<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>উবায়দুর রহমান রাজু, Author at ইতিবৃত্ত</title>
	<atom:link href="https://itibritto.com/author/ubaydur10/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://itibritto.com/amp/author/ubaydur10/</link>
	<description>বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র</description>
	<lastBuildDate>Wed, 25 Mar 2026 19:21:59 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>
	<item>
		<title>খালেদ মেশাল হত্যাচেষ্টাঃ মোসাদের এক ব্যর্থ কিলিং মিশন</title>
		<link>https://itibritto.com/khaled-mashal/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Dec 2021 20:06:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10321</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="982" height="726" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" fetchpriority="high" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_.jpg 982w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_-300x222.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_-768x568.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_-86x64.jpg 86w" sizes="(max-width: 982px) 100vw, 982px" style="aspect-ratio: 982/726;" /></div>
<p>১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে জেরুজালেমের এক বাজারে ফিলিস্তিনিদের বোমা হামলায় ১৬ ইসরায়েলি নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়। এই ঘটনার পর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস দায় স্বীকার করে। এটিই ছিল হামাসের প্রথম হামলা। তখন ইসরায়েলের ক্ষমতায় ছিলেন নেতানিয়াহু। এর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের তুরুপের তাস মোসাদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে আরো কয়েক [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/khaled-mashal/">খালেদ মেশাল হত্যাচেষ্টাঃ মোসাদের এক ব্যর্থ কিলিং মিশন</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="982" height="726" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_.jpg 982w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_-300x222.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_-768x568.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/meshaal.reut_-86x64.jpg 86w" sizes="(max-width: 982px) 100vw, 982px" style="aspect-ratio: 982/726;" /></div><p>১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে জেরুজালেমের এক বাজারে ফিলিস্তিনিদের বোমা হামলায় ১৬ ইসরায়েলি নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়। এই ঘটনার পর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস দায় স্বীকার করে। এটিই ছিল হামাসের প্রথম হামলা। তখন ইসরায়েলের ক্ষমতায় ছিলেন নেতানিয়াহু। এর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের তুরুপের তাস মোসাদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে আরো কয়েক দফা হামলার পর মোসাদ নড়েচড়ে বসে। হামাসের তখনকার প্রভাবশালী নেতা ছিলেন খালেদ মেশাল। নেতানিয়াহু মেশালকে হত্যা করতে দায়িত্ব দিলেন মোসাদের গুপ্তহত্যার কাজে জড়িত বিশেষ সেল কে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। খালেদ মেশাল তখন অবস্থান করছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ জর্ডানে। সেসময় ইসরায়েলের সাথে জর্ডানের শান্তিচুক্তি থাকার কারণে মোসাদের জন্য এই অপারেশন কিছুটা জটিল হয়ে যায়।</p>
<h2>কে এই খালেদ মেশাল?</h2>
<p>১৯৫৬ সালের ২৮ মে পশ্চিম তীরের সিলওয়াদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন খালেদ মেশাল। তার জীবনের প্রথম ১১ বছর পরিবারের সাথে পশ্চিম তীরেই কাটান। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে নিলে মেশালের পরিবার পাড়ি জমায় কুয়েতে। মেশালের বাবা সেখানে একটা মসজিদে ইমামের চাকরি নেন। কুয়েতেই মেশালের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়। যোগ দেন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্যালেস্টানিয়ান ব্রাঞ্চে৷ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক এক্টিভিজমে সক্রিয় থাকা মেশাল ১৯৭৪ সালে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানে ভর্তি হোন। এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন সময়েই খালেদ মেশাল প্যালেস্টাইন মুক্তি আন্দোলনে গভীরভাবে যুক্ত হোন। পদার্থের পাঠ শেষ করে গ্রাজুয়েট মেশাল ১৯৮৪ সালে শিক্ষকতা পেশা বাদ দিয়ে প্যালেস্টাইন মুক্তি আন্দোলনের একজন নিবেদিত কর্মীতে পরিণত হন। ১৯৮৭ সালের প্রথম ইন্তিফাদার পর প্যালেস্টাইন মুক্তি আন্দোলনের এক্টিভিস্টরা প্রথমবারের মত হামাস নাম নিয়ে একটি সশস্ত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। উপসাগরীয় যুদ্ধে অবস্থার প্রতিকূলতায় কুয়েত থেকে জর্ডানে চলে যান খালেদ। আর সেখানেই ১৯৯২ সালে ঘোষিত হামাসের পলিটিকাল ব্যুরোর মেম্বার হন তিনি। ১৯৯৬ সালে মেশাল এই ব্যুরোর প্রধান নির্বাচিত হোন।</p>
<p><img decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10323" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/download-3.jpg" alt="" width="272" height="185" /></p>
<h2>খালেদ মেশাল হত্যাচেষ্টাঃ ব্যর্থ মোসাদ</h2>
<p>খালেদ মেশাল হত্যা চেষ্টা এবং ব্যর্থ হওয়া মোসাদের ইতিহাসে এক কলংকজনক ঘটনা। দুনিয়ার সবচেতে সুপ্রশিক্ষিত এবং ভয়ংকর এই গুপ্তচরের দল নিজেদের কাংখিত শিকারকে দক্ষতার সাথে আক্রমণ করতে কখনোই ভুল করেনা। কিন্তু নাটকীয়ভাবে এই ঘটনার ব্যর্থতা মোসাদ এবং ইসরায়েলের গোমর ফাঁস করে দেয়। নেতানিয়াহু যখন মেশালকে হত্যার নির্দেশ দিলেন তখন এক প্রতিকূল পরিবেশে ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোসাদের ছয়জন চর কানাডার ভুয়া পাসপোর্টে অবৈধভাবে টুরিস্ট সেজে জর্ডানে প্রবেশ করে। পরিবেশ প্রতিকূল ছিল এজন্য যে তখন জর্ডান ও ইসরায়েল উভয়েই কেউ কারো সার্বভৌমত্ব লংঘন করবে না মর্মে চুক্তিবদ্ধ ছিল। নেতানিয়াহু প্রথমে জর্ডানে এমন অপারেশন না চালানোর আদেশ দিলেও মেশালকে হত্যা করতে মোসাদের অন্য কোন বিকল্প ছিল না।এই অপারেশনে অংশ নেয়া মোসাদ চর মিশকা বিন ডেভিড বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন যে তারা যখন জর্ডানে প্রবেশ করেন তখন তার কিছুটা ভয় লাগছিল। মিশকা উল্লেখ করেন, তখনো পর্যন্ত গুপ্তহত্যার তেমন কোন রেকর্ড ছিল না মোসাদের। তিনি নিজে ইতিপূর্বে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করায় হাই ভোল্টেজ এই কিলিং মিশনে কিছুটা নার্ভাস বোধ করছিলেন। খালেদ মেশাল তখন অবস্থান করছিলেন জর্ডানের আম্মানে। তিনি জানতেন তার প্রতি গুপ্তচরদের নজর আছে। তাই পারতপক্ষে তিনি সাধারণের সামনে আসতেন না। ইতিমধ্যে ৬ দিনের ভিসা নিয়ে আসা মোসাদ এজেন্টরা টানা ৫ দিন মেশালকে বাগে পেতে ব্যর্থ হয়। ষষ্ঠ দিন মোসাদের দুই এজেন্ট সুবিধামত অবস্থানে মেশালকে নিকটে পায়। তাদের হাতে ছিল বিষাক্ত রাসায়নিক। উদ্দেশ্য ছিল মেশালের গলায় ছিটিয়ে দেয়া যাতে করে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি মারা যান। আর এই রাসায়নিকের প্রতিষেধক ছিল সেই মিশকা বিন ডেভিডের কাছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই মেশালের গলা বরাবর ঐ বিষ ছুড়ে দেয় দুই চর৷ কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে মেশাল তখন তার মেয়ের ডাকে পেছন ফিরে তাকালে ঐ বিষ মেশালের কানে পড়ে যায়। নিজেদের কার্য সমাধা করে তৎক্ষনাৎ দৌড়ে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা গাড়িতে উঠে পড়ে দুই চর। কিন্তু আবু সাইফ নামের আরেক হামাস নেতা ওদের দেখে ফেলেন। তিনি ঐ গাড়ির পিছু নেন এবং গাড়ির নাম্বার ঠুকে ফেলেন। আবু সাইফ থেকে বাঁচতে মোসাদের দুই চর গাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড়াতে থাকে। ইতিমধ্যে সাইফ চিৎকার করে বলতে থাকেন, &#8220;এরা খালেদ মেশালকে হত্যা করেছে, এরা মোসাদের চর&#8221;। আবু সাইফ অবশেষে এদের ধরতে সমর্থ হোন এবং সাইফের সাথে ধস্তাধস্তিতে আশেপাশে লোক জড়ো হয়ে যায়৷ জর্ডান পুলিশ এই দুই চরকে আটক করে নিশ্চিত হয় যে এরা কানাডার নাগরিক নয়। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় ইসরায়েলের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা। মোসাদ প্রধান ড্যানি ইয়াটম উড়ে যান জর্ডানে । কিন্তু ততক্ষণে জর্ডানের বাদশাহ হুসেনের মেজাজ তুংগে। মিশকা বলেছিলেন, বাদশাহ হুসেন তখন খুব ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং অতিদ্রুত মেশালকে সুস্থ করতে নেতানিয়াহুর কাছে এর প্রতিষেধক চাচ্ছিলেন। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ প্রথমে টালবাহানা করলেও শেষ পর্যন্ত বিল ক্লিনটনের হস্তক্ষেপে প্রতিষেধক দিতে রাজি হয়। মিশকা বিন ডেভিড বলেছিলেন, তিনি যখন প্রতিষেধক নিয়ে জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানের কাছে যান তখন তার চোখেমুখে ছিল ঘৃণার ছাপ। দুইদিন পর কোমা থেকে সুস্থ হয়ে ফেরেন মেশাল। জানা যায় তার উপর ছুঁড়া রাসায়নিকটি ছিল ফ্যান্টানিল। এই ঘটনার অব্যবহিত পর ইসরায়েল ভাবমূর্তি সংকট চরমে পৌঁছে। মোসাদ প্রধান ড্যানি ইয়াটম নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ান। গ্রেফতারকৃত মোসাদ এজেন্টদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের জন্য ত্রাস হামাস নেতা আহমদ ইয়াসিনকে মুক্তি দিতে হয়। সাথে করে ৬১ জন জর্ডান ও ফিলিস্তিনি বন্দীদেরও মুক্ত করে ইসরায়েল। পুরো ঘটনায় জর্ডানের বাদশাহ হুসেনের ভূমিকা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার অনড় অবস্থানে ইসরায়েল নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৮ সালে বের হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুকে দোষী সাব্যস্ত না করলেও ড্যানি ইয়াটমকে দায়ী করা হয়। মেশাল হত্যাচেষ্টার ব্যর্থতা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। মিশকা বিন ডেভিড বলেছিলেন, মানুষ পারিবারিক অনুষ্ঠানেও চরদের ব্যর্থতা নিয়ে গালমন্দ করত।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/khaled-mashal/">খালেদ মেশাল হত্যাচেষ্টাঃ মোসাদের এক ব্যর্থ কিলিং মিশন</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ক্রুসেডঃ মুসলিম- খ্রিস্টান সংঘাত</title>
		<link>https://itibritto.com/crusade/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Dec 2021 20:00:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10316</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1200" height="900" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="crusade" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" style="aspect-ratio: 1200/900;" /></div>
<p>ইউরোপের খ্রিস্টান এবং প্রাচ্যদেশীয় মুসলিমদের মধ্যে প্রায় দুইশো বছর (১০৯৬-১২৯২) ব্যাপী চলমান ধর্মযুদ্ধকে ইতিহাসে ক্রুসেড নামেই নামাংকিত করা হয়। মধ্যযুগের ইউরোপ এবং এশিয়ার ইতিহাসে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা৷ মূলত পবিত্রভূমি জেরুজালেমকে নিজেদের দাবি করে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়পক্ষ এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে৷ খ্রিস্টানগণ তাদের ধর্মীয় গুরু পোপের নির্দেশে বুকে ক্রুশ চিহ্ন নিয়ে [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/crusade/">ক্রুসেডঃ মুসলিম- খ্রিস্টান সংঘাত</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1200" height="900" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="crusade" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-1024x768.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/syria-damascus-musee-national-de-damas-12th-century-surrender-of-richard-i-lionheart-before-saladin-after-battle-of-hattin-1187-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" style="aspect-ratio: 1200/900;" /></div><p>ইউরোপের খ্রিস্টান এবং প্রাচ্যদেশীয় মুসলিমদের মধ্যে প্রায় দুইশো বছর (১০৯৬-১২৯২) ব্যাপী চলমান ধর্মযুদ্ধকে ইতিহাসে ক্রুসেড নামেই নামাংকিত করা হয়। মধ্যযুগের ইউরোপ এবং এশিয়ার ইতিহাসে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা৷ মূলত পবিত্রভূমি জেরুজালেমকে নিজেদের দাবি করে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়পক্ষ এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে৷ খ্রিস্টানগণ তাদের ধর্মীয় গুরু পোপের নির্দেশে বুকে ক্রুশ চিহ্ন নিয়ে এ যুদ্ধে অংশ নেয়।</p>
<h2>কেন সংঘটিত হয়েছিল ক্রুসেড?</h2>
<p>যীশু খ্রিস্টের জন্মভূমি জেরুজালেম নগরী খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত হত৷ আর এর জন্য প্রতি বছর খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীরা সেখানে গিয়ে জড়ো হত। কিন্তু হযরত উমর (রা) এর আমলে মুসলিম সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের ফলাফল হিসেবে সর্বপ্রথম আমর ইবনুল আস এর নেতৃত্বে খ্রিস্টানদের কাছ হতে প্যালেস্টাইন অধিকার করা হয়। জেরুজালেম দখল করা হলেও হযরত উমর হতে আব্বাসীয় যুগ পর্যন্ত খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীদের সাথে কোনরূপ দুর্ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু ফাতেমীয় খিলাফতের উদভ্রান্ত খলিফা আল হাকিম এবং সেলজুক তুর্কিরা খ্রিস্টানদের বাধা দিতে শুরু করে৷ তীর্থযাত্রীদের উপর নির্যাতনের এমন ডামাডোলে সেলজুক তুর্কিরা ইউরোপের দিকে বিজয় অভিযান পরিচালনা করে এশিয়া মাইনরের কিছু অংশ দখল করে ফেলে। এ ঘটনায় ইউরোপের খ্রিস্টানদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়। খ্রিস্টান ধর্মযাজকগণ তরুণদের ধর্মযুদ্ধে অংশ নিতে উস্কাতে থাকে। তারা এ ঘোষণা দেয় যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশ নিবে কর ও ঋণদান থেকে মুক্তি এবং মৃত্যুবরণ করলে পাপ মুক্ত হতে পারবে। অন্যদিকে মুসলমানগণও তাদের পবিত্র ভূমিকে রক্ষায় একতাবদ্ধ হয়। ফলে সংঘটিত হয় ইতিহাসের এই বিশেষ মোড় পরিবর্তনকারী যুদ্ধের।</p>
<p>অবশ্য ধর্মীয় কারণ বাদ দিলেও ক্রুসেড সংঘটিত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কারণও রয়েছে। এখানে ধর্মীয় আবরণের পাশাপাশি যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া অনেক নেতৃস্থানীয় লোকদের ইচ্ছা ছিল নতুন রাজ্য জয়লাভ করা। মিশর ও বাগদাদের মধ্য দিয়ে প্রাচ্যের সাথে ইউরোপীয়নদের যে বাণিজ্য রুট ছিল তাও শেষ পর্যন্ত ফাতেমীয় এবং সেলজুক তুর্কিদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায়৷ এমন অবস্থায় ক্রুসেডের মাধ্যমে বাণিজ্যপথ উদ্ধারে ইউরোপীয় বণিকগণ যুদ্ধে অংশ নেয়।</p>
<h2>ক্রুসেডের ঘটনাপ্রবাহ : প্রথম পর্যায়</h2>
<p>১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম রাজ্য আক্রমণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রুসেডের সূচনা ঘটায় খ্রিস্টান ধর্মযোদ্ধারা। ১১৪৪ সালে ইমামউদ্দিন জংগী কর্তৃক এডিসা পূনরূদ্ধারের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। জেরুজালেম দখলের উদ্দেশ্য নিয়ে ১০৯৬ সালে ক্রুসেডারগণ ওল্টার, পিটার, গডফ্রে প্রমুখের নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপল হতে এশিয়া মাইনরের দিকে অগ্রসর হয়। তার দুই বছরের মধ্যে এডিসা ও এন্টিওক ক্রুসেডারদের দখলে আসে। ১০৯৯ সালে গডফ্রের নেতৃত্বাধীন ৪০,০০০ সৈন্য প্রথমে জেরুজালেম অবরোধ এবং দখল করে বসে। এন্টিওক দখল করতে গিয়ে খ্রিস্টানগণ সেখানের প্রায় দশ হাজার অধিবাসীদের হত্যা করে। জেরুজালেম অধিবাসীদের উপরও চালানো হয় নির্যাতন। খ্রিস্টানদের জয়রথ থামে অবশেষে মুসলিম নেতা ইমামউদ্দিন জংগীর উত্থানে। তিনি ছিলেন একজন তুর্কি ক্রীতদাস। তার নেতৃত্বে মুসলিমরা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে। নিজ যোগ্যতাবলে ইমামউদ্দিন জংগী একে একে মসুল, আলেপ্পো, হারবান ইত্যাদি শহর দখল করে জংগী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারাবাহিক সফলতায় খ্রিস্টানগণ শংকিত হয়ে পড়ে। ১১৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি এডিসা পুনরুদ্ধার করেন এবং সিরিয়া থেকে খ্রিস্টানদের খেদিয়ে দেন৷ ইমামউদ্দিন জংগীর সাথে পেরে না উঠতে পেরে ক্রুসেডারগণ পিছু হটে। আর এর সাথে প্রথম পর্যায়ের ক্রুসেডের সমাপ্তি হয়।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10318" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/7f54104813214b06979c799a2c30600d_18.jpeg" alt="" width="570" height="380" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/7f54104813214b06979c799a2c30600d_18.jpeg 570w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/7f54104813214b06979c799a2c30600d_18-300x200.jpeg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/7f54104813214b06979c799a2c30600d_18-450x300.jpeg 450w" sizes="auto, (max-width: 570px) 100vw, 570px" /></p>
<h2>ক্রুসেডের দ্বিতীয় পর্যায় (১১৪৪-১১৯৩)</h2>
<p>ক্রুসেডের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ১১৪৪ সালে মুসলিম বীর সেনানী ইমামউদ্দিন জংগীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এবং শেষ হয় ১১৯৩ সালে আরেক মুসলিম বীর গাজী সালাউদ্দিনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। ক্রুসেডের দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট দুই ধাপে দুইটি ক্রুসেড সংঘটিত হয়৷ ১১৪৭ থেকে ১১৪৯ পর্যন্ত দ্বিতীয় ক্রুসেড এবং ১১৮৭ থেকে ১১৯৩ সাল পর্যন্ত তৃতীয় ক্রুসেড। প্রথম ক্রুসেডে ইমামউদ্দিন জংগীর কাছে এডিসার পতন হলে ইউরোপের খ্রিস্টানদের মধ্যে খুব উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে ইমামউদ্দিনের মৃত্যু হলে তার পুত্র নুরুদ্দিন জংগী আলেপ্পোর সিংহাসনে আরোহন করেন। এই সুযোগে খ্রিস্টানগণ এডিসা আবার দখল করে নেয় এবং এরপরই ১১৪৭ সালে সেন্ট বার্নার্ড মুসলমানদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ক্রুসেড ঘোষণা করেন। জার্মানির রাজা তৃতীয় কনরাড ও ফ্রান্সের রাজা সপ্তম লুই এর নেতৃত্বে এক বিশাল যুদ্ধবাজ দল মুসলমানদের ধূলিসাৎ করতে অগ্রসর হয়। কিন্তু নুরুদ্দিন জংগীর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং আবার এডিসা পুনরূদ্ধার করে। দুই পক্ষের দোর্দণ্ড যুদ্ধে একমাত্র জেরুজালেম ছাড়া বাকি সব এলাকাই মুসলমানদের দখলে আসে। এভাবে মুসলিমদের সাফল্যে ১১৪৯ সালে শেষ হয় দ্বিতীয় ক্রুসেড।</p>
<p>১১৭৪ সালে নুরুদ্দিন জংগীর মৃত্যু হলে ক্ষমতা নিয়ে ফাতেমীয় বংশের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব ও অরাজকতা। এমন সময় ক্ষমতা দখল করেন শিরকুহ। অল্পদিনের মধ্যেই শিরকুহ&#8217;র মৃত্যু হলে তার ভ্রাতুষ্পুত্র সালাউদ্দিন মিশরের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হোন এবং নুবিয়া, পশ্চিম আরব, প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা ইত্যাদি স্থান দখল করে পিতা নাজিমুদ্দিন আইয়ূবীর নামানুসারে আইয়ুবী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। ক্রুসেডের ইতিহাসে যে নামটি না আসলেই নয় তিনি হচ্ছেন সালাউদ্দিন আইয়ূবী। ইউরোপের ঘরে ঘরে একসময় ছড়িয়ে পড়ে সালাউদ্দিন ভীতি। ক্রুসেডারদের প্রতিহত করতে তিনি যে ভূমিকা পালন করেন তা ছিল বিরল। ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রায় ২০ হাজার ফরাসি সৈন্যের বাহিনীকে হিট্টিনের যুদ্ধে পরাজিত করে তাদের নেতা রেজিন্যাল্ডকে প্রথমে বন্দি ও পরে হত্যা করেন। অতঃপর জেরুজালেম সালাউদ্দিনের হস্তগত হয়। ইউরোপীয়নরা সালাউদ্দিনকে সালাউদ্দিন বলতে পারত না, বলত সালাদিন। সালাদিনের নিকট জেরুজালেমের পতনের সংবাদ জানার পর ইউরোপের খ্রিস্টান জগত ভয় পেয়ে যার। আর তাদের এই ভয় তৃতীয় ক্রুসেডকে অনিবার্য করে তোলে। জার্মানির রাজা ফ্রেডরিক বার্বারোসা, ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম রিচার্ড এবং ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ অগাস্টাস একজোট হয়ে এক বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে এবং জেরুজালেম উদ্ধারের জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে তৃতীয় ক্রুসেড ঘোষণা করে। পারস্য অভিমুখে যাওয়ার পথে ফ্রেডরিক একটি নদীতে পড়ে মারা যান। ফিলিপ ও রিচার্ড একসাথে আর্ক অধিকার করলেও জেরুজালেম অবরোধের আগেই ফিলিপ তার দেশে ফিরে যায়৷ রিচার্ড একাই দুই বছর ধরে জেরুজালেম অবরোধ করে বসেন এবং শেষমেশ দখল করতে ব্যর্থ হোন। অবশেষে ১১৯২ সালে সালাদিনের সাথে ঐতিহাসিক রামাল্লার সন্ধি করে খ্রিস্টানগণ নিজ দেশে ফিরে যায়। সন্ধির শর্তানুযায়ী সালাদিনের ভাই আল মানিক উস আদিলের সাথে রিচার্ডের বোনের বিয়ে হয় এবং বিয়ের যৌতুক হিসেবে আদিল জেরুজালেম লাভ করেন। তবে ১১৯২ সালে খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীদের বিনা বাধায় জেরুজালেম গমনের ব্যবস্থাও সন্ধির অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরের বছর গাজী সালাউদ্দিনের মৃত্যু হলে ক্রুসেডের দ্বিতীয় পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-large wp-image-10319" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Dcl8XSrtIY8-1024x394.jpg" alt="" width="1024" height="394" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Dcl8XSrtIY8-1024x394.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Dcl8XSrtIY8-300x115.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Dcl8XSrtIY8-768x296.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Dcl8XSrtIY8.jpg 1260w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<h2>তৃতীয় পর্যায় (১১৯৫-১২৯১)</h2>
<p>১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে পোপ তৃতীয় সেলেস্টাইনের আহ্বানে ক্রুসেডের তৃতীয় পর্যায়ের সূচনা ঘটে এবং এই পর্যায় তথা চূড়ান্তভাবে ক্রুসেডের অবসান ঘটে ১২৯১ খ্রিস্টাব্দে৷ এ পর্যায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেড সংঘটিত হয়৷ একটি হচ্ছে চতুর্থ ক্রুসেড এবং অন্যটি হচ্ছে শিশু ক্রুসেড। ১১৯৫ সালে ছোট একটি ক্রুসেড, ১২০২ সালে চতুর্থ ক্রুসেড, ১২১২ সালে শিশু ক্রুসেড, ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে ৬ষ্ঠ ক্রুসেড এবং ১২৪৪ সালে অষ্টম তথা শেষবারের মত ক্রুসেড আহ্বান করা হয়েছিল৷</p>
<p>১২০২ সালে পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ট ইতিহাসের চতুর্থ ক্রুসেডের আহ্বান করেন৷ এ ক্রুসেডে ফ্রান্সের ক্রুসেডার ছাড়া অন্য ইউরোপীয় রাজপরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেনি৷ এ সময় তৎকালীন সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র মিশরের বিরুদ্ধে ক্রুসেডাররা ঝাপিয়ে পড়েছিল৷ কিন্তু মিশরের সাথে ভাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকার কারনে ভেনিসের বণিকগণ এ যুদ্ধে জাহাজ দিয়ে সাহায্য করলেও সরাসরি এ যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ভেনিসের সাথে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল &#8216;জারা&#8217; নামক বাণিজ্যকেন্দ্রের। তাই ক্রুসেডারদের ভেনিসের বণিকগণ এ বাণিজ্যকেন্দ্র ধ্বংস করতে ফুসলাতে থাকে৷ বণিকদের প্ররোচনায় জারা শহরটি ক্রুসেডারগণ ধ্বংস করে দেয়৷ এছাড়া মিশরকে বাঁচাতে ভেনিসের বণিকগণ ভুল পথ দেখিয়ে মিশরের পরিবর্তে ক্রুসেডারদের কনস্ট্যান্টিনোপলের দিকে নিয়ে গেলে সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ঐতিহাসিক এ শহরকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দেয়। যে বাইজাইন্টাইন সম্রাটের আদেশে একদিন ক্রুসেডের সূচনা ঘটে সেই বাইজাইন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানীই ক্রুসেডারদের হাতে ধ্বংস হয়৷ ক্রুসেডারগণ কনস্ট্যান্টিনোপল জনগণকেই হত্যা করে শুধু ক্ষান্ত হয়নি, গুড়িয়ে দেয় স্থাপত্য নিদর্শন, মূল্যবান বইসহ বিজ্ঞানাগার। এ ঘটনার পর কনস্ট্যান্টিনোপল চার্চের উপর ল্যাটিন চার্চের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়।</p>
<p>ক্রুসেডের সবচেয়ে নির্মম এবং বিবেকহীন ক্রুসেড ইতিহাসে শিশু ক্রুসেড নামে পরিচিত৷ চতুর্থ ক্রুসেড ব্যর্থ হওয়ার পর ইউরোপের খ্রিস্টানগণ শিশুদের নিয়ে ক্রুসেড আয়োজন করেছিল৷ ক্রুসেডের ইতিহাসে এমন আয়োজন ছিল হৃদয়বিদারক। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ক্রুসেডারগণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার শিশুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে৷ অস্ট্রিয়া, সাইপ্রাস ইত্যাদি দেশ থেকে জাহাজে করে শিশু ক্রুসেডারদের ধর্মযুদ্ধে প্রেরণ করা হয়েছিল৷ কিন্তু ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর ক্লান্তিতে অধিকাংশ শিশু মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং বাকিরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে৷ এরমধ্যে একাংশদের ইতালিয় বণিকগণ আরবীয় বণিকদের কাছে ক্রীতদাস রূপে বিক্রি করে দেয়৷</p>
<p>শিশু ক্রুসেডের পরিণতি প্রত্যক্ষ করে ইউরোপের খ্রিস্টানদের মনোবল ভেঙে পড়ে৷ চতুর্থ ক্রুসেড ও শিশু ক্রুসেডের ব্যর্থতার পরও ক্রুসেডের দামামা বাজতে থাকে, ১২১৬ সালে সূচনা ঘটে ষষ্ঠ ক্রুসেডের। প্রায় দু লক্ষ ক্রুসেডারগণ সিরিয়া হয়ে মিশর গমন করে সেখানকার অসংখ্য অধিবাসীদের হত্যা করে। কিন্তু মুসলিমদের নিকট নাজেহাল হয়ে ১২২১ সালে সন্ধি করতে বাধ্য হয়৷</p>
<p>সপ্তম ক্রুসেড সংঘটিত হয় ১২৩৮ সালে জার্মানির দ্বিতীয় ফ্রেডরিকের নেতৃত্বে। সম্মিলিত ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা এ ধর্মযুদ্ধে অংশ নেয়৷ মালিকুল আদিলের পুত্র কামিল জার্মান সম্রাটের কাছে জেরুজালেম হস্তান্তর করেন। কামিলের পুত্র আইয়ূব ১২৩৯ সালে আবার জেরুজালেম পুনরূদ্ধার করেন৷ এরপর ১২৪৪ সালে সংঘটিত হয় অষ্টম ক্রুসেড ফ্রান্সের রাজা নবম লুইয়ের নেতৃত্বে। এই ক্রুসেডেও মুসলমানদের নিরংকুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়৷ এভাবে ১২৯১ সালের মধ্যে খ্রিস্টানদের কাছ হতে অধিকাংশ স্থান মুসলমানরা আয়ত্ত করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রুসেডের সমাপ্তি ঘটে।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/crusade/">ক্রুসেডঃ মুসলিম- খ্রিস্টান সংঘাত</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আইন জালুতের যুদ্ধঃ মামলুকদের হাতে নাস্তানাবুদ মোঙ্গল বাহিনী</title>
		<link>https://itibritto.com/battle-of-ain-jalut/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Dec 2021 19:52:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10312</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="840" height="420" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="আইন জালুতের যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1.jpg 840w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1-768x384.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 840px) 100vw, 840px" style="aspect-ratio: 840/420;" /></div>
<p>আব্বাসীদের রাজধানীকে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়ে মোঙ্গল নেতা হালাকু খান তখন হয়ে উঠছেন অপ্রতিরোধ্য। বাগদাদের মত একটা শহরকে নিষ্ঠুরতার সাথে দখল করে ভাই মেংগু খানের আস্থার প্রতিদান দিতে যেন কার্পণ্য করেননি চেংগিস খানের এই নাতি। পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে গুপ্তঘাতক সম্প্রদায়কে দমন করে যখন হালাকুর হাতে বাগদাদ অবনত হল তখন উত্তর আফ্রিকায় গুঞ্জন রটে গেল [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/battle-of-ain-jalut/">আইন জালুতের যুদ্ধঃ মামলুকদের হাতে নাস্তানাবুদ মোঙ্গল বাহিনী</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="840" height="420" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="আইন জালুতের যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1.jpg 840w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/Tentara-Mongol1-768x384.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 840px) 100vw, 840px" style="aspect-ratio: 840/420;" /></div><p>আব্বাসীদের রাজধানীকে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়ে মোঙ্গল নেতা হালাকু খান তখন হয়ে উঠছেন অপ্রতিরোধ্য। বাগদাদের মত একটা শহরকে নিষ্ঠুরতার সাথে দখল করে ভাই মেংগু খানের আস্থার প্রতিদান দিতে যেন কার্পণ্য করেননি চেংগিস খানের এই নাতি। পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে গুপ্তঘাতক সম্প্রদায়কে দমন করে যখন হালাকুর হাতে বাগদাদ অবনত হল তখন উত্তর আফ্রিকায় গুঞ্জন রটে গেল মোঙ্গল আক্রমণের। আর সেজন্য মিশরের মামলুক সাম্রাজ্যের দিকে স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টি পড়ে যায় বিশ্ব জয়ের স্বপ্নে বিভোর থাকা সমকালীন দুর্ধর্ষ এই তাতার জাতির। কেননা মিশর জয় করতে পারলেই উত্তর আফ্রিকা বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। উত্তর আফ্রিকার জিব্রাল্টার হয়ে স্পেনে প্রবেশ করতে পারলেই ইউরোপও চলে আসবে হাতের মুঠোয়। স্বপ্ন হবে সত্যি মোঙ্গলদের। বিশ্বজয়ের খেতাব পেতে তাই তড়িঘড়ি করে হালাকু খান মিশরের মামলুক দরবারে দূতসহ যে অপমান পত্র পাঠিয়েছিলেন তা আমরা পরে দেখব তার আগে মিশরের মামলুকদের অবস্থান দেখে নেয়া যাক।</p>
<p>মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করা আব্বাসী খিলাফতের সোনালি অতীত গত হয়েছে বেশ আগেই। ১২৫৮ সালে হালাকুর হাতে বাগদাদ পতনের পর নিভুনিভু মুসলিম অভিভাবকত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় তখন মিশরের মামলুক সাম্রাজ্য। সিংহাসনে সাইফুদ্দিন কুতুজ। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত সমরবিদ। আমীর আইবেকের হত্যাকাণ্ডের পর তার নাবালক পুত্র আল মালিক আল মনসুর যখন মামলুক সিংহাসনে আরোহন করেন তখন কূটকৌশলের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসন নিশ্চিত করেন সাইফুদ্দিন কুতুজ। হালাকু খান সিরিয়া অভিযান শেষে যখন মিশরের দিকে দৃষ্টি দিলেন তখনই তার ফলাফল হিসেবে সাইফুদ্দিন কুতুজ এক অপমানজনক পত্র প্রাপ্ত হোন৷ একজন মোঙ্গল দূত যখন এই পত্র নিয়ে আসে সাইফুদ্দিন কুতুজের মাথায় তখন আগুনের ফুলকি খেলা করছে। মরো নয় আত্মসমর্পণ করো স্বভাবমোঙ্গল এমন দাবিতে পত্রে যা লেখা ছিল তার চুম্বক অংশ এখানে দেয়া হল,</p>
<p><strong>পূর্ব ও পশ্চিমের অবিসংবাদি শাহেনশাহ মহান খানের পক্ষ হতে মামলুক রাজ কুতুজের উদ্দেশ্যে,</strong></p>
<p>&#8220;যিনি আমাদের তলোয়ার এর ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অন্যান্য রাজ্যসমূহের পরিণতি কী হয়েছে তা অনুধাবন করে আপনার উচিত আমাদের কাছে নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ করা। আপনি নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন কিভাবে আমরা একটি বিশাল সাম্রাজ্য জয় করেছি এবং পৃথিবীকে দূষিত বিশৃঙ্খলা থেকে বিশুদ্ধ করেছি। আমরা বিশাল অঞ্চল জয় করেছি, সব মানুষকে হত্যা করেছি। আপনি আমাদের সেনাদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে পারবেন না। আপনি কোথায় পালাবেন?পালানোর জন্য আপনি কোন পথ বেছে নিবেন? আমাদের ঘোড়াগুলি দ্রুতগামী, আমাদের তীরের ফণা ধারালো, আমাদের তলোয়ার বজ্রের মত, আমাদের হৃদয় পর্বতের মত , আমাদের সেনারা বালুকারাশির মত অগণিত। দুর্গ আমাদের রুখতে পারবে না, কোনো সেনাবাহিনী আমাদের থামাতে পারবে না। আপনাদের আল্লাহর কাছে দোয়া আমাদের বিরুদ্ধে কাজে আসবে না। অশ্রু আমাদের চালিত করে না এবং মাতম আমাদের ছোঁয় না। শুধুমাত্র যারা আমাদের সুরক্ষা চাইবে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়া হবে। যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠার আগে অতিদ্রুত আপনার জবাব দিন। প্রতিরোধ করলে আপনি সবচেয়ে ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি হবেন। আমরা আপনাদের মসজিদগুলি ভেঙে দিব এবং আপনাদের আল্লাহর অসহায়ত্ব দেখতে পাবেন এবং তারপর আপনাদের সন্তান ও বৃদ্ধদেরকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হবে। এই মুহূর্তে আপনি একমাত্র শত্রু যার বিরুদ্ধে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি&#8221;।</p>
<p>পত্র পাঠ করে সাইফুদ্দিন কুতুজ মোঙ্গল সেই দূতকে হত্যা করে তার কাটা মাথা কায়রোর ফটকে ঝুলিয়ে রাখেন। পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে হয়নি। দু পক্ষই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার সব প্রস্তুতি যখন সমাপ্ত তখনই হালাকু খানের ভাই মেংগু খান মারা গেলে মোঙ্গল বাহিনী তার সংখ্যাগরিষ্ঠ সৈন্য নিয়ে রাজধানী কারাকোরামে মহান খানের শেষকৃত্যে যোগ দিতে চলে যায়। কেতবুঘাকে সেনাপতি বানিয়ে মামলুকদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে যান হালাকু খান। ওদিকে সিরিয়া থেকে মামলুকদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য রুকুনুদ্দিন বাইবার্স পাড়ি জমালে সাইফুদ্দিন কুতুজের মনোবল আরো বেড়ে যায়। কুতুজ বুঝতে পেরেছিলেন মোঙ্গলদের নিকট আত্মসমর্পণ করা মানেই নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। তারচেয়ে প্রতিরোধকেই তিনি বেছে নেন। আর এ কাজে কোনরূপ বিলম্ব না করে লক্ষাধিক সৈন্য যোগাড় করতে তিনি সমর্থ হোন। ফিলিস্তিনের তাবারিয়ার আইন জালুতের প্রান্তরে মামলুক সুলতান তার শিবির স্থাপন করেন। এই আইন জালুতেই সংঘটিত হয়েছিল ওল্ড টেস্টামেন্টের ডেভিড ও গোলিয়াথের যুদ্ধ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10314" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/sddefault.jpg" alt="" width="640" height="480" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/sddefault.jpg 640w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/sddefault-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/sddefault-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 640px) 100vw, 640px" /></p>
<h2>মুখোমুখি মোঙ্গল-মামলুক শক্তি</h2>
<p>১২৬০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আইন জালুতের ঐতিহাসিক প্রান্তরে সমকালীন পৃথিবীর দুর্ধর্ষ যোদ্ধার দল মোঙ্গল বাহিনীর সাথে চূড়ান্তভাবে মুখোমুখি হোন মিশরের গর্বিত মামলুক সাম্রাজ্যের সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ। কুতুজ জানতেন খোলা প্রান্তরে মোঙ্গলরা কত ভয়াবহ হতে পারে। তাই তিনি কৌশলী হন। অল্পসংখ্যক সৈন্য মূল প্রান্তরে রেখে বাকি সৈন্য যাদের বেশিরভাগই ছিল মামলুক তীরন্দাজ তাদের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে লুকিয়ে রাখা হয়। আর অবশিষ্ট সৈন্যদের বাইবার্সের নেতৃত্বে মূল যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সাইফুদ্দিন কুতুজ তখন নিরাপদ দূরত্বে থেকে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। যথাসময়ে যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমেই মামলুকদের তৈরি ফাঁদে পড়ে যায় মোঙ্গলরা। বাইবার্স যখন মোঙ্গলদের উপর আক্রমণ করেন তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই তার সৈন্যদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ভান করেন। মোঙ্গল সেনাপতি কেতবুঘা মামলুকদের পালাতে দেখে ধাওয়া করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পাহাড়ের আড়াল থেকে মামলুক তীরন্দাজ বাহিনী মোঙ্গলদের চতুর্দিক হতে অবরোধ করে ফেলে। চেংগিস খানের গড়া এই ভুবন কাঁপানো বাহিনী এই প্রথমবারের মত কোন যুদ্ধে দিশেহারা হয়ে পড়ে। কেতবুঘা বাম অংশ দিয়ে মামলুক ব্যূহ ভেদ করতে যাবেন এমন সময় সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ তার মুখোশ খুলে তার বাহিনী নিয়ে মোঙ্গলদের উপর চড়াও হোন। নিজ সুলতানকে দেখে মামলুক সৈন্যরা দ্বিগুণ নিপুণতায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। কুতুজ ও বাইবার্সের অনবরত আক্রমণে মোঙ্গল বাহিনী পিছু হটে ফের আগায় আবার পিছু হটে এমন লুকোচুরি খেলতে থাকে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মোঙ্গল সেনাপতি কেতবুঘা নিহত হলে আরমেনিয়ান, চীনা, তাতার সৈন্যদের সমন্বয়ে গড়া প্রায় অপরাজেয় মোঙ্গল বাহিনী চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।</p>
<p>সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ এবং রুকুনুদ্দিন বাইবার্সের অসাধারণ রণনৈপুণ্যে মোঙ্গলদের বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষার সলিলে সমাধি দেয়া হয়। আইন জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গলরা যদি বিজয়ী হত তবে পৃথিবীর ইতিহাস অন্যভাবে লিখিত হতে পার&#x200d;ত। উত্তর আফ্রিকা হয়ে ইউরোপের ভাগ্যে হয়তো চিরায়ত মোঙ্গল বর্বরতাই লেখা থাকত। নিজেদের অপরাজেয় ভাবতে থাকা এই তাতার গোষ্ঠীর জন্য এই যুদ্ধ ছিল একটা শিক্ষা, তাদের অহংকারের মর্মমূলে আঘাত করে মিশরীয় মামলুকরা ইতিহাসের গতিপথ পালটে দিয়েছিল।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/battle-of-ain-jalut/">আইন জালুতের যুদ্ধঃ মামলুকদের হাতে নাস্তানাবুদ মোঙ্গল বাহিনী</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধঃ মারাঠা ও আফগান লড়াই</title>
		<link>https://itibritto.com/panipat-third-war/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Dec 2021 19:42:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10306</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="647" height="340" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/panipat-4-1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/panipat-4-1.jpg 647w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/panipat-4-1-300x158.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 647px) 100vw, 647px" style="aspect-ratio: 647/340;" /></div>
<p>ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ শহরটি ইতিহাসে বিখ্যাত দুটি কারণে৷ মহাভারতে বলা আছে পঞ্চপাণ্ডব দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাচীন এ নগর। তবে মহাভারতের উপাখ্যান পেরিয়ে পানিপথ বিখ্যাত হয়ে আছে আরো একটি কারণে৷ এই পানিপথের উন্মুক্ত প্রান্তরেই ইতিহাসের সাড়া জাগানো তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ১৫২৬ সালে বাবুরের বিরুদ্ধে দিল্লি সালতানাতের সুলতান ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধে নামেন৷ ভারতের ইতিহাসের মোড় [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/panipat-third-war/">পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধঃ মারাঠা ও আফগান লড়াই</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="647" height="340" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/panipat-4-1.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/panipat-4-1.jpg 647w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/panipat-4-1-300x158.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 647px) 100vw, 647px" style="aspect-ratio: 647/340;" /></div><p>ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ শহরটি ইতিহাসে বিখ্যাত দুটি কারণে৷ মহাভারতে বলা আছে পঞ্চপাণ্ডব দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাচীন এ নগর। তবে মহাভারতের উপাখ্যান পেরিয়ে পানিপথ বিখ্যাত হয়ে আছে আরো একটি কারণে৷ এই পানিপথের উন্মুক্ত প্রান্তরেই ইতিহাসের সাড়া জাগানো তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ১৫২৬ সালে বাবুরের বিরুদ্ধে দিল্লি সালতানাতের সুলতান ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধে নামেন৷ ভারতের ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী এ যুদ্ধের পর পানিপথ সাক্ষী হয়েছে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের৷ ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবর আর হেমচন্দ্র হিমু নেমেছিলেন এই পানিপথে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের শিরোনামে। ১৭৬১ সালে মারাঠাদের বিরুদ্ধে আহমদ শাহ আব্দালীর লড়াই ছিল ইতিহাসের শেষ পানিপথের যুদ্ধ। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতাপ যখন জায়গা করে নিয়েছে হারানো গৌরবের খাতায় তখন ভারতবর্ষে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যুদ্ধবাজ মারাঠা জাতি। মুঘল শক্তির সূর্য যখন নিভুনিভু তখন এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে ভারতে থাকা দেশীয় ও বিদেশী মুসলিম সভাসদরা জড়িয়ে পড়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে। চতুর মারাঠারা এই দ্বন্দ্বে দেশীয় মুসলিমদের সাথে হাত মেলালে বিদেশীরা আফগানিস্তান থেকে ডেকে আনে আহমদ শাহ আবদালীকে। ক্ষমতার দ্বন্দ্বের এই মরণখেলায় মারাঠা নেতা সাদাশিভরাও ভাও এবং আফগান অধিপতি আহমদ শাহ আবদালী ১৭৬১ সালে জড়িয়ে পড়েন পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে।</p>
<p>সম্রাট আওরঙ্গজেব মারা যাওয়ার পর কার্যত মুঘল শক্তির ক্ষয় হতে থাকে। ১৭৩৯ সালে পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করে ব্যাপক লুটপাট চালান। ছিনিয়ে নিয়ে যান ঐতিহাসিক ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর হীরা। নাদির শাহ লুটপাট চালিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেলে ভারতবর্ষ পড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। মুঘলরা নিজেদের সাম্রাজ্য হারাতে থাকে। দিকে দিকে বিদ্রোহীদের হাতে চলে যায় মুঘল অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চল। মুঘলদের এই দৈন্যদশার সুযোগে উত্থান হয় মহারাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ মারাঠা জাতির। রাজনৈতিকভাবে সফল হতে তোড়জোড় শুরু করে মারাঠারা। দিল্লি নিজেদের অধীনে আনার এক সুদূরপ্রসারী উচ্চাভিলাষী নীতি বাস্তবায়নের জন্য মারাঠারা এবার হাত মেলায় দেশীয় মুসলিম সভাসদদের সাথে। সেসময় ভারতের স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বিরোধ চলছিল দেশীয় মুসলিম সভাসদ এবং বিদেশী মুসলিম সভাসদদের মাঝে। দেশীয়রা মারাঠাদের উপর নির্ভর করলে বিদেশীরা হাত মেলায় আফগান অধিপতি আহমদ শাহ আবদালীর সাথে। মারাঠাদের নেতা তখন রঘুনাথ রাও। ১৭৫২ সালে যখন আবদালী পূর্ণ রণসাজে ভারত আসেন তখন তাকে মোকাবেলা করতে হয় বেশ কিছু খণ্ডযুদ্ধ। ভারতে প্রবেশ করেই আহমদ শাহ আবদালী কাশ্মীর, মূলতান ও পাঞ্জাব দখল করে নেন। পাশাপাশি হিন্দুস্তানে ধীরে ধীরে মিত্র খুঁজতে থাকেন তিনি। আবদালী যখন শক্তি বৃদ্ধি করছেন তখন মারাঠারাও বসে নেই। ইতিমধ্যে মুঘলদের কাছ থেকে দাক্ষিণাত্য দখল করে বেশ শক্তিশালীই হয়ে উঠেছিল মহারাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী জাতিগোষ্ঠী। ইতিমধ্যে মারাঠা আর আহমদ শাহ আবদালীর মধ্যে ছোট ছোট খণ্ডযুদ্ধ হতে থাকে। খণ্ডযুদ্ধের এই সময়টাতে ভারতবর্ষের রাজনীতিতেও আসে পরিবর্তন। ১৭৫৯ সালে সরদার দত্তজি সিন্ধিয়া বনে যান মারাঠাদের নতুন অধিপতি। আবদালীর কাছে সিন্ধিয়া বাহিনীর পরাজয় ঘটলে মারাঠাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন সাদাশিভরাও ভাও। উগ্র জাতীয়তাবাদী সাদাশিভরাও এবার সরাসরি জড়িয়ে পড়লেন আবদালীর সাথে যুদ্ধে। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে অস্ত্র শাণ দিতে থাকে দুই বাহিনী।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10308" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/unnamed-2.jpg" alt="" width="512" height="384" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/unnamed-2.jpg 512w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/unnamed-2-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/unnamed-2-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 512px) 100vw, 512px" /></p>
<h2>ময়দানে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধঃ মুখোমুখি মারাঠা-আফগান শক্তি</h2>
<p>মারাঠাদের শক্তিমত্তা বেশ মজবুত হওয়া সত্ত্বেও সাদাশিভারাও আফগানদের শক্ত প্রতিপক্ষ বিচার করে সিন্ধিয়া, বুন্দেল, হলকার, জাত, ইব্রাহিম খান গার্দির গোলন্দাজ বাহিনী এবং গাইখন্দের যোদ্ধাদের সাথে মিত্রতায় আবদ্ধ হন। ফলে মারাঠারা এক বিশাল সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করতে সক্ষম হয়। ভাও ফরাসিদের নিকট থেকে গোলাবারুদ ক্রয় করে তার সামরিক খাতকে আরো শক্তিশালী করেন।ওদিকে রোহিলার নজিব-উদ-দৌলা এবং অযোদ্ধার নবাব সুজা-উদ-দৌলা আফগানদের সাথে যুদ্ধে যোগদান করে। ফলে আফগানরাও অনেক শক্তিশালী ফৌজ গঠন করতে সক্ষম হয়। ১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে নেমে পড়ে। প্রথমেই মারাঠারা আফগানদের মিত্র রোহিলার সৈন্যদের উপর চড়াও হয় এবং প্রায় বিপর্যস্ত করে ফেলে। ওদিকে আবদালীর আফগান সৈন্যরা সতর্ক অবস্থায় যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং নিজেদের আক্রমণ শাণাতে থাকে। ভারতবর্ষের যুদ্ধবাজ মারাঠারা নিজেদের সকল শক্তিমত্তা ব্যবহার করে, জমে উঠে সেয়ানে সেয়ানে যুদ্ধ। মারা পড়তে থাকে দু পক্ষের অনেক সৈন্য। পানিপথ আবার সাক্ষী হয় প্রাণসংহারী আরেক যুদ্ধে। সহসাই মারাঠা সেনাপতি হলকার রাও যুদ্ধক্ষেত্রে হতে পলায়ন করলে পরিস্থিতির মোড় পাল্টাতে থাকে। তবে মারাঠাদের আরেক মিত্র ইব্রাহিম গর্দি আফগানদের রুখে দিয়ে যুদ্ধ জিইয়ে রাখেন। ওদিকে আবদালীর গোলন্দাজ বাহিনীর আক্রমণে মারাঠাদের মধ্যে কিছুটা বিশৃংখলা দেখা দিলেও তারা একেবারে দমে যায়নি। সহসাই সাদাশিভারাও যেন কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন। আর এই সুযোগে আহমদ শাহ আবদালী মারাঠাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। মরতে মরতে অবশেষে ক্লান্ত মারাঠারা চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করে। আর এরই সাথে প্রায় অপারেজয় মারাঠারা সাময়িক সময়ের জন্য ভারতের ক্ষমতা দখলের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। যুদ্ধের পর আফগানদের হাতে প্রচুর সাধারণ মারাঠা জনগণ মারা পড়ে। তবে এই যুদ্ধ ইতিহাসে তেমনভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেনি৷ কারণ আহমদ শাহ আবদালীকে দিল্লি শাসন না করেই আফগানিস্তান ফিরে যেতে হয়েছিল। ফলে খুব দ্রুতই মারাঠারা আবার ভারতবর্ষের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে সক্ষম হয়।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/panipat-third-war/">পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধঃ মারাঠা ও আফগান লড়াই</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: মুঘল সাম্রাজ্যের পুনরূত্থান</title>
		<link>https://itibritto.com/panipat-second-war/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Dec 2021 19:36:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10300</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="800" height="400" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da.png" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da.png 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da-300x150.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da-768x384.png 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" style="aspect-ratio: 800/400;" /></div>
<p>ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ শহরটি ইতিহাসে বিখ্যাত দুটি কারণে৷ মহাভারতে বলা আছে পঞ্চপাণ্ডব দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাচীন এ নগর। </p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/panipat-second-war/">পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: মুঘল সাম্রাজ্যের পুনরূত্থান</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="800" height="400" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da.png" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da.png 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da-300x150.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/main-qimg-a9276ace2ed4547e20ff52b70cb233da-768x384.png 768w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" style="aspect-ratio: 800/400;" /></div><p><strong>&#8220;দুই সেনাদল এমন সংঘর্ষ করেছিল</strong><br />
<strong>যে তারা পানির ভেতর থেকে আগুন উদিত করেছিল;</strong><br />
<strong>বাতাস ছিল টকটকে লাল ছুরির মত।</strong><br />
<strong>তাদের সব তরবারি নিরেট রুবিতে পরিণত হয়েছিল।&#8221;</strong></p>
<p><strong>আবুল ফজল, আকবরনামা</strong></p>
<p>ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ শহরটি ইতিহাসে বিখ্যাত দুটি কারণে৷ মহাভারতে বলা আছে পঞ্চপাণ্ডব দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাচীন এ নগর। তবে মহাভারতের উপাখ্যান পেরিয়ে পানিপথ বিখ্যাত হয়ে আছে আরো একটি কারণে৷ এই পানিপথের উন্মুক্ত প্রান্তরেই ইতিহাসের সাড়া জাগানো তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ১৫২৬ সালে বাবুরের বিরুদ্ধে দিল্লি সালতানাতের সুলতান ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধে নামেন৷ ভারতের ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী এ যুদ্ধের পর পানিপথ সাক্ষী হয়েছে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের৷ ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবর আর হেমচন্দ্র হিমু নেমেছিলেন এই পানিপথে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের শিরোনামে। ১৭৬১ সালে মারাঠাদের বিরুদ্ধে আহমদ শাহ আব্দালীর লড়াই ছিল ইতিহাসের শেষ পানিপথের যুদ্ধ। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবুরের হাতে ভারতে যে মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটেছিল পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের প্রাক্কালে সেই সাম্রাজ্য হুমকির মুখে পড়েছিল এক হিন্দু জেনারেলের দাপটে৷ হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য হিমুর সাথে মুঘলদের যুদ্ধ ইতিহাসে নাম নিয়েছে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ নামে।</p>
<h2>কেই এই হিমু?</h2>
<p>পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গর্জন করা হিমু একটা সময় ছিলেন মুদি দোকানদার। শের শাহের আমলে সামান্য বাজার পরিদর্শক থেকে পাঞ্জাবের গভর্ণর হয়ে যান তিনি। শের শাহ তখন মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে দিল্লি ছাড়া করে পুরো ভারতে আফগান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। শের শাহের মৃত্যুর পর তার পুত্র ফিরোজ শাহকে হত্যা করে ভাগ্নে আদিল শাহ সূরি আফগানদের নেতা বনে যান।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-large wp-image-10303" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/hemu-new-fb_110818062606-1024x576.jpg" alt="হিমু" width="1024" height="576" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/hemu-new-fb_110818062606-1024x576.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/hemu-new-fb_110818062606-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/hemu-new-fb_110818062606-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/hemu-new-fb_110818062606-1536x864.jpg 1536w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/hemu-new-fb_110818062606.jpg 1820w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p>সামান্য মুদি দোকানদার থেকে আদিল শাহ সূরির প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান হিমু। আমুদে শাসক আদিল শাহ তার সকল দায়িত্ব হিমুর উপর ন্যাস্ত করে ফূর্তিতে দিন গুজরাতে থাকেন। হিমুও নিজ যোগ্যতায় আদিল শাহের বিশ্বস্ত হয়ে সূরিদের প্রধান জেনারেলে পরিণত হন। হুমায়ূনের মৃত্যুর সময় হিমু বাংলায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে হিমু দিল্লি ও আগ্রা দখল করতে ৫০ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে অভিযান প্রেরণ করেন। মুঘল শাসক তার্দি বেগকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হোন তিনি৷ আর এভাবেই হেমচন্দ্র হিমু বিক্রমাদিত্য উপাধি নিয়ে দিল্লির মসনদে আরোহন করেন।</p>
<h2>পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপট</h2>
<p>দিল্লি দখল করে হিমু ততদিনে হয়ে উঠেছেন প্রবল প্রতাপশালী সম্রাট। মুঘলদের সামনে সাপের ফণার মত ভয় দেখাচ্ছিল হিমুর শক্ত সামরিক শক্তি। মুঘলদের অধীনে তখন আফগানিস্তান, পাঞ্জাব এবং কান্দাহারের কিছু এলাকা বাদে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আলোকিত সূর্যের মত মুঘল সাম্রাজ্যের আগমন স্থিমিত হতে দিলেন না মুঘল সাম্রাজ্যের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা সেনাপতি বৈরাম খা। কিশোর সম্রাট আকবরকে সাথে নিয়ে হিমুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু প্রথমেই সভাসদদের পক্ষ থেকে জোর প্রতিবাদ আসে। হিমুর বিশাল সেনাবাহিনীর সাথে এখন যুদ্ধে না জড়ানোর পরামর্শ দেন তারা৷ কিন্তু দূরদর্শী বৈরাম খা বুঝতে পেরেছিলেন এখন হিমুকে না থামাতে পারলে মুঘল সাম্রাজ্যের সূর্য আর উদিত হবেনা। তাই সম্রাট আকবরের অনুমতি নিয়ে হিমুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ডাক দেন মুঘল সেনাপতি বৈরাম খা। মুঘল শক্তির সমর্থনে পাশে এসে দাঁড়ান আলী কুলী খান, সিকান্দার খান, হোসেন কুলি বেগ। বৈরাম খা মোটামুটি মানের একটি সেনাদল তৈরি করতে সক্ষম হলেন। অন্যদিকে হিমু ৩০ হাজার সৈন্য এবং ৫০০ যুদ্ধবাজ হাতি নিয়ে মুঘল বাহিনীর দ্বিগুণ শক্তি তৈরি করতে সক্ষম হোন।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10304" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/the-2nd-battle-of-panipat-1556-akbar-v-s-adil-valsad-india1152_13113294806-tpfil02aw-4237.jpg" alt="পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ" width="496" height="448" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/the-2nd-battle-of-panipat-1556-akbar-v-s-adil-valsad-india1152_13113294806-tpfil02aw-4237.jpg 496w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/12/the-2nd-battle-of-panipat-1556-akbar-v-s-adil-valsad-india1152_13113294806-tpfil02aw-4237-300x271.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 496px) 100vw, 496px" /></p>
<h2>যুদ্ধের ময়দানে মুঘল-হিমু</h2>
<p>হিমুর বিশাল সৈন্য থাকা সত্ত্বেও তার মুঘলদের নিয়ে ভয় ছিল। কারণ হিমু জানতেন যুদ্ধের মাঠে মুঘলরা কত বেপরোয়া হতে পারে। তাই আগে থেকে গোলাবারুদের আমদানি করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আলী কুলি খানের অশ্বারোহী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে সব গোলাবারুদ নষ্ট হয়ে যায়। পানিপথের ঐতিহাসিক প্রান্তে বৈরাম খা তার সেনাদলকে বাম, ডান ও কেন্দ্রের তিনটি ভাগে ভাগ করে সিকান্দার ও আব্দুল্লাহ উজবেক খানকে বাম ও ডান ভাগের নিয়ন্ত্রণ দেন। মধ্যভাগের দায়িত্ব আলী কুলিকে দিয়ে বৈরাম খা পিছনে থাকেন। যুদ্ধ শুরু হলে হিমুর হস্তিবাহিনী মুঘলদের গতিরোধ করে। মুঘল বাহিনী হিমুর বাহিনীকে ঘিরে রাখতে চাইলেও হাতির কারণে সম্ভব হয়নি। এদিকে মুঘলদের ডান ও বাম বাহিনীর উপর উপর্যুপরি আক্রমণ করে দিশেহারা করে দেয় হিমুর বাহিনী। তখন অনেকটা আত্মরক্ষামূলক নীতি গ্রহণ করে মুঘলরা। কিন্তু হিমু কিছুতেই মুঘলদের কেন্দ্রের সীমানা বেধ করতে পারছিলেন না। যুদ্ধে তখন মুঘলরা প্রায় পরাজিত হয়ে পড়ছে। এমন সময় হঠাৎ করে বৈরাম খা হিমুকে হত্যা করার জন্য মুঘল তীরন্দাজকে নির্দেশ দিলেন। কিন্তু এ কাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল৷ কেননা হিমুর পুরো দেহ বর্ম দিয়ে আবৃত ছিল। শুধুমাত্র তার চোখ দুটোই অনাবৃত ছিল। আর তাতেই নিশানা করে মুঘল তীরন্দাজ। ততক্ষণে মুঘলদের উপর চারদিক থেকে আক্রমণের ছক কষছে হিমুর বাহিনী। হঠাৎ করে হিমু মুঘল তীরন্দাজদের সীমানার ভিতরে ঢুকে পড়েন। কালবিলম্ব না করে হিমুর চোখ বরাবর তীর নিশানা করে এক মুঘল তীরন্দাজ। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সম্রাটের হাতির পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ায় হঠাৎ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে হিমুর বাহিনী। আর এই সুযোগে মুঘলরা তাড়া করে হিমুর বাহিনীকে। মুহূর্তের মধ্যেই যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে শক্তিশালী হিমু বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করে মুঘলরা। হিমুকে নিজ হাতে হত্যা করতে সম্রাট আকবরকে পরামর্শ দিলেও বৈরাম খানের এই পরামর্শ আকবর মানেননি। অতঃপর বৈরাম খা নিজেই হিমুর মস্তক কর্তন করে কাটা মস্তক কাবুলে পাঠিয়ে দেন। আর এরই সাথে সম্রাট আকবরের হাতে পুনরায় প্রায় অস্তমিত মুঘল সাম্রাজ্যের সূর্যোদয় হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/panipat-second-war/">পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: মুঘল সাম্রাজ্যের পুনরূত্থান</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মর্ডেচাই ভান্নুঃ ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার হুইসেলব্লোয়ার</title>
		<link>https://itibritto.com/mordechai-vanunu/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 31 May 2021 08:51:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সাম্প্রতিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10291</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="960" height="540" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871-768x432.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" style="aspect-ratio: 960/540;" /></div>
<p>পৃথিবীর নবম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে সন্দেহ করা হলেও ইসরায়েল কখনোই এ ব্যাপারে কোন স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করে না। এক্ষেত্রে তারা &#8216;নিউক্লিয়ার এমবিগিউটি&#8217; বা পারমাণবিক দ্ব্যর্থতা অনুসরণ করে। অর্থাৎ তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে স্বীকারও করবেনা আবার নাই বলে অস্বীকারও করবে না। ১৯৬০ সাল থেকেই পারমাণবিক বিশেষজ্ঞগণ ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/mordechai-vanunu/">মর্ডেচাই ভান্নুঃ ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার হুইসেলব্লোয়ার</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="960" height="540" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871.jpg 960w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/81415_merlin_137528136_ec023b78d6c34aa883c61b94e27c1becsuperJumbo_1592228066871-768x432.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 960px) 100vw, 960px" style="aspect-ratio: 960/540;" /></div><p>পৃথিবীর নবম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে সন্দেহ করা হলেও ইসরায়েল কখনোই এ ব্যাপারে কোন স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করে না। এক্ষেত্রে তারা &#8216;নিউক্লিয়ার এমবিগিউটি&#8217; বা পারমাণবিক দ্ব্যর্থতা অনুসরণ করে। অর্থাৎ তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে স্বীকারও করবেনা আবার নাই বলে অস্বীকারও করবে না। ১৯৬০ সাল থেকেই পারমাণবিক বিশেষজ্ঞগণ ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে আসছে। কিন্তু তাদের হাতে কনক্রিট কোন প্রমাণ ছিল না। ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে ব্রিটেনের দৈনিক সানডে টাইমসে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর এই পুরো কাহিনী ফাঁস করেছিলেন ইসরায়েলেরই নাগরিক মর্ডেচাই ভান্নু। ইসরায়েলের কাছে তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক আর পুরো বিশ্বের কাছে তিনি একজন মানবতাবাদী নিউক্লিয়ার হুইসেলব্লোয়ার।</p>
<figure id="attachment_10292" aria-describedby="caption-attachment-10292" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-large wp-image-10292" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/026ecce7db5dd2bad0b1c4403186fb24cabc2fdb-1024x538.jpg" alt="মর্ডেচাই ভান্নু" width="1024" height="538" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/026ecce7db5dd2bad0b1c4403186fb24cabc2fdb-1024x538.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/026ecce7db5dd2bad0b1c4403186fb24cabc2fdb-300x158.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/026ecce7db5dd2bad0b1c4403186fb24cabc2fdb-768x403.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/026ecce7db5dd2bad0b1c4403186fb24cabc2fdb.jpg 1200w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-10292" class="wp-caption-text">mordechai vanunu</figcaption></figure>
<p>মর্ডেচাই ভান্নুর জন্ম মরক্কোর এক অর্থোডক্স ইহুদি পরিবারে ১৯৫৪ সালে। ১৯৬৩ সালে মরক্কোতে ইহুদি বিদ্বেষ প্রবল হলে ভান্নুর পরিবার ইসরায়েলে পাড়ি জমায়। একটি ইহুদি এজেন্সির সাহায্যে ভান্নুর পরিবারের জায়গা হয় বেরশেবা নামক এক অনুন্নত শহরে। খুব দ্রুতই ভান্নুর পরিবার শহরে স্থিত হয় এবং ১০ বছর বয়সী ভান্নু একটি ধর্মীয় স্কুলে শিক্ষা নেয়া শুরু করে। হাই স্কুলে পড়ার সময় জুদাইসম এর প্রতি ভান্নুর বিশ্বাস উঠে যায় এবং তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করার মনস্থির করেন। কিন্তু মা বাবার সাথে ঝামেলা হবে ভেবে সে যাত্রায় আর সিদ্ধান্ত নেননি। ম্যাট্রিক পাশ করার পর ভান্নু আদালতের আর্কাইভে অস্থায়ী একটি চাকরি নেন। ১৯৭১ সালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন ভান্নু। তিনি ইসরায়েল বিমান বাহিনীতে পাইলট হিসেবে যোগদানের চেষ্টা চালান কিন্তু পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে যোগ দেন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং বাহিনীতে যেখানে ভান্নু একজন সেপার (কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি সার্জেন্ট মেজর পদে উন্নীত হোন। ১৯৭৪ সালে গোলান মালভূমি সিরিয়ার কাছে ফেরত দেয়ার আগে সেখানকার সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সামরিক বাহিনীতে স্থায়ী চাকরির প্রস্তাব পেলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন এবং তেল আবিব ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে ভর্তি হোন কিন্তু টাকার অভাবে পড়াশোনা ইস্তফা দেন। একই সময় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত&#8217;এ চাকরির জন্য আবেদন করে ব্যর্থ হোন।</p>
<p>সে সময় দিমোনা শহরের দক্ষিণে নেগেভ মরুভূমিতে কঠোর গোপনীয়তার সাথে চলছিল ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কাজ। ভান্নু সেখানকার লোভনীয় চাকরির খবর পেয়েছিলেন এবং নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার সুবাদে সেখানে টেকনিশিয়ান পদে আবেদন করেন। এক দীর্ঘ ইন্টারভিউ শেষে নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ভান্নুকে প্রশিক্ষণের জন্য অনুমোদন দেন এবং আগামী ৫ বছর কোন আরব বা কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার শর্ত সহ স্পর্শকাতর নিরাপত্তা সরঞ্জাম গোপন রাখার এক চুক্তি করেন। মর্ডেচাই ভান্নুকে এরইমধ্যে পদার্থ, রসায়ন, গণিত, ফার্স্ট এইড, ইংরেজি ইত্যাদি বিষয়ে কঠোরভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। নিউক্লিয়ার প্লান্ট টেকনিশিয়ান হিসেবে ভান্নু কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন এবং তার পরের বছর ১৯৭৭ সালে ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। ধীরে ধীরে ভান্নুর রাজনৈতিক আদর্শ বদলে যেতে শুরু করে। তিনি হয়ে উঠেন আরব-ইসরায়েলিদের অধিকারের পক্ষের একজন এক্টিভিস্ট এবং ইসরায়েল সরকারের কড়া সমালোচক। তিনি ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন। ১৯৮৪ সালের মার্চে ৫ জন আরব ও ৪ জন জ্যুইশ ছাত্র নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন বামপন্থী সংগঠন &#8216;ক্যাম্পাস&#8217;। এদের মধ্যে Palestine Liberation organization বা PLO&#8217; র কর্মীও ছিল।<br />
মর্ডেচাই ভান্নু ইসরায়েলের আশকেনাজি ইহুদিদের (যারা ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে এসেছিল) একক আধিপত্য এবং সেফারদি (আইবেরিয়ান উপদ্বীপ থেকে যেসব ইহুদি ইসরায়েলে এসেছিল) ও মিজরাহি ইহুদিদের ( মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদি) ওপর আশকেনাজিদের বৈষম্যের কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি নিজে মরক্কোন বলে নিজ কর্মক্ষেত্রে আশকেনাজি ইহুদি দ্বারা নিগ্রহের স্বীকার হতেন। তার এই আশকেনাজি ইহুদির প্রতি রাগ ক্রমে ইহুদি বিরাগে পরিণত হয় এবং একই সাথে ইসরায়েল সরকারের প্রতিও তার উচ্চকিত কন্ঠ অব্যাহত থাকে। তার সংগঠন ক্যাম্পাসে তিনি &#8216;রেডিকাল&#8217; হিসেবে পরিচিতি পান যা তার কর্মক্ষেত্রের মনিবদের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। মে, ১৯৮৪ সালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। তার বিরুদ্ধে বামপন্থা ও আরবদের প্রতি সহানুভূতিশীলতার অভিযোগ আনা হয় এবং আপাতত কিছু তিরস্কার করে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু তার পেছনে লেলিয়ে দেয়া হয় মোসাদের গোয়েন্দা। ১৯৮৫ সালে মর্ডেচাই ভান্নু তার চাকরি হারান কিন্তু লেবার কমিটির সুপারিশে তাকে আবার চাকরি ফেরত দেয়া হয়। চাকরিতে ঢুকেই ভান্নু এক সাহসী পরিকল্পনা করে বসেন। গোপনে একটি ক্যামেরা জোগাড় করে পারমাণবিক স্থাপনার ৫৭ টি ছবি তুলতে সক্ষম হোন তিনি। অক্টোবর, ১৯৮৫ সালে কর্মক্ষেত্রে অবমূল্যায়নের কারণ দেখিয়ে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। তার পরের বছর ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার এক চার্চে তিনি খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হোন। চার্চে বিশ্ব শান্তি ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিষয়ক আলোচনায় বক্তব্য রাখাকালে ভান্নুর সাথে পরিচয় হয় কলম্বিয়ান ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক অস্কার গুয়েরেরোর। অস্কার ভান্নুর ব্যাপারে শুনেছিলেন এবং তিনি ভান্নুকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য চাপ দিতে থাকেন। অস্কার এ ব্যাপারে কাজ করার জন্য অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হোন। গুয়েরেরো এবার ইউরোপ গিয়ে ব্রিটেনের সানডে টাইমসকে রাজি করাতে সক্ষম হোন এবং সানডে টাইমস পিটার হোনাম নামের এক সাংবাদিককে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠায়। এরই মধ্যে অস্কার গুয়েরেরো মোসাদের কাছ থেকে পুরস্কার পাবার আশায় ভান্নুর এই পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয়। এরপর থেকেই ভান্নুকে ধরতে তোড়জোড় শুরু করে দেয় মোসাদ। সেপ্টেম্বর ১০, ১৯৮৬ তে হোনুমা এবং ভান্নু লন্ডন চলে যান এবং সেখানেই ছবি সহ ভান্নু ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র বিষয়ক গোপন তথ্য ফাঁস করেন।</p>
<figure id="attachment_10293" aria-describedby="caption-attachment-10293" style="width: 890px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-10293" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/4938.jpg" alt="ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার" width="890" height="534" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/4938.jpg 890w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/4938-300x180.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2021/05/4938-768x461.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 890px) 100vw, 890px" /><figcaption id="caption-attachment-10293" class="wp-caption-text">ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার</figcaption></figure>
<p>সানডে টাইমস ভান্নুর এই তথ্য প্রকাশের পূর্বে নিশ্চিত হতে চাইল আসলেই তার এই দাবি সত্য না বানানো। এজন্য পত্রিকাটি পরমাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের ডিজাইনার থিওডোর টেইলর এবং যুক্তরাজ্যের Atomic weapons establishment (AWE) এর সাবেক ইঞ্জিনিয়ার ফ্রাংক বার্নাবি নিশ্চিত করলেন ভান্নুর দাবি সঠিক ও সত্য। মর্ডেচাই ভান্নু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সানডে টাইমস তাদের এক সাংবাদিককে ইসরায়েল পাঠায়। সম্ভাব্য সবকিছু যাচাই করে সানডে টাইমস এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। অক্টোবর ৫, ১৯৮৬ সালে এই খবর লন্ডনের দৈনিক সানডে টাইমস বড় করে তাদের ফ্রন্ট পেইজে প্রকাশ করে। ভান্নুকে গ্রেফতার করতে তৎপর হয় ইসরায়েল। চাইলে মোসাদ যুক্তরাজ্যেই তাকে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে মেরে ফেলতে পারত কিন্তু ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাজ্য তথা মার্গারেট থ্যাচারের সাথে সম্পর্কের অবনতির ঝুঁকি তারা নিতে চাইল না। মোসাদের সাইকোলজিস্টরা মর্ডেচাই ভান্নুর একটি দুর্বলতার সন্ধান পায়। ব্যক্তিজীবনে নিঃসঙ্গ ভান্নুর পেছনে মোসাদের নারী গোয়েন্দা শেরিল বেন্টভকে &#8216;সিন্ডি&#8217; নাম দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয়। প্রথম পরিচয়ে সিন্ডি নিজেকে ইসরায়েল সরকারের সমালোচক হিসেবে প্রমাণ করে। ধীরে ধীরে সিন্ডি ভান্নুর আস্থা অর্জন করে ফেলে। যদিও সানডে টাইমসের সাংবাদিক পিটার হোনাম তাকে সতর্ক করেছিল যে এই মহিলা মোসাদের গোয়েন্দা হতে পারে! সিন্ডি মিথ্যা প্রেমের জালে ভান্নুকে ফাঁসিয়ে লন্ডন থেকে ইতালিতে নিয়ে আসে। ইতালির একটি হোটেলে যখন ভান্নু পা রাখেন সাথে সাথে মোসাদের ওঁৎ পেতে থাকা দুই গোয়েন্দা অচেতন করে ফেলে তাকে এবং ইতালির সৈকতে অপেক্ষমাণ মোসাদের ছদ্মবেশী বাণিজ্য জাহাজে করে ইসরায়েলে নিয়ে আসে। ভান্নুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে শুরু হয় ইসরায়েলের প্রহসনের বিচার আয়োজন। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে চলা বিচারকার্যে &#8216;বিশ্বাসঘাতক&#8217; মর্চেডাই ভান্নুকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় যার মধ্যে ১১ বছরই তাকে কাটাতে হয় নির্জন কারাবাসে। ২০০৪ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল- তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না, সীমান্তের ৫০০ মিটারের ভেতর আসতে পারবেন না, কোন ভিনদেশী নাগরিকের সাথে কথা বলতে পারবেন না, বিদেশী দূতাবাসের ৯০ মিটারের ভেতর আসতে পারবেন না, তার মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সার্বক্ষণিক নজরদারির ভেতর থাকবে এবং বাসা পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই শিন বেত&#8217;র অনুমতি নিয়ে বদল করতে হবে। ২০১৩ সালে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দুই নাগরিকের সাথে দেখা করার জন্য ২০১৭ সালে তাকে নতুন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৬৩ বছর বয়স্ক ভান্নু নরওয়েজিয়ান এক প্রফেসরকে বিয়ে করেছেন এবং এখন তিনি মনে করেন তার কাছে এমন কোন গোপন তথ্য বাকি নেই যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে। নরওয়ে সরকারও ভান্নুকে তার দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কিন্তু ইসরায়েল সরকার এখনো তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত করছে। ২০১৭ সালে ভান্নু তার ওয়েবসাইটে লিখেন,</p>
<p>&#8220;৩২ বছর পরেও আমি অসলোতে আমার স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য এই দেশ ত্যাগ করতে পারছি না। আমি এখানে কষ্টে আছি এটা দেখতে তাদের ভাল লাগে। কিন্তু আজ হোক বা কাল তাদেরকে এসব বন্ধ করতেই হবে। ইসরায়েলের পারমাণবিক গোপনীয়তার আর কিছু নেই। তারা আমার সাথে যাই করুক না কেন-মুক্তি আসবেই&#8221;</p>
<p>১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবারই তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আসছেন। ১৯৮৭ সালেই মর্চেডাই ভান্নু বিকল্প নোবেল বলে খ্যাত রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার লাভ করেন। এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য তাকে &#8216;বিবেকের আসামী&#8217; নামে আখ্যায়িত করেছে।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/mordechai-vanunu/">মর্ডেচাই ভান্নুঃ ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার হুইসেলব্লোয়ার</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মেয়েলি গীতঃ বিলুপ্তপ্রায় লোকগীতির ইতিকথা</title>
		<link>https://itibritto.com/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Oct 2019 14:35:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আর্ট ও কালচার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10224</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="720" height="426" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="মেয়েলি গীত" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376.jpg 720w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376-300x178.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376-357x210.jpg 357w" sizes="auto, (max-width: 720px) 100vw, 720px" style="aspect-ratio: 720/426;" /></div>
<p>&#8220;পাটের শাড়ি পিইন্ধা গো ঝিধন বাবার ছানমন খাড়া গো ঝিধন, বাবার ছানমন খাড়া হাইস্য মুখে দেও বিদায় বাবা যাইতাম পরের ঘরে ও বাবা, যাইতাম পরের ঘরে কারো লাগি পালছিলাম ঝি ধন রাজার চারকি কইরা গো ঝি ধন, বাদশাহর চারকি কইরা পরের পুতে লইয়া না যায়গা ঝি ধনরে বুকে ছেল দিয়া&#8221; নিজ আদরের কন্যাকে মা তুলে [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f/">মেয়েলি গীতঃ বিলুপ্তপ্রায় লোকগীতির ইতিকথা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="720" height="426" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="মেয়েলি গীত" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376.jpg 720w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376-300x178.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/1429537376-357x210.jpg 357w" sizes="auto, (max-width: 720px) 100vw, 720px" style="aspect-ratio: 720/426;" /></div><div class="bs-intro"></div>
<div class="bs-intro">&#8220;পাটের শাড়ি পিইন্ধা গো ঝিধন<br />
বাবার ছানমন খাড়া গো ঝিধন, বাবার ছানমন খাড়া<br />
হাইস্য মুখে দেও বিদায় বাবা<br />
যাইতাম পরের ঘরে ও বাবা, যাইতাম পরের ঘরে<br />
কারো লাগি পালছিলাম ঝি ধন<br />
রাজার চারকি কইরা গো ঝি ধন, বাদশাহর চারকি কইরা<br />
পরের পুতে লইয়া না যায়গা ঝি ধনরে বুকে ছেল দিয়া&#8221;</div>
<div></div>
<div class="_2cuy _3dgx _2vxa">নিজ আদরের কন্যাকে মা তুলে দিচ্ছেন অন্যের ঘরে বউ বানিয়ে। এমন বিষাদের দিনে হৃদয়স্পর্শী আবেদন তার ফুটে উঠেছে গান হয়ে। সে গানে নেই কোন শাস্ত্রীয় রাখঢাক, সাংগীতিক নন্দনকলার বালাই নেই, নেই পেশাদার গায়কী। বাংলার নিভৃত পল্লীর আনাচে কানাচে থাকা দুঃখিনী নারীরা নিজেদের অজান্তে গড়ে তুলেছেন পল্লীসাহিত্যের সমৃদ্ধ এক উপাদান, তাদের কন্ঠে বেড়ে উঠেছে চমকপ্রদ মেয়েলি গীত। যার আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছেন গ্রামীণ নারীরা। তারাই রচয়িতা, তারাই সুরকার আবার তারাই এই সংগীতের শিল্পী।</div>
<div>
<figure id="attachment_10226" aria-describedby="caption-attachment-10226" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-large wp-image-10226" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/Screenshot_5-1024x542.png" alt="মেয়েলি গীত" width="1024" height="542" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/Screenshot_5-1024x542.png 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/Screenshot_5-300x159.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/Screenshot_5-768x407.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/10/Screenshot_5.png 1188w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-10226" class="wp-caption-text">মেয়েলি গীত</figcaption></figure>
</div>
<div class="_2cuy _3dgx _2vxa">মেয়েলি গীত এক ধরণের লোকগীতি। মেয়েলি গীতের প্রচলন ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে তা ঠিক জানা না গেলেও আবহমানকাল ধরে গ্রামীণ নারীরা এই সংগীতকে লালন করে আসছেন। পারিবারিক এবং সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে কখনো একক এবং বহুলাংশে দলবঁধে নারীরা এই সংগীত পরিবেশন করতেন। নিতান্ত অশিক্ষিত এসব নারীদের হাতে সংগীতের এই ধারা লালিত পালিত হয়ে আসার কারণে গানগুলোর প্রকৃত রচয়িতা কে কিংবা কারা এই নিয়ে লোকগীতি গবেষকরা অন্ধকারেই রয়ে গেছেন। অপেশাদার এসব নারীরা যেকোন অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে এসব গীত পরিবেশন করতেন। বেশিরভাগ সময়ই বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এসব গান রচিত হত বলে একে বিয়ের গীতও বলা হয়। তবে বিয়ের গীত ছাপিয়ে মেয়েলি গীত হয়ে উঠেছিল বাংলার নারীদের সুখদুঃখ, হতাশা, নৈরাশ্য, বিরাগ ইত্যাদি অনুভূতির মোক্ষম মাধ্যম। করুণ সুরে সমস্বরে নারীরা যখন সংগীত পরিবেশন করত তখন অকুস্থলে থাকা পুরুষরাও বেশ উপভোগ করত। মেয়েলি জীবনের সুখদুখ, হাসিঠাট্টা আর আদিম রসাত্মক অনুভূতিতে পুরুষ সমাজের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। তাই কখনো অন্তঃপুরে থেকে নারীরা নিজেদের মধ্যে মেয়েলি গীতের রস আস্বাদন করত। মেয়েলি গীতে কোন ধরণের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হত না। বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন পর্বে মেয়েলি গীত পরিবেশিত হত। কন্যার গায়ে হলুদ,মেহেদি তোলা, বর-কনে স্নান, কনে সাজানো, বর-বরণ, বিদায় ইত্যাদি পর্বে প্রাসঙ্গিক গীত পরিবেশন করে বিবাহ অনুষ্ঠানকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলত শিল্পীরা। সাংগীতিক মাধুর্যের অনুপস্থিতির সুযোগে এবং মুখ্যত অপেশাদারিত্বের কারণে দলের শিল্পীরা কোরাস থেকে দলছুট হয়ে গীতকে করে তুলত বেখাপ্পা যা মূলত দুই তিনজন পারদর্শী শিল্পীর গলায় চড়ে শুদ্ধ হত। বিয়ের উপলক্ষ ছাড়াও কখনো সন্তান জন্মক্ষণ, নাইওর আসা, মেয়েদের নিজস্ব ব্রত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও মেয়েলি গীত পরিবেশিত হত। সহজ সরল গীতিকা আর সুরের এসব গানে প্রকৃতপক্ষে মিশে থাকত গ্রামীণ নারীদের জীবনের আখ্যান। নিজেদের সরলতা দিয়ে উপমা তৈরি করে গীতিকার সুরকাররা কখনো নিজেদের স্বত্ব চাইতেন না, জাহিরও করতেন না। এক প্রকার নিরবেই এসব গান মুখে মুখে বদল হয়ে বিকৃত হয়ে কখনো হারিয়ে যেত। আবার কোন একজন গাতক নতুন করে সুর বসাতেন আবার সেই একই সহজ ভাষার গীতিকাব্যে, জমে উঠত গৃহস্থের উঠান, বাংলার নারীরা তখনো জানতেন না তারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের লোকসাহিত্যের মূল্যবান দলিল।</div>
<div class="_2cuy _3dgx _2vxa bs-intro">&#8220;রহিমনের আম্মা কান্দে পিছদরে বসিয়া<br />
আমি অইনা রহিমনরে পালছি এত না আদর কইরা<br />
এত না কষ্ট কইরা<br />
আজ দেহি পরের গো পুতে লইয়া তারে যায়গা<br />
বুকে শেল দিয়া<br />
রহিমনের আব্বা কান্দে হুমুকদরে বইয়া<br />
আমি অইনা রহিমনরে পালছি এতনা আদর কইরা&#8221;</div>
<div></div>
<div class="_2cuy _3dgx _2vxa">গান গাইবার পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়না মেয়েলি গীতে। থাকত না কোন বাদ্যযন্ত্রের কারসাজি। অনাড়ম্বর উপস্থাপনার এসব গীতকে তাই এনে দিয়েছিল নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য। অঞ্চলভেদে গীতের লিরিকে তারতম্য পরিলক্ষিত হত। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রীতিনীতি এবং কৃষ্টি কালচার প্রভাবক হিসেবে কাজ করত মেয়েলি গীতে। যেমন কিশোরগঞ্জ বা সুনামঞ্জের হাওর বেষ্টিত দুর্গম অঞ্চলে কন্যার বাবার বাড়ি আসা (নাইওর) কে কেন্দ্র করে যেমন মেয়েলি গীত রচিত হত অপরাপর অঞ্চলে তেমন বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আসর বসত এসব গীতের। বিশেষ উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে রচিত হওয়া এসব গীত নতুন গীত দ্বারা চাপা পড়ে যেত। যুগের চাহিদা এবং পরিবেশ পরিস্থিতির নতুনত্ব মেয়েলি গীতকে করে তুলত পূর্বের থেকে আরো অগ্রসরমান। বিস্মৃতির গহ্বরে হারিয়ে যেত অনেক গান। ছিলনা কারো মাথাব্যথা। সরলতার মাধুর্যের সব উপকরণ দিয়েই নারীরা সাজিয়ে রাখত পল্লীসাহিত্যের এই উপাদানকে। উৎসব পার্বণ ছাড়াও মেয়েলি গীত হয়ে উঠেছিল নিঃসঙ্গ নারীদের সাথী। কষ্টের পীড়ন থেকে মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে আসত করুণ গান। স্বামীর হাতে মার খেয়ে খেয়ে অতিষ্ঠ নারীদের কন্ঠে বেড়ে উঠত অভাগী সুর। চিরদুখিনীর সারল্য আর নিরুপায় নারীদের গীত তখন উপস্থাপন করত পুরুষশাসিত সমাজে নিজেদের দুর্দশার গল্প। আজকের দিনের অনেকেই বলবেন, পল্লীসাহিত্যের অন্যসব উপাদানের মত মেয়েলি গীতের আবেদন এবং শক্তিমত্তা ততোটা জোরালো নয় কিন্তু কালের বিচার এবং পিছিয়ে পড়া বদ্ধ নারীজীবনের ক্ষুদ্র কিছু সময় থেকে তারা যে এতোখানি ঋণের জালে আমাদের আটকে রেখে গেছেন তাই বা কম কি।</div>
<div class="_2cuy _3dgx _2vxa"></div>
<div class="_2cuy _3dgx _2vxa">গ্রামীণ জীবনের সরলতার সাথে সংগ্রামী বধূদের একাত্মতার ফলাফলে কখনো উৎসবে পার্বণে নারী তার ভেতরকার দুঃখকষ্ট উগরে দিত, দু ফোটা চোখের জলের সাথে ফোকলা দাঁতের হাসি আর কন্ঠে বেসুরো ধ্বনি তাদেরকে মহানায়িকা করে না তুললেও ইতিহাস তাদের মুখের গানগুলোকে ধারণ করেছে। স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলা লোকগীতির সম্পদ হিসেবে। আজো বাংলাদেশের পল্লীগ্রামে বসে কোন নিঃসঙ্গ শেরপা আপন মনে হয়তো রোমন্থন করছে সেই স্মৃতিময় দিনগুলো, গুনগুনিয়ে গাইছে সেইসব গান, বাংলার নারীদের গান।</div>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f/">মেয়েলি গীতঃ বিলুপ্তপ্রায় লোকগীতির ইতিকথা</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিনত বিবির মসজিদঃ ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য</title>
		<link>https://itibritto.com/binot-bibir-mosjid/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 06 Aug 2019 16:47:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10217</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1142" height="762" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16.png" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="বিনত বিবির মসজিদঃ ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16.png 1142w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16-300x200.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16-768x512.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16-1024x683.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1142px) 100vw, 1142px" style="aspect-ratio: 1142/762;" /></div>
<p>বিনত বিবির মসজিদঃ  মসজিদের শহর ঢাকার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সময়ের পটপরিবর্তনে এক এক করে এখানে তৈরি হয়েছে নানান স্থাপত্যরীতির মসজিদ। একুশ শতকের এই সময়ে এসে ঢাকার মসজিদগুলোর স্থাপত্যরীতিতে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মসজিদের শহর ঢাকায় এতো এতো মসজিদ ছাপিয়ে আমরা খোঁজ করব এই শহরের প্রথম মসজিদের কথা যেটি কিনা এখানকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য এবং ঢাকার [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/binot-bibir-mosjid/">বিনত বিবির মসজিদঃ ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1142" height="762" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16.png" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="বিনত বিবির মসজিদঃ ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16.png 1142w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16-300x200.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16-768x512.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/Screenshot_16-1024x683.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1142px) 100vw, 1142px" style="aspect-ratio: 1142/762;" /></div><p><strong>বিনত বিবির মসজিদঃ</strong>  মসজিদের শহর ঢাকার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সময়ের পটপরিবর্তনে এক এক করে এখানে তৈরি হয়েছে নানান স্থাপত্যরীতির মসজিদ। একুশ শতকের এই সময়ে এসে ঢাকার মসজিদগুলোর স্থাপত্যরীতিতে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মসজিদের শহর ঢাকায় এতো এতো মসজিদ ছাপিয়ে আমরা খোঁজ করব এই শহরের প্রথম মসজিদের কথা যেটি কিনা এখানকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য এবং ঢাকার সবচেয়ে পুরনো স্থাপত্য বলেও স্বীকৃত। পুরান ঢাকার ৬ নং নারিন্দা রোডে অবস্থিত বিনত বিবির মসজিদ ঢাকার প্রথম মসজিদ তথা এই অঞ্চলের প্রথম মুসলিম স্থাপত্য। একইসাথে ঢাকায় কোন নারীর নামে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র মসজিদও এটি।</p>
<h2 dir="auto"><strong>বিনত বিবির মসজিদঃ ইতিহাস</strong></h2>
<p>সুলতানি আমলে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই মসজিদের ইতিহাস নিয়ে দুইটি গল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদ আহমদ হাসান দানী বলেছেন, নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে (১৪৩৫-১৪৫৯) মার মারহামাতের মেয়ে মুসাম্মদ বখত বিনত ১৪৫৭ সালে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু মসজিদের প্রধান ফটকের কালো পাথরের শিলালিপি এই মসজিদের প্রতিষ্ঠার পেছনে অন্য ইতিহাসের জানান দেয়। এই শিলালিপির তথ্যানুসারে, তখনকার সময়ে পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে বণিকরা ব্যবসা করতে আসত৷ সেই অঞ্চল থেকে আসা এক বণিকের নাম ছিল ছিল আরাকান আলী। তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা অঞ্চলে এসে ব্যবসা শুরু করেন এবং নামাজ পড়ার সুবিধার জন্য এখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এই মসজিদ তার আদরের কন্যা বিনত বিবির নামে নামকরণ করেন। বিনত বিবি মারা গেলে মসজিদের প্রাঙ্গনেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়৷ আরাকান আলীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকেও তার মেয়ের পাশে সমাহিত করা হয়। মসজিদের দুটি গম্বুজের একটিতে প্রথম প্রতিষ্ঠার সাল প্রোথিত করা আছে। আরেকটি গম্বুজে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিনত বিবির এই মসজিদে প্রথমবারের মত সংস্কারকাজে হাত দেয়া হয় ১৯৩০ সালে৷ মসজিদে যে শিলালিপিটি পাওয়া গিয়েছিল ধারণা করা হয় ঢাকায় এটিই সর্বপ্রথম কোন মুসলিম শিলালিপি। শেষবেলায় এটা একটা প্রশ্ন রয়ে যায় যে, বিনত বিবির মসজিদের আগে কি এ এখানে কোন মসজিদ তৈরি হয়নি? একথা সর্বোতভাবে বলা যায় না যে ঢাকার প্রথম মসজিদ এটাই কিন্তু এর আগের কোন মসজিদেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। হয়তো সেসব মসজিদের ধ্বংসস্তুপের কিছুই ইতিহাস অবশিষ্ট দেখতে পারেনি বলে বিনত বিবির মসজিদকেই বলা হচ্ছে ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য বা মসজিদ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10219" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/800px-Binot_Bibi_mosque_in_Old_Dhaka.jpg" alt="বিনত বিবির মসজিদঃ ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য" width="800" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/800px-Binot_Bibi_mosque_in_Old_Dhaka.jpg 800w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/800px-Binot_Bibi_mosque_in_Old_Dhaka-300x225.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/800px-Binot_Bibi_mosque_in_Old_Dhaka-768x576.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/08/800px-Binot_Bibi_mosque_in_Old_Dhaka-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<div dir="auto">ঐতিহাসিক এ মসজিদে সংস্কার করে আধুনিক যুগের ছোঁয়া দেয়া হয়েছে। এতে করে স্থাপত্যটি তার অস্তিত্ব ধরে রাখতে পেরেছে ঠিক কিন্তু বিলীন করে দেয়া হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্য। ঢাকার প্রথম মসজিদ বলে খ্যাত এই স্থাপত্যে নতুন করে দু তলা সংযোজন করা হয়েছে।  উত্তর পাশ ছাড়া বাকি অংশগুলো সংস্কার  করে নতুনত্ব নিয়ে আসা হয়েছে। খুব কম অংশকেই এখন সেই বিনত বিবির মসজিদের অঙ্গ বলে ধরে নেয়া যায়। এতো প্রাচীন মসজিদকে বেশ অবহেলার সাথেই মূল্যায়ন করেছে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর। নেয়নি কোন সংরক্ষণের উদ্যোগ, দেখভালের বালাই নেই। তাই যথাতথা ভাবে এলাকাবাসী এর স্বাতন্ত্র্য ধ্বংস করেছে বারবার। শুধু এই মসজিদই নয় ঢাকার শত বছরের পুরনো অনেক স্থাপনাই অবহেলা আর বাণিজ্যিকীকরণ এর ফাঁদে পড়ে হারিয়ে গেছে, কর্তৃপক্ষ ফিরেও তাঁকায় নি। এখনো  তবু বিনত বিবির মসজিদ ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তবে সেই ঐতিহ্য শুধু নামেই।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব প্রেমী যেকেউ চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার এই প্রাচীন মসজিদ। এজন্য আপনাকে গুলিস্তান থেকে রিকশা যোগে পুরান ঢাকার নারিন্দা রোডে আসতে হবে। ৬ নং নারিন্দা রোডে বেশ নীরবেই কালের সাক্ষী হয়ে আছে সুলতানি যুগের এই প্রাচীন মসজিদ।</div>
<div class="yj6qo"></div>
<div class="adL" dir="auto"></div>
<p>&nbsp;</p>
<div dir="auto"></div>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/binot-bibir-mosjid/">বিনত বিবির মসজিদঃ ঢাকার প্রথম মুসলিম স্থাপত্য</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইসরায়েলের কুখ্যাত যত কাজ</title>
		<link>https://itibritto.com/israel-worst-works/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Jun 2019 06:40:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10203</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1200" height="762" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="গাজা, ফিলিস্তিনি, ইসরায়েল" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935-300x191.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935-768x488.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935-1024x650.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" style="aspect-ratio: 1200/762;" /></div>
<p>মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া রাষ্ট্র ইসরায়েল তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন কারণে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আসছে। উগ্র জায়নবাদী এই রাষ্ট্র মূলত চারদিকে নিন্দিত হয়ে আসছে তার প্যালেস্টাইন নীতির কারণে। দিনের পর দিন অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে ফিলিস্তিনিদের এক ধরণের একঘরে করে রেখেছে তারা। এছাড়া সময়ে সময়ে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের হত্যা নির্যাতন চালিয়েই যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার খ্যাত এ দেশটি৷ কাউকে [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/israel-worst-works/">ইসরায়েলের কুখ্যাত যত কাজ</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1200" height="762" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="গাজা, ফিলিস্তিনি, ইসরায়েল" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935.jpg 1200w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935-300x191.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935-768x488.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/20190505_2_36313866_44212997-e1557063865935-1024x650.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1200px) 100vw, 1200px" style="aspect-ratio: 1200/762;" /></div><p>মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া রাষ্ট্র ইসরায়েল তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন কারণে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আসছে। উগ্র জায়নবাদী এই রাষ্ট্র মূলত চারদিকে নিন্দিত হয়ে আসছে তার প্যালেস্টাইন নীতির কারণে। দিনের পর দিন অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে ফিলিস্তিনিদের এক ধরণের একঘরে করে রেখেছে তারা। এছাড়া সময়ে সময়ে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের হত্যা নির্যাতন চালিয়েই যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার খ্যাত এ দেশটি৷ কাউকে পরোয়া না করে তার পশ্চিমা বন্ধুদের মদদে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। আর এ কাজে তারা সৃষ্টি করে চলেছে অনেক লজ্জাজনক কাজও। <a href="https://itibritto.com/birth-of-israel/">ইসরায়েল</a> এর অন্ধকার এমন কিছু দিকগুলোই তুলে ধরা হবে এই লেখায়।</p>
<h2 dir="auto"><strong><a href="https://itibritto.com/munich-massacre/">মোসাদের</a> গুপ্তহত্যা </strong></h2>
<figure id="attachment_10204" aria-describedby="caption-attachment-10204" style="width: 1024px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-10204 size-large" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/mossad-1024x512.jpg" alt="ইসরায়েল মোসাদ " width="1024" height="512" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/mossad-1024x512.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/mossad-300x150.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/mossad-768x384.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/mossad.jpg 1068w" sizes="auto, (max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption id="caption-attachment-10204" class="wp-caption-text">Source: Veterans Today</figcaption></figure>
<div dir="auto">ইসরায়েল রাষ্ট্রটির নাম নিলেই অবধারিতভাবে চলে আসবে দেশটির প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম। এই গ্রুপটি দেশে বিদেশে প্রচুর গুপ্তহত্যার কাজে জড়িত। বিভিন্ন সময়ে সুকৌশলে ভিনদেশে গিয়ে শিকারকে হত্যা করতে ওস্তাদ মোসাদের গোয়েন্দারা। কখনো বিষপান করিয়ে, কখনো আকস্মিক গুলি কখনোবা নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে গুপ্তহত্যা করে থাকে তারা। গত বছরের এপ্রিলে ফিলিস্তিনের রকেট বিজ্ঞানী ও হামাসের সদস্য মোহাম্মদ আল বাতাশকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মোসাদের গোয়েন্দারা গুলি করে হত্যা করে৷ এভাবে দেশে দেশে মোসাদ অভিনব কায়দায় নিজেদের মিশন পরিচালনা করে থাকে।</div>
<div dir="auto"></div>
<h2 dir="auto"><strong>গাজায় পুনঃপুন সামরিক হামলা</strong></h2>
<figure id="attachment_10205" aria-describedby="caption-attachment-10205" style="width: 955px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-10205" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/pg-4-gaza-1-epa.png" alt="গাজা, ফিলিস্তিনি " width="955" height="500" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/pg-4-gaza-1-epa.png 955w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/pg-4-gaza-1-epa-300x157.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2019/06/pg-4-gaza-1-epa-768x402.png 768w" sizes="auto, (max-width: 955px) 100vw, 955px" /><figcaption id="caption-attachment-10205" class="wp-caption-text">Source: Common Dreams</figcaption></figure>
<p>২০০৪ সাল থেকে <a href="https://itibritto.com/palestine-israel-conflict/">ফিলিস্তিনের</a> গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল এর সেনারা প্রকাশ্য, গোপনে সম্ভব অসম্ভব সকল ধরণের হামলা চালানো শুরু করে। ২০০৮ সালে হামাসকে শায়েস্তা করার নামে গাজায় বেসামরিক জনগণের উপর অভিযানে নামে ইসরায়েল। ২০০৯ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় আসার পর আরো বিধ্বংসী সব পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেন। এর পর থেকে গাজা উপত্যকায় নানান ছুতোয় জলে স্থলে হামলা হতে থাকে৷ ২০১৪ সালের ৮ জুলাই হামাসের রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় বৃহৎ পরিসরে আক্রমণ শুরু করে। প্রায় দুইমাসের কাছাকাছি চলা এ যুদ্ধে প্রায় লক্ষাধিক বেসামরিক নারী ও শিশু নিহত হয়।  প্রায় প্রতিবছরই বিভিন্ন কারণে গাজায় হামলা করে বেসামরিক মানুষ নিহত করছে উগ্র জায়নবাদী এই রাষ্ট্রটি।</p>
<h2 dir="auto"><strong>সাদ্দাম হোসাইনকে হত্যাচেষ্টার তথ্য ফাঁস!</strong></h2>
<div dir="auto">ইসরায়েল যাদের শত্রু মনে করে তাদের গ্রেফতার কিংবা কোন মহলে অভিযোগ জানানোর চেয়ে নিজেরাই হত্যা করা সমীচীন বলে মনে করে৷ আর এ কাজ সম্পাদনে রয়েছে মোসাদের সুপ্রশিক্ষিত খুনির দল। ১৯৭০ সালে ইরাকের স্বাধীনতাকামী কুর্দিদের সমর্থন দেয় ইসরাইল। ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে নিজেদের সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করত তারা। আর এজন্য মোসাদের একটি ঘাতক দল সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করতে বিস্ফোরকধারী একটি বইয়ের সাহায্য নেয়। কিন্তু সেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।</div>
<p>&nbsp;</p>
<h2 dir="auto"><strong>দেইর ইয়াসিন গণহত্যা</strong></h2>
<div dir="auto">১৯৪৮ সালের এপ্রিলে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাসখানেক আগে জায়নবাদী সন্ত্রাসী দলের দুই সদস্য ইরগুন এবং লেহি প্যালেস্টাইনের দেইর ইয়াসিন গ্রামে রাতের আধারে এক হত্যাকাণ্ড চালায়। মহিলা ও শিশুসহ সেই হামলায় প্রায় ১০০-১৫০ প্যালেস্টানিয়ান নিহত হয়। এছাড়া আরো ৮০ জন নিহতের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।</div>
<p>&nbsp;</p>
<h2 dir="auto"><strong>মার্চেডাই ভান্নুকে গ্রেফতার!</strong></h2>
<div dir="auto">১৯৫৪ সালে মরক্কোয় জন্ম নেয়া মার্চেডাই ভান্নু ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। আশির দশকে টেকনিশিয়ান হিসেবে ইসরায়েলের পরমাণু কর্মসূচিতে তার চাকরি হয়। নামে পরমাণু কর্মসূচি হলেও ইসরায়েল আসলে এগিয়ে চলেছিল মানব বিধ্বংসী পরমাণু অস্ত্র বিনির্মাণে। মার্চেডাই ভান্নুর এ কাজ পছন্দ হল না। তিনি ইসরায়েলের প্রতি যথেষ্ট অনুগত না এই দোহাই দিয়ে ১৯৮৫ সালে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই বছর লেবার ইউনিয়নের সুপারিশে চাকরি ফিরে পেয়ে এক সাহসী কাণ্ড ঘটান ভান্নু। গোপণে ধারণ করেন পরমাণু কর্মসূচির গোপন পঞ্চাশের অধিক ছবি। ফিলিস্তিনদের প্রতি অনুরাগী এমন অভিযোগ তোলে তাকে আবার চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তিনি চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। ইহুদি থেকে গ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্ম। অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালে ভান্নুর সাথে পরিচয় হয় ওসাকা গুইরিরো নামের এক কলম্বিয়ান সাংবাদিকের। তিনি এ সাংবাদিকের সাথে চুক্তিতে আসেন। প্রায় ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে গোপন ছবিগুলো বিক্রি করে দেন ভান্নু। ১৯৮৬ সালের ৫ অক্টোবর সানডে টাইমস পত্রিকায় ছাপা হয় ইসরায়েলের পরমাণু কর্মসূচির ৫৭ ছবি। পুরো বিশ্বের চোখের সামনে চলে আসে ইসরায়েল এর দুরভিসন্ধি। ভান্নু তখন লন্ডনে। ভান্নুকে ধরতে মোসাদের জোর তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু কূটনৈতিক কারণে লন্ডন থেকে গ্রেফতার না করতে পেরে অভিনব কায়দার আশ্রয় নেয় ইহুদি রাষ্ট্রের এই প্রশিক্ষিত গোয়েন্দা দল। ভান্নুর পেছনে লেলিয়ে দেয়া হয় সিন্ডি নামের এক সুন্দরী তরুণীকে। সিন্ডির প্রেমের ফাঁদে পড়ে ইতালি বেড়াতে যান ভান্নু। ইতালির সমুদ্রবন্দরে তখন অপেক্ষা করছিল মোসাদের জাহাজ। গ্রেফতার করা হয় ভান্নুকে। ১৮ বছর সাজার পর ২০০৪ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি মেলে তার।</div>
<div class="yj6qo"></div>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/israel-worst-works/">ইসরায়েলের কুখ্যাত যত কাজ</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ত্রিপুরা-আরাকান যুদ্ধঃ মধ্যযুগের চট্টগ্রাম দখলের লড়াই</title>
		<link>https://itibritto.com/tripura-arakan-war/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[উবায়দুর রহমান রাজু]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Dec 2018 07:36:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=10166</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711.png" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711.png 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-300x169.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-768x432.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-1024x576.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div>
<p>১৫৩৮ সাল নাগাদ বাংলায় শুরু হয়েছিল পাঠান আফগানদের রাজত্ব৷ আফগান নেতা শের খান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহকে ১৫৩৮ সালের এক যুদ্ধে পরাজিত করে সর্বপ্রথম গৌড় দখল করেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের শেষ পর্যন্ত মুঘলদের কাছে পরাজিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দাউদ খান কররানী ছিলেন বাংলার শেষ আফগান শাসক। এ সময় আফগানদের রাজ্যসীমা দক্ষিণ চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১৫৭৬ [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/tripura-arakan-war/">ত্রিপুরা-আরাকান যুদ্ধঃ মধ্যযুগের চট্টগ্রাম দখলের লড়াই</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1080" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711.png" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711.png 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-300x169.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-768x432.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-1024x576.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1080;" /></div><div data-contents="true">
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="6e3cs-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="6e3cs-0-0"><span data-offset-key="6e3cs-0-0">১৫৩৮ সাল নাগাদ বাংলায় শুরু হয়েছিল পাঠান আফগানদের রাজত্ব৷ আফগান নেতা শের খান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহকে ১৫৩৮ সালের এক যুদ্ধে পরাজিত করে সর্বপ্রথম গৌড় দখল করেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের শেষ পর্যন্ত মুঘলদের কাছে পরাজিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দাউদ খান কররানী ছিলেন বাংলার শেষ আফগান শাসক। এ সময় আফগানদের রাজ্যসীমা দক্ষিণ চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১৫৭৬ সালে মুঘল সেনাপতি খান জাহানের কাছে দাঊদ খান পরাজিত হলে পুরো চট্টগ্রাম ত্রিপুরা এবং আরাকান রাজদের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে। আর এরই সাথে শুরু হয় চট্টগ্রাম দখলের চোর পুলিশ খেলা। গোলমাল বাঁধে ত্রিপুরা এবং আরাকান রাজ্যদ্বয়ের মধ্যে। মধ্যযুগের চট্টগ্রাম দখল নিয়ে ত্রিপুরা-আরাকান যুদ্ধ এর গল্পই আজকের নিবেদন।</span></div>
<div data-offset-key="6e3cs-0-0"><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-10169" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711.png" alt="" width="1920" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711.png 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-300x169.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-768x432.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/20i8i75ckl711-1024x576.png 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" /></div>
</div>
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="doqna-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="doqna-0-0"><span data-offset-key="doqna-0-0"> </span></div>
</div>
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="cvbbi-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="cvbbi-0-0">
<p><span data-offset-key="cvbbi-0-0"><span data-offset-key="cvbbi-0-0"><span data-offset-key="cvbbi-0-0">মুঘলদের হাত হতে বাংলা বেহাত হওয়ার ফলে চট্টগ্রামে যে একটা শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরক্ষা ছিল তা ভেস্তে যায়। সমসাময়িক সময়ে ত্রিপুরা এবং আরাকান দুই রাজ্যেই পরম সাহসী দুই রাজার উত্থান হয় এবং দুজনেই চটগ্রামকে তাদের স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে অমর মাণিক্য নামে এক রাজা ত্রিপুরার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হোন।</span></span></span></p>
<figure id="attachment_10176" aria-describedby="caption-attachment-10176" style="width: 220px" class="wp-caption alignleft"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-10176" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/e8f9cee44799d85645a3c1677e3a0bca.jpg" alt="" width="220" height="360" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/e8f9cee44799d85645a3c1677e3a0bca.jpg 220w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/12/e8f9cee44799d85645a3c1677e3a0bca-183x300.jpg 183w" sizes="auto, (max-width: 220px) 100vw, 220px" /><figcaption id="caption-attachment-10176" class="wp-caption-text">অমর মাণিক্য</figcaption></figure>
<p><span data-offset-key="cvbbi-0-0"><span data-offset-key="cvbbi-0-0">তিনি ১৫৮৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। রাজমালা থেকে জানা যায় তিনি তার ছেলে রাজধর নারায়ণকে প্রধান সেনাপতি করে আরাকান দখলে এক অভিযান প্রেরণ করেন। এই অভিযানে রাজধরের ছোটভাই অমর দুর্লভ নারায়ণ, সেনাপতি চন্দ্রদর্প নারায়ণ এবং ছত্রজিত নাজিরকে প্রধান সেনাপতির সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়৷ এ বাহিনী সঙ্গে দ্বাদশ বাঙ্গালা এবং ফিরিংগী সৈন্যরাও ছিল৷ এ বাহিনী কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে সহজেই নদী পার হয়ে রামু, দেয়াং, উড়িয়া ইত্যাদি অঞ্চল জয় করে নেয়৷ </span></span><span data-offset-key="cvbbi-0-0">এ সংবাদ পেয়ে এক বিশাল আরাকানী বাহিনী ত্রিপুরাদের গতিরোধ করে৷ এতে ত্রিপুরা বাহিনী ভীত হয়ে পড়ে এবং ফিরিংগীরা যুদ্ধে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে সহজেই আরাকানীরা তাদের হারানো অঞ্চল পুনরূদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আরাকানের মসনদে ছিলেন রাজা মেং ফলৌং৷ শুনা যায় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তার নাম ছিল সিকান্দার শাহ৷ ত্রিপুরা বাহিনীর সাথে তার রননৈপূণ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়৷ ওদিকে ত্রিপুরা বাহিনী আরাকানীদের নিকট পরাজিত হলেও তারা যুদ্ধে ক্ষান্ত না দিয়ে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর প্রস্তুতি নিতে থাকে। আরাকানী গোয়েন্দাবাহিনী খবর পায় যে ত্রিপুরা বাহিনী পর্যাপ্ত রসদ না নিয়েই এ যুদ্ধে এসেছে। এই তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে ত্রিপুরা বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আরাকানীদের প্রথম আক্রমণেই দিশেহারা হয়ে যায়। আরাকানী সৈন্যরা ত্রিপুরাদের তাড়িয়ে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ধাওয়া দিয়ে আসে৷ এসময় ত্রিপুরাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়, অনেক সৈন্য মারা যায়। আরাকানী বাহিনী নদী পার হয়ে উত্তর চট্টগ্রাম পর্যন্ত ত্রিপুরাদের ধাওয়া দিয়ে আসে। ধাওয়া খাওয়ার পরও ত্রিপুরা বাহিনী দমে না গিয়ে তাদের সেনাপতি দ্বারা আবার সুশৃঙ্খল হয়৷ যুদ্ধবাজ ত্রিপুরারা এসময় পালটা আঘাত হেনে আরাকানী বাহিনীকে পরাজিত করে ফেলে৷ এ পালটা আঘাতে অনেক আরাকানী সৈন্য নিহত হয়। এ পরাজয়ে ধূর্ত আরাকান রাজ মেং ফলৌং (সিকান্দার শাহ) তাঁর অধীনস্থ উড়িয়া রাজাকে সন্ধির প্রস্তাব টানেন। ত্রিপুরারাজও ছিলেন ক্লান্ত, তিনি নিজেও মনে মনে চেয়েছিলেন যুদ্ধবিরতির। তাই রাজা অমর মাণিক্য তার সেনাপতি রাজধর মাণিক্যকে যুদ্ধ বন্ধ করে ত্রিপুরায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন। প্রকৃতপক্ষে আরাকান রাজ মেং ফলৌং সন্ধির ফাঁকেতালে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন এবং পর্তুগীজদের সাথে হাত মিলিয়ে পরবর্তী আঘাতের দিনগণনা করতে থাকেন৷ ওদিকে ত্রিপুররাজ এই খবর জানতে পেরে তার পুত্র যুবরাজ রাজধর মাণিক্যকে প্রধান সেনাপতি বানিয়ে আরাকানীদের বিরুদ্ধে এক অভিযান প্রেরণ করেন। ত্রিপুরার বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে চতুর আরাকানরাজ মেং ফলৌং স্বর্ণ খচিত হাতির দাঁতের টোপর ও একটা চিঠিসহ দুজন দূতকে ত্রিপুরা শিবিরে পাঠান। এসময় রাজধর নারায়ণ মুকুট এবং তার ছোটভাই রাজদুর্লভ চিঠি পান। রাজদুর্লভ মুকুট না পেয়ে খুবই রাগান্বিত হোন এবং রাগে ফুঁসলাতে থেকে বলতে থাকেন, মগদেরকে শৃগালের মত হত্যা করে এরকম হাজার টোপর ছিনিয়ে নিয়ে আসব। দূত ফিরে গিয়ে এই কথা আরাকান শিবিরে জানালে রাজা মেং ফলৌং ত্রিপুরা শিবিরে হানা দিতে তার সেনাপতিকে নির্দেশ দেন এবং আবার ত্রিপুরা-আরাকান নতুন আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে৷ যুদ্ধের শুরুতেই রাজদুর্লভ হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যান। সেনাপতি শেলের আঘাতে আহত হন। আর এতে করেই ত্রিপুরা বাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং পরাজিত হয়ে যায়।</span></p>
</div>
</div>
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="b0r7c-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="b0r7c-0-0">
<p><span data-offset-key="b0r7c-0-0"> </span></p>
<h3 class="_1mf _1mj" data-offset-key="5cfep-0-0"><span style="color: #008000;"><strong>ফের যুদ্ধ এবং আরাকানীদের চট্টগ্রাম বিজয়</strong></span></h3>
</div>
</div>
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="b4cjm-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="4so4r-0-0"><span data-offset-key="4so4r-0-0">আরাকানীদের হাতে ছিল তখন রামু। রামুর শাসনকর্তা ছিলেন আদম শাহ৷ আরাকানীদের সাথে বিরোধের জের ধরে আদম শাহ পালিয়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নেন। আদম শাহকে ফিরিয়ে দিতে ত্রিপুরার রাজা অমর মাণিক্যের কাছে আরাকান রাজ আবেদন করলে তা প্রত্যাখান করেন অমর মাণিক্য৷ যার ফলে আবার আরেকটি যুদ্ধের দামামা বাজতে থাকে। চূড়ান্ত এ যুদ্ধে ত্রিপুরা রাজ্যের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। রাজা অমর মাণিক্য স্বয়ং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হয়ে জংগলে আশ্রয় নেন। আর ত্রিপুরার উদয়পুর পর্যন্ত আরাকানীরা দখল করে নেয়৷ রামুর শাসনকর্তা আদম শাহের ভাগ্যে কি ঘটেছিল তা অবশ্য জানা যায়নি। ব্রিটিশ পর্যটক রাল্ফ রিচ তার এক বিবরণীতে বলেছেন ১৫৮৬ সাল রামু ও চট্টগ্রাম আরাকানীদের অধীনে ছিল। সুনীতিভূষণ কানুনগো মনে করেন ১৫৮০ সালের আগেই আরাকানীরা চূড়ান্তভাবে চট্টগ্রাম বিজয় করে।</span></div>
</div>
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="79cto-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="79cto-0-0"><span data-offset-key="79cto-0-0"> </span></div>
</div>
<div class="" data-block="true" data-editor="ccmuk" data-offset-key="4rt50-0-0">
<div class="_1mf _1mj" data-offset-key="4rt50-0-0"><span data-offset-key="4rt50-0-0">তথ্যসূত্রঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস-জামাল উদ্দিন, পৃষ্ঠা ৫০-৫১</span></div>
</div>
</div>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/tripura-arakan-war/">ত্রিপুরা-আরাকান যুদ্ধঃ মধ্যযুগের চট্টগ্রাম দখলের লড়াই</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
