x-video.center fuck from above. azure storm masturbating on give me pink gonzo style. motphim.cc sexvideos

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ: আরবদের পরাজয় ও ইসরায়েলের যুদ্ধবাজির ভেল্কি

1

১৯৪৮ সালের ১৪ মে, ইতিহাসের পাতায় নতুন এক  অধ্যায়ের সূচনা হয় ৷ আরব ভূখন্ড ফিলিস্তিনের এক অংশ দখল করে ইসরাইল নামক ইহুদি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় ৷ স্বাভাবিক ভাবেই আরবদের তা মেনে নেয়ার কথা নয় ৷ ফলশ্রুতিতে আরবের কয়েকটি দেশ একত্রিত হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় ইসরাইলের বিপক্ষে ৷ ইতিহাসে আরব-ইসরাইল সংঘাত যেন অনেকটা রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মতো, ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’৷ দুই রাষ্ট্রের সংঘাতের রেশ যেন চলতেই থাকে ! ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত চার দফায় আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে যুদ্ধে জড়ায় ইসরাইল ৷ কিন্তু প্রতিবারই ইসরাইল পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থনে জয়ী হয় ৷ সুদূর মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে বিশ্ববাসী অবলোকন করে আরব রাষ্ট্রের পক্ষে অকুতোভয় এক বাঙালি বীরের অবদান ৷

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
Source: Pakistan Today

আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

রোমানদের দ্বারা নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদি সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবধারায় প্যালেস্টাইনকে মনেপ্রাণে নিজেদের ভূমি হিসেবে ভাবতো ৷ কিন্তু ঐতিহাসিক কারণে অঞ্চলটি আরবদের দখলকৃত হওয়ায় এটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই পরিচিত ছিল ৷ ১৮৮২ সাল থেকেই মূলত শুরু হয়েছিল অভিবাসন প্রক্রিয়া; বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে প্যালেস্টাইনে ঘাঁটি জমাতে থাকে ইহুদিরা ৷ ১৮৯৬ সালে সাংবাদিক থিওডোর হার্জলের লেখা বই The Jewish State এ ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার কথা বললে বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে ৷ ইহুহিরা প্যালেস্টাইনে ঘাঁটি জমিয়ে যেন এরই প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করছিল ৷ হার্জলের উদ্দ্যোগে ১৮৯৭ সালে ইহুদিদের জন্য “World Zionist Organization” ও গঠন করা হয় ৷ তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদিরা প্যালেস্টাইনে এসে বসতি গড়তে শুরু করে ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক “বেলফোর ঘোষণার” পর থেকে ৷ ঘটনার হোতা আর্থার বেলফোর স্বয়ং ৷ তিনি ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে প্যালেস্টাইনকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন আর এতেই প্যালেস্টাইনে ক্রমশ বাড়তে থাকে ইহুদিদের সংখ্যা। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে ইউরোপে হিটলারের “ইহুদি নিধন” কার্যক্রম শুরু হলে পরিত্রাণের আশায় লক্ষ লক্ষ ইহুদি প্যালেস্টাইনে পালিয়ে আসে ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির মাধ্যমে বিশ্বে অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ায় ম্যান্ডাটরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্যালেস্টাইন ছেড়ে চলে যায় ৷ ঘটনাটা হচ্ছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে প্যালেস্টাইন এলাকা ছিল তুরস্ক সুলতানদের অধীন। তখন ব্রিটিশ সরকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তুরস্কের সুলতানের বিরুদ্ধে আরবেরা বিদ্রোহ করলে প্যালেস্টাইন সহ যে সমস্ত আরব এলাকা তুর্কি শাসনাধীন ছিল তা স্বাধীনতা লাভ করবে । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের পর আরবেরা তুর্কি শাসনের কবল থেকে বেরিয়ে এলেও ১৯২০ সালের লীগ অব নেশনসের ম্যান্ডেট অনুযায়ী এই এলাকা ব্রিটিশ শাসনাধীনই রয়ে যায়।

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
Source: Finance Twitter

ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শেষ হয় ১৯৪৮ সালের ১৫ মে। এরপরেই ইসরাইলিদের সাথে মার্কিনিদের আঁতাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে আরব ইহুদি দ্বন্দ্ব। কারণ, নিজেদের ভূখন্ডের ভেতরে ইহুদিদের আধিপত্য কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না আরবেরা ৷ জাতিসংঘ অবশ্য একটা মধ্যস্হতা করার চেষ্টা করে ৷ ১৯৪৭ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনকে আরব এবং ইহুদিদের মধ্যে ভাগাভাগি করে (প্যালেস্টাইনের এক অংশকে ইসরাইল হিসেবে) দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করলেও আরবেরা তা মেনে নেয় নি। কাগজে কলমে ব্রিটিশদের ম্যান্ডেট ১৫ তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১৪ তারিখ রাতেই ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়নের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইনের তেল আবিবে ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় ৷ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান তৎক্ষণাৎ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেন ৷ সোভিয়েত ইউনিয়নও ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের প্যালেস্টাইন বিভাজনে ভোট দিয়েছিল ৷ আরবের বেশ কয়েকটি দেশ প্যালেস্টাইনের সহায়তায় এগিয়ে আসলেই শুরু হয়ে যায় সংঘাত ৷ আর সেই সংঘাত চলতে থাকে যুগের পর যুগ ধরে ৷ চারদফায় সংঘটিত হয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ৷

প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ (১৫ মে,১৯৪৮ – ৯ জানুয়ারি, ১৯৪৯)

১৪ মে স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই আরবদের টনক নড়ে ৷ পরদিনই ১৫ মে ইসরাইলি শক্তিকে আমলে না নিয়ে হঠাৎ করেই আরবদের পক্ষে সিরিয়া, লেবানন, মিশর, ইরাক ও ট্রান্স জর্ডান একত্রিত হয়ে ইসরাইল আক্রমণ করে বসে ৷ শুরু হয় ইতিহাসের প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ৷ প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধের স্হায়িত্বকাল ছিল ১৯৪৮ এর ১৫ মে থেকে ৯ জানুয়ারি ১৯৪৯ পর্যন্ত ৷ আরব দেশ গুলো যুদ্ধের প্রথমদিকে বেশ সাফল্যই দেখাচ্ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ধোপে টিকেনি ৷ সেসময় আরব লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘আরব লিবারেশন আর্মি’ নামে একটি গেরিলা সংস্হা গঠিত হলেও তা নবগঠিত ইসরাইলি রাষ্ট্রের বিপক্ষে দাঁড়ানোর মতো ক্ষমতাধর ছিল না ৷

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
Source: ATV

আরবদের সার্বিক পরাজয়ের ভেতর দিয়ে শেষ হয় প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধ ৷ আরব বাহিনী সংখ্যায় এবং দক্ষতায় দুদিক থেকেই ইসরাইলি হাগানা (ব্রিটিশদের মদদে ইহুদিদের গোপন সংগঠন) বাহিনীর চেয়ে নিম্নমানের ছিল ৷ উন্নত মানের অস্ত্র ও বেন গুরিয়নের নেতৃত্বে দক্ষ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে শোচনীয়ভাবে পরাজয় ঘটে সম্মিলিত আরব বাহিনীর ৷ এই যুদ্ধের ফলে প্রায় ৭ লক্ষ আরব ইসরাইল এলাকা ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয় এবং শরণার্থী হয়ে পড়ে। ইসরাইলের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে কিছু সংখ্যক আরব রয়ে যায় সেখানেই ৷ আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অজুহাত দেখিয়ে ইসরাইল জাতিসংঘ কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভূমির চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ বেশি ভূমি দখল করে দেশের সীমানা সুসংগঠিত করে ৷ যুদ্ধে ট্রান্সজর্ডান জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে সরকারিভাবে “হ্যাশেমাইট কিংডম অব জর্ডান” নামকরণ করে আর গাজা ভূখন্ড চলে আসে মিশরের দখলে ৷ ইসরাইলিরা দখল করে পশ্চিম জেরুজালেম ৷ আরবদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত ইহুদিদের উৎখাত করা অন্যদিকে ইসরাইলিদের উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা ৷ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আরব-ইসরাইলের এই প্রথম যুদ্ধই প্যালেস্টাইনকে দু ভাগে ভাগ করে জাতিসংঘের বিভাজন প্রক্রিয়াকে এক ধরনের স্বীকৃতি দেয় ৷ প্যালেস্টাইন বিভক্ত হয়ে এক ভাগ ইসরাইল অন্যভাগ প্রশাসন বঞ্চিত প্যালেস্টাইন এ পরিণত হয় ৷ নতুন বিভক্ত প্যালেস্টাইনে শুরু হয় আরবদের দুর্দশার দিন ৷ আরব- ইসরাইলিদের প্রথম যুদ্ধটি ছিল ইসরাইলিদের নিকট স্বাধীনতার যুদ্ধ ৷

দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ (অক্টোবর ২৯,১৯৫৬- নভেম্বর ৭, ১৯৫৬)

১৯৫৬ সালের অক্টোবরের ২৯ তারিখ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ডাইয়ান এর নেতৃত্বে ইসরাইল বাহিনী আকাশ ও স্হল উভয় পথে মিশরে আক্রমণ চালায় ৷ আক্রমণের হেতু ছিল মিশরের সুয়েজ খাল ৷ ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের ক্ষমতায় এসেই মিশরকে বহিরাগতদের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং ইসরাইলের জন্য সুয়েজ খাল বন্ধ ঘোষণা করেন ৷ স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে দেশ গুলো মিশর আক্রমণের পরিকল্পনা করে ৷ শুরু হয় সুয়েজ খাল জাতীয়করণকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফা আরব-ইসরাইল যুদ্ধ যার স্হায়িত্ব বেশিদিন ছিল না ৷ ইতিহাসে এটি সুয়েজ যুদ্ধ নামেও পরিচিত ৷ অক্টোবর ২৯, ১৯৫৬ থেকে নভেম্বর ৭, ১৯৫৬ পর্যন্ত চলে যুদ্ধ ৷ বহির্বিশ্বের প্রচন্ড চাপ ও সমালোচনার মুখে তাদেরকে মিশর থেকে সরে আসতে হয় ৷ মূলত সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার হুমকিতেই ইসরাইল যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় ৷ সুয়েজ খাল রয়ে যায় মিশরেই ৷ এ যাত্রায় আরববাসী রক্ষা পেলেও ইসরাইলি বাহিনীর হাতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের মতো মিশরীয় নিহত হয় ৷

 আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
Source: Wazi Africa

তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ (১৯৬৭ সালের ৫-১০ জুন)

ইসরাইল এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর তিক্ততা দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছিল ৷ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাবও কিছুটা পড়ে ৷ প্রথম থেকেই ইসরাইলের মদদদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল ৷ ১৯৪৮ সালের প্রথম যুদ্ধের পরপরই ইসরাইল তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার জোর প্রচেষ্টা শুরু করে । ষাট এর দশকে ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের কাছ থেকে যুদ্ধ বিমান ও ট্যাংক ক্রয় করে ইসরাইল। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন আধুনিক বিমান ব্যবস্থা দিয়ে মিশরকে সাহায্য করলেও কৌশলগত দিক দিয়ে ইসরাইলের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি ৷ আরব- ইসরাইল যুদ্ধের শুরু থেকে ইসরাইলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল সামরিক কর্মকর্তা আইজ্যাক রবিন ৷ ১৯৬৭ সালে তিনি ইসরাইল সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন ৷ বিগত দুটি যুদ্ধের বিজয়ী ইসরাইল ঠিকই জানতো প্রতিবেশী আরব দেশগুলো চুপ করে বসে থাকবে না, আবারও আক্রমণের চেষ্টা চালাবে ৷ প্রকৃতপক্ষে উভয় পক্ষই আরেকটি যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল ৷ ১৯৬৭ সাল নাগাদ ইসরাইল একটি দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলে এবং পরমাণু শক্তি অর্জনের কাছাকাছি চলে যায়। মিশর ও সিরিয়ার বিমান বাহিনী শক্তিশালী থাকলেও সেনাবাহিনী ছিল দুর্বল ৷ আরব এবং ইসরাইলের মধ্যে ক্রমাগত তিক্ততা এবং সীমান্তে ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৭ সালে তৃতীয় দফায় যুদ্ধ শুরু হয়। জুন মাসের ৫ তারিখ সকালে মিশরকে মূল টার্গেট বানিয়ে সিনাই উপদ্বীপে ইসরাইলি সীমান্তে মিশরের সেনা সমাবেশের পর আরবদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে অতর্কিত হামলা চালায় ইসরাইল ৷

৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ইসরাইলের সাথে মিশর,জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘটিত হয় মাত্র ছয়দিন ব্যাপি তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ যার ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ৷ ছয়দিনের যুদ্ধকে জুন যুদ্ধও বলা হয়। ইসরাইলিরা বছরের পর চেষ্টা চালিয়ে আরবদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপন নকশা জোগাড় করেছে। এছাড়া ইসরাইলিরা পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোরও পরিকল্পনা করেছিল যার সাঙ্কেতিক নাম ছিল শিমশন বা স্যামসান ৷ ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর কাছে আরবরা লজ্জাজনকভাবে হেরে যায়৷ বিশ্লেষকেরা অবশ্য এ পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে আরবদের অনৈক্য এবং নাসেরের যুদ্ধ বিষয়ক অজ্ঞতাকে দায়ী করে থাকেন ৷

পরাজিত হওয়ার দরুন আরব বাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল৷ মিশরকে হারাতে হয় ১০-১৫ হাজার সেনা আর জর্ডানে নিহত হয় ছয় হাজারের মতো সেনা সদস্য ৷ পক্ষান্তরে ইসরাইল হারায় ১ হাজার যোদ্ধা, ৪৬ টির মতো বিমান ৷ পরাজয় সহ্য করতে না পেরে পরের বছর ১৯৬৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় নাসেরের।

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
Source: Belfast Child

আরবের পক্ষ হয়ে ইসরাইলের বিপক্ষে লড়াই করে বিশ্বদরবারে এক অভূতপূর্ব সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন বাঙালি ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম। যদিও আরব বাহিনী পরাজিত হয় যুদ্ধে কিন্তু জর্ডানের মাফরাক ঘাঁটি থেকে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে অংশ নিয়ে ইসরাইলের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যুদ্ধ বিমানকে ভূপাতিত করার একক গৌরব অর্জন করেন তিনি ৷ ইসরাইলি বাহিনী মিশরের কাছ থেকে গাজা উপত্যকা ও সিনাই উপদ্বীপ, জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি ছিনিয়ে নেয় ৷

ছয়দিনের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ইহুদিদের পবিত্র ভূমি জেরুজালেম ইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে সেখান থেকে বহু ফিলিস্তিনীকে বিতাড়িত করা হয় ৷ ফলশ্রুতিতে নতুন ইসরাইল পুরোনো ইসরায়েলের চেয়ে তিন গুণ বিশাল হয়ে যায় ৷ জাতিসংঘের মধ্যস্হতায় ছয়দিনের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলেও আরব-ইসরাইল বিবাদের অবসান হয়নি বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলিদের আধিপত্য আরো বেড়ে যায় ৷

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে পিএলও (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন) নামে গেরিলা তৎপরতা চালানোর নিমিত্তে ইসরাইলের বিপক্ষে একটি সংগঠন গড়ে উঠে ৷

চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ (১৯৭৩ সালের ৬-২৪ অক্টোবর)

মাঝে কিছুদিন চলে যুদ্ধবিরতি ৷ আরবেরা হয়তো অপেক্ষার প্রহর গুণছিল প্রতিশোধ নেয়ার আশায়৷ ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাস, ইসরাইলে তখন চলছে ইয়ম কিপুর (ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব) ৷ আরব বাহিনী সুয়েজ খাল পেরিয়ে বারলেভ লাইন (ইসরাইলে অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম সুরক্ষিত প্রতিরক্ষা ব্যুহ) তছনছ করে দিয়ে সিনাই উপত্যকায় প্রবেশ করে অকস্মাৎ আক্রমণ চালায় যা ইসরাইলিরা কল্পনাও করতে পারেনি ৷ অবশ্য এর আগের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে ফিলিস্তিনের স্বঘোষিত এক জঙ্গী সংগঠন ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ মিউনিখ অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ১১ জন ইসরাইলি এথলেটকে হত্যা করে কয়েকটি আরব দেশের সাহায্যে ৷ ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্হা মোসাদ গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে ঘটনার দুই দিনের মধ্যে লেবানন ও সিরিয়ার ১০ টির মতো পিএলওর ঘাঁটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় ৷ যাই হোক, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে ফিরে আসা যাক! আরবদের আকস্মিক আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া যুদ্ধকৌশলে দক্ষ ইসরাইল বাহিনী দ্রুত দলকে সুসজ্জিত করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ৷ ১৯৭৩ সালের ৬ থেকে ২৪ অক্টোবর ১৮ দিন ব্যাপী চলে ইতিহাসের চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ৷ কর্নেল নাসেরের মৃত্যুর পর মিশরের ক্ষমতায় আনোয়ার সাদাত অধিষ্ঠিত হলে তাঁর নেতৃত্বে মিশর ও সিরিয়া সংঘবদ্ধ হয়ে ১৯৬৭ এর যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ও তাদের হারানো ভূমি সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধার করতেই মূলত যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে ইয়ম কিপুরের দিন অতর্কিত হামলা চালায় ৷ আরবের ইতিহাসে যা ‘অক্টোবর যুদ্ধ’ এবং ইসরাইলিদের ইতিহাসে ‘ইয়ম কিপুরের’ যুদ্ধ নামে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ৷

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
Source: HistoryNet

যুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সাফল্য অর্জন করলেও শেষপর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় নি ৷ মিশর ও সিরিয়াকে যথাক্রমে ইরাক, জর্ডান, মরক্কো, আলজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরব প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে ৷ কিন্তু ইসরাইলের মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্যের কারণে আরব বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় ৷ আরবরা এ অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ স্বরূপ ইসরাইল সমর্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ও পশ্চিমা দেশগুলোতে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এমনকি এটাও শোনা যায়, ইয়ম কিপুরের যুদ্ধের সময়ও ইসরাইলের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলেন ৷ সামগ্রিক পরিস্হিতি বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে সিনাই এবং সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে গোলান মালভূমিতে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ৷ অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে ২৫ অক্টোবর যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে ৷ আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার্থে পরাজিত হওয়ার পর আনোয়ার সাদাত ইসরাইলের সাথে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি সই করেন ১৯৭৮ সালে ৷

যুদ্ধে দুপক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশ অনেক ছিল ৷ আরব পক্ষে ৮ থেকে ১৮ হাজার নিহত, ১৮ থেকে ৩৫ হাজার আহত, ৮ হাজারের বেশি যুদ্ধবন্দী,  হাজার দুই এর বেশি ট্যাঙ্ক এবং ৩৫০-৫০০ বিমান ধ্বংস এবং ১৯টি যুদ্ধ জাহাজ ডুবে যায়। ইসরায়েলের পক্ষে আড়াই থেকে তিন হাজার নিহত, সাড়ে সাত থেকে ৯ হাজার আহত, ২৯৩ জন যুদ্ধবন্দী, ৪০৭ ট্যাঙ্ক ধ্বংস প্রাপ্ত ও ১০২ টি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস প্রাপ্ত হয় ৷

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি

একের পর এক আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্ব রাষ্ট্র গুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছিল একেবারে ৷ পুরো বিশ্বের উপরও বেশ প্রভাব পড়ছিল ৷ আর এ থেকে পরিত্রাণ পেতেই শান্তির ভিত প্রতিষ্ঠা করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় মিশর এবং ইসরাইলের মাঝে। প্রায় বারো দিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিড নামক স্হানে গোপন বৈঠকের পর ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্হতায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন হোয়াইট হাউসে ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন ৷ এই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ছিল ইসরাইল অধিকৃত সিনাই উপদ্বীপ পুনরায় মিশরকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঐ এলাকায় স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করা ৷ এই শান্তি চুক্তির জন্য আনোয়ার আল সাদাত ও মেনাখেম বেগিন ১৯৭৮ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ৷ এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠায় মিশরের সাথে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ে ৷ এমনকি আরব লীগ থেকেও সদস্যপদ বাতিল হয়ে পড়েছিল ৷ পরবর্তীতে অবশ্য আবার যোগদান করে মিশর ৷

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইতিহাসে আরব- ইসরাইল সংঘাতের অবসান ঘটলেও এর রেশ যেন শেষ হবার নয় ৷ বর্তমানে ইসরাইলের সাথে গাজা বা ফিলিস্তিনের যে বিরোধ পরিলক্ষিত হয় তা এই যুদ্ধেরই প্রভাব বলা চলে ৷ ইসরাইলে এতদিন ইহুদিদের আধিপত্যই ছিল ৷ কিন্তু গত মাসে (১৯ জুলাই, ২০১৮) বিশ্বের একমাত্র ইহুদী জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে দেশটির পার্লামেন্টে আইন পাশ হওয়ায় দেশটি যেন আবার এক নতুন পরিচয় পেল ৷ আরব জাতির সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে জেরুজালেমের একাংশ দখল করে উপনিবেশ গড়ে তোলা ইসরাইল জেরুজালেমকে ঘোষণা দিয়েছিল রাজধানী হিসেবে ৷ পরবর্তীতে ছয়দিনের যুদ্ধে (তৃতীয় যুদ্ধ) পুরো জেরুজালেমই দখল করে নিলেও ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে থাকে ৷ এদিকে নতুন আইনে সম্পূর্ণ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ৷ দেখা যাক জল কতদূর গড়ায়!

Source Feature Image
Leave A Reply

Your email address will not be published.

1 Comment
  1. marizonilogert says

    I have been absent for a while, but now I remember why I used to love this blog. Thanks , I’ll try and check back more frequently. How frequently you update your web site?

sex videos ko ko fucks her lover. girlfriends blonde and brunette share sex toys. desi porn porn videos hot brutal vaginal fisting.