ্যে। গাছের গায়ে পাওয়া ভাঙা ডালপালা থেকে অনুমান করা হয়, কেউ একজন ভয়ে গাছে উঠে দূরের কিছু দেখার চেষ্টা করেছিলেন।
এরপর ধাপে ধাপে বাকি সদস্যদের মৃতদেহ পাওয়া যায়, কিছু তাঁবু আর গাছের মাঝামাঝি দূরত্বে, আর বাকিরা আরও দূরে একটি ছোট গিরিখাতে (রেভাইন) বরফের নিচে চাপা পড়া অবস্থায়—যাদের খুঁজে পেতে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়, কারণ তাদের দেহ কয়েক মিটার পুরু বরফের নিচে চাপা পড়েছিল।

ময়নাতদন্তের ভয়ঙ্কর ফলাফল
ময়নাতদন্তে জানা যায়, প্রথম পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ ছিল হাইপোথার্মিয়া বা তীব্র ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া। কিন্তু বাকি চারজনের মৃত্যুর কারণ ছিল আরও ভয়ঙ্কর ও রহস্যময়। তাদের মধ্যে একজনের মাথার খুলিতে মারাত্মক ফাটল ছিল, দুইজনের বুকের পাঁজর একাধিক জায়গায় ভাঙা ছিল—এমন তীব্রতায়, যা একটি গাড়ি দুর্ঘটনার আঘাতের সমতুল্য বলে চিকিৎসকরা মন্তব্য করেন। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে, তাদের শরীরের বাইরের চামড়ায় কোনো ধরনের কাটা-ছেঁড়া বা বহিরাগত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা কোনো সাধারণ শারীরিক সংঘর্ষ বা মারামারির তত্ত্বকে দুর্বল করে দেয়।
আরও অস্বাভাবিক বিষয় ছিল, একজন নারী সদস্যের জিহ্বা, চোখ ও ঠোঁটের কিছু অংশ অনুপস্থিত ছিল। প্রাথমিকভাবে অনেকে এটিকে সহিংসতার প্রমাণ মনে করলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে জানা যায়, এটি সম্ভবত বরফ-গলা পানিতে দীর্ঘদিন দেহ পড়ে থাকার কারণে পচন ও ছোট জলজ প্রাণীর কারণে হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া কয়েকজনের শরীরে ও কাপড়ে সামান্য মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার (রেডিয়েশন) চিহ্ন পাওয়া যায়, যা রহস্যকে আরও জটিল করে তোলে।
সোভিয়েত তদন্ত ও সরকারি সিদ্ধান্ত
তৎকালীন সোভিয়েত তদন্তকারীরা দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে লেখেন, মৃত্যুর কারণ ছিল “একটি অজানা অপ্রতিরোধ্য শক্তি” (an unknown compelling force)—একটি অস্পষ্ট ও অসন্তোষজনক সিদ্ধান্ত, যা আজও রহস্যপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। মামলার নথিপত্র সাথে সাথেই “গোপনীয়” চিহ্নিত করে সিল করে দেওয়া হয়, এবং প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করা হয়নি। এই গোপনীয়তা সোভিয়েত আমলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলে অনেকে মনে করেন, তবে এটি একইসাথে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেয়।
সম্ভাব্য তত্ত্বসমূহ
দিয়াতলভ পাস রহস্য নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য তত্ত্ব দাঁড় করানো হয়েছে। নিচে সবচেয়ে আলোচিত কিছু তত্ত্ব তুলে ধরা হলো:
তুষারধস তত্ত্ব: ২০১৯ ও ২০২১ সালে রুশ কর্তৃপক্ষ ও সুইস-রুশ বিজ্ঞানীদের একটি দল কম্পিউটার মডেলিং ব্যবহার করে দেখান যে, তাঁবুর ঢালে একটি ছোট আকারের, বিলম্বিত তুষারধস (slab avalanche) ঘটে থাকতে পারে, যা তাঁবুর একাংশ চাপা দিয়ে দিতে পারে এবং হাইকারদের আতঙ্কিত করে তাঁবু কেটে বের হতে বাধ্য করতে পারে। এই তত্ত্ব বুকের পাঁজর ও মাথার খুলির আঘাতের একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে পারে, তবে এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না কেন হাইকাররা তাঁবু থেকে এতটা দূরে সরে গিয়েছিলেন, বা কেন তারা তাঁবুতে ফিরে আসার চেষ্টা করেননি।
সামরিক পরীক্ষার তত্ত্ব: কিছু গবেষকের ধারণা, নিকটবর্তী এলাকায় সোভিয়েত সামরিক বাহিনীর কোনো গোপন অস্ত্র পরীক্ষা—হয়তো পরাক্রমশালী শব্দতরঙ্গ অস্ত্র বা তেজস্ক্রিয় পরীক্ষা—হাইকারদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। শরীরে পাওয়া তেজস্ক্রিয়তার চিহ্ন এই তত্ত্বকে কিছুটা সমর্থন করে, যদিও এর মাত্রা এতটাই কম ছিল যে তা মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো যথেষ্ট নয় বলে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন।
ইনফ্রাসাউন্ড তত্ত্ব: কিছু বিজ্ঞানী প্রস্তাব করেছেন, নির্দিষ্ট বায়ুপ্রবাহের কারণে পর্বতের আকৃতি এক ধরনের “ক্যারমেন ভরটেক্স” তৈরি করতে পারে, যা অতি নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সির ইনফ্রাসাউন্ড উৎপন্ন করে। মানুষের কান এই শব্দ শুনতে না পারলেও এটি তীব্র আতঙ্ক, বমি ভাব ও অযৌক্তিক ভয়ের অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে—যা হাইকারদের আতঙ্কিত হয়ে তাঁবু থেকে পালানোর একটা সম্ভাব্য মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হতে পারে।
ক্যাটাবেটিক বাতাসের তত্ত্ব: কিছু আবহাওয়াবিদ মনে করেন, পর্বতের চূড়া থেকে হঠাৎ নেমে আসা অতি শক্তিশালী, ঠান্ডা “ক্যাটাবেটিক বাতাস” তাঁবুর ভেতরে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা হাইকারদের বাধ্য করতে পারে দ্রুত তাঁবু ছেড়ে বের হতে।
অতিপ্রাকৃত ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন এই ঘটনার পেছনে ইয়েতির মতো অজানা প্রাণীর আক্রমণ, ভিনগ্রহবাসীদের যান অবতরণ, অথবা কেজিবি-সম্পর্কিত গোপন হত্যাকাণ্ড জড়িত থাকতে পারে। এই তত্ত্বগুলোর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি না থাকলেও, ঘটনার রহস্যময়তা ও সরকারি গোপনীয়তা এসব তত্ত্বকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

২০২০-এর দশকের নতুন গবেষণা
২০২০ সালে রুশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তুষারধস তত্ত্বকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে ঘোষণা করে, এবং ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের একদল বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞান ও তুষার বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে একটি বিস্তারিত সিমুলেশন প্রকাশ করেন, যা দেখায় কীভাবে একটি ছোট, বিলম্বিত তুষারধস তাঁবুর কাঠামোর উপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারে হাড় ভাঙার জন্য। তবে এই গবেষণাও সমালোচনার মুখে পড়ে—বিশেষ করে কারণ তাঁবুর স্থানে ঢালের কোণ তুষারধসের জন্য সাধারণত প্রয়োজনীয় কোণের চেয়ে কম ছিল, এবং তুষারধসের কোনো স্পষ্ট ভৌত প্রমাণ (যেমন তুষারের স্তূপ) উদ্ধারকারীরা খুঁজে পাননি।
দিয়াতলভ পাস আজ
আজও প্রতি বছর অনেক অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় পর্যটক ও গবেষক দিয়াতলভ পাসে যান নিজ চোখে জায়গাটি দেখতে এবং ঘটনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ঘটনাস্থলে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে নিহত নয়জনের সম্মানে। রাশিয়ার সরকার ২০২০ সালে এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “দিয়াতলভ পাস” নামে স্বীকৃতি দেয়, যদিও স্থানীয় মানসি জনগোষ্ঠী এখনও এই পর্বতকে তাদের পুরনো নামেই ডাকে—”মৃতদের পাহাড়”। এই ঘটনা নিয়ে একাধিক তথ্যচিত্র, বই এবং এমনকি একটি হলিউড সিনেমাও নির্মিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে বিশ্বজুড়ে এই রহস্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও অটুট।
দলের সদস্যরা কারা ছিলেন
দিয়াতলভ পাসে নিহত নয়জনের মধ্যে ছিলেন সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারী, যাদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। দলনেতা ইগর দিয়াতলভ ছিলেন একজন প্রতিভাবান রেডিও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী, যার আগে একাধিক কঠিন শীতকালীন অভিযানের অভিজ্ঞতা ছিল। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী, প্রকৌশল শিক্ষার্থী এবং এমনকি একজন সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিও, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের কারণেই তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন—কারণ এত অভিজ্ঞ একটি দল কোনো সাধারণ ভুল বা অসতর্কতার কারণে এভাবে মারা যাওয়ার কথা নয়। তাদের ডায়েরি ও ক্যামেরায় তোলা শেষ কিছু ছবি থেকে জানা যায়, ঘটনার আগ পর্যন্ত দলটি বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিল এবং কোনো ধরনের উদ্বেগ বা বিপদের পূর্বাভাস তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি।

কেন এই রহস্য আজও অমীমাংসিত
দিয়াতলভ পাস রহস্যের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর দিক হলো, কোনো একক তত্ত্বই সব প্রমাণকে একসাথে সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না। তুষারধস তত্ত্ব আঘাতের ব্যাখ্যা দিলেও পালিয়ে যাওয়ার আচরণ ব্যাখ্যা করে না; ইনফ্রাসাউন্ড তত্ত্ব আতঙ্কের ব্যাখ্যা দিলেও শারীরিক আঘাতের ব্যাখ্যা দেয় না। এই অসম্পূর্ণতাই দিয়াতলভ পাসকে করে তুলেছে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও ভয়ঙ্কর অমীমাংসিত রহস্য, যা আজও বিজ্ঞানী ও রহস্যপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়ে চলেছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
দিয়াতলভ পাসে ঠিক কতজন মারা গিয়েছিলেন?
মোট নয়জন হাইকার মারা যান। দশম সদস্য ইউরি ইউদিন অসুস্থতার কারণে অভিযানের শুরুতেই ফিরে এসেছিলেন এবং বেঁচে যান।
দিয়াতলভ পাস রহস্যের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা কী?
২০২০-২০২১ সালের গবেষণার পর রুশ কর্তৃপক্ষ একটি বিলম্বিত, ছোট আকারের তুষারধসকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে, যদিও এটি সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
তাঁবুটি কেন ভেতর থেকে কাটা হয়েছিল?
ধারণা করা হয়, হঠাৎ কোনো আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে (তুষারধস, শব্দ, বা অন্য কারণ) হাইকাররা দ্রুত বের হওয়ার জন্য বাইরের দরজা ব্যবহার না করে সরাসরি কাপড় কেটে বের হয়েছিলেন।
এই ঘটনা নিয়ে কোনো সিনেমা বা তথ্যচিত্র আছে কি?
হ্যাঁ, দিয়াতলভ পাস রহস্য নিয়ে একাধিক ডকুমেন্টারি এবং ২০১৩ সালে একটি হলিউড হরর সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।
আমাদের রহস্য সিরিজের অন্যান্য পর্বগুলোও পড়তে পারেন—পৃথিবীর ১০টি সবচেয়ে বড় রহস্য, অথবা ইয়েতি: হিমালয়ের তুষারমানবের রহস্য নিয়ে বিস্তারিত লেখা।
Comments are closed.