জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান: কেইগো হিগাশিনোর জাপানি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মাস্টারপিস (বুক রিভিউ)

জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান (Journey Under the Midnight Sun / জাপানি: 白夜行 – Byakuyakō) হলো আধুনিক জাপানি রহস্য সাহিত্যের অবিসংবাদিত সম্রাট কেইগো হিগাশিনো (Keigo Higashino)-র রচিত এক কালজয়ী ও মহাকাব্যিক সাইকোলজিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার উপন্যাস। ১৯৭৩ সালে ওসাকার এক পরিত্যক্ত ভবনে ঘটে যাওয়া এক বন্ধকী দোকানদারের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে শুরু হওয়া এই উপন্যাস দীর্ঘ ১৯ বছর (১৯৭৩–১৯৯২) ধরে জাপান সমাজের রূপান্তর, অর্থনৈতিক উত্থান-পতন এবং শৈশবের গভীর ট্রমা থেকে জন্ম নেওয়া আলো-আঁধারির এক অবিশ্বাস্য সহাবস্থানকে উন্মোচিত করে। বেনজিন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এর পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ রহস্য ও থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের জন্য এক অমূল্য সাহিত্য উপহার।

📖 কেইগো হিগাশিনোর মাস্টারপিস ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’ বইটি সংগ্রহ করুন:

🛒 রকমারি থেকে অর্ডার করুন

এক নজরে ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’ বই পরিচিতি

জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান বইয়ের প্রচ্ছদ
বইয়ের নাম: জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান (পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ)
মূল লেখক: কেইগো হিগাশিনো (Keigo Higashino)
মূল জাপানি শিরোনাম: 白夜行 (Byakuyakō – হোয়াইট নাইট জার্নি)
প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন (Benzene Prokashon)
জনরা / বিভাগ: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ক্রাইম ফিকশন, জাপানি রহস্য সাহিত্য
মুদ্রিত মূল্য: ৫২৫ টাকা (অফার মূল্য, নিয়মিত ৭৫০ টাকা)
মূল থিম: “আমার জীবনে কখনো সূর্য ছিল না, সবসময় ছিল রাত; কিন্তু তা অন্ধকার ছিল না, কারণ সূর্যের বিকল্প এক আলো আমার সাথে হাঁটত।”

জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান কেইগো হিগাশিনো বই রিভিউ
সূর্যহীন জীবনে মধ্যরাতের আলোর অদ্ভুত মিতালী: কেইগো হিগাশিনোর কালজয়ী সাইকোলজিক্যাল মাস্টারপিস।

১. কেইগো হিগাশিনো ও জাপানি ক্রাইম ফিকশনের এক রাজকীয় স্বর্ণযুগ

বিশ্ব থ্রিলার সাহিত্যের ইতিহাসে জাপানি রহস্য ঘরানা বা ‘হোনকাকু’ ও ‘শিন-হোনকাকু’ ধারার এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকে জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে যে লেখক বৈশ্বিক পাঠকমহলকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছেন, তিনি হলেন কেইগো হিগাশিনো। হিগাশিনোর উপন্যাসের মূল জাদুকরী শক্তি কোনো সস্তা ‘হুডানইট’ (Whodunit বা কে খুন করেছে) ধাঁধায় নয়; বরং তাঁর গভীরতা নিহিত থাকে ‘হোয়াইডানইট’ (Whydunit বা কেন খুন করেছে) এবং ‘হাউডানইট’-এর চরম মনস্তাত্ত্বিক অ্যানাটমিতে।

তাঁর বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স’ (The Devotion of Suspect X) কিংবা ‘ম্যালিস’ (Malice) হয়তো পাঠকদের বুদ্ধিবৃত্তিক মোচড় দিয়েছে, কিন্তু ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’ (Byakuyakō) হলো তাঁর জীবনের এমন এক মহীরুহ সৃষ্টি, যা কেবল একটি গোয়েন্দা গল্প নয়—বরং এটি মানব আত্মার চরম অন্ধকার, বিষাদ, একাকীত্ব ও বেঁচে থাকার আদিম লড়াইয়ের এক নিষ্ঠুর মহাকাব্য। প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার মূল আখ্যানজুড়ে লেখক এমন এক নিপুণ জাল বুনেছেন, যার শেষ পাতায় পৌঁছানোর পর পাঠকদের বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস জমে ওঠে।

২. ওসাকার পরিত্যক্ত ভবন ও এক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড: ১৯৭৩ সালের রক্তিম প্রারম্ভ

উপন্যাসের সূচনা ১৯৭৩ সালের হেমন্তে, জাপানের ওসাকা শহরের এক জরাজীর্ণ, অসমাপ্ত ও পরিত্যক্ত কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে। ভবনটির একটি নির্জন প্রকোষ্ঠে চটের বস্তার ওপর পড়ে থাকে এক মধ্যবয়সী পুরুষের রক্তাক্ত মরদেহ। নিহত ব্যক্তি ওসাকার এক সাধারণ অথচ চতুর বন্ধকী দোকানদার (Pawnshop owner) ইয়োসুকো কিরিহারা। তাঁর বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত এবং পকেট থেকে গায়েব হয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মহামূল্যবান জিনিসপত্র।

তদন্তের দায়িত্ব পান ওসাকা প্রিফেকচারাল পুলিশের তরুণ ও তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন ইনস্পেক্টর জুনজো সাসাগাকি (Junzo Sasagaki)। সাসাগাকি প্রতিটি সূত্র ধরে এগোতে থাকেন। সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে নিহতের তরুণী স্ত্রী, দোকানের বিশ্বস্ত সহকারী এবং একজন রহস্যময়ী নারী ফুমিয়ো নিশিমোতো—যিনি নিহত কিরিহারার বন্ধকী দোকানের নিয়মিত খদ্দের ছিলেন এবং ঘটনার দিন নিহতের সাথে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যখন এক চরম সন্ধিক্ষণে পৌঁছায়, তখন মূল সন্দেহভাজন নারীটি তাঁর নিজ ভাড়া বাসায় রহস্যজনক গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনায় বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা বলে কেস ফাইল ঠান্ডা বাক্সে (Cold Case) ফেলে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু ডিটেকটিভ সাসাগাকির অভিজ্ঞ চোখ মেনে নিতে পারে না যে রহস্যের সমাধান হয়ে গেছে।

৩. রিয়ো ও ইউকিহো: ছায়া ও আলোর এক অদ্ভুত সিমবায়োটিক জগত

হত্যাকাণ্ডের পর দৃশ্যপটে হাজির হয় দুটি ছোট শিশু—নিহত বন্ধকী দোকানদারের বিষাদগ্রস্ত ও চুপচাপ এগারো বছর বয়সী ছেলে রিয়ো কিরিহারা (Ryo Kirihara), এবং আত্মহত্যা করা মূল সন্দেহভাজনের অপূর্ব সুন্দরী ও অস্বাভাবিক পরিপক্ব এতিম মেয়ে ইউকিহো নিশিমোতো (Yukiho Nishimoto)। সাধারণ মানুষের চোখে এই দুটি শিশুর আর কখনো দেখা হয়নি; তাদের জীবন সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন বিপরীতমুখী স্রোতে ভেসে চলে।

কিন্তু হিগাশিনোর এই উপন্যাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও অনন্য আর্কিটেকচার হলো—পুরো উপন্যাসে রিয়ো এবং ইউকিহোকে কখনো প্রকাশ্যে এক টেবিলে বসতে বা একটি বারের জন্যও সামনাসামনি কথা বলতে দেখা যায় না! তবুও অদৃশ্য এক সুতো দিয়ে বাঁধা তাদের পুরো জীবন।

  • ইউকিহোর উত্থান (আলোর জগত): ইউকিহোকে দত্তক নেয় এক ধনী জাপানি পরিবার। সে পড়াশোনায় ফার্স্ট হয়, নিখুঁত ভদ্রতা ও আভিজাত্য শেখে, টোকিওর সম্ভ্রান্ত এলিট সার্কেলে পা রাখে এবং পরবর্তীতে জাপানের ফ্যাশন ও বুটিক সাম্রাজ্যের এক অনিন্দ্যসুন্দরী সম্রাজ্ঞী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু এই নিখুঁত হাসির পেছনে রয়েছে বরফের চেয়েও শীতল এক নিষ্ঠুর হৃদয়।
  • রিয়োর রূপান্তর (অন্ধকারের জগত): অন্যদিকে রিয়ো পরিবারের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ওসাকার আন্ডারগ্রাউন্ড ক্রাইমে তলিয়ে যায়। আশির দশকের উদীয়মান কম্পিউটার প্রযুক্তি, পাইরেটেড ভিডিও গেম, ব্যাংকিং ডেটা জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইল ও পতিতা ব্যবসার অন্ধকার জালে সে হয়ে ওঠে এক অদৃশ্য অশরীরী ছায়া।

যে ব্যক্তিই ইউকিহোর অতীত নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেছে, যে প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিংবা যে পুরুষ তাঁর হৃদয়ের রহস্য উন্মোচন করতে চেয়েছে—রহস্যজনকভাবে সেই মানুষটির জীবন তছনছ হয়ে গেছে, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে অথবা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। আর প্রতিটি ঘটনার পেছনের অন্ধকার গলিপথে নীরবে কাজ করে গেছে রিয়োর ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত মাস্টারপ্ল্যান। এটি এক অদ্ভুত সিমবায়োটিক সম্পর্ক (Symbiotic Relationship)—যেমনটি সমুদ্রে কোরাল ও ছোট মাছের ভেতর দেখা যায়; একজন আলোতে হাসে, অন্যজন তাকে টিকিয়ে রাখতে অন্ধকারে শিকার করে। ঠিক যেমন রোমাঞ্চ আমরা ইতিপূর্বে আমাদের ব্লগে নেমেসিস ক্রাইম থ্রিলারের মানসিক জটিলতায় প্রত্যক্ষ করেছি।

৪. দীর্ঘ ১৯ বছরের এক অবিচল তদন্ত: ডিটেকটিভ সাসাগাকির অনমনীয় যাত্রা

সাধারণ থ্রিলারে নায়ক বা পুলিশ খুব দ্রুত ক্লু খুঁজে পায়। কিন্তু ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’-এ সত্যের উন্মোচন কোনো সহজ পথ নয়; এটি দীর্ঘ ১৯ বছরের এক ক্লান্তিকর, অবসেসিভ অনুসন্ধান। ইনস্পেক্টর সাসাগাকি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও সেই পুরনো ওসাকা হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি ভুলে যাননি। তাঁর মনে কেবল একটি দৃশ্য খোদাই করা ছিল—১৯৭৩ সালের সেই লাইব্রেরির ঘরে বসে রিয়ো কীভাবে কাগজের পাতা দিয়ে নিখুঁতভাবে সুন্দর সুন্দর জীবজন্তুর অবয়ব কেটে বানাত, আর ইউকিহো কীভাবে নিঃশব্দে ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ উপন্যাস পড়ত।

সাসাগাকি দীর্ঘ দুই দশক ধরে জাপানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান। ওসাকার ধুলোবালি থেকে টোকিওর ঝকঝকে স্কাইস্ক্র্যাপার পর্যন্ত তিনি লক্ষ্য করেন—ইউকিহোর জীবনে যত বড় সাফল্য এসেছে, তার ঠিক সমান্তরালে রিয়োর অপরাধের পরিধিও তত বিস্তৃত হয়েছে। সাসাগাকি বুঝতে পারেন, তাঁরা দুজন আসলে একটি একক সত্তা। তাদের আত্মার একটি অংশ বহু বছর আগে ওসাকার সেই পরিত্যক্ত অন্ধকার বিল্ডিংয়ে চিরতরে মারা গিয়েছিল, আর অবশিষ্ট অংশ বেঁচে থাকার জন্য সারা পৃথিবীকে এক নিষ্ঠুর দাবার বোর্ডে পরিণত করেছে। সাসাগাকির এই অনমনীয় চরিত্রটি স্মরণ করিয়ে দেয় ক্লাসিক সাহিত্যের সেই মহান গোয়েন্দাদের—যা আমাদের পাঠকরা শার্লক হোমসের নিখুঁত ডিডাকশন মেথডোলজিতে দেখতে পান।

📚 জাপানি সাহিত্যের অন্যতম সেরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারটি আজই রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন:

🛒 রকমারি থেকে কিনুন

৫. জাপানের বাবল ইকোনমি ও সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর দলিল

এই বইটির আরেকটি অসাধারণ দিক হলো এর ঐতিহাসিক ও সামাজিক পটভূমি। উপন্যাসটি কেবল একটি খুনের গল্প নয়; এটি সত্তরের দশকের তেল সংকট থেকে শুরু করে আশির দশকের শেষভাগের জাপানের বিখ্যাত ‘বাবল ইকোনমি’ (Bubble Economy) এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সেই বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার সামাজিক ক্ষতকে নিখুঁতভাবে চিত্রায়িত করেছে।

সেই সময়ে জাপানে মানুষের অর্থের লোভ, শেয়ার বাজারের লাগামহীন উন্মাদনা, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং পারিবারিক বন্ধনের চরম ভাঙন ঘটেছিল। আধুনিক করপোরেট সফলতার পেছনে মানুষ কতটা নিঃসঙ্গ ও অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছিল—যেমনটি জাপানের সমাজে হরহামেশাই দেখা যায় এবং যা আমাদের গবেষকগণ আউকিগাহারা বনের মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় জাপানি সমাজের একাকীত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—কেইগো হিগাশিনো ঠিক সেই কর্পোরেট সমাজের মুখোশটি এই উপন্যাসে এক টানে খুলে ফেলেছেন। ইউকিহো ও রিয়ো হলো সেই লোভী ও ভোগবাদী সমাজেরই এক অবধারিত দানবীয় উপজাত (Byproduct)।

৬. তুলনামূলক টেবিল: কেইগো হিগাশিনোর সেরা থ্রিলারসমূহ

হিগাশিনোর সাহিত্যের গভীরে প্রবেশ করতে হলে তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত বইগুলোর সাথে ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’-এর কাঠামোগত পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। নিচে একটি তুলনামূলক ছক তুলে ধরা হলো:

উপন্যাসের নাম মূল থিম ও প্লট গঠন তদন্তকারী চরিত্র পাঠকের মানসিক অনুভূতি
জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান
(Journey Under the Midnight Sun)
১৯ বছরের মহাকাব্যিক ক্যানভাস, শৈশবের অন্ধকার ট্রমা ও দুজন মানুষের অদৃশ্য সহাবস্থান ডিটেকটিভ জুনজো সাসাগাকি (অধ্যবসায়ী পুলিশ) গভীর বিষাদ, শীতল আতঙ্ক ও মানব প্রকৃতির জটিলতায় স্তম্ভিত হওয়া
দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স
(The Devotion of Suspect X)
ভালোবাসার চূড়ান্ত আত্মত্যাগ ও গণিতবিদ বনাম পদার্থবিদের বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বৈরথ প্রফেসর মানাবু ইউকাওয়া (ডিটেকটিভ গ্যালিলিও) তীব্র আবেগ, যুক্তি বনাম ভালোবাসার চরম ট্র্যাজেডি
ম্যালিস
(Malice)
মানুষের অন্তরের অমূলক হিংসা ও মিথ্যা বর্ণনাকারীর বয়ান (Unreliable Narrator) ডিটেকটিভ কিয়োইচিরো কাগা মানুষের মনের অন্ধকার ঈর্ষার ভয়াল রূপ দেখে শিহরিত হওয়া
সালভেশন অব আ সেন্ট
(Salvation of a Saint)
নিখুঁত বিষপ্রয়োগের এক অসম্ভব অপরাধ (Perfect Crime) ও দাম্পত্য রহস্য মানাবু ইউকাওয়া ও কাওরু উতসুমি পরিকল্পনার নিখুঁত জ্যামিতিক কাঠামো দেখে মুগ্ধ হওয়া

৭. মধ্যরাতের সূর্যের নিচে পথচলা: শৈশবের ট্রমা ও সেই অবিস্মরণীয় ক্লাইম্যাক্স

উপন্যাসের নামটি এসেছে ইউকিহোর জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি থেকে:

“আমার আকাশে কখনো সূর্য ছিল না, সবসময় ছিল রাত। কিন্তু রাত বলে আমি অন্ধকারে হারিয়ে যাইনি; কারণ সূর্যের বিকল্প এক আলো সবসময় আমার আকাশে জ্বলত। যদিও তা সূর্যের মতো উজ্জ্বল ছিল না, কিন্তু তা আমার পথ চলার জন্য যথেষ্ট ছিল। সেই আলোর ওপর ভর করেই আমি অন্ধকারকে দিন বানিয়ে হেঁটে চলেছি।”

এই মধ্যরাতের সূর্য আসলে কে? সে হলো রিয়ো। তারা দুজন এমন এক ভয়ংকর শৈশব ট্রমার শিকার হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। নিজেদের বাঁচানোর জন্য শৈশবে তারা যে পাপের অংশীদার হয়েছিল, সেই পাপের দাগ মুছতেই তারা আজীবন একে অপরের ছায়া হয়ে বেঁচে রইল।

উপন্যাসের ক্লাইম্যাক্সটি ১৯৯২ সালের ক্রিসমাসের প্রাক্কালে ওসাকার এক নতুন বুটিক শপের উদ্বোধনী দিনে আবর্তিত হয়। সান্টাক্লজের পোশাকে উপস্থিত সেই রহস্যময় ছায়া, লাল রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝে এবং ইউকিহোর পাথরের মতো নিস্পৃহ চোখের সেই শেষ চাহনি—সাহিত্যের ইতিহাসে খুব কম উপন্যাসই এমন স্তব্ধ করে দেওয়া ক্লাইম্যাক্স সৃষ্টি করতে পেরেছে। শেষ পৃষ্ঠায় যখন ইউকিহো পেছন ফিরে না তাকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যায়, তখন পাঠক বুঝতে পারেন—মধ্যরাতের সূর্য চিরতরে নিভে গেছে, আর সে একা অনন্ত অন্ধকারের দিকে এগিয়ে চলেছে। যেমনটি জাপানি জীবনদর্শনে দেখা যায় মাকোতো শিনকাইয়ের মানবিক নিঃসঙ্গতার আখ্যানে, হিগাশিনো এখানে সেই বিষাদকে নিয়ে গেছেন এক চরম রোমহর্ষক শিখরে।

৮. বেনজিন প্রকাশনের বাংলা অনুবাদ ও প্রকাশনা মান

জাপানি সাহিত্যের অনুবাদ করা সবসময়ই এক দুরূহ কাজ, বিশেষ করে যখন কাহিনীটি ১৯ বছরের দীর্ঘ সময়কাল এবং জটিল জাপানি সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা ধারণ করে। বেনজিন প্রকাশন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এই সুবিশাল মহাকাব্যিক উপন্যাসের পূর্ণাঙ্গ ও অবিকৃত বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে।

বইটির ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল, গতিশীল এবং মূল জাপানি নোয়ার (Noir) আমেজ শতভাগ অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওসাকার আঞ্চলিক দ্বান্দ্বিক টানাপোড়েন থেকে শুরু করে কম্পিউটার ডেটার সূক্ষ্ম প্রযুক্তিগত বিবরণ—সবকিছুই সাবলীল বাংলায় অনূদিত হয়েছে। মজবুত হার্ডবাউন্ড বাঁধাই, ঝকঝকে অফহোয়াইট কাগজ এবং চিত্তাকর্ষক প্রচ্ছদের কারণে যেকোনো সিরিয়াস থ্রিলারপ্রেমীর বইয়ের তাকে এটি একটি স্থায়ী রত্ন হয়ে থাকবে।

৯. কেন প্রতিটি থ্রিলারপ্রেমীর এই বইটি অবশ্যই পড়া উচিত?

  • অতুলনীয় কাহিনীর বুনন: ১৯ বছরের টাইমলাইনে শত শত চরিত্র ও ছোট ছোট ঘটনার এমন নিখুঁত যোগসূত্র আধুনিক বিশ্বসাহিত্যে অত্যন্ত বিরল।
  • সাইকোলজিক্যাল গভীরতা: এটি কেবল খুনের রহস্য নয়; এটি ভালোবাসা, অপরাধবোধ, মানসিক ট্রমা ও নিঃসঙ্গতার এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ।
  • রোমাঞ্চকর পেজিং: একবার পড়া শুরু করলে হাজার পৃষ্ঠার বিশালতা সত্ত্বেও বইটি হাত থেকে নামিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
  • রকমারির সাশ্রয়ী অফার: নিয়মিত ৭৫০ টাকার এই বৃহদাকার মাস্টারপিসটি রকমারি ডট কম-এ বিশেষ ছাড়ে মাত্র ৫২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Schema FAQ)

প্রশ্ন ১: ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’ বইটির মূল রহস্য কী?

উত্তর: এটি ১৯৭৩ সালে ওসাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিহত এক বন্ধকী দোকানদারের অমীমাংসিত খুনের তদন্তকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ছেলে রিয়ো এবং প্রধান সন্দেহভাজনের মেয়ে ইউকিহো দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে সমাজ ও অপরাধের দুই মেরুতে বাস করে এক অদৃশ্য সম্পর্কের মাধ্যমে একে অপরকে রক্ষা করে চলে।

প্রশ্ন ২: এটি কি ‘দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স’-এর চেয়েও বড় উপন্যাস?

উত্তর: হ্যাঁ। আকারের দিক থেকে এটি কেইগো হিগাশিনোর অন্যতম দীর্ঘতম ও মহাকাব্যিক উপন্যাস। কাহিনীর গভীরতা, টাইমস্প্যান (১৯ বছর) এবং মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সমালোচক একে হিগাশিনোর সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন।

প্রশ্ন ৩: বইটি কি কোনো টিভি সিরিজ বা সিনেমায় রূপান্তর করা হয়েছে?

উত্তর: হ্যাঁ, উপন্যাসটির বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে জাপানে ২০০৬ সালে একটি কালজয়ী টিভি ড্রামা সিরিজ এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়াতেও এর একটি সফল সিনেমা রূপান্তর রয়েছে।

প্রশ্ন ৪: বেনজিন প্রকাশনের অনুবাদটি কি সংক্ষিপ্ত নাকি পূর্ণাঙ্গ?

উত্তর: এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিকৃত অনুবাদ। মূল কাহিনীর কোনো দৃশ্য বা অধ্যায় বাদ না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বজায় রেখে বইটি বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৫: বইটি রকমারি থেকে কীভাবে সংগ্রহ করা যাবে?

উত্তর: রকমারি ডট কম-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’ সার্চ করে অথবা নিচের বোতামে ক্লিক করে ঘরে বসেই ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বইটি অর্ডার করতে পারেন।

⚡ আজই শুরু হোক জাপানের সর্বশ্রেষ্ঠ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের যাত্রা!
রকমারি থেকে ‘জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান’ বইটি সর্বোচ্চ ছাড়ে ও হোম ডেলিভারিতে সংগ্রহ করুন।

🛒 রকমারি থেকে অর্ডার করুন

Comments are closed.