পুরনো ফোন রিসাইক্লিং: ই-বর্জ্য থেকে সোনা ও মূল্যবান ধাতু উত্তোলনের প্রযুক্তি

আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং একই সাথে সবচেয়ে মূল্যবান বর্জ্যের নাম ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য (E-Waste)। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৩০ কোটি (৫.৩ বিলিয়ন) মোবাইল ফোন বাতিল বা অকেজো হিসেবে মানুষের বাড়ির ড্রয়ারে কিংবা আবর্জনার ভাগাড়ে জমা হয়। আপাতদৃষ্টিতে ভাঙা স্ক্রিন ও অকেজো প্লাস্টিক-মেটালের খোলস মনে হলেও এই পরিত্যক্ত ডিভাইসগুলোর গভীরেই লুকিয়ে রয়েছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ও অবিশ্বাস্য এক খনিজ সম্পদ। ভূতত্ত্ব ও আধুনিক রসায়নের একটি বিস্ময়কর পরিসংখ্যান হলো: ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক খনির ১ টন উচ্চমানের স্বর্ণ আকরিক (Gold Ore) খনন ও প্রক্রিয়াজাত করে গড়ে মাত্র ৩ থেকে ৫ গ্রাম খাঁটি সোনা পাওয়া যায়; অথচ ১ টন বাতিল স্মার্টফোনের সার্কিট বোর্ড প্রক্রিয়া করলে পাওয়া যায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম খাঁটি সোনা—যা প্রাকৃতিক খনির তুলনায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ গুণ বেশি ঘনীভূত।

মাটি খুঁড়ে পাহাড় ধ্বংস না করে শহরের এই বিশাল ইলেকট্রনিক আবর্জনা থেকে মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধারের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় আরবান মাইনিং (Urban Mining)। আধুনিক বিজ্ঞান ও শিল্পোদ্যোগের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই রিসাইক্লিং প্রযুক্তি কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষা করছে না, বরং অর্থনীতিতে জন্ম দিচ্ছে শত কোটি ডলারের এক বৃত্তাকার বাজার (Circular Economy)।

পরিত্যক্ত সার্কিট বোর্ড এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু নিষ্কাশন
আরবান মাইনিং: ড্রয়ারে পড়ে থাকা বাতিল স্মার্টফোনের সার্কিট বোর্ডে লুকিয়ে থাকা মহামূল্যবান সোনার ভাণ্ডার

স্মার্টফোনে কেন সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করা হয়?

একটি স্মার্টফোনের ভেতর সোনা কেন থাকে—তা বুঝতে হলে পদার্থবিজ্ঞানের ধাতুবিদ্যা ও সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক নীতিগুলো জানা প্রয়োজন। তামা ও রূপা বিদ্যুৎ পরিবহনে অত্যন্ত দক্ষ হলেও বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে এগুলোতে দ্রুত মরিচা (Oxidation ও Corrosion) ধরে যায়। কিন্তু সোনা (Chemical symbol: Au) হলো পর্যায় সারণীর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় ও অভিজাত ধাতুগুলোর (Noble Metals) একটি।

সোনার অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সে একে অপরিহার্য করে তুলেছে:

  • অতুলনীয় ক্ষয়রোধী ক্ষমতা (Non-corrosive Nature): সোনা কয়েক দশক ধরে চরম আর্দ্রতা বা তাপমাত্রায় থাকলেও কখনও মরিচা পড়ে না বা এর পরিবাহী ক্ষমতা একবিন্দুও হ্রাস পায় না।
  • অতি-উচ্চ বিদ্যুৎ সংবেদনশীলতা: মাইক্রোপ্রসেসরে প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি সংবেদনশীল ডিজিটাল সিগন্যাল পারাপার করতে কোনো প্রকার প্রতিরোধ (Resistance) ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করে সোনা।
  • অবিশ্বাস্য নমনীয়তা ও ডাক্টিলিটি (Malleability): মাত্র এক গ্রাম সোনাকে পিটিয়ে কিলোমিটার দীর্ঘ অতি-সূক্ষ্ম তারে রূপান্তর করা যায়। ফলে প্রসেসর চিপের ভেতর মানুষের চুলের চেয়েও শতগুণ পাতলা ন্যানো-ওয়্যারিং তৈরিতে সোনা ব্যবহার করা হয়।

একটি সাধারণ স্মার্টফোনে গড়ে প্রায় ০.০৩৪ গ্রাম সোনা, ০.৩৪ গ্রাম রূপা, ০.০১৫ গ্রাম প্যালাডিয়াম এবং প্রায় ২৫ গ্রাম তামা থাকে। আপাতদৃষ্টিতে এই পরিমাণ কম মনে হলেও কোটি কোটি ডিভাইসের সামগ্রিক হিসাবে তা হাজার হাজার কোটি টাকার খাঁটি মূল্যবান ধাতুর বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তোলে। সিম কার্ডের সংযোগ পিন, ক্যামেরা মডিউল, ডিসপ্লে কানেক্টর, অডিও জ্যাক এবং মাদারবোর্ডের সূক্ষ্ম প্রিন্টেড সার্কিটে সোনার পাতলা প্রলেপ (Gold Flash Plating) ব্যবহার করা হয়।

কম্পিউটার প্রসেসরের গোল্ডেন কানেক্টর এবং মাইক্রোস্কোপিক ওয়্যারিং
মাইক্রোচিপের ভেতরের সোনা: ক্ষয়রোধী ও সর্বোচ্চ পরিবাহী বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রসেসর ও সিমে ব্যবহৃত খাঁটি সোনা

ই-বর্জ্য থেকে সোনা উত্তোলনের আধুনিক কারিগরি ধাপসমূহ

একটি বাতিল ফোন থেকে ধুলোবালি ও বিষাক্ত রাসায়নিকের ভেতর থেকে ৯৯.৯৯% খাঁটি বিনিয়োগ-মানের সোনা পৃথক করতে আধুনিক শিল্প কারখানাগুলো রসায়ন ও ধাতুবিদ্যার অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ধাপ অনুসরণ করে:

১. স্বয়ংক্রিয় ডিসঅ্যাসেম্বলি ও মেকানিক্যাল ক্রাশিং

রিসাইক্লিংয়ের প্রাথমিক ধাপে স্মার্টফোন থেকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং ডিসপ্লে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলা হয় (কারণ ব্যাটারি ক্রাশিংয়ের সময় আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে)। এরপর উন্নত রোবট বা দক্ষ কর্মীরা মাদারবোর্ড বা প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (PCB) সংগ্রহ করেন। এই পিসিবিগুলোকে বিশেষ হেভি-ডিউটি শিল্প ক্রাশারে ফেলে গুঁড়ো করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বালুর দানার মতো পাউডারে পরিণত করা হয়। এরপর ম্যাগনেটিক এবং ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক সেপারেটরের মাধ্যমে লোহা, প্লাস্টিক ও ফাইবারগ্লাস আলাদা করে ধাতব মিশ্রণ ঘনীভূত করা হয়।

২. কেমিক্যাল লিচিং ও হাইড্রোমেটালার্জি (Hydrometallurgy)

ধাতব গুঁড়ো থেকে সোনাকে তরল দ্রবণে রূপান্তর করার বিজ্ঞানই হলো হাইড্রোমেটালার্জি। ঐতিহ্যগতভাবে রসায়নাগারে তিন ভাগ হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও এক ভাগ নাইট্রিক এসিডের শক্তিশালী মিশ্রণ—অ্যাকুয়া রিজিয়া (Aqua Regia বা রাজ অম্ল) ব্যবহার করা হতো, যা সোনাকে দ্রবীভূত করে ক্লোরোঅরিক এসিডে (Chloroauric Acid) রূপান্তর করে।

তবে আধুনিক গ্রিন-রিসাইক্লিং কারখানায় বিষাক্ত এসিডের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব থায়োসালফেট (Thiosulfate), থায়োইউরিয়া (Thiourea) এবং বিশেষ জৈব দ্রাবক ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখের (ETH Zurich) বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন দুধের ছানার বর্জ্য প্রোটিন থেকে তৈরি এক বিশেষ ন্যানোফাইবার স্পঞ্জ—যা ক্ষতিকর এসিডিক দ্রবণের ভেতর থেকে ৯৯ শতাংশ সোনাকে চুম্বকের মতো শুষে নিয়ে সরাসরি উচ্চমানের গোল্ড নাগেটে রূপান্তর করতে পারে।

রাসায়নিক গবেষণাগার এবং তরল লিচিং প্রক্রিয়ায় সোনা দ্রবীভূতকরণ
হাইড্রোমেটালার্জি ও বায়োলিচিং: রাসায়নিক দ্রবণ ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ধাতু পৃথকীকরণের বিজ্ঞান

৩. পাইরোমেটালার্জি ও স্মেল্টিং (Pyrometallurgical Smelting)

বিশ্বের বৃহত্তম মেগা-রিসাইক্লিং প্ল্যান্টগুলোতে (যেমন বেলজিয়ামের ইউমিকোর বা সুইডেনের বলিডেন) রাসায়নিকের বদলে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বিশাল ব্লাস্ট ফার্নেস ব্যবহৃত হয়। সার্কিট বোর্ডের গুঁড়োকে বিশেষ ফ্লাক্স উপাদানের সাথে গলিয়ে দিলে হালকা প্লাস্টিক ও অপদ্রব্যগুলো উপরিভাগে ছাই বা স্ল্যাগ (Slag) হিসেবে ভেসে ওঠে এবং ভারী সোনা, রূপা ও তামার সংকর ধাতু নিচে জমা হয়।

৪. বায়োলিচিং: ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে সোনা নিষ্কাশন

সবচেয়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির নাম বায়োলিচিং (Bioleaching)। কিছু বিশেষ প্রাকৃতিক অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া (যেমন Chromobacterium violaceum এবং Acidithiobacillus ferrooxidans) তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এমন কিছু এনজাইম ও জৈব যৌগ নিঃসৃত করে যা কোনো ক্ষতিকর ধোঁয়া বা তাপ ছাড়াই সার্কিট বোর্ডের শক্ত ধাতব কাঠামো থেকে সোনার অণুগুলোকে শোষণ ও পৃথক করে ফেলে।

৫. ইলেক্ট্রো-উইনিং ও রিফাইনিং (Electrowinning)

দ্রবীভূত সোনার দ্রবণকে চূড়ান্ত ধাপে ইলেক্ট্রো-উইনিং সেলে স্থাপন করা হয়। দ্রবণের ভেতর সুনির্দিষ্ট ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল থেকে সোনার আয়নগুলো বিশুদ্ধ ধাতব আকারে ক্যাথোডের গায়ে শক্ত হয়ে জমা হতে থাকে। এরপর সেই সোনাকে গলিয়ে তৈরি করা হয় ৯৯.৯৯% বিশুদ্ধ ২৪ ক্যারেট সোনার বার।

ই-বর্জ্য থেকে পরিশোধিত ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার বার এবং সার্কুলার অর্থনীতি
পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্বর্ণবার: ইলেকট্রনিক বর্জ্য রূপান্তর করে অর্জিত ৯৯.৯৯% খাঁটি বিনিয়োগ-মানের সোনা

ই-বর্জ্য বনাম প্রাকৃতিক স্বর্ণখনি: তুলনামূলক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সারণী

তুলনামূলক মানদণ্ড প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ স্বর্ণখনি (Traditional Mining) ই-বর্জ্য আরবান মাইনিং (E-Waste Urban Mining)
প্রতি টন কাঁচামালে সোনার ঘনত্ব গড়ে ৩ থেকে ৫ গ্রাম/টন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম/টন (৮০ গুণ বেশি)
কার্বন নিঃসরণ (CO2 Footprint) প্রতি কেজি সোনায় প্রায় ১২,০০০ থেকে ১৬,০০০ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড প্রতি কেজি সোনায় মাত্র ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কেজি (৮৫% কম)
পানি ও শক্তির অপচয় বিপুল পরিমাণ পানি ও ডিনামাইট বিস্ফোরণে পাহাড় ধ্বংস বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোয় নগণ্য শক্তির ব্যবহার
বিষাক্ত বর্জ্য সৃষ্টি (Tailings) লাখ লাখ টন বিষাক্ত সায়ানাইড মিশ্রিত পাথুরে কাদামাটি ধাতু নিষ্কাশনের পর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও ফাইবার
অর্থনৈতিক লাভজনকতা খনির অবস্থান অনুসন্ধান ও খননে কোটি কোটি ডলারের ঝুঁকি শহরাঞ্চলের সহজলভ্য বাতিল বর্জ্য থেকে নিশ্চিত কাঁচামাল
অন্যান্য মূল্যবান ধাতু প্রাপ্তি কেবল নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক আকরিক একই সাথে সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম, তামা, কোবাল্ট ও লিথিয়াম

অনানুষ্ঠানিক বিষাক্ত প্রক্রিয়া বনাম পরিবেশবান্ধব প্রাতিষ্ঠানিক রিসাইক্লিং

ই-বর্জ্য থেকে সোনা উত্তোলনের সম্ভাবনা যতটা উজ্জ্বল, এর অন্ধকার দিকটি ঠিক ততটাই মারাত্মক যদি তা অননুমোদিত ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে করা হয়। এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর বস্তি অঞ্চলে কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই শিশুরা অ্যাসিডের পাত্রে সার্কিট বোর্ড পুড়িয়ে সোনা বের করার চেষ্টা করে। এই আদিম প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বিষাক্ত সীসা (Lead), পারদ (Mercury) বাষ্প এবং ডাইঅক্সিন গ্যাস মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে, ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং আশেপাশের নদী ও মাটির পানি বিষাক্ত করে তোলে।

এর বিপরীতে আধুনিক ক্লোজড-লুপ গ্রিন প্ল্যান্টে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় বায়ুরোধী চেম্বারে সম্পন্ন হয়, যেখানে উন্নত স্ক্রাবার ও ফিল্টারের মাধ্যমে ১০০% বিষাক্ত গ্যাস আটকে দেওয়া হয় এবং পানি বারবার রিসাইকেল করে বিশুদ্ধ রাখা হয়।

সার্কুলার ইলেকট্রনিক্স অর্থনীতি ও টেকসই ভবিষ্যতের রূপরেখা

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন উপলব্ধি করেছে যে পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অ্যাপল ইতিমধ্যেই তাদের বিশেষ ‘ডেইজি’ (Daisy) নামক রোবটের সাহায্যে প্রতি ঘণ্টায় ২০০টি আইফোন নির্ভুলভাবে ভেঙে ভেতরের শতভাগ সোনা ও দুর্লভ ধাতু সংগ্রহ করছে এবং নতুন স্মার্টফোনে ১০০% পুনর্ব্যবহারযোগ্য সোনা ব্যবহার করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছে।

ন্যায্য মেরামতের অধিকার (Right to Repair), মডুলার স্মার্টফোন ডিজাইন এবং সরকারি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট ই-বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে ড্রয়ারে পড়ে থাকা বাতিল গ্যাজেট আর বোঝা হয়ে থাকবে না। পরিবেশের ওপর নতুন করে কোনো ক্ষতের সৃষ্টি না করেই মানুষের ব্যবহৃত প্রযুক্তি নিজেই নিজের শক্তির জ্বালানি ও মহামূল্যবান সম্পদের চিরন্তন উৎসে রূপান্তরিত হবে।

Comments are closed.