<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন, Author at ইতিবৃত্ত</title>
	<atom:link href="https://itibritto.com/author/shah_salahuddin/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://itibritto.com/author/shah_salahuddin/</link>
	<description>বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র</description>
	<lastBuildDate>Sat, 02 Jun 2018 08:46:51 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>
	<item>
		<title>ফ্রান্সিসকো পিজারো : ইনকা সভ্যতা ধ্বংসের শুরু যার হাতে</title>
		<link>https://itibritto.com/biography-of-francisco-pizarro/</link>
					<comments>https://itibritto.com/biography-of-francisco-pizarro/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 Mar 2018 11:00:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=5121</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="ফ্রান্সিসকো পিজারো" decoding="async" fetchpriority="high" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-1024x576.jpg 1024w" sizes="(max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div>
<p>ভাবুন তো যার জন্মপরিচয় নেই তাকে সমাজে কোন স্থানে অবস্থান করতে হয়! আমাদের সমাজ তাদের ঘৃণা ভরে দেখে তবে এই পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্ম হয়েছিল যারা পিতৃ মাতৃ বা বংশ নয় বরং নিজের পরিচয় নিজে সৃষ্টি করেছিলেন । তাদের মাঝ থেকে আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব তেমন একজন এর সাথে, যিনি একদিকে যেমন একটা সভ্যতা [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-of-francisco-pizarro/">ফ্রান্সিসকো পিজারো : ইনকা সভ্যতা ধ্বংসের শুরু যার হাতে</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="ফ্রান্সিসকো পিজারো" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div><p>ভাবুন তো যার জন্মপরিচয় নেই তাকে সমাজে কোন স্থানে অবস্থান করতে হয়! আমাদের সমাজ তাদের ঘৃণা ভরে দেখে তবে এই পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্ম হয়েছিল যারা পিতৃ মাতৃ বা বংশ নয় বরং নিজের পরিচয় নিজে সৃষ্টি করেছিলেন । তাদের মাঝ থেকে আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব তেমন একজন এর সাথে, যিনি একদিকে যেমন একটা সভ্যতা পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে ফেলার প্রধান কারিগর আবার অন্যদিকে স্প্যানিশদের জন্য সে একজন রাজ্য বিজেতা।</p>
<p>ফ্রান্সিসকো পিজারো গোঞ্জালেজ (১৪৭১-১৫৪১) একজন স্প্যানিশ রাজ্য বিজেতা ছিলেন, যিনি ইনকা সাম্রাজ্যে বিজয় অভিযান চালান এবং ইনকা সভ্যতা দখল করেন। তিনি ইনকা সাম্রাজ্যের সম্রাট <a href="https://itibritto.com/atahualpha/">আতাহুয়ালপাকে</a> বন্দি ও হত্যা করে ইনকা সাম্রাজ্যকে স্পেনের ভূমি বলে দাবি করেন।</p>
<figure id="attachment_5128" aria-describedby="caption-attachment-5128" style="width: 1125px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="size-full wp-image-5128" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ছবিতে-ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ.jpg" alt="ছবিতে ফ্রান্সিসকো পিজারো গোঞ্জালেজ" width="1125" height="1448" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ছবিতে-ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ.jpg 1125w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ছবিতে-ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ-233x300.jpg 233w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ছবিতে-ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ-768x989.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ছবিতে-ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ-796x1024.jpg 796w" sizes="(max-width: 1125px) 100vw, 1125px" /><figcaption id="caption-attachment-5128" class="wp-caption-text">ছবিতে ফ্রান্সিসকো পিজারো গোঞ্জালেজ<br />Source: Wikipedia</figcaption></figure>
<h4><span style="color: #008000;"><strong>প্রাথমিক জীবন</strong></span></h4>
<p>ফ্রান্সিসকো পিজারো স্পেনের ত্রুজিলোর ক্যাসেরেসে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমানে যা এক্সট্রিমাদুরা নামে পরিচিত। তিনি পদাতিক সেনাবাহিনীর কর্নেল গোঞ্জালো পিজারো (১৪৪৬-১৫২২) এবং ফ্রান্সিসকা গোঞ্জালেজ এর অবৈধ প্রণয়ের ফসল ছিলেন। অবৈধ হিসেবে জন্মানোর ফলে তার জন্ম সাল বা তারিখ ব্যাপারে তেমন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। তবে তা সম্ভবত ১৪৭০ থেকে ১৪৭৪ সালের মধ্যে হবে। একই কারণে ছোটবেলায় তার শিক্ষাদীক্ষার ব্যাপারেও কেউ যত্নবান ছিল না ফলে তিনি তার পিতার শুয়োরের পালের দেখভাল করতে করতে নিরক্ষর হয়ে বেড়ে উঠতে থাকেন।</p>
<p>তার পিতা পদাতিক বাহিনীর কর্নেল হিসেবে কর্দোবার অধীনে সেনাবাহিনীতে নোভেরা এবং ইটালিয়ান অভিযানে চাকুরী করতেন। তার মা তার জন্মের ও অনেক পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সংসার শুরু করেন। এবং সেখানে তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন যার নাম ছিল ফ্রান্সিসকো মার্টিন দ্য এলকান্তারা। পিজারোর এই বিপৈত্রিক ভাই তার সাথে পেরু জয়ের অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল।</p>
<p>১৫০৯ সালের ১০ নভেম্বর পিজারো এলোনসো দো ওজদার সাথে স্পেন থেকে উরাবা উপসাগরের পথে জীবনের প্রথম সমুদ্র অভিযানের পাল তোলেন। পূর্বে ওজদার উপনিবেশ স্থাপনে ব্যর্থ হওয়া অঞ্চলে এবার পিজারো আবারো নতুন করে আঘাত হানেন এবং তা দখল করেন।</p>
<figure id="attachment_5129" aria-describedby="caption-attachment-5129" style="width: 1432px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="size-full wp-image-5129" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ.jpg" alt="ফ্রান্সিসকো পিজারো গোঞ্জালেজ" width="1432" height="805" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ.jpg 1432w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/ফ্রান্সিসকো-পিজারো-গোঞ্জালেজ-1024x576.jpg 1024w" sizes="(max-width: 1432px) 100vw, 1432px" /><figcaption id="caption-attachment-5129" class="wp-caption-text">ফ্রান্সিসকো পিজারো গোঞ্জালেজ<br />Source: history.com</figcaption></figure>
<h4><span style="color: #008000;"><strong>কর্ম জীবন</strong></span></h4>
<p><strong>পানামা</strong></p>
<p>১৫১৩ সালে পিজারো ভাস্কো ন্যুনেজ দো বালবোয়ার সাথে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পেরিয়ে পানামার ইস্থমাসে পৌঁছান। কিছুদিন পরে পেদ্রো এরিয়াস দাভিলা ক্যাস্টিলা দো ওরোর নতুন গভর্নর নিযুক্ত হন এবং বালবোয়ার স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে পিজারো দাভিলার খুব ঘনিষ্ঠ লোক হয়ে ওঠেন এবং দাভিলা তাকে স্থানীয় লোকজন ও পশুদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করিয়ে নেওয়ার তদারকির দায়িত্ব দেন। দাভিলা যখন বালবোয়াকে সাজা দিতে চাইলেন তখন তিনি পিজারোকে তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। পিজারো নতুন গভর্নরের নির্দেশ মতো যার সাথে সে দেশে গিয়েছিলেন সেই বালবোয়াকে গ্রেপ্তার করে তার হাতে তুলে দেন। ১৫১৯ সালে বালবোয়াকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। দাভিলার প্রতি আনুগত্য দেখে দাভিলা তাকে পানামার মেয়রের দায়িত্ব দেন। তিনি ১৫১৯ সাল থেকে ১৫২৩ সাল পর্যন্ত পানামা সিটির মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।</p>
<p><strong>পেরু অভিযান</strong></p>
<p>পানামায় থাকা অবস্থায় লোকমুখে পেরুর ধনসম্পদ ও প্রাচুর্যের কথা পিজারোকে পেরুর দিকে টানতে থাকে। তিনি ১৫২৪ ও ১৫২৬ সালে পেরু অভিযান এবং ইনকা সভ্যতা দখল করার পরপর দুটি পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন। উভয়ই ব্যর্থ হয় স্থানীয় কোন্দল, খারাপ আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত রসদের অভাবে।</p>
<figure id="attachment_5130" aria-describedby="caption-attachment-5130" style="width: 800px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-5130" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পেরুর-ধনসম্পদ-লুট.jpg" alt="চিত্রঃ পেরুর ধনসম্পদ লুট " width="800" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পেরুর-ধনসম্পদ-লুট.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পেরুর-ধনসম্পদ-লুট-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পেরুর-ধনসম্পদ-লুট-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পেরুর-ধনসম্পদ-লুট-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><figcaption id="caption-attachment-5130" class="wp-caption-text">চিত্রঃ পেরুর ধনসম্পদ লুট<br />Source: tripsavvy.com</figcaption></figure>
<p>পানামার নব-নিযুক্ত গভর্নর পেদ্রো দো লস রিওস পিজারোকে ফিরে আসার নির্দেশ দেন কিন্তু পিজারো দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হতেই থাকেন। ১৫২৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি উত্তর পেরুতে পৌঁছেন এবং স্থানীয় জনগণের কাছে প্রচুর মূল্যবান ধনসম্পদের অস্তিত্বের টের পান। এই আবিষ্কার পিজারোকে অঞ্চলটি দখলে তৃতীয় অভিযানে অনুপ্রাণিত করে। এরপর তিনি পানামায় ফিরে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন কিন্তু গভর্নর তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। পিজারো তখন সরাসরি রাজা চার্লস-১ এর কাছে সরাসরি আবেদন করতে স্পেনে চলে আসেন। রাজা তাকে যে শুধু পেরু অভিযানের লাইসেন্স দেন তাই না বরং তাকে ইচ্ছেমত যেকোনো অঞ্চল দখলের অনুমতি দেন। এরপর পিজারো বন্ধু ও পরিবারবর্গ নিয়ে ১৫৩০ সালে নতুন অভিযানের উদ্দেশ্যে পানামা ত্যাগ করেন।</p>
<p>যখন তিনি পেরুর স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে কোণঠাসা হওয়ার উপক্রমে পড়েন তখন তিনি সেখানের প্রথম স্প্যানিশ অভিযানকারী সান মিগুয়েল দো পিউরার কাছে যান। পেরুর সম্রাট আথুয়ালপা তার অঞ্চলে নতুন স্প্যানিশ উপস্থিতি সহ্য করতে পারছিলেন না তাই তিনি প্রতিরোধ করছিলেন কিন্তু তিনি কাজামারকার যুদ্ধে পিজারোর কাছে বন্দি হন। পিজারো সম্রাটের মুক্তির বিনিময়ে এক ঘর স্বর্ণ মুক্তিপণ দাবী করেন। তিনি মুক্তিপণ আদায় করেন ঠিকই কিন্তু আথুয়ালপাকে মুক্ত না করে ১৫৩৩ সালের ২৬ জুলাই হত্যা করেন।</p>
<figure id="attachment_5131" aria-describedby="caption-attachment-5131" style="width: 1000px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-5131" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/পিজারোর-সামনে-বন্দি-আথুয়ালপা.jpg" alt="পিজারোর সামনে বন্দি আথুয়ালপা " width="1000" height="659" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/পিজারোর-সামনে-বন্দি-আথুয়ালপা.jpg 1000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/পিজারোর-সামনে-বন্দি-আথুয়ালপা-300x198.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/পিজারোর-সামনে-বন্দি-আথুয়ালপা-768x506.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1000px) 100vw, 1000px" /><figcaption id="caption-attachment-5131" class="wp-caption-text">পিজারোর সামনে বন্দি আথুয়ালপা<br />Source: tiempo26.com</figcaption></figure>
<p>একই বছর পিজারো ইনকার রাজধানী কাজকোতে প্রবেশ করেন এবং পেরু দখল সমাপ্ত করেন। ১৫৩৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি তার প্রকল্প বাস্তবায়নের স্মৃতি স্বরূপ লিমা শহরের গোড়াপত্তন করেন।</p>
<p><strong>দক্ষিণ আমেরিকা অভিযান</strong></p>
<p>১৫২৪ সালে পানামাতে থাকা অবস্থায়ই পিজারো হার্নান্দো দো লুক নামের একজন ধর্মযাজক ও দিয়েগো দো আলমার্গো নামের একজন সৈন্যের সাথে দক্ষিণে অভিযান ও দখলের ব্যাপারে আঁতাত করেন। পিজারো, আলমার্গো এবং লুক পরবর্তীতে যা দখল করবে তা নিজেদের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদী করেন। তাদের চুক্তি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে যেখানে পিজারো অভিযানের নেতৃত্বে থাকবে, আলমার্গো সৈন্য ও খাদ্য সরবরাহ করবে এবং লুক অর্থ ও রসদ সরবরাহের দায়িত্বে থাকবে।</p>
<p><strong>প্রথম অভিযান (১৫২৪)</strong></p>
<p>১৫২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম ৮০ জন সৈন্য ও ৪০ টি ঘোড়া নিয়ে পানামা থেকে পেরুর উদ্দেশ্যে পিজারো প্রথম অভিযান পরিচালনা করেন। সে অভিযানে জুয়ান দো সালসেদো ঝাণ্ডা বাহক, নিকোলাস দো রিবেরা কোষাধ্যক্ষ এবং কারভেলো পরিদর্শকের  দায়িত্ব পালন করেন।</p>
<p><strong>দ্বিতীয় অভিযান (১৫২৬)</strong></p>
<p>দুই বছর পরে পিজারো, আলমারগো এবং লুক পেদ্রারিয়াস দেভিলার অনুমতি নিয়ে তাদের দ্বিতীয় অভিযানের জন্য আবারও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেন কিন্তু গভর্নর দেভিলা পিজারোর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং পিজারোকে অনুমতি না দিয়ে নিজেই নিকারাগুয়া তে একটি  অভিযানের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। ইতোমধ্যে পেদ্রো দো লোস রিওস নামের নতুন গভর্নর দেভিলার স্থলাভিষিক্ত হন এবং তিনি পিজারোর এই অভিযানের অনুমতি প্রদান করেন।</p>
<h4><span style="color: #008000;"><strong>পিজারোর মৃত্যু</strong></span></h4>
<p>১৫৪১ সালের ২৬শে জুন দিয়েগো দো আলমারগো-২ “এল মোজো” এর ২০ জন ভারী অস্ত্রশস্ত্র বাহী একদল সমর্থক হঠাৎ করে লিমায় পিজারোর প্রাসাদে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে তাকে হত্যা করে এবং শহরে দ্বিতীয় আলমার্গোকে নতুন গভর্নর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বুরখোলদার এবং জনসনের মতে পিজারোকে অতর্কিত আক্রমণের সময় তার প্রাসাদে অনেক অতিথিই অবস্থান করছিল কিন্তু খুব কমই তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। যারা এসেছিল তাদের সংখ্যা মতান্তরে সাত থেকে পঁচিশ। পিজারো বাঁচার জন্য বেশ কিছুক্ষণ ধরে প্রাণপণে লড়াই করে তার দেহরক্ষী, সৎ ভাই মার্টিন দে আলকান্তারা সহ নিহত হন।</p>
<p>পিজারো নিজেই দুইজন আততায়ীকে হত্যা করে তৃতীয় জনকে যখন তলোয়ার দিয়ে আঘাত করতে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই গলায় ছুরিকাঘাত হয় এবং সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তারপর তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। ৭০ কিংবা অন্তত ৬২ বছর বয়সী পিজারো তার শরীরের ক্ষত দিয়ে বহমান রক্তধারা দিয়ে নিজহাতে মেঝেতে পবিত্র ক্রুশ চিহ্ন আঁকেন এবং জিসু খৃষ্টের স্মরণে কাঁদতে থাকেন। এরপর পিজারোর দেহাবশেষ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অনেকক্ষণ অযত্নে পড়ে থাকার পরে শেষমেশ তার মাথা এবং শরীর পৃথক করে গির্জার মেঝে নীচে পৃথক পৃথক বাক্সে সমাহিত করা হয়।</p>
<figure id="attachment_5132" aria-describedby="caption-attachment-5132" style="width: 1252px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-5132" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পিজারোর-কফিন.jpg" alt="চিত্রঃ পিজারোর কফিন" width="1252" height="835" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পিজারোর-কফিন.jpg 1252w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পিজারোর-কফিন-300x200.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পিজারোর-কফিন-768x512.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/03/চিত্রঃ-পিজারোর-কফিন-1024x683.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1252px) 100vw, 1252px" /><figcaption id="caption-attachment-5132" class="wp-caption-text">চিত্রঃ পিজারোর কফিন<br />Source: Wikipedia</figcaption></figure>
<p><span style="text-transform: initial;">এই ঘটনার খানিক বাদেই ফ্রান্সিসকো পিজারোর মৃত্যু হয় এবং নবীন আলমার্গো পেরুর সকল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।</span></p>
<p>১৮৯২ সালে কলাম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার বার্ষিকী পালনের সময় পিজারোর মরদেহ বিশ্বাস করে একটি কাচের কফিন প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে গির্জার পুনঃনির্মানের সময় খনন কার্যে গির্জার নিচে থেকে একটি বক্স উদ্ধার করা হয় যেখানে লেখা ছিল ‘এটি পিজারোর মস্তক, যে পেরু আবিষ্কার করেছিল’</p>
<h4><span style="color: #008000;"><strong>পিজারোর উত্তরাধিকারীরা</strong></span></h4>
<p>এন দো ত্রুজিলোকে বিয়ে করার পর তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছিল যার নাম ও ছিল ফ্রান্সিসকো, যে পালিয়ে তার এক আত্মিয়াকে বিয়ে করেছিল। পিজারোর মৃত্যুর পর ইনেস ইয়্যুপাঙ্কুই, আথুয়ালপার প্রিয় বোন যাকে পিজারো বিয়ে করেছিলেন আথুয়ালপাকে বন্দি করে তিনি আম্পুয়েরো নামক একজন স্প্যানিশ যোদ্ধাকে বিয়ে করে তার কন্যা সন্তান সহ স্পেন ত্যাগ করেন। আথুয়ালপার এক স্ত্রী ডোনা এনজেলিনার সাথে পিজারোর অবৈধ প্রনয়ে তার তৃতীয় এক পুত্রের জন্ম হয় সে স্পেনে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong><span style="text-transform: initial;">তথ্যসূত্রঃ</span></strong></p>
<p><span style="text-transform: initial;">১. </span><a href="https://www.biography.com/people/francisco-pizarro-9442295">https://www.biography.com/people/francisco-pizarro-9442295</a></p>
<p>২. www.history.com/topics/exploration/francisco-pizarro</p>
<p>৩. https://www.britannica.com/biography/Francisco-Pizarro</p>
<p>৪. https://www.allaboutexplorers.com/explorers/pizarro/</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-of-francisco-pizarro/">ফ্রান্সিসকো পিজারো : ইনকা সভ্যতা ধ্বংসের শুরু যার হাতে</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/biography-of-francisco-pizarro/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট:  ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা!</title>
		<link>https://itibritto.com/alexander-di-great/</link>
					<comments>https://itibritto.com/alexander-di-great/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 23 Feb 2018 12:17:56 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=4404</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1024" height="568" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great-300x166.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great-768x426.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" style="aspect-ratio: 1024/568;" /></div>
<p>দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডারের কথা জীবনে একবারও শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এই দিগ্বিজয়ীর জীবনের নানা ঘটনা পরিক্রমা নিয়ে আজকে আমাদের এই আয়োজন। আলেকজান্ডার যিনি “আলেকজান্ডার দি গ্রেট” হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৬ সাল থেকে ৩২৩ সাল পর্যন্ত মেসিডোনিয়ার রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্বের এ সময়ে তিনি গ্রিসকে একত্রিত করে করিন্থীয় লীগের পুনঃনির্মাণ [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/alexander-di-great/">দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট:  ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা!</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1024" height="568" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great-300x166.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Alexander-the-Great-768x426.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" style="aspect-ratio: 1024/568;" /></div><p><strong>দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডারের কথা জীবনে একবারও শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এই দিগ্বিজয়ীর জীবনের নানা ঘটনা পরিক্রমা নিয়ে আজকে আমাদের এই আয়োজন।</strong></p>
<p>আলেকজান্ডার যিনি <strong>“</strong><strong>আলেকজান্ডার</strong> <strong>দি</strong> <strong>গ্রেট</strong><strong>”</strong> হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৬ সাল থেকে ৩২৩ সাল পর্যন্ত মেসিডোনিয়ার রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্বের এ সময়ে তিনি গ্রিসকে একত্রিত করে করিন্থীয় লীগের পুনঃনির্মাণ করেন। পারস্য সাম্রাজ্য জয় করেন এবং পারস্য, ব্যাবিলন ও এশিয়া রাজত্ব করে এই অঞ্চলে মেসিডোনীয় উপনিবেশ স্থাপন করেন। টগবগে যুবক অবস্থায় মাত্র ৩২ বছর বয়সে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই গ্রিক বীর।</p>
<figure id="attachment_4405" aria-describedby="caption-attachment-4405" style="width: 500px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4405" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander.jpg" alt="আলেকজান্ডার দি গ্রেট" width="500" height="500" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander.jpg 500w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-300x300.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 500px) 100vw, 500px" /><figcaption id="caption-attachment-4405" class="wp-caption-text">Source: Telangana Today</figcaption></figure>
<h3><strong>প্রাথমিক জীবন</strong></h3>
<p>“আলেকজান্ডার দি গ্রেট” প্রাচীন গ্রিক মেসিডোনিয়ান রাজ্যের পেলা অঞ্চলে খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ সালের ২০ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। মেসিডোনের ফিলিপ-২ তার পিতা এবং নিওটোলেমাসের রাজকন্যা ও মেসিডোনের রানী অলিম্পিয়া তার মাতা ছিলেন। তরুণ রাজপুত্র আলেকজান্ডার এবং তার রাজকন্যা বোনেরা পেলার রাজকীয় আদালতের তত্বাবধানে বেড়ে উঠতে থাকেন।</p>
<figure id="attachment_4406" aria-describedby="caption-attachment-4406" style="width: 562px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4406" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/6c9a8270ca.jpg" alt="আলেকজান্ডার দি গ্রেট" width="562" height="388" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/6c9a8270ca.jpg 562w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/6c9a8270ca-300x207.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 562px) 100vw, 562px" /><figcaption id="caption-attachment-4406" class="wp-caption-text">মেসিডোনিয়ান রাজ্যের পেলা অঞ্চল Source: AwesomeStories</figcaption></figure>
<p>কোঁকড়ানো চুল ও কালো চোখের অধিকারী বাড়ন্ত আলেকজান্ডার তার বাবাকে এ সময় খুব কমই দেখেছিলেন কারণ বেশির ভাগ সময়ই ফিলিপ-২ কোন না কোন সৈন্য শিবির অথবা পরনারী প্রণয়ে জড়িয়ে ব্যস্ত থাকতেন। যদিও তার মা রানী অলিম্পিয়া আলেকজান্ডারকে মানুষ করতে শক্তিশালী এবং আদর্শ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবুও আলেকজান্ডার তার বাবার অনুপস্থিতি এবং পরকীয়া মনোভাবের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন।</p>
<p>আলেকজান্ডার তার আত্মীয়ের অভিভাবকত্বে এপিরাসের স্টার্ন লিওনিদাসের তত্বাবধানে তার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। আলেকজান্ডার গণিত, অশ্বারোহণ এবং তীরন্দাজের শিক্ষা দেওয়ার জন্য রাজা ফিলিপ শিক্ষক লিওনিদাসকে ঠিক করেন। কিন্তু কিশোর ছাত্র আলেকজান্ডার সামলাতে লিওনিদাসের খুব বেগ পেতে হত। এরপর আলেকজান্ডারের জন্য পরবর্তী শিক্ষক হিসেবে ঠিক করা হয় লাইসিম্যাকাসকে যিনি সবসময় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে কিশোর আলেকজান্ডারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। লাইসিম্যাকাস সর্বপ্রথম খেয়াল করেন যে, আলেকজান্ডার বিশেষ করে যোদ্ধা অ্যাকিলিসের চরিত্রের অভিনয়ে বেশ আনন্দিত হতেন ও মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতেন।</p>
<p>খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪৩ সালে রাজা ফিলিপ-২ পুত্র আলেকজান্ডারকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টোটলকে মেজিয়ার নিম্ফস মন্দিরে নিয়োগ দেন। প্রায় তিন বছরের প্রশিক্ষণে এরিস্টোটল আলেকজান্ডার ও তার কিছু কাছের বন্ধুকে দর্শন, কাব্য, নাট্য, বিজ্ঞান এবং রাজনীতি বিষয়ে শিক্ষা দান করেন। এরিস্টোটল লক্ষ করেন হোমারের ইলিয়াড আলেকজান্ডারকে একজন বীর যোদ্ধা হতে বেশ অনুপ্রাণিত করছে। আর এজন্যই এরিস্টোটল আলেকজান্ডারের জন্য একটি সংক্ষিপ্তাকারে গ্রন্থ তৈরি করে তাকে দেন যাতে তিনি সৈন্য শিবিরে গিয়েও তা পড়ে উদ্দীপনা লাভ করতে পারেন।</p>
<figure id="attachment_4407" aria-describedby="caption-attachment-4407" style="width: 610px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4407" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Aristotle-teaching.jpg" alt="আলেকজান্ডারের শিক্ষক এরিস্টোটল" width="610" height="471" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Aristotle-teaching.jpg 610w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Aristotle-teaching-300x232.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 610px) 100vw, 610px" /><figcaption id="caption-attachment-4407" class="wp-caption-text">চিত্র: আলেকজান্ডারের শিক্ষক এরিস্টোটল Source: ancient-origins.net</figcaption></figure>
<p>আলেকজান্ডার খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪০ সালেই মেজিয়াতে তার শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তার মাত্র এক বছর পরে কিশোর বয়সেই সেনাবাহিনীতে সৈন্য হিসেবে যোগদান করেন। তার প্রথম সামরিক অভিযান ছিল থ্রাসিয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৮ সালে আলেকজান্ডার একটি অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে এথেনিয়ান ও থেবান সৈন্যদের পরাজিত করে তার পিতাকে সাহায্য করেন।</p>
<p>এরপর ফিলিপ-২ একবার করিন্থীয় লীগে সমস্ত গ্রীক রাজ্য (স্পার্টা ছাড়া) একত্রিত করার জন্য তাঁর প্রচারাভিযান চালিয়ে সফল হয়েছিলেন এবং মূলত তারপর থেকে পিতা ও পুত্রের মধ্যে জোট ভেঙে যায়।</p>
<figure id="attachment_4408" aria-describedby="caption-attachment-4408" style="width: 301px" class="wp-caption alignleft"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4408" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/092680090e.jpg" alt="আলেকজান্ডারের পিতা ফিলিপ-২" width="301" height="392" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/092680090e.jpg 301w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/092680090e-230x300.jpg 230w" sizes="auto, (max-width: 301px) 100vw, 301px" /><figcaption id="caption-attachment-4408" class="wp-caption-text">চিত্রঃ আলেকজান্ডারের পিতা ফিলিপ-২ Source: AwesomeStories</figcaption></figure>
<p>রাজা ফিলিপ-২ কিছুদিন পর জেনারেল এটলাসের ভ্রাতুষ্পুত্রী ক্লিওপেট্রা ইরিদিয়েসকে বিয়ে করেন এবং আলেকজান্ডারের মা অলিম্পিয়াকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেন। আলেকজান্ডার ও তার মা রানী অলিম্পিয়াকে জোর করে মেসিডোনিয়া থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তারা মেসিডোনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে অলিম্পিয়ার বাবার বাড়ি এপিরাসে এসে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে আলেকজান্ডার এবং তার পিতার মধ্যবর্তী বিরোধ নিরসনের পূর্ব পর্যন্ত তারা এ অবস্থাতেই ছিলেন।</p>
<h3><strong>মেসিডোনিয়ার রাজা</strong></h3>
<p>খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৬ সালে মোলোসিয়ানের রাজার সাথে আলেকজান্ডারের বোনের বিয়ে হয় তার নামও ছিল আলেকজান্ডার। এই বিবাহ অনুষ্ঠানে পসানিয়া নামক মেসিডোনিয়ার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির হাতে রাজা ফিলিপ-২ খুন হন।</p>
<p>তার পিতার মৃত্যুর পর আলেকজান্ডার যেভাবেই হোক সিংহাসন ধরে রাখার পণ করেন যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তিনি দ্রুতই মেসিডোনিয়ার সেনাবাহিনীর সমর্থন লাভ করেন; বিশেষ করে তাকে সহায়তা করেন সেনাপতি এবং সৈন্যরা যারা ক্যারোনিয়ার যুদ্ধে আলেকজান্ডারের সাথে একসাথে যুদ্ধ করেছিল। এরপর সেনাপতি আলেকজান্ডারকে সামন্ত রাজা ঘোষণা করেন এবং সিংহাসনে আরো সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদেরকে হত্যা করার জন্য তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। নির্বাসিত রানী অলিম্পিয়াও এবার তার পুত্রের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তিনি ফিলিপের পরবর্তী স্ত্রী ক্লিওপেট্রার কন্যাকে হত্যা এবং ক্লিওপেট্রাকে প্ররোচিত করে আত্মহত্যা করিয়ে সিংহাসন উত্তরাধিকার শূন্য করে  নিজ পুত্রের সিংহাসন নিশ্চিত করেন।</p>
<p>মেসিডোনিয়ার সামন্ত রাজা হওয়া স্বত্বেও প্রথমে আলেকজান্ডার করিন্থীয় লিগের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ পাননি। বরং গ্রীসের দক্ষিণাঞ্চল গুলো ফিলিপের মৃত্যুতে উল্লাসিত হয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার জল্পনা কল্পনা করতে থাকে। কিন্তু এথেন্সের নিজস্ব এজেন্ডা ছিল এবং তা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ডেমোস্টেনেসের নেতৃত্বে রাষ্ট্র লীগের দায়িত্ব নেওয়ার চিন্তা করছিল।</p>
<p>তারা যখন স্বাধিকার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আলেকজান্ডার তখন দক্ষিণে তার সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং থেসালির রাজ্যগুলোকে নিগৃহীত করে নিজেকে করিন্থীয় লিগের নেতা হিসেবে জাহির করেন। পরবর্তী সময়ে লিগের সম্মিলিত সভায় সকল সদস্যই আলেকজান্ডারকে লিগের নেতা হিসেবে মেনে নেন।</p>
<h3><strong>অভিযান এবং বিজয়</strong></h3>
<p>আলেকজান্ডার তার উত্তর প্রচারাভিযানের শেষের দিকে গুজব প্রচার করেন যে, গ্রীক নগর-রাষ্ট্র থ্যাবস মেসিডোনিয়ার সৈন্যবাহিনীকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে সৈন্য ঘাঁটি স্থাপন করেছে। অন্যান্য নগর-রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্রোহের আশঙ্কা তৈরি করে এই অজুহাতে আলেকজান্ডার তার বিশাল সেনাবাহিনী (৩০০০ অশ্বারোহী এবং ৩০০০ পদাতিক) নিয়ে দক্ষিণে গ্রিক উপদ্বীপের ডগার দিকে এগিয়ে যান। এদিকে আলেকজান্ডারের জেনারেল ও পেমেনিয়ন ইতিমধ্যেই এশিয়া মাইনরে অভিযানের পথ তৈরি করেছেন।</p>
<p>আলেকজান্ডার এবং তার বাহিনী থ্যাবসে এত দ্রুত গতিতে এসে পৌঁছান যে এই নগর-রাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষার জন্য অন্যদের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার সুযোগও পায়নি। আক্রমণের তিন দিন পরে, আলেকজান্ডার থ্যাবসে ব্যাপক গণহত্যা চালান। থ্যাবসে চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড দ্বারা আলেকজান্ডার অন্যান্য বিদ্রোহী রাজ্যের প্রতি সতর্কবাণী নির্দেশ করেন। তার ভয়ঙ্কর কৌশল অব্যর্থ ভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয় এবং ফলে এথেন্স সহ অন্যান্য গ্রীক নগর-রাষ্ট্র সমূহ মেসিডোনিয়ান সাম্রাজ্যের সাথে মৈত্রী করে ও এর প্রতি নিরপেক্ষ থাকার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।</p>
<p>খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৪ সালে, আলেকজান্ডার তার এশিয়া অভিযান শুরু করেন এবং সে বছরের বসন্তে ট্রয়ে পৌঁছান। আলেকজান্ডার গ্রানিয়াস নদীর কাছাকাছি পৌঁছলে ফার্সি রাজা ড্যারিয়াস-৩ এর সেনাবাহিনীর সম্মুখীন হন এবং প্রায় অনায়াসেই ড্যারিয়া বাহিনীকে পরাজিত করেন। গ্রানিয়াস নদীর পার্শ্ববর্তী ড্যারিয়া বাহিনীকে পরাজিত করে আলেকজান্ডার এবং তার সেনাবাহিনী এশিয়া মাইনরের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে গর্ডিয়ামে যান। যেখানে তারা শীতকালীন বিশ্রামে থাকেন।</p>
<figure id="attachment_4409" aria-describedby="caption-attachment-4409" style="width: 659px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4409" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/902b2ff3f641a8808b1644d632376ef3.jpg" alt="আলেকজান্ডার দি গ্রেট" width="659" height="415" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/902b2ff3f641a8808b1644d632376ef3.jpg 659w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/902b2ff3f641a8808b1644d632376ef3-300x189.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 659px) 100vw, 659px" /><figcaption id="caption-attachment-4409" class="wp-caption-text">চিত্র: পারস্য আক্রমণ Source: bolshoyvopros.ru</figcaption></figure>
<p>খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৩ সালের গ্রীষ্মে আলেকজান্ডার ও ড্যারিয়াসের বাহিনীর আবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবার যদিও আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী ছিল সংখ্যালঘু তবু তিনি ড্যারিয়াসেরে সেনাবাহিনীকে আবারও পরাজিত করার জন্য নতুন সামরিক কৌশল প্রণয়ন করেন এবং ড্যারিয়াসকে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩৩ সালের নভেম্বরে ড্যারিয়াসকে পরাজিত ও পলাতক দেখিয়ে আলেকজান্ডার নিজেকে পারস্যের রাজা ঘোষণা করেন।</p>
<figure id="attachment_4410" aria-describedby="caption-attachment-4410" style="width: 854px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4410" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/darius_face.jpg" alt="ড্যারিয়াস" width="854" height="544" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/darius_face.jpg 854w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/darius_face-300x191.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/darius_face-768x489.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 854px) 100vw, 854px" /><figcaption id="caption-attachment-4410" class="wp-caption-text">চিত্র: ড্যারিয়াস Source: Livius.org</figcaption></figure>
<p>আলেকজান্ডার পরবর্তী লক্ষ ছিল মিশর জয় করা। মিশরের পথে গাজা আক্রমণ করে আলেকজান্ডার সহজেই বিজয় লাভ করেন। এবং একই ভাবে মিশরও প্রতিরোধ ছাড়াই পতিত হয়। সেখানে তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩১ সালে গ্রিক সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়ার শহর প্রতিষ্ঠিত করেন। এভাবেই আলেকজান্ডার “ব্যাবিলন ও এশিয়া সহ বিশ্বের প্রায় এক চতুর্থাংশের শাসক” হন।</p>
<figure id="attachment_4411" aria-describedby="caption-attachment-4411" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-large wp-image-4411" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-empire-1024x489.jpg" alt="মেসিডোনিয়ান সাম্রাজ্যের মানচিত্র" width="1024" height="489" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-empire-1024x489.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-empire-300x143.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-empire-768x367.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-empire.jpg 1431w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-4411" class="wp-caption-text">চিত্র: মেসিডোনিয়ান সাম্রাজ্যের মানচিত্র Source:Livius.org</figcaption></figure>
<p>আলেকজান্ডার পরবর্তীতে খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭ সালে পূর্ব ইরানের অ্যারাইমাজের দুর্গ দখল করে মেসিডোনিয়ান উপনিবেশ তৈরি করেন। সেখানে প্রিন্স অক্সাইর্টসকে বন্দী করার পর আলেকজান্ডার তার কন্যা রোক্সানাকে বিয়ে করেন।</p>
<p>খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৮ সালে আলেকজান্ডার উত্তর ভারতে রাজা পোরাসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। তার প্রতি পোরাসের আনুগত্য দেখে আলেকজান্ডার তাকে ক্ষমা করেন ও রাজা হিসাবে পুনর্বহাল করেন। আলেকজান্ডারের  সেনাবাহিনী গঙ্গার পূর্বদিকে পৌঁছে আর সামনে এগোনোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সিন্ধু বরাবর ফিরে আসার পথে আলেকজান্ডার মালি যোদ্ধাদের দ্বারা আহত হন।</p>
<figure id="attachment_4412" aria-describedby="caption-attachment-4412" style="width: 879px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4412" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-in-battle.jpg" alt="আলেকজান্ডার দি গ্রেট" width="879" height="627" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-in-battle.jpg 879w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-in-battle-300x214.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-in-battle-768x548.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 879px) 100vw, 879px" /><figcaption id="caption-attachment-4412" class="wp-caption-text">চিত্র: পোরাসের বাহিনীর পরাজয় Source: history.com</figcaption></figure>
<h3><strong>আলেকজান্ডার দি গ্রেট এর মৃত্যু</strong></h3>
<p>১৩ই জুন, খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে আলেকজান্ডার যখন ব্যাবিলনে (বর্তমান ইরাকে) কার্থেজ এবং রোমের বিজয়ের কথা ভাবছিলেন সে সময় হঠাৎ করে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩২ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর মাত্র কয়েকমাস পরেই স্ত্রী রোক্সানার কোল জুড়ে তার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।</p>
<figure id="attachment_4413" aria-describedby="caption-attachment-4413" style="width: 736px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4413" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-statue.jpg" alt="মেসিডোনিয়ায় আলেকজান্ডারের ভাস্কর্য" width="736" height="552" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-statue.jpg 736w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-statue-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/alexander-statue-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 736px) 100vw, 736px" /><figcaption id="caption-attachment-4413" class="wp-caption-text">চিত্র: মেসিডোনিয়ায় আলেকজান্ডারের ভাস্কর্য</figcaption></figure>
<p>আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার সাম্রাজ্য সম্রাট শূন্য হয়ে ধ্বসে পড়ে এবং অন্তর্ভুক্ত জাতিসমূহ একে অন্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এভাবে কালের পরিক্রমায় গ্রীস এবং প্রাচ্যের সমন্বয়ে গঠিত আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য বাস্তবতা ছেড়ে উঠে আসে ইতিহাসের পাতা জুড়ে।</p>
<h4></h4>
<h4>Sources:</h4>
<ol>
<li><a href="https://www.biography.com/people/alexander-the-great-9180468">https://www.biography.com/people/alexander-the-great-9180468</a></li>
<li><a href="http://www.bbc.co.uk/history/historic_figures/alexander_the_great.shtml">http://www.bbc.co.uk/history/historic_figures/alexander_the_great.shtml</a></li>
<li><a href="http://www.history.com/topics/ancient-history/alexander-the-great">http://www.history.com/topics/ancient-history/alexander-the-great</a></li>
<li><a href="https://www.britannica.com/biography/Alexander-the-Great">https://www.britannica.com/biography/Alexander-the-Great</a></li>
<li><a href="http://www.historyofmacedonia.org/AncientMacedonia/AlexandertheGreat.html">http://www.historyofmacedonia.org/AncientMacedonia/AlexandertheGreat.html</a></li>
</ol>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/alexander-di-great/">দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট:  ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা!</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/alexander-di-great/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইতিহাস থেকে বাইবেলে &#8211; সাইরাস দ্য গ্রেট</title>
		<link>https://itibritto.com/biography-of-cyrus-the-great/</link>
					<comments>https://itibritto.com/biography-of-cyrus-the-great/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 11 Feb 2018 12:23:58 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=4226</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="720" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/720;" /></div>
<p>বাইবেল সম্বন্ধে যাদের জানাশোনা আছে তাদের কাছে সাইরাস একটি সুপরিচিত নাম। তবে তার ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা বাইবেলে পাওয়া যায়না। তাই আজকের আয়োজনে আপনাদের জানাব সেই বিখ্যাত সাইরাস দ্য গ্রেটের জীবনী যিনি মেধা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার মাধ্যমে ইতিহাস থেকে স্থান করে নিয়েছিলেন বাইবেলে। সাইরাস দ্য গ্রেট যিনি সাইরাস–২ নামেও পরিচিত। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯০-৫৮০ সালে মেডিয়া বা পার্সিয়ায় [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-of-cyrus-the-great/">ইতিহাস থেকে বাইবেলে &#8211; সাইরাস দ্য গ্রেট</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="720" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/16_Seminar-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/720;" /></div><p>বাইবেল সম্বন্ধে যাদের জানাশোনা আছে তাদের কাছে সাইরাস একটি সুপরিচিত নাম। তবে তার ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা বাইবেলে পাওয়া যায়না। তাই আজকের আয়োজনে আপনাদের জানাব সেই বিখ্যাত সাইরাস দ্য গ্রেটের জীবনী যিনি মেধা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার মাধ্যমে ইতিহাস থেকে স্থান করে নিয়েছিলেন বাইবেলে।</p>
<p>সাইরাস দ্য গ্রেট যিনি সাইরাস–২ নামেও পরিচিত। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯০-৫৮০ সালে মেডিয়া বা পার্সিয়ায় (বর্তমানে ইরান) জন্মগ্রহণ করেন এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৯ সালে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি একজন রাজ্য বিজেতা এবং আকেমেনিয়া সাম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। তার সাম্রাজ্য একদিকে মধ্য পারস্য থেকে নিকট প্রাচ্য এবং অন্যদিকে পূর্বে এজিয়ান সাগর থেকে ইন্দু নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।</p>
<figure id="attachment_4229" aria-describedby="caption-attachment-4229" style="width: 708px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4229" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/সাইরাস-দ্য-গ্রেট.png" alt="সাইরাস দ্য গ্রেট" width="708" height="886" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/সাইরাস-দ্য-গ্রেট.png 708w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/সাইরাস-দ্য-গ্রেট-240x300.png 240w" sizes="auto, (max-width: 708px) 100vw, 708px" /><figcaption id="caption-attachment-4229" class="wp-caption-text">সাইরাস দ্য গ্রেট<br />Source: Pinterest</figcaption></figure>
<p>তাকে পারস্যে সাইরাসদের কিংবদন্তী হিসেবেও স্মরণ করা হয়। গ্রীক সৈন্য ও লেখক জেনোফোনের সাইরোপেডিয়াতে সর্ব প্রথম সাইরাস দ্য গ্রেটের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তিনি সাইরাস দ্য গ্রেট কে একজন আদর্শ শাসক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনা থেকে আরও জানা যায় যে, প্রাচীন পারস্যের সাধারণ জনগণ তাকে পিতৃতুল্য সম্মান করতেন। খ্রিষ্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে ব্যাবিলনে বন্দি খ্রিষ্টানদের মুক্ত কারী হিসেবে সাইরাস দ্য গ্রেটের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা আছে।</p>
<figure id="attachment_4230" aria-describedby="caption-attachment-4230" style="width: 813px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4230" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আকেমেনিয়-সাম্রাজ্যের-বিস্তৃতি.png" alt="আকেমেনিয় সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি" width="813" height="358" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আকেমেনিয়-সাম্রাজ্যের-বিস্তৃতি.png 813w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আকেমেনিয়-সাম্রাজ্যের-বিস্তৃতি-300x132.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আকেমেনিয়-সাম্রাজ্যের-বিস্তৃতি-768x338.png 768w" sizes="auto, (max-width: 813px) 100vw, 813px" /><figcaption id="caption-attachment-4230" class="wp-caption-text">আকেমেনিয় সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি<br />Source: Awal dan Kisah Sejarah</figcaption></figure>
<h4><strong>জীবন এবং কিংবদন্ত</strong></h4>
<p>সাইরাস দ্য গ্রেট খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯০ অথবা ৫৮০ অব্দে হয় মেডিয়া অথবা পারসিসে জন্মগ্রহণ করেন যা বর্তমানে ইরানের ফার্স প্রদেশে অবস্থিত। তার নামের ব্যাপারে একটি মতানৈক্য রয়েছে। অনেকের মতে সাইরাস তার জন্মগত নাম আবার অনেক ইতিহাসবেত্তা মনে করেন এটি তার আসল নাম নয় বরং তিনি শাসক হওয়ার পরে তাকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তবে এটি সত্য যে আকেমেনিয়া সাম্রাজ্যের পতনের পর এই নাম আর ইরান সম্বন্ধীয় অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়নি।</p>
<figure id="attachment_4231" aria-describedby="caption-attachment-4231" style="width: 1200px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4231" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/প্রাচীন-লিপিতে-লিখিত-“আমি-সম্রাট-সাইরাস”.jpg" alt="প্রাচীন লিপিতে লিখিত “আমি সম্রাট সাইরাস”" width="1200" height="647" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/প্রাচীন-লিপিতে-লিখিত-“আমি-সম্রাট-সাইরাস”.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/প্রাচীন-লিপিতে-লিখিত-“আমি-সম্রাট-সাইরাস”-300x162.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/প্রাচীন-লিপিতে-লিখিত-“আমি-সম্রাট-সাইরাস”-768x414.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/প্রাচীন-লিপিতে-লিখিত-“আমি-সম্রাট-সাইরাস”-1024x552.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" /><figcaption id="caption-attachment-4231" class="wp-caption-text">প্রাচীন লিপিতে লিখিত “আমি সম্রাট সাইরাস”<br />Source: Wikipedija</figcaption></figure>
<p>একটি ব্যাপারে অনেক ইতিহাসবেত্তা ই একমত যে সাইরাসের নাম পারস্যে আগেও একজন শাসক ছিলেন। তবে এই ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই যে সাইরাস দ্য গ্রেট একটি সম্ভ্রান্ত শাসক গোষ্ঠী থেকে এসেছিলেন।</p>
<p>তার জীবনের সবচে উল্লেখযোগ্য তথ্য গুলো পাওয়া যায় বিখ্যাত গ্রীক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসের কাছ থেকে। বিভিন্ন প্রাচীন শাসকদের জীবনী নিয়ে জেনোফোনের (গ্রীক ইতিহাসবিদ ও সেনাপতি) লেখনীর মাধ্যমেও সাইরাস দ্য গ্রেটের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। হেরোডোটাস জানান যে, পারস্যের লোকেরা সাইরাসকে তাদের পিতা হিসেবে মান্য করত কিন্তু পরবর্তী আকেমেনিয় শাসকরা তার ধারা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়।</p>
<p>সাইরাসের শৈশবের বর্ণনা দিতে গিয়ে হেরোডোটাস এবং জেনোফোন প্রায় একই ধরণের তথ্য দেন। তাদের মতে জন্ম থেকেই সাইরাস অন্য দশ জন সাধারণ শিশুর থেকে অনেক আলাদা ধরনের ছিলেন তাই রাজ্যের সাধারণ মানুষ তাকে নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন দেবশিশু বলে মনে করত।</p>
<p>কথিত আছে পারস্যের জমিদার ও মেডাসের রাজা আস্তাগেস তার কন্যাকে পার্সিসে স্যাম্বিসেস নামে তার একজন সামন্তের সাথে বিয়ে দেন এবং তাদের ঘরে জন্ম নেন সাইরাস। আস্তাগেজ একদিন স্বপ্নে দেখেন তার কন্যার ঘরে জন্ম নেওয়া ছোট বালকটি একদিন বড় হয়ে তাকে রাজ্যচ্যুত করছে। এই স্বপ্ন দেখে তিনি খুব ভীত হন এবং সাইরাসকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।</p>
<figure id="attachment_4232" aria-describedby="caption-attachment-4232" style="width: 950px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4232" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আস্তাগেস-কর্তৃক-শিশু-সাইরাসকে-হত্যার-নির্দেশ.jpg" alt="আস্তাগেস কর্তৃক শিশু সাইরাসকে হত্যার নির্দেশ" width="950" height="805" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আস্তাগেস-কর্তৃক-শিশু-সাইরাসকে-হত্যার-নির্দেশ.jpg 950w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আস্তাগেস-কর্তৃক-শিশু-সাইরাসকে-হত্যার-নির্দেশ-300x254.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/আস্তাগেস-কর্তৃক-শিশু-সাইরাসকে-হত্যার-নির্দেশ-768x651.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 950px) 100vw, 950px" /><figcaption id="caption-attachment-4232" class="wp-caption-text">আস্তাগেস কর্তৃক শিশু সাইরাসকে হত্যার নির্দেশ<br />Source: Howling Pixel</figcaption></figure>
<p>তার হুকুম প্রাপ্ত জল্লাদ বালকটির দিকে তাকিয়ে তার প্রতি খুব মায়া অনুভব করেন এবং তাকে হত্যা করার পরিবর্তে একটি মেষ পালকের নিকট দিয়ে দেন। দশ বছর বয়সে সাইরাসের বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে পড়তে এক সময় আস্তাগেসের কানেও পৌঁছে যায় এবং তিনি তার দুঃস্বপ্নের কথা ভুলে সাইরাসকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেন। পার্সিসে কিশোর সাইরাস নির্ঝঞ্ঝাটে আস্তে আস্তে বেড়ে উঠতে থাকে। সাইরাস যখন যৌবন প্রাপ্ত হন তখন তিনি তার অত্যাচারী জমিদার নানার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। আস্তাগেসের বাহিনী সাইরাসকে রুখার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫০ সালে সাইরাসের কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়।</p>
<figure id="attachment_4233" aria-describedby="caption-attachment-4233" style="width: 1156px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4233" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/অলৌকিক-ক্ষমতা-সম্পন্ন-কিশোর-সাইরাস.png" alt="" width="1156" height="686" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/অলৌকিক-ক্ষমতা-সম্পন্ন-কিশোর-সাইরাস.png 1156w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/অলৌকিক-ক্ষমতা-সম্পন্ন-কিশোর-সাইরাস-300x178.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/অলৌকিক-ক্ষমতা-সম্পন্ন-কিশোর-সাইরাস-768x456.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/অলৌকিক-ক্ষমতা-সম্পন্ন-কিশোর-সাইরাস-1024x608.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1156px) 100vw, 1156px" /><figcaption id="caption-attachment-4233" class="wp-caption-text">অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন কিশোর সাইরাসঅলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন কিশোর সাইরাস<br />Source: Wikiyours</figcaption></figure>
<p><strong>সাইরাসের বিজয়</strong></p>
<p>মেডাসে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর প্রথমেই সাইরাস ইরানের বিভিন্ন গোত্রকে একত্রিত করে তার শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং তারপর পশ্চিমের দিকে ধাবিত হতে থাকেন। আস্তাগেসের পতনের পর তার নাতি সাইরাসের সিংহাসন আরোহণ এবং লিডিয়ার দিকে তার অগ্রসরের সংবাদ শুনে এশিয়া মাইনর অঞ্চলের লিডিয়ার রাজা ক্রোয়েসাস মেডাসকে কর দেয়া বন্ধ করে নিজের রাজ্য বিস্তৃতি শুরু করেন। এ ঘটনায় সাইরাস ক্ষুব্ধ হয়ে লিডিয়া আক্রমণ করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৭ অথবা ৫৪৬ সালে লিডিয়ার রাজধানী সারদিসের পতন হয় এবং ক্রোয়েসাস কে হয় হত্যা নতুবা তিনি আগুনে আত্মাহুতি দেন। যদিও অন্য কিছু উৎস থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে তাকে সাইরাস যুদ্ধবন্দি করেছিলেন এবং তার সাথে বেশ ভালো ব্যবহার করেছিলেন।</p>
<figure id="attachment_4234" aria-describedby="caption-attachment-4234" style="width: 1280px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4234" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1280px-kroisos_stake_louvre_g197.jpg" alt="ক্রোয়েসাস ও সাইরাস" width="1280" height="1068" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1280px-kroisos_stake_louvre_g197.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1280px-kroisos_stake_louvre_g197-300x250.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1280px-kroisos_stake_louvre_g197-768x641.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1280px-kroisos_stake_louvre_g197-1024x854.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" /><figcaption id="caption-attachment-4234" class="wp-caption-text">ক্রোয়েসাস ও সাইরাস<br />Source: bainite &#8211; WordPress.com</figcaption></figure>
<p>লিডিয়ার রাজার অধীনস্থ এজিয়ান সমুদ্র উপকূল অঞ্চলের শহর গুলোর সামন্তরা ক্রোয়েসাসের পরাজয়ের পর সাইরাসের অধীনস্থ হয়। তারা কেউই প্রথমে সাইরাসের শাসনকে মেনে নিতে রাজি হননি কিন্তু তাদের সকল বিদ্রোহকে সাইরাস কঠোর হস্তে দমন করে অধীনস্থ করেন। এরপর সাইরাস ব্যাবিলনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। সেখানকার শাসক নাবোনিদাসকে নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তুষ্টি আছে এমন অজুহাতে তিনি নিম্নাঞ্চল আক্রমণ করেন। তিনি এখানে খুব দ্রুত সাফল্য লাভ করেন এবং ব্যাবিলনকে তার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত করেন। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার নগর ব্যাবিলন  খ্রিষ্টপূর্ব ৫৩৯ সালে পারস্যের অধিভুক্ত হয়।</p>
<p>ব্যবিলনে বন্দী ইহুদীদের মুক্ত এবং তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেয়ার জন্য বাইবেলে সাইরাসের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ রয়েছে। সাইরাস ব্যবিলনীয় ও অন্যান্যদের ব্যাপারেও বেশ সহনশীল ছিলেন। তিনি স্থানীয় প্রচলিত প্রথার সমর্থন এবং স্থানীয় দেবদেবীদেরকে সম্মান করার মাধ্যমে দ্রুত স্থানীয় জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেন।</p>
<figure id="attachment_4235" aria-describedby="caption-attachment-4235" style="width: 507px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-4235 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/ইহুদীদের-মুক্তিদানের-জন্য-তিনি-বাইবেলেও-স্মরণীয়-হয়ে-আছেন.jpg" alt="ইহুদীদের মুক্তিদানের জন্য তিনি বাইবেলেও স্মরণীয় হয়ে আছেন" width="507" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/ইহুদীদের-মুক্তিদানের-জন্য-তিনি-বাইবেলেও-স্মরণীয়-হয়ে-আছেন.jpg 507w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/ইহুদীদের-মুক্তিদানের-জন্য-তিনি-বাইবেলেও-স্মরণীয়-হয়ে-আছেন-254x300.jpg 254w" sizes="auto, (max-width: 507px) 100vw, 507px" /><figcaption id="caption-attachment-4235" class="wp-caption-text">ইহুদীদের মুক্তিদানের জন্য তিনি বাইবেলেও স্মরণীয় হয়ে আছেন Source: LiveInternet</figcaption></figure>
<p>ব্যবিলন বিজয় সাইরাসের হাতে শুধুমাত্র যে মেসোপটেমিয়াকে এনে দিয়েছিল তা নয় বরং পূর্বে ব্যাবিলনের দখল করা সিরিয়া এবং প্যালেস্টাইন ও সাইরাসের অধীনে চলে আসে। পরবর্তীতে আবার ক্রোয়েসাস আক্রমণের সময় সিলিসিয়ার শাসক সাইরাসের মিত্র হন এবং পরবর্তীতে তিনি সাইরাসের সাম্রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। দক্ষ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কূটনৈতিক দক্ষতা সাইরাসকে সমসাময়িক সময়ে সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য গঠনে বিশেষভাবে সহায়তা করেছিল।</p>
<p>সাইরাস একই সাথে একাধিক রাজধানীর মাধ্যমে তার সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। একটি ছিল একবাতানা শহরে, বর্তমানে যা হামাদান এবং পূর্বে তা মেডাসের রাজধানী ছিল। এবং অন্যটি ছিল তার সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানী পাসারগাদ যার অবস্থান ছিল পারস্যে। কথিত আছে এই স্থানে সাইরাস তার নানা আস্তাগেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হন এবং তার সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয় এখান থেকে তাই এই স্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি এখানে রাজধানী স্থাপন করেন। এছাড়াও সাইরাস শীতকালীন রাজধানী হিসেবে ব্যাবিলনকে ব্যবহার করতেন।</p>
<figure id="attachment_4236" aria-describedby="caption-attachment-4236" style="width: 1431px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4236" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/জেরুজালেমে-সাইরাস-স্ট্রিট.jpg" alt="জেরুজালেমে সাইরাস স্ট্রিট" width="1431" height="1073" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/জেরুজালেমে-সাইরাস-স্ট্রিট.jpg 1431w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/জেরুজালেমে-সাইরাস-স্ট্রিট-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/জেরুজালেমে-সাইরাস-স্ট্রিট-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/জেরুজালেমে-সাইরাস-স্ট্রিট-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/জেরুজালেমে-সাইরাস-স্ট্রিট-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1431px) 100vw, 1431px" /><figcaption id="caption-attachment-4236" class="wp-caption-text">Source: Howling Pixel<br />জেরুজালেমে সাইরাস স্ট্রিট</figcaption></figure>
<p>পারস্য এবং মেডাসের মানুষজনদের মধ্যে সাইরাস আচরণগত পার্থক্য লক্ষ করেন। তিনি দেখেন পারস্যের বিভিন্ন গোত্র প্রায় বিনা বাধায় তার কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছে। তাদের মাঝে কোন উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনা নেই। তাই তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করার জন্য মেডাসকে শুধু পারস্যের সাথে একীভূতই করেননি বরং তিনি এই দুই জাতির মানুষের জন্য দ্বৈত রাজতন্ত্র চালু করেন। সাইরাস মেডাসবাসীদের কাছ থেকে শাসক হবার শিক্ষা লাভ করেন যারা সবসময় শাসন করত এবং পারস্যবাসীদের কাছে সহনশীল হওয়ার শিক্ষা লাভ করেন যারা তাদের সামন্ত হিসেবে কাজ করত।</p>
<h4><strong>সাইরাসের কৃতিত্ব ও শেষ জীবন</strong></h4>
<p>এটি আকেমেরিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার সামর্থ্যের একটি সাক্ষ্য যে এটি তার মৃত্যুর পরেও সাম্রাজ্য প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং তা প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চলে। সাইরাস শুধু একজন মহান বিজয়ী এবং প্রশাসকই ছিলেন না; তিনি ইসরায়েলীদের জন্য রোম বা মুসা রোমুলাস এবং রেমাসের মত ফার্সি মানুষের মনেও স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রাচীন বিশ্বের যোদ্ধা ও বিজয়ীদের মধ্যে তার কাহিনী কিংবদন্ত ছিল এবং তারা সাইরাসের জীবনী অনুসরণ করতেন।</p>
<figure id="attachment_4237" aria-describedby="caption-attachment-4237" style="width: 1200px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4237" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1200px-CyrustheGreatTomb_22057.jpg" alt="সাইরাসের সমাধি" width="1200" height="900" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1200px-CyrustheGreatTomb_22057.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1200px-CyrustheGreatTomb_22057-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1200px-CyrustheGreatTomb_22057-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1200px-CyrustheGreatTomb_22057-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/1200px-CyrustheGreatTomb_22057-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" /><figcaption id="caption-attachment-4237" class="wp-caption-text">সাইরাসের সমাধি<br />Source: Wikipedia</figcaption></figure>
<p>যেভাবে বাচ্চা সাইরাসকে মেষপালকের কাছে দেওয়া হয়েছিল সেটি মিশরের মুসার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তার অত্যাচারী নানার উৎখাত অন্যান্য কল্পবিজ্ঞান ও কিংবদন্তিগুলির মধ্যে পাওয়া যায়। কোন সন্দেহ নেই যে, প্রথমে পারস্যে সাইরাসের কাহিনী শুরু হয়েছিল এবং এটি গ্রীকদের কাছেও সুপরিচিত ছিল। সাইরাসের মৃত্যু কাহিনী নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তার স্ত্রী টোমিরাস ইহুদী বন্দিত্বের ৬০ তম বছরে খ্রিষ্টপূর্ব ৫৩০ সালের ৪ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করেন।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/biography-of-cyrus-the-great/">ইতিহাস থেকে বাইবেলে &#8211; সাইরাস দ্য গ্রেট</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/biography-of-cyrus-the-great/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অপরাজেয় আততায়ী আতিলা</title>
		<link>https://itibritto.com/attila-the-hun/</link>
					<comments>https://itibritto.com/attila-the-hun/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 03 Feb 2018 11:38:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=4089</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="720" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="আতিলা" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/720;" /></div>
<p>“আতিলা দ্য হান” ( রাজত্বকাল ৪৩৪-৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) হান নামক পরিচিত যাযাবর গোষ্ঠীর নেতা এবং তার নিজের প্রতিষ্ঠিত হানিক সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন। আতিলার নামের অর্থ দাঁড়ায় “ছোট বাবা” এবং কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে এটি তার জন্মগত নাম নয় বরং তাকে সম্মান প্রদর্শন করে এই নামে ডাকা হতো। তার শত্রু ও যেসকল এলাকা তিনি দখল করেছিলেন সেখানকার [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/attila-the-hun/">অপরাজেয় আততায়ী আতিলা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="720" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="আতিলা" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/527c73f9992df10b8c6c905a-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/720;" /></div><p><strong>“আতিলা দ্য হান”</strong> ( রাজত্বকাল ৪৩৪-৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) হান নামক পরিচিত যাযাবর গোষ্ঠীর নেতা এবং তার নিজের প্রতিষ্ঠিত হানিক সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন। আতিলার নামের অর্থ দাঁড়ায় <strong>“ছোট বাবা”</strong> এবং কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে এটি তার জন্মগত নাম নয় বরং তাকে সম্মান প্রদর্শন করে এই নামে ডাকা হতো। তার শত্রু ও যেসকল এলাকা তিনি দখল করেছিলেন সেখানকার সাধারণ মানুষের কাছে আতিলা একটি বিভীষিকার নাম ছিল।</p>
<p>আতিলার জার্মানি আক্রমণের ফলে সেখানকার ব্যাপক জনসাধারণ সীমানা পেরিয়ে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যে প্রবেশ করে এবং তারা ৫ম শতকে রোমান সাম্রাজ্যের পতনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ভিসিগোথদের ব্যাপক পরিমাণে সীমানা অতিক্রম বিশেষ করে পরবর্তীতে রোমের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহের ঘটনাকে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পেছনে মূল কারণ বলে মনে করা হয়।</p>
<p>৩৭৮ খ্রিষ্টাব্দে আদ্রিয়ানো পোলের যুদ্ধে ভিসিগোথদের কাছে রোমানদের এমন পরাজয় হয়েছিল যে এরপরে রোমান সেনাবাহিনী আর কখনো সংঘবদ্ধ হয়ে উঠতে পারেনি। এ ঘটনা হান এবং ভিসিগোথ জনগোষ্ঠীকে একত্র হয়ে রোমান সাম্রাজ্য অপহরণে অনুপ্রাণিত করে। রোমানদের এই ভগ্নাবস্থার সুযোগ নিয়ে আতিলা হানদের নেতা হবার পর পরই কোনোরকম হিসাব নিকাশ ছাড়াই ৪৩৯ খ্রিষ্টাব্দে রোমানদের সাথে করা চুক্তি (মার্গাসের চুক্তি) ভঙ্গ করে রোমানদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালান। আতিলার হাতে একের পর এক রোমান শহর, নগর ধ্বংসের ঘটনায় এটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে রোমান সেনাবাহিনী আগের মত সেই জৌলুসপূর্ন পরাক্রমশীল বাহিনী ছিল না।</p>
<figure id="attachment_4093" aria-describedby="caption-attachment-4093" style="width: 635px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4093" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/3078.jpg" alt="আতিলা দ্য হান" width="635" height="750" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/3078.jpg 635w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/3078-254x300.jpg 254w" sizes="auto, (max-width: 635px) 100vw, 635px" /><figcaption id="caption-attachment-4093" class="wp-caption-text">আতিলা দ্য হান<br />Source: Ancient History Encyclopedia</figcaption></figure>
<h4><strong>প্রাথমিক জীবন ও ক্ষমতায় আরোহণ</strong></h4>
<p>আতিলার জন্ম এবং মৃত্যুর স্থান সম্পর্কে বিশদ তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার জন্ম এবং জন্মস্থান সম্বন্ধে ইতিহাসে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। যদিও এখন কোথাও কোথাও তার মায়ের নাম হাঙ্গুসাং ভ্লাদিসার্ফ বলা হয়ে থাকে কিন্তু আসলে তা অজানা এবং এমনকি আতিলার প্রকৃত নামও জানা যায়নি এখন পর্যন্ত। তার বাবার নাম ছিল মান্দযুক এবং তার চাচা রুগিলা (রুয়া বা রুগা নামেও পরিচিত) হানদের রাজা ছিলেন।</p>
<p>ছোটবেলাতেই আতিলা এবং তার বড় ভাই ব্লেদা (বুদা নামেও পরিচিত) খুব ভালো ভাবে যুদ্ধ বিদ্যা, তীর ধনুক চালানো এবং অশ্বারোহণের শিক্ষা লাভ করেন। ভবিষ্যতে রোমান এবং গোথদের সাথে যেন ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে সেজন্য তাদের ল্যাটিন এবং গোথিক ভাষার শিক্ষাও দেওয়া হয়। তার শৈশবের বর্ণনার বিষয়ে ঐতিহাসিক মতানৈক্য রয়েছে, অনেক ইতিহাসবেত্তাই মনে করেন তার শৈশবের কোন তথ্য ইতিহাসের কাছে নেই এমন কি জন্মস্থান, প্রকৃত নামও ।</p>
<p>আতিলার চাচা রুগিলার পরে সিংহাসনে আরোহণের মতো তার কোন পুত্র ছিলনা এবং যেহেতু তার ভাই মান্দযুক আগেই মারা গিয়েছিলেন তাই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে আবির্ভূত হন তার ভাত্রুষ্পুত্র আতিলা এবং তার বড়ভাই ব্লেদা। যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা এবং বিভিন্ন ভাষায় পাণ্ডিত্যই তাদের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে সহায়তা করে। দুই বালককেই তাই ছোটবেলা থেকেই হানদের যুদ্ধ কাউন্সিলে রেখে যুদ্ধের নানা কলাকৌশল শেখানো হয়। আতিলা শাসক হওয়ার আগেও হান সেনাবাহিনী খুব ভালো যোদ্ধা ছিল যদিও পরবর্তীতে আতিলা ক্ষমতায় এসে তাদের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলেন।</p>
<figure id="attachment_4095" aria-describedby="caption-attachment-4095" style="width: 1200px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4095" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/28382_eugene_ferdinand_victor_delacroix_attila_fragment.jpg" alt="যুদ্ধের ময়দানে আতিলা" width="1200" height="1470" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/28382_eugene_ferdinand_victor_delacroix_attila_fragment.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/28382_eugene_ferdinand_victor_delacroix_attila_fragment-245x300.jpg 245w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/28382_eugene_ferdinand_victor_delacroix_attila_fragment-768x941.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/28382_eugene_ferdinand_victor_delacroix_attila_fragment-836x1024.jpg 836w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" /><figcaption id="caption-attachment-4095" class="wp-caption-text">যুদ্ধের ময়দানে আতিলা<br />Source: Fans Share</figcaption></figure>
<p>৪৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কনস্টান্টিনোপলের অভিযানে রুগিলার মৃত্যু হলে হান গোষ্ঠীর নেতৃত্ব আতিলা এবং ব্লেদার হাতে চলে যায়। ল্যানিং এর মতে “আতিলা বংশীয়ভাবে একজন যোদ্ধা ছিলেন যার জন্য তার প্রতিবেশীদের মূল্য দিতে হয়েছে দীর্ঘসময় ধরে, বিশেষত পূর্বাঞ্চলীয় রোমান সাম্রাজ্যকে দিতে হয়েছে প্রায় একশ বছর ধরে। রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত রুগার অভিযান এতোটাই ফলপ্রসূ ছিল যে রোমানদের নিজেদের ভূমিতে বাস করার জন্য হানদের নিয়মিত কর পরিশোধ করতে হত।”</p>
<p>৪৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আতিলা এবং ব্লেদা রোমানদের সাথে করা মার্গুস চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের আক্রমণ করেন। এই চুক্তি ততদিন ছিল যতদিন রোমানরা হানদের নিয়মিত কর পরিশোধ করত। এই চুক্তি অনুসারে রোমানদের আতিলা এবং ব্লেদাকে প্রতিবছর ১০০ পাউন্ড করে স্বর্ণ কর হিসেবে দিতে হত। এবং এই স্বর্ণ করের বিনিময়ে তারা (রোমানরা) হান আক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকত।</p>
<h4><strong>আতিলার প্রারম্ভিক শাসন ও অনোরিয়ার প্রস্তাব</strong></h4>
<p>যদিও ইতিহাসের বেশীরভাগ অংশ জুড়ে আতিলাকে হত্যাকারী, ঘোড়ার পিঠের বর্বর যোদ্ধা হিসেবে দেখানো হয়েছে কিন্তু আসলে তার অনেক গুণাবলিও ছিল। রোমান লেখক প্রিসাস যিনি আতিলার আতিথ্য গ্রহণ করে তার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন তার বর্ণনা অনুযায়ী অন্তত তেমনই জানা যায়। আতিলা প্রসঙ্গে প্রিসাসের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পরবর্তীতে ইতিহাসবেত্তা উইল ডুরান্ট জানান, আতিলা বিভিন্ন যুদ্ধে যে তরবারি ব্যবহার করতেন তা আসলে রোমান যুদ্ধ দেবতা মার্সের যিনি আতিলাকে সেটি উপহার দিয়েছিলেন।</p>
<p>আতিলা রোমকে দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করতেন সেজন্য ৪৪৬ অথবা ৪৪৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তিনি আবার মোয়েসিয়া অঞ্চল (বলকান অঞ্চল) আক্রমণ করেন এবং প্রায় ৭০ টির মতো নগর ধ্বংস করেন ও ব্যাপক সংখ্যক যুদ্ধবন্দী করে তার বুদার (সম্ভবত বর্তমানে হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট) দুর্গে নিয়ে আসেন। তিনি অপরাজেয় চরিত্রের ছিলেন এবং ডুরান্টের ভাষ্যমতে,</p>
<p><strong>“পূর্বের বুকে ছুরিকাঘাত শেষ হলে আতিলা পশ্চিমের দিকে অযৌক্তিক যুদ্ধাকাংক্ষা নিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন।”</strong></p>
<figure id="attachment_4096" aria-describedby="caption-attachment-4096" style="width: 677px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4096" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Hunnic_Empire.png" alt="আতিলার সাম্রাজ্য" width="677" height="355" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Hunnic_Empire.png 677w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/Hunnic_Empire-300x157.png 300w" sizes="auto, (max-width: 677px) 100vw, 677px" /><figcaption id="caption-attachment-4096" class="wp-caption-text">আতিলার সাম্রাজ্য<br />Source: Great Military Battles</figcaption></figure>
<p>৪৫০ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টিনিয়ানের বোন অনোরিয়া পরিবারের ঠিক করা রোমান সিনেটর পাত্রের সাথে বিয়ের পিঁড়ি থেকে পালানোর ফন্দি করে নিজের হাতের আংটি দিয়ে আতিলার কাছে সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠান। যদিও আতিলাকে পাঠানো চিঠিতে অনোরিয়া তাকে বিয়ের কোন ইচ্ছা পোষণ করেননি কিন্তু আতিলা অনোরিয়ার আংটি এবং সাহায্য প্রার্থনা দেখে মনে করেছিলেন এটি একটি বিয়ের প্রস্তাব এজন্য তিনি চিঠির উত্তরের সাথে বিয়ের বাগদান উপহার হিসেবে অনোরিয়ার কাছে অর্ধেক রোমান সাম্রাজ্যের সম্পদ প্রেরণ করেন।</p>
<p>ভ্যালেন্টিনিয়ান যখন আসল ব্যাপার বুঝতে পারেন তখন তিনি আতিলার কাছে তার ভগ্নির কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠি লিখে জানান যে, অনোরিয়ার চিঠিতে বিয়ের কোন প্রস্তাব ছিলনা বরং এটি একটি ভুল বুঝাবুঝি এবং তিনি আতিলাকে তার প্রেরিত সম্পদ ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। আতিলা ভ্যালেন্টিনিয়ানের যুক্তি শুনতে অস্বীকৃতি জানান ও অনোরিয়াকে নিজের স্ত্রী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন এবং স্ত্রী উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত করতে শুরু করেন।</p>
<figure id="attachment_4097" aria-describedby="caption-attachment-4097" style="width: 999px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4097" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/unnamed.jpg" alt="আতিলার দরবার" width="999" height="630" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/unnamed.jpg 999w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/unnamed-300x189.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/unnamed-768x484.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 999px) 100vw, 999px" /><figcaption id="caption-attachment-4097" class="wp-caption-text">আতিলার দরবার<br />Source: Monólogo Interativo</figcaption></figure>
<p><strong>গাল আক্রমণ</strong></p>
<p>৪৫১ খ্রিষ্টাব্দে আতিলা প্রায় ২০০,০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে রাজ্য জয়ে বের হন। তার বাহিনী অনায়াসেই গালিয়া বেলজিকা (বর্তমানে বেলজিয়াম) দখল করে লুটপাট করে। সে সময় আতিলা শুধুমাত্র সাসানিদ বিজয় করা থেকে বিরত থাকেন এবং অপরাজেয় আততায়ী হিসেবে তার কুখ্যাতিই তাকে গালের দিকে ধাবিত করে। সেখানে গিয়ে আতিলার বাহিনী ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হানরা পূর্বেই অপরাজেয় জঘন্য হত্যাকারী হিসেবে তার যে পরিচিতি পেয়েছিল তার যথার্থ প্রমাণ রাখে। তারা সামনে যাকেই পেয়েছে কোন রকম বাছবিচার ছাড়াই কচু কাটার মতো শুধু হত্যা করে গিয়েছে।</p>
<h4><strong>ইতালি আক্রমণ</strong></h4>
<p>জীবনের খুব কম যুদ্ধেই আতিলা হেরেছিলেন অনেক জয়ের পর তিনি আক্রমণ করায় ক্ষান্ত দিলে রোমানরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে নিজেদের ঘরে এই ভেবে ফিরতে শুরু করে যে আতিলা হয়ত আর কাউকে কিছু বলবেন না। কিন্তু ৪৫২ খ্রিষ্টাব্দে আতিলা হঠাৎ আবার তার অবস্থান বদলে ফেলেন এবং তার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্ত্রীকে (অনোরিয়া) খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগে আবারও ইতালি আক্রমণ করেন। গালের মতো ইতালির একুইলেইয়া শহরে তার বাহিনী এতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় যে যুদ্ধ শেষে সেই শহরের আসল অস্তিত্ব আর খুঁজেও পাওয়া যায়নি। হান বাহিনীর আক্রমণের মুখে সেই শহরের বাসিন্দারা যে যেখানে পেরেছিল নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটেছিল এবং এভাবেই একটি সাধারণ জলাভূমি থেকে আজকের বিখ্যাত ভেনিস শহরের গোড়াপত্তন হয়।</p>
<figure id="attachment_4098" aria-describedby="caption-attachment-4098" style="width: 1280px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4098" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/maxresdefault.jpg" alt="ইতালি আক্রমন" width="1280" height="720" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/maxresdefault.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/maxresdefault-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/maxresdefault-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/02/maxresdefault-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" /><figcaption id="caption-attachment-4098" class="wp-caption-text">ইতালি আক্রমন<br />Source: YouTube</figcaption></figure>
<h4><strong>শেষ জীবন এবং মৃত্যু</strong></h4>
<p>আতিলা শেষ জীবন পর্যন্ত অনোরিয়ার কথা স্মরণ রেখেছিলেন এবং তিনি সারাজীবন ইতালির কাছে হয় তার স্ত্রী অথবা তার প্রেরিত উপঢৌকন ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং ৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ইল্ডিকো নামের একজন নতুন, কম বয়সী, সুন্দরী স্ত্রী বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অস্বাভাবিক খাদ্য ও মদ্যপান করেন তিনি এবং পরদিন সকালে ফুলশয্যাতেই নতুন বউয়ের পাশে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।</p>
<p><strong>তথ্যসূত্রঃ</strong></p>
<p>১. www.britannica.com/biography/Attila-king-of-the-Huns</p>
<p>২. www.ancient.eu/Attila_the_Hun/</p>
<p>৩. www.biography.com/people/attila-the-hun-9191831</p>
<p>৪. www.history.com/news/history-lists/8-things-you-might-not-know-about-attila-the-hun</p>
<p>৫. www.ancient-origins.net/history-famous-people/end-huns-death-attila-and-fall-hunnic-empire-007740</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/attila-the-hun/">অপরাজেয় আততায়ী আতিলা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/attila-the-hun/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তৈমুর বৃত্তান্ত – এক দিগ্বিজয়ী যোদ্ধার উত্থান</title>
		<link>https://itibritto.com/timurs-biography/</link>
					<comments>https://itibritto.com/timurs-biography/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 31 Jan 2018 12:22:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=4064</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="2048" height="1536" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="তৈমুর" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026.jpg 2048w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 2048px) 100vw, 2048px" style="aspect-ratio: 2048/1536;" /></div>
<p>মনে আছে ছোটবেলায় পড়া সেই গল্পটার কথা? ঐ যে, যুদ্ধে পরাজিত এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি এক গৃহিণীর কাছে ভাত চাইলে গৃহিণী তাকে গরম ভাত দেন এবং তিনি গরম ভাতের একেবারে মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। তারপর গৃহিণী তাকে তাচ্ছিল্য করে বলেন, তুমি তো দেখছি তৈমুরের মতই বোকা যে মধ্য থেকে শুরু করে। হ্যাঁ আজ সেই [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/timurs-biography/">তৈমুর বৃত্তান্ত – এক দিগ্বিজয়ী যোদ্ধার উত্থান</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="2048" height="1536" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="তৈমুর" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026.jpg 2048w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Statue.of_.Amir_.Timur_.original.32026-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 2048px) 100vw, 2048px" style="aspect-ratio: 2048/1536;" /></div><p>মনে আছে ছোটবেলায় পড়া সেই গল্পটার কথা? ঐ যে, যুদ্ধে পরাজিত এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি এক গৃহিণীর কাছে ভাত চাইলে গৃহিণী তাকে গরম ভাত দেন এবং তিনি গরম ভাতের একেবারে মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। তারপর গৃহিণী তাকে তাচ্ছিল্য করে বলেন, তুমি তো দেখছি তৈমুরের মতই বোকা যে মধ্য থেকে শুরু করে। হ্যাঁ আজ সেই তৈমুর লং এর গল্প শোনাব আপনাদের।</p>
<figure id="attachment_4068" aria-describedby="caption-attachment-4068" style="width: 367px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4068" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/তৈমুর-দ্য-লেম-বা-তৈমুর-লং-বা-তামার্লেন.jpg" alt="তৈমুর দ্য লেম বা তৈমুর লং বা তামার্লেন" width="367" height="596" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/তৈমুর-দ্য-লেম-বা-তৈমুর-লং-বা-তামার্লেন.jpg 367w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/তৈমুর-দ্য-লেম-বা-তৈমুর-লং-বা-তামার্লেন-185x300.jpg 185w" sizes="auto, (max-width: 367px) 100vw, 367px" /><figcaption id="caption-attachment-4068" class="wp-caption-text">তৈমুর দ্য লেম বা তৈমুর লং বা তামার্লেন<br />Source: Wikipedia</figcaption></figure>
<p>তৈমুর ( ৯ এপ্রিল ১৩৩৬ – ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৪০৫ ) ঐতিহাসিক ভাবে তৈমুর দ্য লেম বা তৈমুর লং বা তামার্লেন হিসেবে পরিচিত। তিনি একজন তুর্কি-মংগোলিয় বংশোদ্ভূত শাসক ও রাজ্য বিজেতা ছিলেন। তিনি পারস্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে তৈমুরী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তৈমুরী রাজবংশের প্রথম শাসক ছিলেন । জন জোসেফ সন্দার্সের মতে তৈমুরের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ইরানে এবং তিনি যাযাবর ছিলেন না। ট্রানসোক্সানিয়ার বার্লাসে (বর্তমানে যা উজবেকিস্তান) ৯ এপ্রিল ১৩৩৬ সালে জন্মগ্রহণকারী তৈমুর ১৩৭০ সালে পশ্চিম চাঘাতাইখানাত এর শাসন নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সেটিকে ভিত্তি করে পশ্চিম, দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া, ককেশাস এবং দক্ষিণ রাশিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। তিনি মিশর এবং সিরিয় অঞ্চলের মামলুকের পতন, ওসমানী সাম্রাজ্যের উত্থান এবং দিল্লীর সুলতানি শাসনের উৎখাত করে একসময়য় মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।</p>
<h4><strong>প্রথম জীবন</strong></h4>
<p>তৈমুর ১৩৩৬ সালের ৯ এপ্রিল ট্রানসোক্সানিয়ার বার্লাসে (বর্তমানে যা উজবেকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তারাক্বাই বার্লাসের একজন মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। জেরার্ডচালিয়ান্ডের মতে তৈমুর মুসলিম ছিলেন এবং চেঙ্গিস খানের বংশধর না হওয়া স্বত্বেও নিজেকে চেঙ্গিস খানের উত্তরাধিকারী মনে করতেন। একারণে তিনি স্পষ্টতই তাঁর জীবনকালের সব সময় চেঙ্গিস খানের বিজয়কে উত্তরাধিকারসূত্রে দাবী করতে চেয়েছিলেন।</p>
<figure id="attachment_4069" aria-describedby="caption-attachment-4069" style="width: 487px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4069" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাগানে-তৈমুরের-ভোজ.jpg" alt="বাগানে তৈমুরের ভোজ" width="487" height="700" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাগানে-তৈমুরের-ভোজ.jpg 487w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাগানে-তৈমুরের-ভোজ-209x300.jpg 209w" sizes="auto, (max-width: 487px) 100vw, 487px" /><figcaption id="caption-attachment-4069" class="wp-caption-text">বাগানে তৈমুরের ভোজ<br />Source: LiveInternet</figcaption></figure>
<p>(তার মাতৃভাষা চাঘাত অনুযায়ী তৈমুর শব্দের অর্থ লোহা)</p>
<p>মঙ্গল সেনা আক্রমণের মুখে মাত্র নয় বছর বয়সে তৈমুরকে তার মা ও অন্য ভাইদের সাথে যুদ্ধবন্দী হিসেবে সমরকান্দে যেতে হয়। খুব ছোট বয়সেই তৈমুর এবং তার অনুসারীদের একটি ছোট দল ভেড়া, ঘোড়া এবং গবাদি পশু নিয়ে পণ্যদ্রব্যের ভ্রমণকারীদের উপর আক্রমণ চালায়।</p>
<p>কথিত আছে কৈশরের কোন এক সময়ে তৈমুর একটি মেষপালের কাছ থেকে মেষ চুরির চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শরীরে দুটি তীর বিদ্ধ হওয়ায় তার চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তীর দুটির একটি তার ডান পায়ে ও আরেকটি তার ডান হাতে বিদ্ধ হয় ফলে তিনি দুটি আঙ্গুল হারান। এরপর থেকে পঙ্গুত্ববরন করে এই আঘাতের চিহ্ন তাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। অনেকে আবার তার পঙ্গুত্বের পেছনে ভেড়া চুরির এই ঘটনাকে মেনে নিতে নারাজ তাদের মতে তৈমুর সিস্টানের খানের হয়ে খোরাসানে (বর্তমানে যা আফগানিস্তানের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে দাশ্তিমার্গো নামে পরিচিত) ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করার সময় আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরন করেন।  তবে এটিই সত্য যে তিনি যেভাবেই হোক না কেন পঙ্গু হয়েছিলেন এবং এ কারণে তার নাম হয় তৈমুর লং যাকে ইউরোপীয় ইতিহাসে তামার্লেন বলে অভিহিত করা হয়।</p>
<h4><strong>ব্যক্তিত্ব</strong></h4>
<p>তৈমুরকে সামরিক প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্য এশিয়া শাসনকালে চরম রাজনৈতিক তারল্য পরিস্থিতিতেও মেধা ও কৌশল দিয়ে তিনি যাদুকরের মতো যাযাবরদের অনুগত করে রাখেন। শুধু স্বতন্ত্রভাবে নয় বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও তিনি অসাধারণ বুদ্ধিমান হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। শৈশব থেকেই সমরকান্দ সহ অনেক স্থানে ভ্রমণের কারণে তৈমুর অনেক পণ্ডিতের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং ফার্সি, মঙ্গোল এবং তুর্কি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন।</p>
<p>আহমদ ইবনে আরবা শাহ এর মতে তৈমুর আরবি ভাষা জানতেন না। আরও মনে করা হয় তিনি একজন সুবিধাবাদী মানুষ ছিলেন এবং তিনি তুর্কি-মঙ্গোল পূর্বপুরুষের পরিচয় দিয়ে অনেক সুবিধা ভোগ করতেন। তিনি সামরিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে যেখানে যেমন প্রয়োজন সে অনুযায়ী কোথাও ইসলাম ধর্ম আবার কোথাও মঙ্গোল সাম্রাজ্যের আইনকানুন ব্যবহার করতেন।</p>
<figure id="attachment_4070" aria-describedby="caption-attachment-4070" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4070" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/640px-Timur_reconstruction03.jpg" alt="তৈমুরের মুখাবয়ব" width="640" height="968" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/640px-Timur_reconstruction03.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/640px-Timur_reconstruction03-198x300.jpg 198w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-4070" class="wp-caption-text">তৈমুরের মুখাবয়ব<br />Source: Petel.bg</figcaption></figure>
<p>বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য তৈমুর বর্বর হিসেবে বিবেচিত, যদিও প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন শিক্ষিত শাসক ছিলেন এবং তিনি পণ্ডিতদের সাহচর্য উপভোগ করতেন এবং তাদের ব্যাপারে তিনি অসম্ভব রকমের সহনশীল এবং উদার ছিলেন যা তার প্রকৃতিবিরুদ্ধ আচরণ ছিল।</p>
<p>তৈমুরের সম্মানার্থে তাকে নিয়ে পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজ একটি গজল লিখেছিলেন। যেখানে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তৈমুরের গুণগান করেন । গজলটির একটি চরণ এরকম&#8230;</p>
<p>“যদি পেতাম তার (তৈমুরের) গালের কালো আঁচিল</p>
<p>আমি দিয়ে দিতাম সমরকান্দ আর বুরখান শহরের পাঁচিল”</p>
<h4><strong>সামরিক নেতা হিসেবে তৈমুর</strong></h4>
<p>১৩৬০ সালের দিকে তৈমুর সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন যার সৈন্যরা বেশিরভাগই তুর্কি জনগোষ্ঠীর ছিল। চাঘাতাইখানাতের খানের সাথে তিনি ট্রান্সোক্সিয়ানা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। ভলগা বুলগেরিয়ার ধ্বংসকারী ও সিংহাসনচ্যূতকারগণের সাথে পারিবারিক যোগসূত্র এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে হাত মিলিয়ে এক হাজার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে খোরাসান আক্রমণ করেন। এটি ছিল তার পরিচালিত দ্বিতীয় সামরিক অভিযান এবং এটির বিজয় তাকে পরবর্তীতে খাওয়ারেজম এবং আরগেঞ্চের পতন অভিযান সহ অন্যান্য অভিযানে উদ্বুদ্ধ করে।</p>
<h4><strong>ক্ষমতারোহন</strong></h4>
<p>চাগাতাই খানের নাম ব্যবহার করে শাসন করার সময়ই তৈমুর আস্তে আস্তে তার নাম যশ কমাতে ও নিজের নাম, যশ, প্রতাপ, প্রতিপত্তি বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করেন। প্রায় একই সময়ের মধ্যে তৈমুর এবং তার শ্যালক হুসেন (যারা প্রথম দিকের প্রায় সকল অভিযানে সহকর্মী ও যুগ্ম সংঘের মাধ্যমে অনেক বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন) পরস্পর বিরোধী এবং শত্রুতে পরিণত হন। হুসেন তিশুরের নিকটবর্তী ইলামাখোয়াজ (মাওয়ারানহের সাবেক গভর্নর) কে শেষ করার জন্য তৈমুরের আদেশ পালন করার প্রচেষ্টার পরিপন্থী তৎপর হওয়ার পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক বিরূপ হতে শুরু করে।</p>
<figure id="attachment_4071" aria-describedby="caption-attachment-4071" style="width: 187px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4071" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/download.jpg" alt="বালখের যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তৈমুর" width="187" height="269" /><figcaption id="caption-attachment-4071" class="wp-caption-text">বালখের যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তৈমুর<br />Source: Edebiyat ve Sanat Akademisi</figcaption></figure>
<p>এরপর থেকে তিনি বালখের জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বালখের লোকজন, সহকর্মী উপজাতি, মুসলিম পাদ্রীবর্গ, আদিবাসী ও কৃষক শ্রমিকদের সাথে তাঁর দয়ার কারণে তারা তৈমুরকে অনুসরণ করা শুরু করে। হুসেনের ভারী রাজস্বের বোঝা বহনকারী বালখের সাধারণ লোকজন তৈমুরের উদার নীতিতে দ্রুত তৈমুর ভক্ত হয়ে পড়ে । শেষমেশ ১৩৭০ সালে হুসেন তৈমুরের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে তৈমুর বালখের অধিপতি হয়ে ওঠেন। তিনি পরাজিত ও মৃত হুসেনের স্ত্রী এবং চেঙ্গিস খানের বংশধর সারায় মুলখ খানমকে বিয়ে করে নিজেকে চাঘাতাই গোষ্ঠীর একচ্ছত্র শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।</p>
<h4><strong>তৈমুরের শাসন বৈধ করন</strong></h4>
<p>তৈমুরের তুর্কি-মঙ্গোলীয় উত্তরাধিকার তাকে মঙ্গল ও মুসলিম সাম্রাজ্যের শাসক হওয়ার পথে সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ দুটিই দিয়েছিল। মঙ্গোলীয় প্রথা অনুযায়ী তৈমুর কখনোই ‘খান’ পদবী বা মঙ্গোলীয় সাম্রাজ্যের দাবীদার হতে পারেন না কারণ তিনি সরাসরি চেঙ্গিসখানের উত্তরাধিকারী নন। একারণে বালখ জয় করেও তিনি সরাসরি বালখের পরিপূর্ন শাসক হতে পারেননি তাই পরবর্তীতে তিনি বালখে পুতুল চাঘাতাই শাসক বসিয়ে নিজে সমস্ত ক্ষমতা উপভোগ করতে থাকেন।</p>
<p>সরাসরি চেঙ্গিস খানের বংশধর না হলে কেউ ‘খান’ পদবী ব্যবহার করতে পারবেনা এমন বাধ্যবাধকতার কারণে তৈমুর কখনো ‘খান’ পদবী ব্যবহার করতে পারেননি তার বদলে তিনি ‘আমির’ পদবী ব্যবহার করতেন।</p>
<p>কিন্তু একগুঁয়ে তৈমুর যেকোনো মূল্যে মঙ্গোল সাম্রাজ্যে তার অবস্থান ধরে রাখার বাসনা থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি চিঙ্গিসিট গোত্রের এক রাজকুমারীকে বিয়ে করে রাজ জামাতা পদবী ব্যবহার করতে সক্ষম হন।</p>
<figure id="attachment_4073" aria-describedby="caption-attachment-4073" style="width: 496px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4073" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Qr0xyvq.png" alt="তৈমুরী সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি" width="496" height="383" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Qr0xyvq.png 496w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Qr0xyvq-300x232.png 300w" sizes="auto, (max-width: 496px) 100vw, 496px" /><figcaption id="caption-attachment-4073" class="wp-caption-text">তৈমুরী সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি<br />Source: ForoCoches.com</figcaption></figure>
<p>একই ভাবে মহানবী (সা:) এর বংশ কুরাইশ ছাড়া অন্য কেউ নিজেকে খলিফা দাবী করতে পারবেনা বলে ‘খলিফা’ পদবী ও তিনি ব্যবহার করতে পারেননি। এ কারণে তৈমুর নিজের ব্যাপারে গুজব তৈরি করে প্রচার করতে থাকেন। তিনি দাবী করেন তাকে সৃষ্টিকর্তা “অতিপ্রাকৃত ব্যক্তিগত ক্ষমতা” দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি যেহেতু অনেক সফল অভিযান পরিচালনা করেছিলেন তাই তার এ গুজব দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা লাভ করে। এভাবে তিনি তার ক্ষমতাকে বৈধ রূপ দিতে থাকেন।</p>
<h4><strong>সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের সময়কাল</strong></h4>
<p>তৈমুর তার জীবনের পরবর্তী ৩৫ বছর বিভিন্ন যুদ্ধ এবং অভিযান পরিচালনা করে কাটান। তিনি যে শুধু তার শত্রুদের মোকাবিলা করে নিজ সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেছেন তাই নয় বরং তিনি এই সময়ের মধ্যে পার্শ্ববর্তী অনেক রাজ্য সীমানা আক্রমণ করে নিজ সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করতে থাকেন। পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিমে পরিচালিত তার অভিযানে তিনি কাস্পিয়ান সমুদ্র এবং উড়াল ও ভলগা নদীর তীর পর্যন্ত বিজয় করেন। এবং দক্ষিণ পশ্চিমের অভিযানে বাগদাদ, কারবালা, উত্তর ইরাক সহ পারস্যের প্রায় সবগুলো অঙ্গরাজ্য তার দখলে আসে।</p>
<p>এসময় চেঙ্গিস খানের উত্তরাধিকারী তখতামিস তৈমুরের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। তৈমুরের আদালতে শরণার্থী হয়ে আসা তখতামিস পরবর্তীতে পূর্ব কিপচাক এবং সোনালী জাতির শাসক হন। তিনি অনেক বিষয় নিয়েই তৈমুরের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন কিন্তু তবু রাশিয়ার বিরুদ্ধে তখতামিসের অবস্থানকে তৈমুর সমর্থন করেন। ফলে ১৩৮২ সালে তখতামিস রাশিয়া আক্রমণ করে মস্কো জ্বালিয়ে দেন।</p>
<h4><strong>পারস্য বিজয়</strong></h4>
<p>১৩৩৫ সালে আবু সাইদ এর মৃত্যুর পর পারস্যে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে পারস্য দ্রুত মুজাফফরি, কার্টিজস, ইরেটিনিডস, চবনাইডস, ইনজুয়েড, জালাইরাড এবং সারবারদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৩৮৩ সাল থেকে তৈমুর পারস্যের তার দীর্ঘ সামরিক বিজয় শুরু করেন, যদিও তিনি ১৩৮১ সালে সারবাদার বংশের খাজা মাজুদের পরে ফার্সি খোরসনের বেশিরভাগ শাসন করেছিলেন।</p>
<p>এরপর তৈমুর তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দিকে অগ্রসর করেন হেরাত দিয়ে যা ছিল কার্টিজ রাজবংশের রাজধানী। হেরাত যখন আত্মসমর্পণ করেননি তখন তিনি শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন এবং তার অধিকাংশ নাগরিককে হত্যা করেন। এরপর তৈমুর জার্গস পর্বতমালা দখলের উদ্দেশ্যে পশ্চিমের দিকে রওয়ানা করেন এবং পথিমধ্যে তেহরান বিজয় করেন।</p>
<p>পরের বছর মিসরীয় রাজবংশের নিচে সিস্তান রাজ্য এবং জারঞ্জের রাজধানী ধ্বংস করে তৈমুর তারপর তার রাজধানী সমরকান্দ ফিরে আসেন, যেখান থেকে তিনি তার জর্জিয়ার প্রচারাভিযান এবং গোল্ডেন হর্ডে আক্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন।</p>
<p>১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব দখলকৃত মিজারদান অঞ্চলে তৈমুর যান এবং সেখানে বিদ্রোহের সম্ভাবনা দেখে সাধারণ মানুষের ওপর ভারী করের বোঝা চাপিয়ে দেন। এরপর পুরোদমে পারস্য আক্রমণ করার জন্য তিনি উত্তরে তার জর্জিয়ান ও গোল্ডেন হর্ডের দিকে চলে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন তার নিযুক্ত সেনাপতি সফলতার সাথে সেই অঞ্চলটি রক্ষা করেছে।</p>
<p>এরপর তিনি দক্ষিণের প্রধান দুটি শহর ইসফাহান ও সিরাজের দিকে অগ্রসর হন। ১৩৮৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন তিনি ইসফাহানে পৌঁছেন তখন দ্রুত শহরের শাসনকর্তারা তার কাছে আত্মসমর্পণ করে। একারণে তিনি শহরের জনগণকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন যা তিনি সাধারণত যারা তার কাছে বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে থাকে তাদের করতেন। কিছুদিন পরে সামান্য বিদ্রোহের জের ধরে তিনি ইসফাহান শহরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেন তার সেনাবাহিনীকে যার ফলে সেখানে প্রায় ১০০০০০ থেকে ২০০০০০ সাধারণ নাগরিককে হত্যা করা হয়।</p>
<h4><strong> </strong><strong>তুঘলকদের বিরুদ্ধে তৈমুর</strong></h4>
<p>১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তৈমুর দিল্লীর সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ্‌ তুঘলককে আক্রমণের মাধ্যমে উত্তর ভারত আক্রমণ করেন। আহির এবং জেটরা তাকে সামান্য মাত্রায় প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু দিল্লীর সুলতানদের তাকে থামানোর মত ক্ষমতা ছিলোনা।</p>
<p>৩০ সেপ্টেম্বর ১৩৯৮ সালে ইন্দু নদী পাড়ি দিয়ে তিনি তুলাম্বা আক্রমণ করেন এবং সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালান। তারপর অক্টোবরে তিনি মুলতানের দিকে অগ্রসর হন।</p>
<figure id="attachment_4074" aria-describedby="caption-attachment-4074" style="width: 850px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4074" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/UNSET.jpg" alt="দিল্লীর তুঘলকদের বিরুদ্ধে তৈমুরের যুদ্ধ" width="850" height="1427" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/UNSET.jpg 850w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/UNSET-179x300.jpg 179w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/UNSET-768x1289.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/UNSET-610x1024.jpg 610w" sizes="auto, (max-width: 850px) 100vw, 850px" /><figcaption id="caption-attachment-4074" class="wp-caption-text">দিল্লীর তুঘলকদের বিরুদ্ধে তৈমুরের যুদ্ধ<br />Source: hindiekhabar.blogspot.com</figcaption></figure>
<p>আতকের নিকট (বর্তমান পাকিস্তান) তৈমুর ইন্দু নদী পার হন ২৪ সেপ্টেম্বর ১৩৯৮ সালে। তাঁর আক্রমণের কথা তখন সবাই জানতেন তবু তিনি দিল্লির মার্চ মাসে মিরুতের গভর্নর কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হন যদিও তা খুব সহজেই ভেদ করে তিনি দিল্লী পৌঁছতে সক্ষম হন।</p>
<h4><strong>দিল্লী</strong><strong> জয়</strong></h4>
<p>১৭ই ডিসেম্বর ১৩৯৮ সালে তৈমুর লং বনাম সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ্‌ তুঘলক ও মাল্লুইকবালের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সুলতানের পক্ষে অনেক হাতি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। যেহেতু তৈমুরের তাতার বাহিনী হাতিকে খুব ভয় পেত তাই তৈমুর যুদ্ধে জয়লাভ করতে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। তৈমুর তার যোদ্ধা বাহিনীর সম্মুখ প্রান্তে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। তারপর তৈমুর তার উট গুলোর পিঠে কাঠ ও খড় গাদা বোঝাই  করে পরিখার পাশে জড় করার নির্দেশ দেন। যখন বিপরীত বাহিনীর যোদ্ধা হাতি তাদের দিকে পরিচালনা করা হয় তখন উঠের পিঠে জড় করা কাঠের ওপর আগুন জ্বালিয়ে লোহার খোঁচা দিয়ে উট গুলোকে আঘাত করে সম্মুখে ঠেলে দেওয়া হয় যা দেখে মনে হচ্ছিল বিশাল কোন প্রাণী আগুনের গোলা নিয়ে তেড়ে আসছে। তাতে কাজ হয় কারণ তৈমুর জানতেন যে হাতিরা দ্রুত ভীত হয়ে পড়ে। মুহুর্তেই তুঘলকদের হস্তি বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং প্রায় অনায়াসেই তৈমুর দিল্লী জয় করেন। দিল্লীর যুদ্ধে তৈমুর প্রায় ১০০০০০ জনকে যুদ্ধবন্দী করেন।</p>
<figure id="attachment_4075" aria-describedby="caption-attachment-4075" style="width: 800px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-4075" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/DDkkW53WAAEgoeC.jpg" alt="জয়ের পরে দিল্লী" width="800" height="573" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/DDkkW53WAAEgoeC.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/DDkkW53WAAEgoeC-300x215.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/DDkkW53WAAEgoeC-768x550.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><figcaption id="caption-attachment-4075" class="wp-caption-text">জয়ের পরে দিল্লী<br />Source: Twitter</figcaption></figure>
<h4><strong>মৃত্যু</strong></h4>
<p>তৈমুর বসন্তকালে যুদ্ধ করতে পছন্দ করতেন। কিন্তু স্বভাব বিরুদ্ধ হয়ে শীতকালীন এক অভিযানে বের হয়ে পথে তিনি মৃত্যু বরন করেন। ১৪০৪ সালের ডিসেম্বরের শীতে তিনি চীনের মিং সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান ও তাদের একজন দূতকে হত্যা করেন। সে সময় থেকেই তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং চীনের সীমানায় পৌঁছানোর আগেই ১৮ ই ফেব্রুয়ারি ১৪০৫ সালে তিনি মৃত্যু বরন করেন।</p>
<p>তৈমুরকে তার ঘাঁটি সমরকান্দের গোর-এ-আমির এ সমাহিত করা হয়।</p>
<p><strong>তথ্যসূত্রঃ</strong></p>
<p><strong>১. Wikipedia</strong></p>
<p><strong>২. Britannica</strong></p>
<p><strong>৩. thoughtco.com</strong></p>
<p><strong>৪. siasat.pk</strong></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/timurs-biography/">তৈমুর বৃত্তান্ত – এক দিগ্বিজয়ী যোদ্ধার উত্থান</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/timurs-biography/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কোথায় আছেন চেঙ্গিস খান!!</title>
		<link>https://itibritto.com/genghis-khan/</link>
					<comments>https://itibritto.com/genghis-khan/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 18 Jan 2018 12:00:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=3671</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="800" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="চেঙ্গিস খান।" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan-300x188.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan-768x480.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan-1024x640.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/800;" /></div>
<p>বরফের কাঁথায় মোড়া মাইলের পর মাইল বিস্তৃত অঞ্চল। না আছে কোন রাস্তা না কোন স্থায়ী ঘরবাড়ি। এখানে দিগন্তজোড়া খোলা আকাশের নিচে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা কয়েকগুচ্ছ মরা ঘাস আর হুহু করে বয়ে চলা হিমেল হাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ স্থানেই কিছু চোখে পড়বে না। অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর হয়ত দেখা মিলবে একপাল ছাগলের চরে বেড়ানোর দৃশ্য [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/genghis-khan/">কোথায় আছেন চেঙ্গিস খান!!</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="800" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="চেঙ্গিস খান।" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan-300x188.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan-768x480.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Mongol-Genghis-khan-1024x640.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/800;" /></div><p>বরফের কাঁথায় মোড়া মাইলের পর মাইল বিস্তৃত অঞ্চল। না আছে কোন রাস্তা না কোন স্থায়ী ঘরবাড়ি। এখানে দিগন্তজোড়া খোলা আকাশের নিচে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা কয়েকগুচ্ছ মরা ঘাস আর হুহু করে বয়ে চলা হিমেল হাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ স্থানেই কিছু চোখে পড়বে না। অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর হয়ত দেখা মিলবে একপাল ছাগলের চরে বেড়ানোর দৃশ্য । ভারি ভারি আলখেল্লা জড়িয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছাগলপাল নিয়ন্ত্রন করছে কোন রাখাল কিশোর অথবা যুবক।</p>
<p>হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন এতক্ষণ আমি মঙ্গোলিয়ার খুব সাধারণ একটি দৃশ্যের বর্ননা দিচ্ছিলাম। বাংলাদেশের নাম শুনলেই যেমন এখানকার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, নদনদী আর হাজারো কৃষক শ্রমিকের মুখের মত খুব সাধারণ কিছু দৃশ্য আমাদের চোখে ভাসে ঠিক তেমনি মঙ্গোলিয়ার ক্ষেত্রে খুব সাধারন দৃশ্য হলো খোলা আকাশের নিচে বরফাবৃত খোলা প্রান্তর, ছাগলের পাল আর তাদের চরিয়ে বেড়ানো রাখাল।</p>
<p>এই অনুর্বর ভূমিকেও বিশ্বের ইতিহাসে গুরুত্ববহ করে তুলেছিলেন একজন উর্বর যোদ্ধা <strong>চেঙ্গিস খান।</strong> ঘোড়ার পিঠে চেপে যিনি গড়েছিলেন বিশ্ব সাম্রাজ্য। যার জীবনের গল্পগুলো সব অপহরণ, রক্তারক্তি, ভালোবাসা আর প্রতিশোধের কাহিনী দিয়ে ভরা।</p>
<figure id="attachment_3675" aria-describedby="caption-attachment-3675" style="width: 624px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3675" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রশান্ত-মহাসাগর-থেকে-শুরু-করে-ক্যাস্পিয়ান-সাগরের-মধ্যবর্তী-.jpg" alt="প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শুরু করে ক্যাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী সমগ্র অঞ্চল এক সময় চেঙ্গিস খানের শাসনের অন্তর্ভূক্ত ছিল" width="624" height="351" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রশান্ত-মহাসাগর-থেকে-শুরু-করে-ক্যাস্পিয়ান-সাগরের-মধ্যবর্তী-.jpg 624w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রশান্ত-মহাসাগর-থেকে-শুরু-করে-ক্যাস্পিয়ান-সাগরের-মধ্যবর্তী--300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 624px) 100vw, 624px" /><figcaption id="caption-attachment-3675" class="wp-caption-text">প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শুরু করে ক্যাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী সমগ্র অঞ্চল এক সময় চেঙ্গিস খানের শাসনের অন্তর্ভূক্ত ছিল</figcaption></figure>
<p>প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শুরু করে ক্যাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী সমগ্র অঞ্চল এক সময় চেঙ্গিস খানের শাসনের অন্তর্ভূক্ত ছিল। চেঙ্গিস খানের শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাকে লোকচক্ষুর আড়ালে অত্যন্ত গোপন কোন স্থানে সমাহিত করা হয়। জানা যায় চেঙ্গিসখানের একদল অনুগত সেনা তার মৃতদেহ গোপন স্থানে বয়ে নিয়ে যায় এবং পথে তারা কাউকে দেখা মাত্রই হত্যা করে যাতে কেউ কখনো তার সমাধির চিহ্ন খুঁজে না পায়। তাঁর লাশ চূড়ান্ত ভাবে সমাধিস্থ করার পর তার সৈন্যরা সমাধির চিহ্ন একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর ১০০০ টি ঘোড়া দিয়ে ঘোড়দৌড়ের ব্যবস্থা করেন।</p>
<p>৮০০ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত কেউ চেঙ্গিস খানের সমাধিচিহ্ন খুঁজে পাননি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথির ইঙ্গিতের ভিত্তিতে চেঙ্গিস খানের সমাধিস্থল খুঁজে বের করতে বিদেশী নেতৃত্বাধীন বেশ কিছু অভিজান পরিচালিত হয়েছে। ন্যাশনালা জিওগ্রাফি সেটি খুঁজে বের করতে স্যাটেলাইট ইমেজিনারি প্রযুক্তিরও ব্যবহার করেছে ইতোমধ্যে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এখন পর্যন্ত এই সমাধিস্থলটি খুঁজে বের করার জন্য যা অনুসন্ধান চলেছে তার সবটাই চালিয়েছে বিদেশিরা এবং এটি খুঁজে বের করার ব্যাপারে মঙ্গোলরা একেবারেই আগ্রহী নয়।</p>
<p>এটার অর্থ এমন নয় যে, চেঙ্গিস খান নিজ ভূমির জন্য কম গুরুত্বপূর্ন ছিলেন বরং উল্টোটা। মঙ্গোলিয়ার মুদ্রা এবং ভদকার বোতলে তার ছবি অহরহ ই দেখা যায় কিন্তু তারপরেও এমন কেন! হতে পারে মৃত্যুর সময় (১২২৭ খৃষ্টাব্দে) তিনি এতোটা জনপ্রিয় ছিলেন না। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ ও স্বল্প জনপ্রিয়তার বিষয় আসায় কেন মঙ্গোলরা চেঙ্গিস খানের সমাধি খুঁজে  বের করতে চায়না তা বিদেশীদের জন্য বোঝা বেশ কঠিন ব্যাপারই বটে।</p>
<figure id="attachment_3676" aria-describedby="caption-attachment-3676" style="width: 624px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3676" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/চেঙ্গিস-খানের-সমাধি-নিশ্চিহ্ন-করতে.jpg" alt="চেঙ্গিস খানের সমাধি নিশ্চিহ্ন করতে তার ওপর দিয়ে ১০০০ ঘোড়া দৌড়ানো হয়" width="624" height="351" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/চেঙ্গিস-খানের-সমাধি-নিশ্চিহ্ন-করতে.jpg 624w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/চেঙ্গিস-খানের-সমাধি-নিশ্চিহ্ন-করতে-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 624px) 100vw, 624px" /><figcaption id="caption-attachment-3676" class="wp-caption-text">চেঙ্গিস খানের সমাধি নিশ্চিহ্ন করতে তার ওপর দিয়ে ১০০০ ঘোড়া দৌড়ানো হয়</figcaption></figure>
<p>বিদেশী অনেক প্রচার মাধ্যম মঙ্গোলিয়ানদের চেঙ্গিস খানের সমাধি খুঁজে বের করার ব্যাপারে এই ট্যাবুর আশ্রয় নিয়ে নিজেদের মতো বিভিন্ন কল্পনাপ্রসূত গল্প পেতেছেন। যেমন একটি বিশ্বাস অনুযায়ী ধারণা করা হয় যদি চেঙ্গিস খান এর সমাধি আবিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে মহাপ্রলয়ের দিন উপস্থিত হয়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।</p>
<p>১৪ শতকের তুর্কি-মঙ্গোলিয় কিংবদন্তী রাজা <strong>তামার্লেন</strong> এর সমাধিক্ষেত্রের ব্যপারেও একই রকম গুজব প্রচলিত ছিল। কিন্তু ১৯৪১ সালে একদল সোভিয়েত ভুতত্ববিদ তার সমাধি খুঁজে বের করেন। সোভিয়েত রাশিয়াতে সদ্য আবিষ্কৃত সেই সমাধি নিয়ে জাতীয় অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগে নাৎসি সৈন্যরা সোভিয়েত আক্রমন করে বসে এবং সাথে সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে যেতে থাকে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন একদল মানুষের বিশ্বাস <strong>তামার্লেনের</strong> সমাধি খুঁজে বের করার কারনেই রাশিয়াকে এমন ভয়াবহতার স্বীকার হতে হয়েছিল।</p>
<p>কিন্তু কিছু কিছু <strong><a href="https://itibritto.com/halaku-khan-and-mongol/">মঙ্গোলদের</a> </strong>মতে কুসংস্কার নয় বরং এটি কিংবদন্তী চেঙ্গিস খান এর প্রতি মঙ্গোলিয়ানদের সম্মান প্রদর্শন যে তারা কিংবদন্তীর শেষ ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই তার সমাধিস্থল খুঁজে বের করতে চায়না। তাদের মতে “চেঙ্গিস খান চেয়েছিলেন তার সমাধিস্থল গোপন থাকুক এবং তার অনুগত বাহিনী তাদের নেতার ইচ্ছা পূরনের জন্য সব রকমের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।” এখন তা খুঁজে বের করার চেষ্টা পূর্বপুরুষদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে তাদের ধারণা। চেঙ্গিস খানের সমাধি মঙ্গোলদের কাছে এক গুপ্ত আবেগের নাম।</p>
<p>মঙ্গোলিয়া দীর্ঘ ইতিহাস-ঐতিহ্যের দেশ। অনেক পরিবার ই এখনো মৃৎপাত্র ও বিভিন্ন কারুশিল্পের  মহান খানের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রেখেছেন। অনেকেই নিজেদের মঙ্গোলিয়ায় <strong>‘সুবর্ন জাতি’</strong> হিসেবে পরিচিত খান পরিবারের উত্তরসূরী হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করে থাকেন। মঙ্গোলিয়ায় যোদ্ধাদের এখনো শক্তির প্রতিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।</p>
<h4><strong>চেঙ্গিস খান এর সমাধির সন্ধানে</strong></h4>
<p>চেঙ্গিস খানের শেষ ইচ্ছার প্রতি মঙ্গোলদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, সাংস্কৃতিক চাপ ছাড়াও চেঙ্গিস খানের সমাধি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আরেকটি মূখ্য সমস্যা হলো প্রযুক্তিগত সমস্যা। মঙ্গোলিয়া বিশালায়তনের এবং অনুন্নত একটি দেশ। যার আয়তন গ্রেট ব্রিটেনের আয়তনের প্রায় ৭ গুন বড় কিন্তু এতোবড় দেশের ২ শতাংশ মাত্র রাস্তা। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও এতোটা কম যে তা শুধুমাত্র গ্রীনল্যান্ড বা এমন আর দু’ একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের সাথেই তুলনার যোগ্য। প্রতিটি দৃশ্য দেখেই মনে হবে যেন মহাকাব্যিক কোন মহাশুন্যতা ।</p>
<p>মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটারে অবস্থিত ‘উলানবাটার স্টেট ইউনিভার্সিটি’ এর প্রত্নত্ববিভাগের চেয়ারম্যান <strong>ড</strong><strong>. </strong><strong>দিমাজাভ আর্ডেনবাটার</strong> সব রকম বাধা সামলে চেঙ্গিস খান এর সমাধিস্থল খোঁজার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। <strong>ড</strong><strong>.</strong><strong>আর্ডেনবাটার</strong> জাপানি একদল প্রত্নতত্ববিদকে সাথে নিয়ে ১৯৯০ সালে একটি যৌথ অভিজানের জন্য দল তৈরি করেন। <strong>“গুরভান গল”</strong> (অর্থ ‘তিন নদী’) নামক জাপানি-মঙ্গোলীয় সেই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা চেঙ্গিস খানের জন্মস্থান খেনতি প্রদেশের অনন, খারলেন এবং তুল নদী প্রবাহের একটি স্থান লক্ষ করে তাদের অভিজান কার্যক্রম শুরু করেন।</p>
<p>কিন্তু সেই একই বছর অর্থাৎ ১৯৯০ সালেই মঙ্গোলিয়ায় গণতান্ত্রিক বিপ্লব শুরু হয় এবং জনগন শান্তিপূর্নভাবে কম্যুনিস্ট সরকারকে উৎখাত করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে। নতুন সরকার জনবিক্ষোভের মুখে চেঙ্গিস খানের সমাধি অনুসন্ধানী প্রকল্পটি (গুরভান গল) ও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।</p>
<p><strong>ড</strong><strong>. </strong><strong>আর্ডেনবাটার</strong> ২০০১ সাল থেকে মধ্য মঙ্গোলিয়ার আর্খাঙ্গাই প্রদেশে ২০০০ বছরের পুরনো সিওংনু রাজাদের সমাধিক্ষেত্র খননের কাজ করছেন। ড. আর্ডেনবাটারের বিশ্বাস অনুযায়ী চেঙ্গিস খান নিজেই সিওংনুদের তার পূর্বপুরুষ বলে এক তত্বে অভিহিত করেছেন। তাই সিওংনুদের সমাধির সাথে চেঙ্গিস খানের সমাধির সাদৃশ্য থাকার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। সিওংনুদের সমাধি দেখে ধারণা পাওয়া যেতে পারে চেঙ্গিস খানের সমাধি কেমন হতে পারে।</p>
<figure id="attachment_3677" aria-describedby="caption-attachment-3677" style="width: 624px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3677" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সুবিশাল-মঙ্গোলিয়া.jpg" alt="সুবিশাল মঙ্গোলিয়া" width="624" height="351" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সুবিশাল-মঙ্গোলিয়া.jpg 624w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সুবিশাল-মঙ্গোলিয়া-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 624px) 100vw, 624px" /><figcaption id="caption-attachment-3677" class="wp-caption-text">সুবিশাল মঙ্গোলিয়া</figcaption></figure>
<p>সিওংনু রাজাদের ২০ মিটার মাটির নিচে সমাহিত করা হত এবং স্থানটি চতুষ্কোণাকার পাথর দ্বারা চিহ্নিত করা হত। প্রথম সমাধিটি খনন করতে ড. আর্ডেনবাটারের ১০ বছর সময় লেগেছিল যা আগেই লুন্ঠিত হয়েছিল। তারপরেও সেখানে কিছু অবশিষ্ঠাংশ ছিল যার মধ্যে অন্যতম সিওংনুদের ব্যবহৃত কিছু কূটনৈতিক প্রতীক, একটি চীনা রথ, রোমান কাঁচ পাত্র ও কিছু মূল্যবান ধাতু।</p>
<p>উলানবাটারের প্রত্নতত্ব জাদুঘরে ঐসকল সমাধিক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত অনেকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার রয়েছে যেসকল মৃতের সাথে সমাহিত ঘোড়ার সাথে সমাহিত করা ছিল। ড. আর্ডেনবাটারের মতে ঐসকল অলঙ্কারের মধ্যে চিতাবাঘ ও ইউনিকর্নের মূর্তি ছিল। চেঙ্গিস খান এবং তার পরবর্তী বংশধররা ঐসকল চিহ্ন ব্যবহার করতেন।</p>
<figure id="attachment_3678" aria-describedby="caption-attachment-3678" style="width: 624px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3678" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সিওংনুদে-সমাধিক্ষেত্রে-প্রাপ্ত-সামগ্রীসমূহ.jpg" alt="সিওংনুদে সমাধিক্ষেত্রে প্রাপ্ত সামগ্রীসমূহ" width="624" height="351" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সিওংনুদে-সমাধিক্ষেত্রে-প্রাপ্ত-সামগ্রীসমূহ.jpg 624w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সিওংনুদে-সমাধিক্ষেত্রে-প্রাপ্ত-সামগ্রীসমূহ-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 624px) 100vw, 624px" /><figcaption id="caption-attachment-3678" class="wp-caption-text">সিওংনুদে সমাধিক্ষেত্রে প্রাপ্ত সামগ্রীসমূহ</figcaption></figure>
<p>অনেকেই বিশ্বাস করেন চেঙ্গিস খান এর সমাধিও ঐ রকম মঙ্গল সাম্রাজ্যের গুপ্তধন দ্বারা পরিপূর্ণ আছে । এটির কারনে তা আবিষ্কারের জন্য বিদেশিদের এতো উৎসাহ। কিন্তু চেঙ্গিস খান কে সিওংনু দের মতো করে সমাহিত করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। যদি সেভাবেই সমাহিত করা হয়ে থাকে তবে তা গোপন রাখার জন্য এতো আয়োজন কেন করা হয়েছিল। ২০ মিটার গভীরের সমাধিচিহ্ন মুছে দেওয়ার জন্য ওপরের স্মৃতিচিহ্ন টুকু সরিয়ে ফেলা ই তো যথেষ্ট ছিল! এতো সুবিশাল মঙ্গোলিয়ায় অজ্ঞাত স্থানে ২০ মিটার মাটির নিচ থেকে সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার করা এমনিতেই অসম্ভব।<strong> </strong></p>
<h4><strong> চেঙ্গিস খান এর সমাধিটির অবস্থান কি কোন নিষিদ্ধ স্থানে?</strong></h4>
<p>জনশ্রুতি আছে যে, চেঙ্গিস খান কে উলানবাটার থেকে ১৬০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বাঞ্চলে ‘বুরখান খালদুন’ নামে পরিচিত খেনতির একটি পর্বত চূড়ায় সমাহিত করা হয়। যৌবন বয়সে একবার তিনি শত্রুর হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে এই পর্বত চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তিনি মৃত্যুর পর এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে তাকে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল কিনা এ বিষয়ে এখনো পন্ডিতদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।</p>
<figure id="attachment_3679" aria-describedby="caption-attachment-3679" style="width: 1600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3679" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/‘বুরখান-খালদুন’-বর্তমান-পর্বত.jpg" alt="‘বুরখান খালদুন’ (বর্তমান) পর্বত " width="1600" height="900" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/‘বুরখান-খালদুন’-বর্তমান-পর্বত.jpg 1600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/‘বুরখান-খালদুন’-বর্তমান-পর্বত-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/‘বুরখান-খালদুন’-বর্তমান-পর্বত-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/‘বুরখান-খালদুন’-বর্তমান-পর্বত-1024x576.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1600px) 100vw, 1600px" /><figcaption id="caption-attachment-3679" class="wp-caption-text">‘বুরখান খালদুন’ (বর্তমান) পর্বত</figcaption></figure>
<p>উলানবাটর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক <strong>ড</strong><strong>. </strong><strong>সদনম সলমন </strong>বলেন “১৩ শতকের মঙ্গোলিয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এটি সত্য যে এটি একটি পবিত্র পর্বত। কিন্তু এটির অর্থ এই নয় যে এখানেই চেঙ্গিস খানকে সমাহিত করা হয়েছে।”</p>
<p>পন্ডিতরা ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে চেঙ্গিস খানের সমাধিস্থলের গুপ্ত ধাঁধাঁ সমাধানের চেষ্টা করেন। তাদের একেকজনের মতে সমাধিটির অবস্থান একেক জায়গায়। তারা সমাধিস্থলের অবস্থান সম্পর্কে একমত হতে পারেননি। ১০০০ ঘোড়দৌড়ের স্থান সিউংনুদের সমাধিক্ষেত্রের মতো কোন উপত্যকা বা সমতল ভূমি নির্দেশ করে। কিন্তু তাহলে তার পর্বতে ফেরার অঙ্গিকার! এই রহস্যটি আরও জটিল হয়ে ওঠে মঙ্গোলিয় জাতিতত্ত্বিক <strong>এস বাদামখাতানের</strong> উক্তিতে। তিনি পাঁচটি পর্বতকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন ঐতিহাসিক ভাবে বুরখান খালদুনের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়না। এই পাঁচটির যেকোন একটি আসল ‘বুরখান খালদুন’ পর্বত হতে পারে। তবে তিনি এটিও বলেন যে এখন যেটিকে ‘বুরখান খালদুন’ পর্বত নামে ডাকা হয় সেটি আসল ‘বুরখান খালদুন’ হওয়ার সম্ভাবনা ই বেশি।</p>
<p>বর্তমানে যেটি ‘বুরখান খালদুন’ পর্বত নামে পরিচিত সেখানে আরোহণ করার ব্যাপারে অনেক বিধি নিষেধ আছে যেমন পবিত্র পর্বত বলে সেখানে শুধু পুরুষদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। সেখানে কোন নারী প্রবেশ করতে পারেনা। এমনকি এলাকাটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্তও নয় সেখানে কেবল রাজ পরিবারের সদস্যদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই রক্ষিত এলাকাকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।</p>
<h4><strong>বীর যোদ্ধার শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান</strong></h4>
<p>যে সমাধিস্থলটি ধরাছোঁয়ার বাহিরে তা নিয়ে কেনই বা এতো জল্পনা-কল্পনা? সোজা কথায় চেঙ্গিস খান মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত বীর। পশ্চিমারা শুধু চেঙ্গিস খান এর দখল দারিত্ব দেখে কিন্তু মঙ্গোলরা স্মরণ করেন দেশের প্রতি তার অবদানের কথা। পূর্ব-পশ্চিম বিস্তৃত ছিল তার সাম্রাজ্য সিল্করোড দ্বারা যার সেতু-বন্ধন  তৈরি করা হয়েছিল।</p>
<figure id="attachment_3680" aria-describedby="caption-attachment-3680" style="width: 624px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3680 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/চেঙ্গিস-খান.jpg" alt="চেঙ্গিস খান " width="624" height="351" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/চেঙ্গিস-খান.jpg 624w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/চেঙ্গিস-খান-300x169.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 624px) 100vw, 624px" /><figcaption id="caption-attachment-3680" class="wp-caption-text">চেঙ্গিস খান</figcaption></figure>
<p>তিনি তার শাসনে কূটনৈতিক অনাক্রম্যতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণা সন্নিবেশিত করেন। তিনি বিশ্বাসী ডাক সেবা এবং কাগুজে মুদ্রার ও প্রচলন করেন। চেঙ্গিস খান শুধু পৃথিবী দখলই করেননি বরং এটিকে সভ্যও করেছেন। তিনি এখন পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ায় পরম পূজনীয় ও সম্মানের পাত্র তাই মঙ্গোলরা চায়না তার সমাধি খুঁড়ে বের করা হোক।</p>
<p><strong>তথ্যসূত্রঃ</strong></p>
<p><strong>http://www.bbc.com/travel/story/20170717-why-genghis-khans-tomb-cant-be-found</strong></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/genghis-khan/">কোথায় আছেন চেঙ্গিস খান!!</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/genghis-khan/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিঃসঙ্গতার আঁধারে বসে দেড় হাজার বছর!</title>
		<link>https://itibritto.com/allanmacca-discovered-a-tomb-at-coppola-of-honduras/</link>
					<comments>https://itibritto.com/allanmacca-discovered-a-tomb-at-coppola-of-honduras/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 16 Jan 2018 10:18:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=3436</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1272" height="717" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="মায়া সভ্যতা" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza.jpg 1272w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza-768x433.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza-1024x577.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1272px) 100vw, 1272px" style="aspect-ratio: 1272/717;" /></div>
<p>কে এই ব্যক্তি যিনি প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে নানা রকম জপমালা আর মহামূল্যবান দামী পাথরের তৈরি কন্ঠহার পরে ছোট্ট একটা খুপরীর ভেতর একলা আঁধারে বসে রয়েছেন? কি তার পরিচয়? মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাসে নিঃসঙ্গতায় দেড় হাজার বছর কাটানো এমন এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে সম্প্রতি আর আজকের আলোচনা তাকে ঘিরেই। কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যালানম্যাকা [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/allanmacca-discovered-a-tomb-at-coppola-of-honduras/">নিঃসঙ্গতার আঁধারে বসে দেড় হাজার বছর!</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1272" height="717" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="মায়া সভ্যতা" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza.jpg 1272w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza-768x433.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/pyramid-kukulkan-chichen-itza-1024x577.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1272px) 100vw, 1272px" style="aspect-ratio: 1272/717;" /></div><p>কে এই ব্যক্তি যিনি প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে নানা রকম জপমালা আর মহামূল্যবান দামী পাথরের তৈরি কন্ঠহার পরে ছোট্ট একটা খুপরীর ভেতর একলা আঁধারে বসে রয়েছেন? কি তার পরিচয়? মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাসে নিঃসঙ্গতায় দেড় হাজার বছর কাটানো এমন এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে সম্প্রতি আর আজকের আলোচনা তাকে ঘিরেই।</p>
<p>কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক <strong>অ্যালানম্যাকা</strong> এবং তার সহকারী গবেষক দল হন্ডুরাসের কোপেনে সম্প্রতি ৭ম শতাব্দীর একটি সমাধি আবিষ্কার করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি প্রাচীন মায়া সমাজের শহুরে একজন অভিজাত ব্যক্তির কঙ্কাল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাকা&#8217;র মতে, সমাধিটির নির্মাণ, মানুষের কংকাল এবং কংকালের কাছে পাওয়া বস্তুগুলির অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যসমূহ অনেকটা শহুরে, যা প্রাচীন সময়ের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে বেশি জটিল এবং সাংস্কৃতিকভাবেও বেশ ভিন্ন।</p>
<p>ম্যাকা, ক্রিস্টিনলান্ডু ( কোলগেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি ধারী ) এবং তাদের গবেষণা দল ২০০৫ সালে হন্ডুরাসের পশ্চিম প্রান্তের কাছাকাছি গুয়াতেমালার সীমান্তে অবস্থিত প্রাচীন শহর কোপেনে দুই বছর ধরে খননকার্য সম্পাদন করেন। এখন পর্যন্ত সমাধি এবং এ থেকে প্রাপ্ত বিষয়বস্তু সমূহ নিয়ে তারা অধ্যয়ন ও গবেষণা করেছেন।</p>
<p>কোপেন চমৎকার সব প্রাচীন খোদাই শিল্প এবং খোদাই করা স্মৃতিস্তম্ভগুলির জন্য সুপরিচিত একটি নগর যেখানে রয়েছে আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘতম হায়ারোগ্লিফিক অংকিত সিঁড়ি। প্রাচীন কালের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য বহুল ব্যবহৃত অ্যাক্রোপলিসের ও দেখা মেলে এ শহরে। এসকল ঐতিহ্য ও বিশেষত্বের কারনে এ নগরটিকে <strong>ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট</strong> হিসেবে ঘোষনা করে।</p>
<figure id="attachment_3568" aria-describedby="caption-attachment-3568" style="width: 750px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3568 size-publisher-lg" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Copan_Honduras-750x430.jpg" alt="" width="750" height="430" /><figcaption id="caption-attachment-3568" class="wp-caption-text">কোপেন এর ধ্বংসাবশেষ</figcaption></figure>
<p>এত বিশেষত্বের পরেও ম্যাকার এই সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার এ শহরে আরেকটি বিশেষ মাত্রা যুক্ত করেছে কারন ম্যাকা এটি এমন এক অঞ্চল থেকে আবিষ্কার করেছেন যা শহরের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে বেশ দূরে। প্রধানত দূরত্বের কারনে আগে এইসব অঞ্চল নিয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়নি।</p>
<p>ম্যাকা বলেন, &#8220;অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে মিলিত হওয়ায়এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এই আবিষ্কারটি ক্লাসিক যুগের (৬০০-৭৫০ খৃষ্টাব্দ) প্রথম দিকের। কোপেনের দীর্ঘসময়কালের রাজনৈতিক জটিলতা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমূহ এখানে চোখে পড়ার মত”।</p>
<p>কবরস্থ ব্যক্তির কংকালটি ঋজু অবস্থায় আবিষ্কার করা হয়। কংকালটি ঝিনুক খোলস, মৃন্ময় পাত্র এবং মূল্যবান অলংকার ও পুঁথি দ্বারা বেষ্টিত ছিল। কংকালের অবস্থান, শরীরের কাছাকাছি এ সকল জিনিসপত্র এবং সমাধির অনন্য গঠনশৈলির কারনে ম্যাকা ধারণা করেন এটি কোন উচ্চ অভিজাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অথবা তৎকালীন কোন বিখ্যাত পুরোহিত ব্যক্তির কংকাল হয়ে থাকবে।</p>
<p>মৃত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন মাপের জপমালা, একটি পিকদার বা খোদাইয়ের দুল এবং গলা থেকে ঝুলন্ত একটি বিস্তৃত মূল্যবান পাথরের কন্ঠহার ছিল। তৎকালীন সামাজিক অবকাঠামো ও শ্রেনী বিন্যাস নিয়ে বিশদ গবেষণাকারী ম্যাকা বলেন, এখানে যে সকল মূল্যবান পাথরের উপস্থিতি দেখা যায় তা সুনিশ্চিত ভাবে &#8220;অর্থনৈতিক সম্পদগুলির উপর নিয়ন্ত্রণের মাত্রা&#8221; নির্দেশ করে। যা ঐ ব্যক্তির ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, উপরন্তু, “মৃত ব্যক্তির বক্ষের উপর খোদাই করা নকশা সম্ভবত একটি রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক সংযুক্তির চিহ্ন যা ঐ ব্যক্তিটি শহরের অন্যান্য প্রধান বিষয়গুলোর সাথে যে সংযুক্ত ছিল তা নিশ্চিত করে।”</p>
<p>ম্যাকার মতে, কবরটি একটি বিরল প্রকৃতির নকশায় তৈরি যা পরস্পর আবদ্ধ হওয়া কবাট (ভারবাহী অনুভূমিক সমর্থন) দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী মন্দিরের পৃষ্ঠ থেকে নেমে আসা একটি সরু ও লম্বা পাথরের মাধ্যমে উপরে থেকে সমাধির ভেতরে প্রবেশ করা যেত। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্য করে পূজা পার্বন সম্পন্ন করার জন্য যাতে এর মাঝে প্রবেশ করা যায় এ কারনে হয়ত এমন প্রবেশ দ্বার রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, তার অনুসন্ধানী দল দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে যে, কবরটিতে অন্তত একবার হলেও পুনঃপ্রবেশ করা হয়েছিল এবং ঐ ব্যক্তির কংকালের হাড় নিয়ে যজ্ঞ করা হয়েছিল।</p>
<p>তার মতে, &#8220;এই সমাধিসৌধটি কোপেনের আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রের বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম সমাধিসৌধ যেখানে মায়া সভ্যতার পূর্বসূরিদের সমাধিসৌধের কিছুটা সাদৃশ্য নকশা দেখা যায়।&#8221; ম্যাকা আরও বলেন, “এই সমাধিটি এতোটাই রহস্যজনক যে আমরা প্রথমে কল্পনা করেছিলাম যে এটি শুধুমাত্র একটি রাজার সমাধি হতে পারে। তবে এখন আমরা বিশ্বাস করি যে এর আসল রহস্য আরও জটিল। &#8221;</p>
<p>কোপেনের রাজবংশ,রাজকীয় আদালতের কর্মকর্তা এবং রাজকীয় পরিবারের সদস্যদের এ জাতীয় সুসজ্জিত কবরগুলি সাধারণত অ্যাক্রোপলিসে পাওয়া যায়। তাই ১৮০০ সাল থেকে পুরাতত্ত্ববিদরা এসব কবরের খোঁজে অ্যাক্রোপলিস অঞ্চলে বেশিরভাগ গবেষণা ও খননকার্য পরিচালনা করেছেন।</p>
<figure id="attachment_3572" aria-describedby="caption-attachment-3572" style="width: 750px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3572 size-publisher-lg" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/acropolis-750x430.jpg" alt="" width="750" height="430" /><figcaption id="caption-attachment-3572" class="wp-caption-text">অ্যাক্রোপলিস</figcaption></figure>
<p>“আমরা যখন প্রাচীন অভিজাত শহরের বিস্তৃতি এবং এটি কিভাবে আধুনিক আগ্রাসন ও জনসংখ্যা বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা পেয়েছিল বিষয়ে বিশদভাবে ভাবতে শুরু করি তখন দেখতে পাই যে, রাজবংশের মূল ক্ষমতা কোপেন উপত্যকায় বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত ছিল যার অকাট্য প্রমাণ এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি ।” ম্যাকা বলেন।</p>
<p>&#8220;অ্যাক্রোপলিসের পূর্ববর্তী গবেষণা সমূহ কোপেনের ক্ষমতার উচ্চক্রম সম্পর্কে অনেক স্বচ্ছ ধারণা দেয় যেখানে মনে করা হয় মূলত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রাজারা এবং তাদের প্রাসাদ গুলো ছিল সকল কেন্দ্রীয় ক্ষমতার আধার। তবে এখন আমরা এ সকল আবিষ্কার থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন ও শ্রেনীবিভাগের নতুন কিছু নমুনা দেখতে পাচ্ছি যা কোপেনের ইতিহাসের একটি জটিল সময়ের ইঙ্গিত করে।”</p>
<p><strong>তিনি বলেন, সমাধিটিতে নিম্নলিখিত অসাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি ছিলঃ</strong></p>
<ul>
<li>সমাধিস্থ ব্যক্তিটিকে খাড়া করে বসানো ছিল এবং তার পা দুটি হাঁটু বরাবর ভাঁজ করা ছিল । এ প্রক্রিয়ায় মৃতদেহ সমাধিস্থ করার নমুনা ক্ল্যাসিক যুগেও নিম্ন মায়া ভূমিতে দেখা যায়নি কখনো এবং  পরবর্তী সময়েও কোপেনে কখনো এমন পদ্ধতিতে কাওকে সমাধিস্থ করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।</li>
</ul>
<ul>
<li> ম্যাকার গবেষণা দলের অন্যতম একজন সদস্য অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরেট প্রার্থী <strong>ক্যাথারিন মিলার</strong> জানান যে, সমাধিস্থ ব্যক্তিটি একজন পুরুষ ছিলেন এবং মৃত্যুর সময় ঐ ব্যক্তিটি প্রায় ৫০ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি ম্যাস্টোইডিটিস (ব্যাকটেরিয়া ঘটিত কানের প্রদাহ), কশেরুকা ও হৃদপিণ্ডের সমস্যায় জর্জরিত হয়েছিলেন ও দীর্ঘস্থায়ী কিছু রোগের দ্বারা জীবদ্দশায় বেশ দূর্বল হয়ে মৃত্যুবরন করেন।</li>
</ul>
<ul>
<li>দাঁত বাঁধাই এবং দন্তবিন্যাস প্রাচীন মায়া সভ্যতায় ও অভিজাতদের মধ্যে খুব সাধারণ একটি ব্যাপার ছিল। তবে কবরস্থ ব্যক্তির দন্তবিন্যাসের ধরন কিছুটা আলাদা যা সচরাচর মায়া সভ্যতায় দেখা যেত না। এ থেকে ব্যক্তিটি কোপেন উপত্যকার দূরবর্তী কোন অঞ্চলেরও হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। আবার এমনও হতে পারে যে তিনি অন্যকোন অঞ্চল থেকে দন্তবিন্যাস করিয়েছিলেন।</li>
</ul>
<ul>
<li> মৃত ব্যক্তিটির শরীরের সাথে কবরস্থ কারুকার্যময় মৃৎপাত্রটির অঙ্কন শৈলি দেখে সম্ভবত সেটি দক্ষিণ অঞ্চল থেকে (হণ্ডুরাস সীমান্তের কাছাকাছি বর্তমান এল সালভাদরের পাশে) এসেছিল বলে মনে হয়। কারন এ ধরনের অঙ্কনশৈলী সম্বলিত মৃৎপাত্র সাধারণত কোপেনে দেখা যায়না। এ থেকে ঐ অঞ্চলের সাথে কোপেনের যে একটি যোগসূত্র ছিল তা অনুমান করা যায়।</li>
</ul>
<ul>
<li>সমাধিস্থ ব্যক্তিটির চারপাশে ঝিনুক খোলস গুলো এমনভাবে সাজানো ছিল যেন দেখে তা একটি মহাজাগতিক মানচিত্র মনে হয়। ঐমহাজাগতিক মানচিত্র সমাধিস্থ ব্যক্তিটিকে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্দেশ করে। সেখানে ঝিনুক খোলসের উপস্থিতি একই সাথে মায়া সভ্যতায় প্রচলিত পূরাণের বিশ্বাস এবং পানিপথে তাদের বানিজ্যের প্রসারতা প্রমাণ করে।</li>
</ul>
<ul>
<li> আবিষ্কৃত সমাধি এবং এর সংশ্লিষ্ট মন্দিরটি একটি সম্পূর্ণ ইউনিট হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। এসব একটি সমাধিস্তম্ভের অংশ ছিল যা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের জন্য শহর থেকে দূরে নতুন একটি শাখা হিসেবে আবির্ভূত হয়। ম্যাকা বলেন, &#8220;দীর্ঘ মেয়াদী সময়কালে কোপনের শহুরে সম্প্রসারণের সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত উভয় উপাদান হিসেবে এটি প্রথম ভাল প্রমাণ।&#8221;</li>
</ul>
<ul>
<li> সর্বোপরি এ আবিষ্কারটি &#8220;একটি অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রসঙ্গ প্রদান করে যা সপ্তম শতাব্দীর প্রাচীন শহরটির সমকালীয় ও সাংস্কৃতিক জটিলতার এবং কোপান উপত্যকার সমাধিস্তম্ভ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের মাত্রা প্রসারিত করতে সাহায্য করে&#8221;, তিনি বলেন।</li>
</ul>
<ul>
<li> হোন্ডুরান নৃতত্ব ও ইতিহাস বিভাগের পরিচালক <strong>ডেরিও ইউরেক</strong> বিশেষ কিছু কারনে ম্যাকার দেওয়া তথ্যের সাথে সহমত পোষন করেন।</li>
</ul>
<h4><strong>কারণসমূহঃ</strong></h4>
<p>“প্রধানত এটি প্রথম সমাধিস্থল যা মায়া সভ্যতার বেশিরভাগ সমাধিক্ষেত্রগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত” তিনি বলেন, “আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি যে, কোপেনের এমন এক প্রান্তীয় অঞ্চলে এমন একটি সমাধি থাকতে পারে”</p>
<p>তিনি বিশ্বাস করেন এই সমাধি নিদর্শনটির গঠনশৈলী মায়ান সভ্যতার সাথে সঙ্গতিপূর্ন নয়। তার মতে, “কোপেনের মায়া সভ্যতায় যেসকল অনন্য বৈশিষ্ঠ্য পাওয়া যায় তার সাথে এটির কোন মিলই নেই এবং এটি মায়া সভ্যতার সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক”। তিনি মনে করেন “সম্ভবত কোন সাংস্কৃতিক মিশ্রন ঘটেছিল এখানে ।”</p>
<p><strong>তথ্যসূত্রঃ</strong></p>
<p><strong>https://www.sciencedaily.com</strong></p>
<p><strong>https://news.nationalgeographic.com</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/allanmacca-discovered-a-tomb-at-coppola-of-honduras/">নিঃসঙ্গতার আঁধারে বসে দেড় হাজার বছর!</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/allanmacca-discovered-a-tomb-at-coppola-of-honduras/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এডিনবার্গ  দুর্গ: মৃত আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে থাকা আকাশচুম্বী অট্টালিকা</title>
		<link>https://itibritto.com/historical-edinburgh-castle/</link>
					<comments>https://itibritto.com/historical-edinburgh-castle/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 13 Jan 2018 08:22:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অবাক বিশ্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=3547</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1080" height="675" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="এডিনবার্গ দুর্গ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675-300x188.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675-768x480.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675-1024x640.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" style="aspect-ratio: 1080/675;" /></div>
<p>আধুনিক স্থাপত্য ও নির্মাণ প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অহরহ আকাশচুম্বী অট্টালিকার দেখা মেলে। আকাশ ছোঁয়ার এই অলিখিত প্রতিযোগিতা দেখতে দেখতে আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই মেঘ ফুঁড়ে ওপরে ওঠা অট্টালিকা আমাদের ক্ষণিক আনন্দ দিতে পারে হয়ত কিন্তু মোহিত করেনা। আজ আপনাদের এক আকাশচুম্বী অট্টালিকার গল্প শোনাব। না, না, এযুগের কোন মামুলি [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/historical-edinburgh-castle/">এডিনবার্গ  দুর্গ: মৃত আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে থাকা আকাশচুম্বী অট্টালিকা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1080" height="675" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="এডিনবার্গ দুর্গ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675-300x188.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675-768x480.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle1-1080x675-1024x640.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" style="aspect-ratio: 1080/675;" /></div><p>আধুনিক স্থাপত্য ও নির্মাণ প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অহরহ আকাশচুম্বী অট্টালিকার দেখা মেলে। আকাশ ছোঁয়ার এই অলিখিত প্রতিযোগিতা দেখতে দেখতে আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই মেঘ ফুঁড়ে ওপরে ওঠা অট্টালিকা আমাদের ক্ষণিক আনন্দ দিতে পারে হয়ত কিন্তু মোহিত করেনা। আজ আপনাদের এক আকাশচুম্বী অট্টালিকার গল্প শোনাব। না, না, এযুগের কোন মামুলি অট্টালিকার গল্প নয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের কাহিনী দিয়ে ভরা ঐতিহাসিক এডিনবার্গ দূর্গ এর গল্প।</p>
<p>স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গের আকাশ ছুঁয়ে প্রায় হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক এডিনবার্গ দূর্গটি।  দূর্গটি ১৬৩৩ সাল পর্যন্ত দূর্গটি রাজপ্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে এখানে রাজবংশের আধিপত্য লোপ পায় এবং সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত এটি সৈন্য-ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।</p>
<figure id="attachment_3550" aria-describedby="caption-attachment-3550" style="width: 1261px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3550" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/এডিনবার্গদূর্গ.jpg" alt="আকাশচুম্বী এডিনবার্গ দূর্গ" width="1261" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/এডিনবার্গদূর্গ.jpg 1261w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/এডিনবার্গদূর্গ-300x143.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/এডিনবার্গদূর্গ-768x365.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/এডিনবার্গদূর্গ-1024x487.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1261px) 100vw, 1261px" /><figcaption id="caption-attachment-3550" class="wp-caption-text">আকাশচুম্বী এডিনবার্গ দূর্গ<br />Source: edinburghcastle.gov.uk</figcaption></figure>
<p>উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেই এটি স্কটল্যান্ডের জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং তখন থেকে এই দূর্গটি সংরক্ষণের জন্য নানা রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। স্কটল্যান্ড রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছাড়াও চতুর্দশ শতাব্দীতে ঘটে যাওয়া স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৭৪৫ সালে জ্যাকোবের উত্থান সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই এডিনবার্গ দূর্গটি। ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় এখানে ১১০০ বছরের পুরোনো ২৬ টি সূরক্ষাব্যূহ পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে, “এটি নিঃসন্দেহে গ্রেট ব্রিটেনের সবচেয়ে সূরক্ষিত যায়গা এবং শত্রুপক্ষকে  আক্রমণের জন্য বিশ্বের যেকোনো স্থানের চেয়ে অধিক সুবিধাজনক”।</p>
<p>এডিনবার্গে যেসকল ভবন রয়েছে তার বেশির ভাগই ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যযুগীয় যুদ্ধে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তবে ব্যতিক্রম হলো সেন্ট মার্গারেট চ্যাপেলের ভবন যা দ্বাদশ শতাব্দী থেকে এখন পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং এটি এডিনবার্গের সবচেয়ে প্রাচীন ভবন হিসেবে স্বীকৃত।</p>
<figure id="attachment_3551" aria-describedby="caption-attachment-3551" style="width: 1200px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3551" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1200px-St_Margarets_Chapel.jpg" alt="সেন্ট মার্গারেটচ্যাপেলের ভবন" width="1200" height="900" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1200px-St_Margarets_Chapel.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1200px-St_Margarets_Chapel-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1200px-St_Margarets_Chapel-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1200px-St_Margarets_Chapel-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1200px-St_Margarets_Chapel-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" /><figcaption id="caption-attachment-3551" class="wp-caption-text">সেন্ট মার্গারেটচ্যাপেলের ভবন<br />Source: Nel cuore della Scozia</figcaption></figure>
<h2><strong>এডিনবার্গ দূর্গ এর ভূতত্বঃ</strong></h2>
<p>এডিনবার্গ দূর্গটি একটি মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। যে আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে নিম্ন কার্বোনিফেরাস যুগে সক্রিয় হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সক্রিয় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে জাগ্রত হওয়া শৈলস্তর মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে ক্রমে শীতলীভূত হয়ে পলি শিলা স্তরে পরিণত হয়।</p>
<figure id="attachment_3552" aria-describedby="caption-attachment-3552" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3552 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1024px-edinburgh_castle_from_portsburgh-1.jpg" alt="আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এডিনবার্গদূর্গ" width="1024" height="759" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1024px-edinburgh_castle_from_portsburgh-1.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1024px-edinburgh_castle_from_portsburgh-1-300x222.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1024px-edinburgh_castle_from_portsburgh-1-768x569.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1024px-edinburgh_castle_from_portsburgh-1-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-3552" class="wp-caption-text">আগ্নেয়গিরির জ্বালা মুখের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এডিনবার্গ দূর্গ<br /> Source: WordPress.com</figcaption></figure>
<p>দূর্গটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১৩০ (৪৩০ ফুট) মিটার।এডিনবার্গ দূর্গের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম এই তিন পার্শ্বই ভূপৃষ্ঠ হতে ৮০ মিটার (২৬০ ফুট) করে উঁচু। তাই স্বাভাবিক ভাবেই শুধু পশ্চিম পাশ দিয়েই একমাত্র এখানে আরোহণ করার পথ খোলা। যদিও প্রতিরক্ষা সুরক্ষার ব্যাপার নিয়ে দূর্গটি অতুলনীয় তবুও কিছু অসুবিধাও আছে এখানে। তারমধ্যে অন্যতম হলো পানির যোগান।</p>
<figure id="attachment_3553" aria-describedby="caption-attachment-3553" style="width: 1200px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3553" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/castello-di-edimburgo.jpg" alt="উত্তর পাশ থেকে এডিনবার্গদূর্গ" width="1200" height="635" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/castello-di-edimburgo.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/castello-di-edimburgo-300x159.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/castello-di-edimburgo-768x406.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/castello-di-edimburgo-1024x542.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" /><figcaption id="caption-attachment-3553" class="wp-caption-text">উত্তর পাশ থেকে এডিনবার্গ দূর্গ<br />Source: Viaggi &#8211; NanoPress</figcaption></figure>
<h2><strong>প্রথম স্থাপনাঃ</strong></h2>
<p>প্রথম কখন এখানে মানব বসতি গড়ে উঠেছিল ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এখনো সে ব্যাপারে কোন তথ্য আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ২য় শতাব্দীতে অঙ্কিত বিখ্যাত টলেমির মানচিত্র অনুযায়ী ১ম শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্য কর্তৃক ব্রিটেন আক্রমণের সময়ও উত্তর ব্রিটেনের প্রতি রোমান জেনারেল এগ্রিকোলার তেমন কোন আগ্রহের কথা জানা যায়না।টলেমীর মানচিত্র অনুযায়ী উত্তর ব্রিটেনের ভোটাডিনি সীমান্তে “আলুয়ানা” নামক একটি ভূখণ্ডের অস্তিত্বের কথা জানা যায় যার অর্থ “শৈলস্থান” সম্ভবত এটিই বর্তমান এডিনবার্গ দূর্গের পূর্ব নাম হয়ে থাকবে। এটি নিকটবর্তী অন্য একটি জনগোষ্ঠীর পার্বত্য দূর্গের নামও হতে পারে। সে ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোন অকাট্য প্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।</p>
<figure id="attachment_3554" aria-describedby="caption-attachment-3554" style="width: 1000px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3554" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/image-20150915-16993-mdw7lk.jpg" alt="৬০০ খৃষ্টাব্দে অঙ্কিত উত্তর ব্রিটেনের মানচিত্র" width="1000" height="1196" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/image-20150915-16993-mdw7lk.jpg 1000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/image-20150915-16993-mdw7lk-251x300.jpg 251w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/image-20150915-16993-mdw7lk-768x919.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/image-20150915-16993-mdw7lk-856x1024.jpg 856w" sizes="auto, (max-width: 1000px) 100vw, 1000px" /><figcaption id="caption-attachment-3554" class="wp-caption-text">৬০০ খৃষ্টাব্দে অঙ্কিত উত্তর ব্রিটেনের মানচিত্র<br />Source: The Conversation</figcaption></figure>
<p>১৯৯০ সালের একটি ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় গবেষকরা এখানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রাচীন যুগে থেকে মানব বসতির প্রমাণ পেয়েছেন। তাদের মতে, এখানে অনেক আগেই মানব বসতি শুরু হয়েছিল হতে পারে তা ব্রোঞ্জ যুগ থেকে অথবা তারও আগের লৌহ যুগ থেকে। তবে যখনই হোক এটি যে স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি এ ব্যাপারে কারও কোন দ্বিমত নেই।</p>
<h2><strong>ইতিহাস, ঐতিহ্যে এডিনবার্গ দূর্গঃ </strong></h2>
<p>টলেমীর মানচিত্র থেকে শুরু করে ৬০০ সালের আগ পর্যন্ত কোন ঐতিহাসিক রেকর্ডে এই দূর্গের কোন চিহ্নটি পর্যন্ত দেখা যায়না। প্রাচীন মহাকাব্য ওয়েলস এ ওয়াই গদদ্দিন কবিতায় ‘ডিনএডিন’র উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে “এডিনেরকেল্লা”র কথা বলা হয়েছে। এটি দ্বারা ধারণা করা হয় যে বর্তমানের এডিনবার্গ দূর্গই তখনকার এডিনের কেল্লা হয়ে থাকবে হয়ত।</p>
<h2><strong>স্কটিশ স্বাধীনতা যুদ্ধঃ</strong></h2>
<p>১২৮৬ সালে শাসক আলেক্সান্ডার-৩ এর মৃত্যুর পর স্কটল্যান্ডের রাজসিংহাসন শাসক বিহীন হয়ে পড়ে। কে হবে ভবিষ্যৎ স্কটল্যান্ডের শাসক এই নিয়ে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রায় বিবাদ উপস্থিত হয়ে পড়ে । স্কটল্যান্ডের সিংহাসনের উত্তরাধিকার বিবাদ মীমাংসার জন্য ইংরেজরা তখন ইংল্যান্ডের এডওয়ার্ড-১ কে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করে। বিবাদ মীমাংসার নামে এই সুযোগে এডিনবার্গে এসে এডওয়ার্ড-১ নিজেকে স্কটল্যান্ডের সামন্তবাদীদের পুরোধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকে।</p>
<figure id="attachment_3555" aria-describedby="caption-attachment-3555" style="width: 1280px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3555" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-EdinburghSNWM.jpg" alt="স্কটিশ স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ" width="1280" height="819" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-EdinburghSNWM.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-EdinburghSNWM-300x192.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-EdinburghSNWM-768x491.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-EdinburghSNWM-1024x655.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" /><figcaption id="caption-attachment-3555" class="wp-caption-text">স্কটিশ স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ<br />Source: Wikiwand</figcaption></figure>
<p>১২৯৬ সালের মার্চ মাসে এডওয়ার্ড-১ হঠাৎ করে স্কটল্যান্ড আক্রমণ করে বসে এবং শুরু হয় প্রথম স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধ। দ্রুত, মাত্র তিনদিনের গোলাবর্ষনে এডিনবার্গ দূর্গটি ইংরেজদের দখলে চলে আসে।দূর্গ দখল করে এডওয়ার্ড অনেকে স্কটিশ রাজনথি এবং বিপুল পরিমাণের ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়। এরপর ১৩০০ সালে ৩২৫ জন সৈন্য দিয়ে এডওয়ার্ড এডিনবার্গে বিশাল এক ঘাঁটি স্থাপন করে।</p>
<h2><strong>ডেভিড টাওয়ার এবং পঞ্চদশ শতকঃ</strong></h2>
<p>এডওয়ার্ডের স্কটল্যান্ডে দখলদারিত্বের পর থেকে শুরু হওয়া স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধের রেশ চলতে থাকে দীর্ঘ দিন ধরে। ১৩৫৭ সালে বেরউইকের চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধ প্রায় সমাপ্তির মুখ দেখে। এরপর দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ডেভিড-২ স্কটল্যান্ডের সিংহাসন পুনরাধিকার করেন এবং এডিনবার্গ দূর্গে নিজের রাজধানী স্থাপন করেন। তিনি ১৩৬৭ সালে এডিনবার্গ দূর্গে নিজের ভবন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেন কিন্তু ১৩৭০ সালে হঠাৎ তার মৃত্যুতে এই কার্যক্রম ব্যহত হয়। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি রবার্ট-২ ১৩৭০ সালে ডেভিড টাওয়ারের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন।</p>
<figure id="attachment_3558" aria-describedby="caption-attachment-3558" style="width: 589px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3558" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/589px-Impression_of_Edinburgh_Castle_before_the_Lang_Siege_of_1573.jpg" alt="প্রতিরক্ষা ব্যূহ্য তৈরির আগের এডিনবার্গদূর্গ" width="589" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/589px-Impression_of_Edinburgh_Castle_before_the_Lang_Siege_of_1573.jpg 589w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/589px-Impression_of_Edinburgh_Castle_before_the_Lang_Siege_of_1573-295x300.jpg 295w" sizes="auto, (max-width: 589px) 100vw, 589px" /><figcaption id="caption-attachment-3558" class="wp-caption-text">প্রতিরক্ষা ব্যূহ্য তৈরির আগের এডিনবার্গ দূর্গ<br />Source: English Historical Fiction Authors &#8211; blogger</figcaption></figure>
<h2><strong>ষোড়শ শতাব্দীর নকশাঃ</strong></h2>
<p>পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর ১৫১৩ সালের এক যুদ্ধক্ষেত্রে এডিনবার্গ দূর্গের অধিকারী জেমস-৪ এর মৃত্যু হয়। এরপর ধারণা করা হচ্ছিল ইংরেজরা আবার দূর্গে আক্রমন চালাতে পারে। ইংরেজদের আক্রমনের হাত থেকে রক্ষা করতে আবার এডিনবার্গ দূর্গের নতুন নকশা করা হয়। রবার্ট বোর্থিক একজন ফরাসি প্রকৌশলীকে নিয়ে দূর্গের নতুন প্রতিরক্ষা নকশা অনুযায়ী ১৫১৪ সালে দূর্গের চারপাশ দিয়ে দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করেন।</p>
<figure id="attachment_3559" aria-describedby="caption-attachment-3559" style="width: 1147px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3559" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/braun__hogenberg_castrum_puellarum_edinburgh_castle_c-1581.jpg" alt="এডিনবার্গ দূর্গের চারপাশ দিয়ে দূর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যূহ" width="1147" height="925" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/braun__hogenberg_castrum_puellarum_edinburgh_castle_c-1581.jpg 1147w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/braun__hogenberg_castrum_puellarum_edinburgh_castle_c-1581-300x242.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/braun__hogenberg_castrum_puellarum_edinburgh_castle_c-1581-768x619.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/braun__hogenberg_castrum_puellarum_edinburgh_castle_c-1581-1024x826.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1147px) 100vw, 1147px" /><figcaption id="caption-attachment-3559" class="wp-caption-text">এডিনবার্গ দূর্গের চারপাশ দিয়ে দূর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যূহ<br />Source: Lions and Lilies &#8211; WordPress.com</figcaption></figure>
<p>পার্শ্ব শাখা, অর্ধচন্দ্র ব্যাটারি এবং পোর্টকুলিস দ্বার সহ দূর্গটির বেশির ভাগ অংশই রিজেন্টমর্টোন কর্তৃক পুনর্নির্মিত হয়। এসব নির্মাণের অনেক কাজই নির্মান কর্মের পুরোধা উইলিয়াম ম্যাকডোয়ালের তত্ত্বাবধায়নে হয় যিনি ১৫ বছর আগে ডেভিড টাওয়ারের সংস্কার কার্য করেছিলেন। অর্ধচন্দ্র বা হাফমুন ব্যাটারি ভবন যা বর্তমানে এডিনবার্গ দূর্গের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ; নির্মাণের সময় সমসাময়িক ইতিহাসবেত্তারা খুবই অকেজো এবং সেকেলে মনে করতেন।</p>
<figure id="attachment_3560" aria-describedby="caption-attachment-3560" style="width: 1600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3560" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Half_Moon_Battery_and_Palace_Block_Edinburgh_Castle-1.jpg" alt="এডিনবার্গ দূর্গের অর্ধচন্দ্র বা হাফমুন ব্যাটারি ভবন" width="1600" height="1200" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Half_Moon_Battery_and_Palace_Block_Edinburgh_Castle-1.jpg 1600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Half_Moon_Battery_and_Palace_Block_Edinburgh_Castle-1-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Half_Moon_Battery_and_Palace_Block_Edinburgh_Castle-1-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Half_Moon_Battery_and_Palace_Block_Edinburgh_Castle-1-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Half_Moon_Battery_and_Palace_Block_Edinburgh_Castle-1-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1600px) 100vw, 1600px" /><figcaption id="caption-attachment-3560" class="wp-caption-text">এডিনবার্গ দূর্গের অর্ধচন্দ্র বা হাফমুন ব্যাটারি ভবন<br />Source: DART 135 F &#8211; blogger</figcaption></figure>
<h2><strong>সৈন্য ঘাঁটি ও বন্দিশালা হিসেবে এডিনবার্গ দূর্গঃ</strong></h2>
<p>১৬৬০ সালে সংস্কারের পর চার্লস-২ এখানে পূর্নাঙ্গ সৈন্যঘাঁটি স্থাপন করেন। ফলে মধ্যযুগীয় এতো ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী এই দূর্গটি সামান্য একটি সৈন্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়ে যায়। তারপর থেকে রাজকীয় কার্যক্রম বন্ধ হলেও এখানে সেনা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতে থাকে।</p>
<figure id="attachment_3561" aria-describedby="caption-attachment-3561" style="width: 1280px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3561" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-One_OClock_Gun.jpg" alt="সৈন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত এডিনবার্গ দূর্গ" width="1280" height="851" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-One_OClock_Gun.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-One_OClock_Gun-300x199.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-One_OClock_Gun-768x511.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/1280px-One_OClock_Gun-1024x681.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" /><figcaption id="caption-attachment-3561" class="wp-caption-text">সৈন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত এডিনবার্গ দূর্গ<br />Source: Wikimedia Commons</figcaption></figure>
<p>চার্লস-২ তার আসন পুনঃগ্রহন করার পর ১৬৬১ সালে তার পুরনো শত্রু আর্গাইলের মার্কুইসকে এখানে বন্দি করেন। এভাবেই এখানে আরও অনেককে বিভিন্ন অপরাধ বা শত্রুতার জের ধরে বন্দি করা হতে থাকে।তখন থেকে শুরু করে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে সৈন্য ঘাঁটি ছিল এখানে।</p>
<h2><strong>উনবিংশ শতাব্দী থেকে বর্তমান পর্যন্তঃ</strong></h2>
<p>১৮১৪ সালে এডিনবার্গ দূর্গের বন্দিশালার দক্ষিণ দেওয়াল ভেঙ্গে একসাথে ৪৯ জন কয়েদীর পালিয়ে যায় । এরপর কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিশালা হিসেবে এডিনবার্গ দূর্গকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করে। ১৮১৪ সালে এখান থেকে বন্দিশালার সকল কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে <a href="https://www.edinburghcastle.scot/">দূর্গটির</a> ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিগণিত করা হয় এবং জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।</p>
<figure id="attachment_3562" aria-describedby="caption-attachment-3562" style="width: 1280px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3562" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle.jpg" alt="ক্রাউন স্কয়ারেররয়েল রাজপ্রাসাদ" width="1280" height="960" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle.jpg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Edinburgh-Castle-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" /><figcaption id="caption-attachment-3562" class="wp-caption-text">ক্রাউন স্কয়ারেররয়েল রাজপ্রাসাদ<br />Source: Wikimedia Commons</figcaption></figure>
<p>১৮১৮ সালে স্যার ওয়াল্টার স্কট কে এডিনবার্গ দূর্গের স্কটল্যান্ডের রাজমুকুট সন্ধানের অনুমতি দেওয়া হয়। যা ১৭০৭ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের একত্রিত হওয়ার সময় সেটি এই দূর্গে হারিয়ে গিয়েছিল। মুকুট কামরা নামে পরিচিত সিল করা একটি কামরার তালা ভেঙ্গে স্কটল্যান্ডের গৌরবকে তিনি খুঁজে বের করে আনেন এবং পরবর্তীতে তা প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। এরপরেও কয়েকটি যুদ্ধে এডিনবার্গ দূর্গের ব্যবহার দেখা যায়। ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয় এবং এখন প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শকরা এক নজর দেখতে ছুটে আসেন হাজারো কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু ইতিহাস বিখ্যাত এডিনবার্গ দূর্গ কে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-large wp-image-7647" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-1024x1024.jpg" alt="" width="1024" height="1024" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/05/see-first-facebook.jpg 1080w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/historical-edinburgh-castle/">এডিনবার্গ  দুর্গ: মৃত আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে থাকা আকাশচুম্বী অট্টালিকা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/historical-edinburgh-castle/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>২৫ টন স্বর্ণে মোড়া কবরের সন্ধানে</title>
		<link>https://itibritto.com/alaric-cemetery/</link>
					<comments>https://itibritto.com/alaric-cemetery/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 08 Jan 2018 12:12:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=3399</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="2249" height="1333" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="অ্যালারিখ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8.jpg 2249w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8-300x178.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8-768x455.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8-1024x607.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 2249px) 100vw, 2249px" style="aspect-ratio: 2249/1333;" /></div>
<p>&#160; আজ আপনাদের ইউরোপীয় ইতিহাসের এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব যার কথা হয়ত আপনি কখনো শুনেনইনি। ৩৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা সেই ব্যক্তিটির নাম অ্যালারিখ। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি ভিসিগোথের(একটি বিচ্ছিন্ন জার্মান গোত্র) শাসক হয়েছিলেন। এবং অল্প সময়ের মধ্যে তার কথা দিগ্বিদিক ছড়িয়ে যেতে থাকে। অ্যালারিখ ৩৯৫ সালে গ্রীসের এথেন্স,কোরিন্থ এবং স্পার্টা বিজয়ের মাধ্যমে [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/alaric-cemetery/">২৫ টন স্বর্ণে মোড়া কবরের সন্ধানে</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="2249" height="1333" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="অ্যালারিখ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8.jpg 2249w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8-300x178.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8-768x455.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/GettyImages-707706935-59ac34e09abed50011ffdeb8-1024x607.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 2249px) 100vw, 2249px" style="aspect-ratio: 2249/1333;" /></div><p>&nbsp;</p>
<p>আজ আপনাদের ইউরোপীয় ইতিহাসের এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব যার কথা হয়ত আপনি কখনো শুনেনইনি। ৩৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা সেই ব্যক্তিটির নাম <strong>অ্যালারিখ</strong>। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি ভিসিগোথের(একটি বিচ্ছিন্ন জার্মান গোত্র) শাসক হয়েছিলেন। এবং অল্প সময়ের মধ্যে তার কথা দিগ্বিদিক ছড়িয়ে যেতে থাকে।</p>
<p><strong>অ্যালারিখ</strong> ৩৯৫ সালে গ্রীসের এথেন্স,কোরিন্থ এবং স্পার্টা বিজয়ের মাধ্যমে তার বিজয় যাত্রার সূচনা করেন। ৪০১ খৃষ্টাব্দে <strong>অ্যালারিখ</strong> তার সেনাবাহিনী নিয়ে ইতালী আক্রমন করেন । ৪১০ সালের আগস্টের মধ্যে প্রায় ১০,০০০ গোথিক কৃতদাসকে মুক্তি দিয়ে তাদের সাথে নিয়ে মাত্র তিন দিনে তিনি রোম দখল করেন। যদিও <strong>অ্যালারিখ</strong> এবং ভিসিগোথের অন্য কেউই আসলে রোম শহর লুন্ঠন এবং সেখানকার সাধারণ মানুষদের হত্যা করেননি কিন্তু অনেকেই অ্যালারিখের এই আক্রমনের ঘটনাকে পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারন হিসেবে গন্য করে থাকেন।</p>
<p>রোম সফলভাবে বিজয় করে <strong>অ্যালারিখ</strong> তার সাম্রাজ্যের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ উত্তর আফ্রিকার পথে এগোতে থাকেন। তবে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর ইতিহাসবেত্তাদের মতে তিনি আফ্রিকার পথে বেশিদূর এগোতে পারেননি তার আগেই মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। ভিসিগোথের প্রথাগত ধারা বিবেচনা করে বর্তমানে এটি অনুমান করা যায় যে, প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অ্যালারিখের মৃতদেহকে বুসেনতো নদীর তলদেশে সমাহিত করা হয়েছিল।</p>
<figure id="attachment_3402" aria-describedby="caption-attachment-3402" style="width: 461px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3402 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/461px-Alarich_steel_engraving.jpg" alt="অ্যালারিখ" width="461" height="599" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/461px-Alarich_steel_engraving.jpg 461w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/461px-Alarich_steel_engraving-231x300.jpg 231w" sizes="auto, (max-width: 461px) 100vw, 461px" /><figcaption id="caption-attachment-3402" class="wp-caption-text">অ্যালারিখ<br /> Source: wikipedia.org</figcaption></figure>
<p>অ্যালারিখের মৃতদেহ সমাহিত করার জন্য কৃতদাস শ্রমিকদের সহায়তায় সাময়িক বাঁধ নির্মান করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। নদীর গতিপথ সাময়িক পরিবর্তন করে তারপর তলদেশে সমাধি খনন করে সেখানে তাকে সমাহিত করা হয়। অ্যালারিখের মৃতদেহের সাথে ৭০ খৃষ্টাব্দে জেরুজালেমের মন্দির থেকে রোমানদের ছিনিয়ে আনা বিখ্যাত মেনোরাহ (সাতটি শাখা সমন্বিত স্বর্নের ঝারবাতি) ও সমাধিস্থ করা হয়। তাকে সমাহিত করার পর শ্রমিকরা অস্থায়ী বাঁধ সরিয়ে নেয়। ফলে পরিবর্তিত নদীর গতিপথ আবার পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক গতিপথে চলতে থাকে। ইতিহাসবেত্তাদের মতে এমনটি করা হয়েছিল যেন ইতিহাসে অ্যালারিখের সমাধিস্থলের কোন নিশানা না থাকে।</p>
<p>অ্যালারিখের মৃত্যুর কারন যুগের পর যুগ ধরে বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়েছে। অ্যালারিখ সব সময়ই নিরোগ ছিলেন। এমনকি রোম বিজয়ের পরেও তিনি সুস্থ-সবল এবং বলিষ্ঠ ছিলেন এবং দক্ষিণে এগোনোর পরিকল্পনা করছিলেন। অনেকের মতে মৃত্যু বরন করার মতো তেমন কোন কঠিন রোগে তিনি ভূগছিলেন না। তাহলে এমন একজন সবল, বলিষ্ঠ ও ক্ষমতাধর সেনাপতির মৃত্যু আসলে কী কারনে হয়েছিল?</p>
<p>অনেক ঐতিহাসিক, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মহামারি সংক্রান্ত গবেষণা একত্রিত করে গবেষক <strong>ফ্রান্সেসকোগালাসি</strong> এবং তার গবেষক দল এলারিকের মৃত্যুর কারন চিহ্নিত করেন। তাদের মতে, কোন নির্দিষ্ট কারন নয় বরং বেশ কিছু কারন একত্রিত হয়ে অ্যালারিখের মৃত্যু হয়। সম্ভবত তিনি হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন যার কোন চিকিৎসা সেই সময় ছিলোনা। একই সময় আবার তিনি ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার দ্বারাও আক্রান্ত হন যার কারনে তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই হ্রাস পেয়ে তার মৃত্যু হয়।</p>
<figure id="attachment_3403" aria-describedby="caption-attachment-3403" style="width: 960px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3403" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাঁধ-দিয়ে-নদীর-গতিপথ-পরিবর্তন-করে-অ্যালারিখকে-সমাহিত-করার-দৃশ্য.jpg" alt="বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে অ্যালারিখকে সমাহিত করার দৃশ্য" width="960" height="898" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাঁধ-দিয়ে-নদীর-গতিপথ-পরিবর্তন-করে-অ্যালারিখকে-সমাহিত-করার-দৃশ্য.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাঁধ-দিয়ে-নদীর-গতিপথ-পরিবর্তন-করে-অ্যালারিখকে-সমাহিত-করার-দৃশ্য-300x281.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বাঁধ-দিয়ে-নদীর-গতিপথ-পরিবর্তন-করে-অ্যালারিখকে-সমাহিত-করার-দৃশ্য-768x718.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" /><figcaption id="caption-attachment-3403" class="wp-caption-text">বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে অ্যালারিখকে সমাহিত করার দৃশ্য<br />Source: forbes.com</figcaption></figure>
<p>দূঃখজনক হলেও সত্য অ্যালারিখের জীবনী নিয়ে ইতিহাসে তেমন কোন বিশদ তথ্য পাওয়া যায়না এবং জর্দানেস ই একমাত্র ইতিহাসবিদ যিনি অ্যালারিখের মৃত্যুর কথা বর্ণনা করেছেন। গালাসি এবং তার সহকর্মীরা জর্দানেসকে উদ্ধৃত করে বলেন যখন তিনি রোম বিজয়ের পর পরবর্তী ধাপে কি করবেন তা নিয়ে ভাবছিলেন সে সময় “একেবারেই হঠাৎ করে অসময়ের মৃত্যু এসে অ্যালারিখকে গ্রাস করে এবং হঠাৎ করেই তাকে না ফেরার দেশে নিয়ে যায়।” ছোট উদ্ধৃতাংশের মধ্যে মৃত্যুর আকস্মিকতার কথা বারংবার আসা এটিই প্রমাণ করে যে, অ্যালারিখের এমন মৃত্যু হতে পারে আগে কেউ এমন ধারনাও করতে পারেনি।</p>
<p>কিন্তু হঠাত এমন মৃত্যুই কি অ্যালারিখকে এতোটা ইতিহাসচ্যুত করেছিল? হৃদরোগ বা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যে কারও মৃত্যু হতেই পারে কিন্তু তাই বলে তার পারিবারিক ইতিহাস, ব্যক্তি জীবন, শাসনকার্য সম্বন্ধে বিশদ তথ্য এভাবে গায়েব হয়ে যাবে কেন? এটি এখনো ইতিহাসে রহস্য হয়ে রয়েছে।</p>
<p>ইতালিয় বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি অ্যালারিখের হারিয়ে যাওয়া সমাধিস্থল হিসেবে সম্ভাব্য পাঁচটি স্থান চিহ্নিত করেছেন। তাদের ধারণা এসকল স্থানে ১৬০০ বছর ধরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের স্বর্ণ ভান্ডার লুকানো রয়েছে। তারা এটিকে “বাস্তব জীবনের ইন্ডিয়ানা জোনসের শিকার” বলে অভিহিত করেছেন। ভূতাত্বিকরা অ্যালারিখের সমাধিস্থল খুঁজে বের করার জন্য ড্রোন, পাতাল পর্যবেক্ষক রাডার এবং ইনফ্রা-রেড প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন।</p>
<p>গবেষকরা বিশ্বাস করেন সে সময়ের (৫ম শতাব্দীর) হিসাব সঠিক এবং সে অনুযায়ী অ্যালারিখের সমাধিতে ২৫ টনের ও অধিক স্বর্ণ রাখা আছে। যার আনুমানিক মূল্য বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রায় এক বিলিয়ন (৭৩৫ মিলিয়ন) ইউরো বাংলাদেশী টাকায় যার মূল্য প্রায় ৭৩,৭০,৯৭,২৫,২৩০ টাকা। আরও অনেক রৌপ্য ও মূল্যবান রত্নের সাথে এই বিপুল পরিমান স্বর্ন এখনো পর্যন্ত আবিষ্কারের অপেক্ষায়।</p>
<figure id="attachment_3404" aria-describedby="caption-attachment-3404" style="width: 960px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3404" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/আল্যারিক-এথেন্সে-প্রবেশ-করছেন.jpg" alt="আল্যারিক এথেন্সে প্রবেশ করছেন" width="960" height="1313" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/আল্যারিক-এথেন্সে-প্রবেশ-করছেন.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/আল্যারিক-এথেন্সে-প্রবেশ-করছেন-219x300.jpg 219w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/আল্যারিক-এথেন্সে-প্রবেশ-করছেন-768x1050.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/আল্যারিক-এথেন্সে-প্রবেশ-করছেন-749x1024.jpg 749w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" /><figcaption id="caption-attachment-3404" class="wp-caption-text">আল্যারিক এথেন্সে প্রবেশ করছেন<br />Source: forbes.com</figcaption></figure>
<p>প্রকল্প পরিচালক <strong>ফ্রান্সেসকোসিচি</strong> বলেন, অ্যালারিখের সমাধির খোঁজে যুগযুগ ধরে অনেকেই এখানে এসেছেন এমনকি নাৎসি বাহিনীর <strong>হেনরিখ</strong> <strong>হিমলার</strong> হিটলারের সাম্রাজ্যের সম্পদ ভান্ডার সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে অ্যালারিখের সমাধি খুঁজতে ১৯৩৭ সালে এখানে এসেছিলেন। তিনি এখানকার একটি সোয়াবীয়দূর্গে অবস্থান করে সে সময়ের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অ্যালারিখের সমাধি খুঁজে  বের করার চেষ্টা করেন ।</p>
<p>গবেষকদল মনে করেন অ্যালারিখের মৃতদেহ, তার প্রিয় ঘোড়া এবং কাঙ্ক্ষিত স্বর্ণভান্ডার সম্ভবত মাটির ৮ মিটার গভীরে প্রোথিত রয়েছে। সম্ভবত নদী আরও গভীর হলেও কখনো যেন আলগা হয়ে অ্যালারিখের সমাধি এবং সম্পদসমূহ স্রোতে ভেসে হারিয়ে না যেতে পারে সে কারনেই এতো গভীরে সমাধিস্থ করা হয়।</p>
<p>চিহ্নিত পাঁচটি স্থানের মধ্যে একটি কোসেনজার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে । যা পার্শ্ববর্তী মেনডিসিনো অঞ্চলের দিকে কিছুটা বেঁকে ১.৫ মাইল বিস্তৃত গর্ত সদৃশ এলাকার সৃষ্টি করেছে।</p>
<p>এসকল স্থানের যেকোন একটিতে তারা জেরুজালেমের প্রাচীন মেনোরাহ (ইহুদীদের প্রাচীন ধর্মচিহ্ন) খুঁজে পাবেন বলে প্রবল আশাবাদী।</p>
<figure id="attachment_3405" aria-describedby="caption-attachment-3405" style="width: 620px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3405" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Cosena.jpg" alt="কোসেনজা" width="620" height="387" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Cosena.jpg 620w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/Cosena-300x187.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 620px) 100vw, 620px" /><figcaption id="caption-attachment-3405" class="wp-caption-text">কোসেনজা</figcaption></figure>
<p>কোসেনজার মেয়র এবং অনুসন্ধানী প্রকল্পের অর্থের জোগানদাতা <strong>মারিও ওচ্চিউতো</strong> বলেন, “অ্যালারিখের গুপ্তধন খুঁজে বের করার সম্ভাব্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেওয়ার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ধন্যবাদ”।</p>
<p>তিনি আরও বলেন, “অ্যালারিখের গুপ্তধনের কথা খামখেয়ালীপূর্ন মনে হলেও আসলে এখানে যে বাস্তবে কিছু আছে তা আমি বিশ্বাস করি কারন পূর্ববর্তী প্রত্নতাত্মিক জরিপেও এখানে কিছু থাকার সম্ভাবনার কথা শুনেছি। ট্রয়নগরী আবিষ্কারের (১৮৭০ সাল) পূর্ব পর্যন্ত শুধু মাত্র জনশ্রুত কিংবদন্তিই ছিল। পম্পের ক্ষেত্রেও ( ১৮ শতকে আবিষ্কার) আমরা একই রকম দেখতে পাই। অ্যালারিখের সমাধিস্থল আবিষ্কৃত হলে মানব জাতির ইতিহাসে এটিই হবে এযাবৎ কালের সবচে বড় গুপ্তধন আবিষ্কারের ঘটনা। এবং এটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেও বিশ্বব্যপি সমাদৃত হবে।”</p>
<p>প্রকল্পের নেতৃত্বদানকারী ভূতত্ববিদ <strong>আমেরিগো গিউ ওসেপরোটা</strong> বলেন, “অ্যালারিখের কথিত আয়তাকার সমাধি খুঁজে বের করার জন্য অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের ধারণা অ্যালারিখকে তৎকালীন সময়ে ভূভাগ থেকে পাঁচ থেকে ছয় মিটার গভীরে সমাধিস্থ করা হয়েছিল কিন্তু বিগত ১৬০০ বছরে নদীতলের উচ্চতা আরও প্রায় ১.৫ মিটার বেড়ে গেছে সুতরাং সমাধিস্থলটি সম্ভবত এখন প্রায় ৮ মিটার নিচে রয়েছে।”</p>
<p>তিনি জানান অনুসন্ধান করতে হয়ত খুব বেশি খরচ হবেনা- হয়ত সর্বোচ্চ কয়েক হাজার ইউরো খরচ হতে পারে । ফলাফলও দ্রুত পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বেশ আশাবাদী এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমরা জরিপের প্রাথমিক ফলাফল প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই পাবো বলে আশা করছি”।</p>
<figure id="attachment_3406" aria-describedby="caption-attachment-3406" style="width: 610px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3406 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বিশ্বাস-করা-হয়-অ্যালারিখের-সমাধিস্থল-কোসেনজার-এসকল-এলাকায়-অবস্থিত.jpg" alt="বিশ্বাস করা হয় অ্যালারিখ এর  সমাধিস্থল কোসেনজার এসকল এলাকায় অবস্থিত " width="610" height="456" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বিশ্বাস-করা-হয়-অ্যালারিখের-সমাধিস্থল-কোসেনজার-এসকল-এলাকায়-অবস্থিত.jpg 610w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বিশ্বাস-করা-হয়-অ্যালারিখের-সমাধিস্থল-কোসেনজার-এসকল-এলাকায়-অবস্থিত-300x224.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/বিশ্বাস-করা-হয়-অ্যালারিখের-সমাধিস্থল-কোসেনজার-এসকল-এলাকায়-অবস্থিত-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 610px) 100vw, 610px" /><figcaption id="caption-attachment-3406" class="wp-caption-text">বিশ্বাস করা হয় অ্যালারিখের সমাধিস্থল কোসেনজার এসকল এলাকায় অবস্থিত</figcaption></figure>
<p>অনুসন্ধানী দলটি তাদের অনুসন্ধান কাজে ইতালীয় নৌবাহিনীকে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারেও বেশ উৎসাহী। ইতালীয় নৌবাহিনীর কাছে উন্নত প্রযুক্তির উড়োজাহাজ রয়েছে যা উন্নত সেন্সরের সাহায্যে শত্রুপক্ষের লুক্কায়িত সাবমেরিনের অবস্থান সনাক্ত করতে পারে। তারা মনে করেন স্বর্ণের সন্ধানে সামরিক বাহিনীর সংযুক্ততা এই অনুসন্ধানে এক ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করবে।</p>
<p>ইতালীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে অনুসন্ধানী প্রকল্পে আরও বেশি অর্থায়ন করার ব্যাপারে রোমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। প্রকল্প সমন্বায়ক জনাব<strong> সিচি</strong> বলেন, “এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত বা দ্বিধা নেই যে এখানে বিপুল সম্পদ সহ অ্যালারিখকে সমাহিত করা হয়েছিল । কিন্তু ঠিক কোন স্থানে এটি আছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতো বিপুল পরিমান গুপ্তধনের কথা জেনেও তা না খুঁজে বের করার চেষ্টা করাটাই এক ধরনের অপরাধ।”</p>
<p>অনেক পূরাতত্ববিদ সমালোচকদের মতে যদি অ্যালারিখের সমাধি থেকেও থাকে তবে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা না করাই ভালো কারন তিনি কোন বিখ্যাত ব্যক্তিত্য ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন একজন বর্বর আক্রমণকারী।</p>
<p>এই সমালোচক দলের মন্তব্যের প্রতিউত্তরে মেনডিসিনোর মেয়র <strong>এন্থোনিও পালেরমো</strong> (যিনি এলারিকের সমাধি খুঁজে বের করার পক্ষে) বলেন, “অ্যালারিখ ক্যালাব্রিয়ার তথা সমগ্র ইতালির ইতিহাসেরই একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। আপনি আপনার প্রয়োজনমতো ইতিহাসের কিছু অংশ গ্রহণ করবেন এবং কিছু অংশ গ্রহণ করবেন না তা ঠিক নয়। আমাদের অবশ্যই অ্যালারিখের সমাধিস্থল খুঁজে বের করা উচিৎ”।</p>
<p><strong>তথ্যসূত্রঃ</strong></p>
<p><strong>১. www.forbes.com</strong></p>
<p><strong>২. www.ancient-origins.net/news-history-archaeology</strong></p>
<p><strong>৩. www.telegraph.co.uk</strong></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/alaric-cemetery/">২৫ টন স্বর্ণে মোড়া কবরের সন্ধানে</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/alaric-cemetery/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাস্তার সমাধিক্ষেত্র &#8211; দুই হাজার বছরের লুকানো রহস্য</title>
		<link>https://itibritto.com/amphipolis-tomb-hidden-mystery/</link>
					<comments>https://itibritto.com/amphipolis-tomb-hidden-mystery/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ্‌ মুহাঃ সালাহউদ্দীন]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 05 Jan 2018 12:06:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অবাক বিশ্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=3289</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1187" height="673" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="কাস্তার সমাধিক্ষেত্র" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1.jpg 1187w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1-300x170.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1-768x435.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1-1024x581.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1187px) 100vw, 1187px" style="aspect-ratio: 1187/673;" /></div>
<p>বিশ্বের রহস্য পিয়াসু মানুষদের মন এই মুহূর্তে একটি প্রাচীন রহস্যের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে! রহস্যটি গ্রীসের এম্ফিপোলিসের কাস্তা পর্বতের একটি সমাধিস্তম্ভকে ঘিরে। এম্ফিপোলিসের এই সমাধিস্থলে কাকে কবরস্থ করা হয়েছে? না, একেবারেই অনুমান করা যাচ্ছেনা। তবে আশার আলো প্রত্নতাত্বিক গবেষণা। সহস্রাব্দ পরে এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আসলে প্রত্নতাত্মিক গবেষণা ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয়না। [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/amphipolis-tomb-hidden-mystery/">কাস্তার সমাধিক্ষেত্র &#8211; দুই হাজার বছরের লুকানো রহস্য</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1187" height="673" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="কাস্তার সমাধিক্ষেত্র" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1.jpg 1187w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1-300x170.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1-768x435.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/amphipolis-tomb1-1024x581.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1187px) 100vw, 1187px" style="aspect-ratio: 1187/673;" /></div><p>বিশ্বের রহস্য পিয়াসু মানুষদের মন এই মুহূর্তে একটি প্রাচীন রহস্যের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে! রহস্যটি গ্রীসের এম্ফিপোলিসের কাস্তা পর্বতের একটি সমাধিস্তম্ভকে ঘিরে। এম্ফিপোলিসের এই সমাধিস্থলে কাকে কবরস্থ করা হয়েছে? না, একেবারেই অনুমান করা যাচ্ছেনা। তবে আশার আলো প্রত্নতাত্বিক গবেষণা। সহস্রাব্দ পরে এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আসলে প্রত্নতাত্মিক গবেষণা ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয়না। দিগ্বীবজয়ী গ্রীক বীর আলেক্সান্ডারের স্ত্রী রোক্সেন কে কি এখানে সমাহিত করা হয়েছিল? নাকি তার ছেলেকে? অথবা তার মা? নাকি খোদ আলেক্সান্ডার কেই? অথবা অন্য কেউ!</p>
<p>এম্ফিপোলিসের এই সমাধিক্ষেত্রটি প্রাচীন মেসিডোনিয়ান ধাঁচে গড়া একটি সমাধিক্ষেত্র যা ২০১২ সালে মেসিডোনিয়ার নিকটবর্তী এম্ফিপোলিস এর কাস্তা টিলায় আবিষ্কৃত হয়।</p>
<figure id="attachment_3291" aria-describedby="caption-attachment-3291" style="width: 675px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3291 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/৫০০-মিটার-দৈর্ঘ্য-।.jpg" alt=" চুনাপাথরের প্রাচীর দ্বার বেষ্টিত সমাধিক্ষেত্র" width="675" height="998" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/৫০০-মিটার-দৈর্ঘ্য-।.jpg 675w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/৫০০-মিটার-দৈর্ঘ্য-।-203x300.jpg 203w" sizes="auto, (max-width: 675px) 100vw, 675px" /><figcaption id="caption-attachment-3291" class="wp-caption-text">চুনাপাথরের প্রাচীর দ্বার বেষ্টিত সমাধিক্ষেত্র</figcaption></figure>
<p>৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার উচ্চতার চুনাপাথর নির্মিত একটি প্রাচীর দ্বার বেষ্টিত এই বিখ্যাত সমাধিক্ষেত্রটি।</p>
<figure id="attachment_3292" aria-describedby="caption-attachment-3292" style="width: 610px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3292" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/২-বছরের-খনন-কার্য-শেষে.jpg" alt="২ বছরের খনন কার্য শেষে সমাধিক্ষেত্রটি" width="610" height="813" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/২-বছরের-খনন-কার্য-শেষে.jpg 610w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/২-বছরের-খনন-কার্য-শেষে-225x300.jpg 225w" sizes="auto, (max-width: 610px) 100vw, 610px" /><figcaption id="caption-attachment-3292" class="wp-caption-text">২ বছরের খনন কার্য শেষে সমাধিক্ষেত্রটি</figcaption></figure>
<p>চারপাশের দেয়ালের শৈল্পিকতায় তৎকালীন গ্রীসের বিখ্যাত স্থপতি ডেনোক্রাটিসের স্থাপত্যের ছাপ পাওয়া যায়। আবিষ্কারের পর প্রায় ২ বছরের খনন কার্য শেষে ২০১৪ সালে প্রথম এই সমাধিক্ষেত্রটির মাঝে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় প্রত্নতাত্মিক গবেষক দল।</p>
<figure id="attachment_3293" aria-describedby="caption-attachment-3293" style="width: 1200px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3293" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কাস্তার-এই-সমাধিক্ষেত্রটি.jpg" alt="কাস্তার সমাধিক্ষেত্রটি " width="1200" height="803" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কাস্তার-এই-সমাধিক্ষেত্রটি.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কাস্তার-এই-সমাধিক্ষেত্রটি-300x201.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কাস্তার-এই-সমাধিক্ষেত্রটি-768x514.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কাস্তার-এই-সমাধিক্ষেত্রটি-1024x685.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" /><figcaption id="caption-attachment-3293" class="wp-caption-text">কাস্তার সমাধিক্ষেত্রটি</figcaption></figure>
<p>কাস্তার এই সমাধিক্ষেত্রটি খৃষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীর শেষ দিকে নির্মিত হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন প্রত্নতত্মবিদরা। এই সমাধিক্ষেত্রটি এজাবতকালীন গ্রীসে আবিস্কৃত সমাধিস্তূপগুলোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। এমনকি এতোদিন সবচেয়ে বড় সমাধিক্ষেত্র হিসেবে বহুল পরিচিত ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত <a href="https://itibritto.com/alexander-di-great/"><strong>আলেক্সান্ডার দ্যা গ্রেট</strong></a> এর পিতা মেসিডোনিয়ার শাসনকর্তা <strong>ফিলিপ-২</strong> এর চেয়েও এটি আকারে বেশ বড়।</p>
<figure id="attachment_3294" aria-describedby="caption-attachment-3294" style="width: 1600px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3294" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিক্ষেত্রটি.jpg" alt="সমাধিক্ষেত্র" width="1600" height="1200" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিক্ষেত্রটি.jpg 1600w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিক্ষেত্রটি-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিক্ষেত্রটি-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিক্ষেত্রটি-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিক্ষেত্রটি-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1600px) 100vw, 1600px" /><figcaption id="caption-attachment-3294" class="wp-caption-text">সমাধিক্ষেত্র</figcaption></figure>
<p>আবিষ্কারের পর থেকে সমাধিক্ষেত্রটি এর সুনিপুন ও অনন্য নির্মানশৈলীর কারনে সারা বিশ্বে তুমুল আলোড়ন তুলেছে। তবে ভার্জিনিয়ার স্মৃতিস্তম্ভের সাথে এটির অনেক মিল রয়েছে। মেসিডোনিয়ার এরিস্টোটল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়োগিক ভূপ্রকৃতিবিদ্যা গবেষণাগারে ভূতাত্বিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গঠনগত সাদৃশ্যের এসকল তথ্য জানা যায়।</p>
<h4><strong>এম্ফিপোলিস সমাধিক্ষেত্রের রহস্যঃ</strong></h4>
<p>যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পর্যন্ত কাস্তা পর্বতে কোন খনন কার্য হয়নি তবুও ১৯ শতকে অনেক ভূতাত্বিক এম্ফিপোলিসের এই স্থান আবিষ্কার ও এখানে বিশেষ কিছু আছে বলে অনুমান করেছেন। ১৯৭২ ও ১৯৮৫ সালে গ্রীক প্রত্নতাত্বিক <strong>ড</strong><strong>. </strong><strong>লাজারিডিসের </strong>নেতৃত্বে গ্রীক প্রত্নতাত্মিক সোসাইটি বেশ কিছু ছোট ছোট সমাধিক্ষেত্র, প্রাচীন গ্রীসের নগর দূর্গ ও কয়েকটি ভগ্নপ্রায় রাজপ্রাসাদ আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে আরও কিছু খনন কার্যের মাধ্যমে নদী পারাপারের প্রাচীন সেতু, শরীরচর্চা কেন্দ্র, গ্রীক এবং রোমান অনেক স্থাপনা ও সমাধিক্ষেত্র পাওয়া যায়।</p>
<p>প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ব্রিটিশ এবং বুলগেরিয়ার সৈন্যরা এ অঞ্চলে পরিখা খনন করার সময় এম্ফিপোলিসের সিংহের ভাঙ্গা মূর্তি এবং সমাধিস্থল আবিষ্কার করেন। কিন্তু তারা তখন এটি খনন করেননি। এম্ফিপোলিসের সিংহটির উচ্চতা ছিল ৫.৩ মিটার এবং পাথরের ভীত সহ মোট উচ্চতা প্রায় ১৫.৮৪ মিটার।</p>
<p>এতো কিছুর পরেও এই স্থানটি অনেকটা সময় আলোচনার বাইরেই ছিল। এটি কেবল মাত্র ২০১২ সালে গ্রীক প্রত্নতত্ববিদদের একটি দলের দ্বারা খনন হওয়ার পরে বিশ্বসমাদর পায়। সীমানা প্রাচীর থেকে ১৩ ধাপ নিচে নামলে মূল সমাধিস্থলটি দৃশ্যমান হয়। সমাধিস্থলটিতে মোট তিনটি কামরা রয়েছে যেগুলো পৃথক পৃথক দেয়াল দিয়ে আলাদা করা আছে।</p>
<h4><strong>প্রবেশ মুখ এবং প্রথম কামরাঃ</strong></h4>
<p>সমাধিস্থলটিতে প্রবেশের মুখেই চোখে পড়ে দৃষ্টি নান্দনিক সৌন্দর্যমন্ডিত একটি পাথরের খিলান, একটি প্রবেশ মুখ ও তার দুপাশে দুটি মাথা ভাঙ্গা স্ফিংসের মূর্তি । স্ফিংসের মূর্তির ঠিক সামনেই একটি চুন সুড়কি নির্মিত বাঁধা প্রাচীর রয়েছে যা সম্ভবত সমাধিস্থলের ভেতরে প্রবেশের মুখে বাঁধা সৃষ্টি করার জন্য নির্মান করা হয়েছিল।</p>
<figure id="attachment_3295" aria-describedby="caption-attachment-3295" style="width: 675px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3295" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/একটি-বাঁধা-প্রাচীর-দ্বারা-লুক্কায়িত-এবং-তার-দুপাশে-প্রহরা-রত-দুই-স্ফিংস-মূর্তি.jpg" alt="একটি বাঁধা প্রাচীর দ্বারা লুক্কায়িত এবং তার দুপাশে প্রহরা রত দুই স্ফিংস মূর্তি" width="675" height="640" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/একটি-বাঁধা-প্রাচীর-দ্বারা-লুক্কায়িত-এবং-তার-দুপাশে-প্রহরা-রত-দুই-স্ফিংস-মূর্তি.jpg 675w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/একটি-বাঁধা-প্রাচীর-দ্বারা-লুক্কায়িত-এবং-তার-দুপাশে-প্রহরা-রত-দুই-স্ফিংস-মূর্তি-300x284.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 675px) 100vw, 675px" /><figcaption id="caption-attachment-3295" class="wp-caption-text">একটি বাঁধা প্রাচীর দ্বারা লুক্কায়িত এবং তার দুপাশে প্রহরা রত দুই স্ফিংস মূর্তি</figcaption></figure>
<p>একটি বাঁধা প্রাচীর দ্বারা লুক্কায়িত এবং তার দুপাশে প্রহরা রত দুই স্ফিংস মূর্তির যে শৈল্পিক গুরুত্ব তার বিবেচনায় এটির নির্মাতা ও এম্ফোপোলিসের সিংহের নির্মাতা একই ব্যক্তি বলে ধারণা করা যায়।</p>
<h4><strong>মার্বেল পাথরের মেঝেঃ</strong></h4>
<p>স্ফিংস প্রহরার ঠিক নিচের মেঝের ছবি এটি।  প্রায় ২৩০০ বছর আগে নির্মিত মার্বেল পাথরের এই মেঝেটি এখনো দৃষ্টি আকর্ষন করে। এবং প্রাচীন গ্রীসের নির্মানশৈলী নিয়ে আরও একবার নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করে।</p>
<figure id="attachment_3296" aria-describedby="caption-attachment-3296" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3296" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/মার্বেল-পাথরের-মেঝে.jpg" alt="মার্বেল পাথরের মেঝে" width="640" height="426" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/মার্বেল-পাথরের-মেঝে.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/মার্বেল-পাথরের-মেঝে-300x200.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-3296" class="wp-caption-text">মার্বেল পাথরের মেঝে</figcaption></figure>
<h4><strong>প্রবেশ মুখের ছবিঃ</strong></h4>
<p>এমনই বাঁধা দেয়াল দিয়ে প্রবেশের মুখে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।</p>
<figure id="attachment_3297" aria-describedby="caption-attachment-3297" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3297" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রবেশ-মুখের-ছবি.jpg" alt="প্রবেশ মুখের ছবি" width="640" height="416" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রবেশ-মুখের-ছবি.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রবেশ-মুখের-ছবি-300x195.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রবেশ-মুখের-ছবি-210x136.jpg 210w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-3297" class="wp-caption-text">প্রবেশ মুখের ছবি</figcaption></figure>
<h4><strong>ছাদের খিলানের অবলম্বনঃ</strong></h4>
<p>শক্ত কাঠের বড় বড় টুকরা দিয়ে ছাদের অবলম্বন তৈরি করা হয়েছিলো।</p>
<figure id="attachment_3298" aria-describedby="caption-attachment-3298" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3298" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/ছাদের-খিলানের-অবলম্বন.jpg" alt="ছাদের খিলানের অবলম্বন" width="640" height="284" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/ছাদের-খিলানের-অবলম্বন.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/ছাদের-খিলানের-অবলম্বন-300x133.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-3298" class="wp-caption-text">ছাদের খিলানের অবলম্বন</figcaption></figure>
<h4><strong>ক্যারাটিডসঃ</strong></h4>
<p>সমাধি স্তম্ভটিতে প্রবেশের প্রথম দিকের ছাদটি দুটি ক্যারাটিডসের (স্তম্ভরুপে ব্যবহৃত নারীমূর্তি) স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে যা খৃষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীর গ্রীক নির্মানশৈলীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।</p>
<figure id="attachment_3299" aria-describedby="caption-attachment-3299" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3299" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/দুটি-ক্যারাটিডসেরস্তম্ভরুপে-ব্যবহৃত-নারীমূর্তি-স্তম্ভে.jpg" alt="ক্যারাটিডসের স্তম্ভ" width="640" height="1382" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/দুটি-ক্যারাটিডসেরস্তম্ভরুপে-ব্যবহৃত-নারীমূর্তি-স্তম্ভে.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/দুটি-ক্যারাটিডসেরস্তম্ভরুপে-ব্যবহৃত-নারীমূর্তি-স্তম্ভে-139x300.jpg 139w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/দুটি-ক্যারাটিডসেরস্তম্ভরুপে-ব্যবহৃত-নারীমূর্তি-স্তম্ভে-474x1024.jpg 474w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-3299" class="wp-caption-text">ক্যারাটিডসের স্তম্ভ</figcaption></figure>
<h4><strong>খোদাই চিত্রঃ</strong></h4>
<p>খননে বেরিয়ে আসে ক্যারাডিটসের পরেই একটি মার্বেল পাথরের খোদায় চিত্র যাতে অঙ্কিত রয়েছে পারসেফোনিকে পাতালের দেবতা হেডাস দ্বারা অপহরনের চিত্র</p>
<figure id="attachment_3300" aria-describedby="caption-attachment-3300" style="width: 640px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3300" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/খোদাই-চিত্র.jpg" alt="খোদাই করা চিত্র" width="640" height="708" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/খোদাই-চিত্র.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/খোদাই-চিত্র-271x300.jpg 271w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /><figcaption id="caption-attachment-3300" class="wp-caption-text">খোদাই করা চিত্র</figcaption></figure>
<p>এবং এর পরেই মেসিডোনিয়ান দ্বার দিয়ে তৃতীয় স্তম্ভে প্রবেশের পথ।</p>
<figure id="attachment_3302" aria-describedby="caption-attachment-3302" style="width: 995px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-3302 size-full" style="font-size: 15px; font-weight: bold; text-align: center; text-transform: initial;" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিস্তম্ভের-ভেতরে-ভাঙ্গা-দরজার-পাশে-একটি-স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা.jpg" alt="তৃতীয় স্তম্ভে প্রবেশের পথ" width="995" height="720" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিস্তম্ভের-ভেতরে-ভাঙ্গা-দরজার-পাশে-একটি-স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা.jpg 995w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিস্তম্ভের-ভেতরে-ভাঙ্গা-দরজার-পাশে-একটি-স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা-300x217.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/সমাধিস্তম্ভের-ভেতরে-ভাঙ্গা-দরজার-পাশে-একটি-স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা-768x556.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 995px) 100vw, 995px" /><figcaption id="caption-attachment-3302" class="wp-caption-text">তৃতীয় স্তম্ভে প্রবেশের পথ</figcaption></figure>
<p>চিত্রটিতে দেখা যায় হেডাসের রথটি দুটি সাদা ঘোড়া হার্মিসের দেখানো পথে পাতালপুরীতে পরিচালিত হচ্ছে। মার্বেল পাথরের ব্যবহারই সমাধিস্থলটির মেসিডোনিয়ান সাদৃশ্য প্রমাণ করে।</p>
<figure id="attachment_3303" aria-describedby="caption-attachment-3303" style="width: 426px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3303" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা.jpg" alt="স্ফিংসের ভাঙ্গা মাথা " width="426" height="640" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা.jpg 426w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/স্ফিংসের-ভাঙ্গা-মাথা-200x300.jpg 200w" sizes="auto, (max-width: 426px) 100vw, 426px" /><figcaption id="caption-attachment-3303" class="wp-caption-text">স্ফিংসের ভাঙ্গা মাথা</figcaption></figure>
<p>সমাধিস্তম্ভের ভেতরে ভাঙ্গা দরজার পাশে একটি স্ফিংসের ভাঙ্গা মাথা প্রমাণ করে যে প্রাচীন কালেও এখানে কে বা কারা প্রবেশের চেষ্টা করেছে বা প্রবেশ করেছে।</p>
<p>এই সমাধিক্ষেত্রে কাকে প্রোথিত করা রয়েছে এটি নিয়ে এখনো যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে কারন অনেকে মনে করেন এটি আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর অনেক পরে নির্মিত হয়েছে। তাদের মতে এটি হতে পারে আলেক্সান্ডারের কোন নিকটাত্মীয়ের অথবা তার সেনাবাহিনীতে কর্মরত কোন সামরিক কর্মকর্তার।</p>
<h4><strong>এম্ফিপোলিস সমাধিক্ষেত্রের নিচে সম্ভবত নতুন কোন স্মৃতিচিহ্ন রয়েছেঃ</strong></h4>
<p>গবেষণাগারের পরিচালক <strong>ড</strong><strong>. </strong><strong>গ্রিগরিস সোকাস</strong> দাবী করেন যে, পশ্চিম দিকের এই ধ্বংসাবশেষের আরও নিবিড় পরীক্ষা দরকার। “আমরা সেখানে ত্রি-মাত্রিক জরিপ চালিয়ে সেখানে আরও কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে করছি। সম্ভবত সেটি এখানকার দ্বিতীয় আরেকটি সমাধিক্ষেত্র যা প্রাপ্ত সমাধিক্ষেত্রের চেয়ে কিছুটা ছোট আকৃতির এবং সম্ভবত আরও মিটার দুয়েক নিচে রয়েছে । আমাদের অবশ্যই সেটি খনন করে বের করতে হবে”।</p>
<figure id="attachment_3304" aria-describedby="caption-attachment-3304" style="width: 900px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3304" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রোথিত-গৃহ.jpg" alt="প্রোথিত গৃহ" width="900" height="500" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রোথিত-গৃহ.jpg 900w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রোথিত-গৃহ-300x167.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/প্রোথিত-গৃহ-768x427.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 900px) 100vw, 900px" /><figcaption id="caption-attachment-3304" class="wp-caption-text">প্রোথিত গৃহ</figcaption></figure>
<p>সোকাস আরও বলেন কাস্টা পর্বতের সম্পূর্ন ভূপ্রাকৃতিক জরিপ করে এর মধ্যে আমরা একটি প্রোথিত গৃহের সন্ধান পেয়েছি। “২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে আমাদের গবেষণাগারে একটি ভূতাত্বিক জরিপের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে পর্বতটি অনুসন্ধান করেছি এবং এখনও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে যা প্রত্নতাত্মিক সনদ না পাওয়া পর্যন্ত যথেষ্ট কঠিন কাজ”। এই অধ্যাপক আরও যুক্ত করেন যে, খনন কার্যে এই স্মৃতি স্তম্ভের ভীতে কয়লার টুকরো পাওয়া গেছে যে পদ্ধতি খৃষ্টপূর্ব ৩০০ শতাব্দীতে অনুসরণ করা হত।</p>
<h4><strong>৩য় কামরাঃ</strong></h4>
<p>৩য় কামরার খনন কাজও মোটামুটি শেষের পর্যায়ে এখানে প্রবেশের পথে একটি বিশাল আকৃতির মার্বেল পাথরের দরজা দেখা যায়।৩য় কামরায় প্রাপ্ত কফিনের কারুকার্যের কিছু ভগ্ন নকশার ছবি নিচে দেয়া হল।</p>
<figure id="attachment_3305" aria-describedby="caption-attachment-3305" style="width: 960px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-3305" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কফিনের-কারুকার্যের-ভগ্ন-নকশার-ছবি.jpg" alt="কফিনের কারুকার্যের ভগ্ন নকশার ছবি " width="960" height="717" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কফিনের-কারুকার্যের-ভগ্ন-নকশার-ছবি.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কফিনের-কারুকার্যের-ভগ্ন-নকশার-ছবি-300x224.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কফিনের-কারুকার্যের-ভগ্ন-নকশার-ছবি-768x574.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/01/কফিনের-কারুকার্যের-ভগ্ন-নকশার-ছবি-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" /><figcaption id="caption-attachment-3305" class="wp-caption-text">কফিনের কারুকার্যের ভগ্ন নকশার ছবি</figcaption></figure>
<h4><strong>কবরের আকারঃ</strong></h4>
<p>কবরটি লম্বায় ৩.২৩ মিটার, প্রস্থে ১.৫৬ মিটার এবং এর গভীরতা ১ মিটার। কাস্তার এই সমাধিস্থলে একটি কংকাল ও পাওয়া গেছে তবে তার ছবি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গবেষণাগারে বিশদ গবেষণার পরে হয়ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবশান হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/amphipolis-tomb-hidden-mystery/">কাস্তার সমাধিক্ষেত্র &#8211; দুই হাজার বছরের লুকানো রহস্য</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/amphipolis-tomb-hidden-mystery/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
