<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সৌরভ চক্রবর্তী, Author at ইতিবৃত্ত</title>
	<atom:link href="https://itibritto.com/author/souravchakravarty/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://itibritto.com/author/souravchakravarty/</link>
	<description>বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র</description>
	<lastBuildDate>Fri, 13 Jul 2018 03:28:53 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>
	<item>
		<title>১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (শেষ পর্ব)</title>
		<link>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-3/</link>
					<comments>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-3/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সৌরভ চক্রবর্তী]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 14 Dec 2017 11:05:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=2707</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1000" height="563" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ" decoding="async" fetchpriority="high" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image.jpg 1000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image-768x432.jpg 768w" sizes="(max-width: 1000px) 100vw, 1000px" style="aspect-ratio: 1000/563;" /></div>
<p>দ্বিতীয় পর্বের পর – যুদ্ধ মানেই সভ্যতার রক্তাক্ত দেহের উপর মৃত্যুর তাণ্ডব নৃত্য নয়। প্রতিটি যুদ্ধের পিছনেই রয়েছে জটিল প্রেক্ষাপট ও সামনে রয়েছে সুদূরপসারী ফলাফল। মানব ইতিহাসের অসংখ্য যুদ্ধের মধ্যে ১৯৬২ সালের ২০শে অক্টোবর থেকে ২১শে নভেম্বর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া চীন-ভারত যুদ্ধ আপাতদৃষ্টিতে নগণ্য হলেও তার ছায়া একবিংশ শতাব্দীর দক্ষিণ এশীয় এবং বৃহদার্থে এশীয় ভূরাজনৈতিক সমীকরণে [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-3/">১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (শেষ পর্ব)</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1000" height="563" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image.jpg 1000w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/image-768x432.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1000px) 100vw, 1000px" style="aspect-ratio: 1000/563;" /></div><p><a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/" target="_blank" rel="noopener"><strong>দ্বিতীয় পর্বের পর – </strong></a>যুদ্ধ মানেই সভ্যতার রক্তাক্ত দেহের উপর মৃত্যুর তাণ্ডব নৃত্য নয়। প্রতিটি যুদ্ধের পিছনেই রয়েছে জটিল প্রেক্ষাপট ও সামনে রয়েছে সুদূরপসারী ফলাফল। মানব ইতিহাসের অসংখ্য যুদ্ধের মধ্যে ১৯৬২ সালের ২০শে অক্টোবর থেকে ২১শে নভেম্বর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া চীন-ভারত যুদ্ধ আপাতদৃষ্টিতে নগণ্য হলেও তার ছায়া একবিংশ শতাব্দীর দক্ষিণ এশীয় এবং বৃহদার্থে এশীয় ভূরাজনৈতিক সমীকরণে খুব স্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হয়।</p>
<p>সহজ ভাষায় ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের নেপথ্যে প্রধান কারণ ছিল বিবাদপূর্ণ সীমান্ত। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী ‘ডুরান্ড রেখা’ হোক কিংবা পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যবর্তী ‘লাইন অফ কন্ট্রোল’ হোক বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব বিবাদপূর্ণ সীমান্তের বিবাদের সূত্রপাত সেই ব্রিটিশ শাসনামলে। ব্রিটিশরা তাদের সুবিধা মত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সীমারেখা ব্যাবহার করেছে। কিন্তু ব্রিটিশরা চলে গেলেও রয়ে যায় তাদের সৃষ্ট সীমান্তবিভ্রাট। ব্রিটিশদের হাত থেকে নব্য স্বাধীন দেশগুলো নিজ সুবিধামত সীমানাকে বৈধ হিসেবে দাবি করে এসেছে। যেমন চীন-ভারত সীমান্তের ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে ভারত জনসন রেখাকে এবং চীন ম্যাকার্থি-ম্যাকডোনাল্ড রেখাকে বৈধ হিসেবে দাবি করে। এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না যে স্বীয় দাবীকৃত রেখায় প্রতি দেশের নিজ অংশে অধিক অঞ্চল পরে।</p>
<figure id="attachment_2710" aria-describedby="caption-attachment-2710" style="width: 940px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="wp-image-2710 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/india-chinamap1.jpg" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ " width="940" height="557" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/india-chinamap1.jpg 940w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/india-chinamap1-300x178.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/india-chinamap1-768x455.jpg 768w" sizes="(max-width: 940px) 100vw, 940px" /><figcaption id="caption-attachment-2710" class="wp-caption-text">Source: globalaffairspressdotcom.wordpress.com</figcaption></figure>
<p>কিন্তু একটু গভীরে ঢুকলেই দেখা যাবে যে, চীন-ভারত যুদ্ধের জন্য দায়ী ছিল অদূরদর্শী ভারতীয় নেতৃত্ব, সুনির্ধারিত নীতিমালার অভাব এবং ভারতের প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ। বসবাস-অযোগ্য সুউচ্চ মরুভূমি আকসাই চিন ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক কিংবা ভৌগলিক কোন দৃষ্টিকোণ থেকেই ভারতের অংশ ছিল না। তাছাড়া এই স্থানটির কোন কৌশলগত তাৎপর্যও ভারতের কাছে ছিল না। অপরদিকে চীনের কাছে জিনজিয়াং ও তিব্বতের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আকসাই চিন ছিল অপরিহার্য। ভারতের কাছে সুযোগ ছিল আলোচনার মাধ্যমে আকসাই চিনে কিছুটা আপস করে চীনের সাথে বিরাজমান সকল সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যার শান্তিপূ্র্ণ সমাধানের। কিন্তু সেসময় চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং উভয় বিশ্ব পরাশক্তির সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক নেহেরুকে এক মারাত্মক জুয়ায় মেতে ওঠার সাহস জোগায়। সম্মুখ নীতি ছিল তাঁর অর্বাচীন স্পর্ধার চরম পরিচায়ক। স্পষ্টতই শত্রুর সংকল্প নিয়ে তাঁর যতটা সন্দেহ ছিল, মিত্রের আশ্বাসের উপর তাঁর ততটাই আস্থা ছিল।</p>
<p>যুদ্ধের উস্কানি দেওয়া যতটা না নীচতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি না নেওয়া ততোধিক নির্বুদ্ধিতা। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারত দুটি কাজই যথেষ্ট পারদর্শীতার সাথে করতে সফল হয়। ১৯৫৯ সালে দালাইলামাকে রাজনৈতিক আশ্রয়দান এবং সম্মুখনীতির অংশ হিসেবে বারবার সীমানা লঙ্ঘনের মত পদক্ষেপ ছিল চীনের ধৈর্য ও শক্তি পরীক্ষার প্রয়াস। তবে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে মৈত্রীতার মোহে এতটাই মোহাচ্ছন্ন ছিল যে চীনের সাথে সম্মুখ সমরের যেকোন সম্ভাবনাই তারা বাতিল করে দেয়। তাদের অন্ধ বিশ্বাস ছিল ভারতকে আক্রমণের স্পর্ধা কখনো চীনের হবে না, কেননা তখন উভয় বিশ্ব পরাশক্তির সাথেই চীনের সম্পর্ক ছিল বেজায় খারাপ।</p>
<figure id="attachment_2713" aria-describedby="caption-attachment-2713" style="width: 750px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="wp-image-2713 size-publisher-lg" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/download-750x430.jpg" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ" width="750" height="430" /><figcaption id="caption-attachment-2713" class="wp-caption-text">Source: Reuters India</figcaption></figure>
<p>কিন্তু ১৯৬২ সালের ১৬ই অক্টোবর শুরু হয়ে ২৮শে অক্টোবর পর্যন্ত চলা কিউবান মিসাইল সংকট সকল সমীকরণ পালটে দেয়। চীনের চতুর নেতা মাও জেডং তার সমাজতান্ত্রিক বন্ধুদের সাথে সখ্যতার খাতিরে অনেক আগেই কিউবাকে ঘিরে একটি ভয়াবহ সংকটের আভাস পেয়েছিলেন। তিনি সে অনুযায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। তিনি জানতেন এরূপ সংকটময় সময়ে দূর প্রাচ্যের কোন ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামাবার ফুরসত যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়নের হবে না। তিনি পরিকল্পনা করেন ভারতকে আকস্মিক তীব্র আক্রমণের মাধ্যমে দ্রুত ভৌগলিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করে মিসাইল সংকট শেষ হবার আগেই সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। অপরদিকে ভারতীয়রা যতক্ষণে বুঝতে পারে চীনের প্রকৃত অভিসন্ধি কি ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। সীমান্তে অপ্রস্তুত ভারতীয়দের উপর আকস্মিক চৈনিক হামলায় একের পর এক ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল চীনের হাতে চলে যেতে থাকে। হিমালয়ের প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করবার মত প্রশিক্ষণ কিংবা প্রস্তুতি কোনটিই ভারতীয় সৈন্যদের ছিল না। একই সাথে দুই শত্রু- চীন এবং হিমালয়ের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই করতে হচ্ছিল। ভারতীয়দের কাছে সর্বোত্তম পন্থা ছিল অগ্রসরমান চৈনিকদের উপর বিমান হামলা। কিন্তু মার্কিনীদের উপদেশে চৈনিকদের পাল্টা বিমান আক্রমণের ভয়ে ভারত বিমান বাহিনী ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকে। পরবর্তীতে সিআইএ কর্তৃক প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে সেসময় চৈনিক বিমানবাহিনীর ভারতের উপর হামলা করার মত সামর্থ্য ছিল না। ভারতের পক্ষে বিমান হামলা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। এসময় নেহেরু মরিয়া হয়ে কেনেডির কাছে ১২ স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান ও একটি আধুনিক রাডার ব্যবস্থা চেয়ে দুটি চিঠি লেখেন। কিন্তু কিউবান মিসাইল সংকট নিয়ে ব্যস্ত কেনেডি প্রশাসন এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে যুদ্ধের একেবারে শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কিটি হক(USS Kitty Hawk) বঙ্গোপসাগরে প্রেরণ করার পরিকল্পনা করে। কিন্তু কৌশলী চীন সময়মমত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে কোন তৃতীয় শক্তির জড়িত হওয়া রোধ করে।</p>
<p>এই যুদ্ধ মোকাবিলায় ভারত শুধু সামরিক ভাবেই ব্যর্থ হয়নি, রাজনৈতিক ভাবেও ব্যর্থ হয়। কিভাবে শত্রুর মোকাবিলা করা যায় তার পরিকল্পনা না করে ভারতীয় রাজনীতিবিদরা একে অপরকে দোষারোপেই বেশি মেতে ছিলেন। এরূপ পরিস্থিতিতে যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন সেখানে তর্ক-বিতর্কের বেড়াজালে সৃষ্ট দীর্ঘসূত্রিতায় ভারত কোন পদক্ষেপই সময়মত নিতে পারেনি। নেহেরু নেতৃত্বাধীন সরকার যুদ্ধের পূর্বজ্ঞান করতে, প্রস্তুতি নিতে এবং সংকটময় সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। ভারতের গণতন্ত্রই যেন ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।</p>
<figure id="attachment_2717" aria-describedby="caption-attachment-2717" style="width: 660px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-2717 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/Chinawar.jpg" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ" width="660" height="350" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/Chinawar.jpg 660w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/Chinawar-300x159.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 660px) 100vw, 660px" /><figcaption id="caption-attachment-2717" class="wp-caption-text">Source: thehindu.com</figcaption></figure>
<p>চৈনিকরা যুদ্ধে তাদের সকল লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। পশ্চিমে আকসাই চিন সম্পূর্ণরূপে চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং তিব্বতে চীনের আধিপত্য নিয়ে আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না। ভারত সম্মুখনীতি পরিত্যাগ করে। যদিও চীনের ভারত আক্রমণ মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রথম বিশ্বের কাছে আর এক সমাজতান্ত্রিক আগ্রাসন হিসেবে পরিগণিত হয়, বিশ্ব দরবারে চীন আবির্ভূত হয় এক নতুন শক্তি হিসেবে।</p>
<p>১৯৬২ সালের যুদ্ধে পরাজয় ভারতের সামরিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা সবার সামনে তুলে ধরে। চীনের এরূপ বিশ্বাসঘাতকতায় ভারত বুঝতে পারে দক্ষিণ এশীয়ায় শুধুমাত্র পাকিস্তানই ভারতের একমাত্র শত্রু নয়। ভারতের সামরিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান আগ্রাসী হয়ে ওঠে এবং সীমান্তে ঘন-ঘন অনুপ্রবেশ ও সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে যায়। ভারতবিরোধী চীন-পাকিস্তান জোটের উদ্ভব হয়। এখনো এই জোটের মূল ভিত্তি ভারতবিরোধীতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এবং তাদের ভূমিকাও হ্রাস পায়। ভারতীয় নেতৃত্বাধীন নন অ্যালাইনমেন্ট মুভমেন্ট(ন্যাম/NAM)-এর কা্যকারিতা নিয়েও সবার মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। ব্যক্তিগতভাবে সব থেকে বেশি সমালোচনার শিকার হন জওহরলাল নেহরু। তাঁর স্বপ্ন ছিল ভারত এবং চীন শীতল যুদ্ধের নিরপেক্ষ তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে, যা পরিণত হয় তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুলে। চীনের সাথে সমস্যা সমাধানে তাঁর কোন সুনির্দিষ্ট নীতি ছিল না। তাঁর মত বিচক্ষণ ব্যক্তি কেন চৈনিক হুমকিকে গুরুত্ব দেননি তা আজও অনেকের প্রশ্ন।</p>
<p>এ যুদ্ধের ফলে ভারতীয়রা বুঝতে পারে যে তুখড় কূটনীতি কখনো আত্মনির্ভরশীলতার বিকল্প হতে পারে না। মূলত এই যুদ্ধের পরাজয়ের কারণেই ভারত সামরিক বাহিনীর ব্যাপক আধুনিকায়ন এবং সামরিকখাতে স্বনির্ভরশীলতার প্রয়াস শুরু করে। পরাজয়ে ভারতীয়দের মধ্যে অভূতপূর্ব দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমানে যে ভারতীয় জাতীয়তাবোধের সাথে আমরা পরিচিত তার ভিত নিহিত ১৯৬২ সালের যুদ্ধে।</p>
<p>১৯৬২ সালের যুদ্ধই মূলত আগামী কয়েক দশকে চীন ভারতের মধ্যবর্তী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দেয়। দালাই লামার অরুণাচল প্রদেশে সফর কিংবা নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার গ্রুপে ভারতের সদস্যপদলাভে চীনের বাধা সর্বত্রই ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের ছায়া খুব সহজেই পরিলক্ষিত হয়।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-3/">১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (শেষ পর্ব)</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-3/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (২য় পর্ব)</title>
		<link>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/</link>
					<comments>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সৌরভ চক্রবর্তী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 Dec 2017 11:30:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=2461</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="853" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1.jpeg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="চীন-ভারত যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1.jpeg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1-300x200.jpeg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1-768x512.jpeg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1-1024x682.jpeg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/853;" /></div>
<p>প্রথম পর্বের পর &#8211;  নেহেরুর সম্মুখনীতি, দালাই লামার ভারতে আশ্রয়লাভ, আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ভারতীয় কূটনৈতিক তৎপরতা প্রভৃতি চৈনিকদের নিশ্চিত করে যে, ভারত সুপরিকল্পিতভাবে তিব্বতকে নিজের আয়ত্তে আনার প্রয়াস চালাচ্ছে। দুশ বছর ধরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের হাতে নিষ্পেশিত ভারতীয়দের প্রতি প্রাথমিকভাবে সহানুভূতিশীল চৈনিক নেতৃত্ব, তাদের মতে, নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ভারত সরকারকে শাস্তি দিতে ও তাদের আগ্রাসনের সমাপ্তি ঘটাতে বদ্ধপরিকর [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/">১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (২য় পর্ব)</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1280" height="853" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1.jpeg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="চীন-ভারত যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1.jpeg 1280w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1-300x200.jpeg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1-768x512.jpeg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/018714c1ecc52000-1-1024x682.jpeg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1280px) 100vw, 1280px" style="aspect-ratio: 1280/853;" /></div><p><a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india/" target="_blank" rel="noopener"><strong>প্রথম পর্বের পর &#8211; </strong></a></p>
<p>নেহেরুর সম্মুখনীতি, দালাই লামার ভারতে আশ্রয়লাভ, আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ভারতীয় কূটনৈতিক তৎপরতা প্রভৃতি চৈনিকদের নিশ্চিত করে যে, ভারত সুপরিকল্পিতভাবে তিব্বতকে নিজের আয়ত্তে আনার প্রয়াস চালাচ্ছে। দুশ বছর ধরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের হাতে নিষ্পেশিত ভারতীয়দের প্রতি প্রাথমিকভাবে সহানুভূতিশীল চৈনিক নেতৃত্ব, তাদের মতে, নব্য-সাম্রাজ্যবাদী ভারত সরকারকে শাস্তি দিতে ও তাদের আগ্রাসনের সমাপ্তি ঘটাতে বদ্ধপরিকর হয়। আগ্রাসী মনোভাবের জন্যে নিন্দিত চীনের সে সময়ের সর্বময় নেতা মাও জেডং-এর ভাষ্যমতে &#8211; “ক্রমাগত আগ্রাসনের অভিযুক্ত হবার থেকে বিশ্বকে চীনের শক্তি সম্পর্কে জানান দেওয়াই শ্রেয়।“ চৈনিক নেতৃত্ব যুদ্ধের কয়েকটি লক্ষ্য স্থির করে:</p>
<ul>
<li>চীনের দাবিকৃত অঞ্চল হতে ভারতীয়দের সমূলে উৎপাটন।</li>
<li>তিব্বতের উপর চিরস্থয়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।</li>
<li>চীনের বিপক্ষে সম্ভাব্য সোভিয়েত-ভারত-মার্কিন জোটকে প্রতিহত করা।</li>
<li>বিশ্বকে চীনের ক্ষমতা ও সংকল্প সম্পর্কে জানান দেওয়া।</li>
</ul>
<p>লক্ষ্য অর্জনে চৈনিক নীতিনির্ধারকরা পরিকল্পনা করেন একই সাথে ইস্টার্ন থিয়েটার বা পূর্বে ম্যাকমাহন লাইন বরাবর এবং ওয়েস্টার্ন থিয়েটার বা পচ্শিমে আকসাই চিনে আক্রমণ করে সকল ভারতীয় সেনাদের চীনের দাবিকৃত অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করে এবং একতরফা যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ভারতকে আলোচনায় বাধ্য করতে। মাও জেডং-এর মতে- দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য কঠোর পদক্ষেপ ছিল অপরিহার্য, যদিও এই পরিকল্পনায় চীন ছিল আগ্রাসক।</p>
<p>অপরদিকে পরপর কয়েকটি যুদ্ধে জয়লাভকারী এবং বিশ্ব দরবারে সমাদৃত, নিজেদের শক্তি ও চৈনিকদের দুর্বলতা নিয়ে মোহাচ্ছন্ন ভারত সম্মুখ সমরের জন্য নগণ্য প্রস্তুতি নেয়। পূর্বাভিজ্ঞতা থেকে তাদের ধারণা ছিল যে, অগ্রসরমান চৈনিক সৈন্যদের দিকে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুঁড়লেই তারা পচ্শাৎপসরণ করবে। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৬২ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর আদেশে ভারতীয় সেনারা ম্যাকমাহন লাইনের উত্তরে ঢোলা নামক স্থানে অবস্থান নেয় যা ছিল চীনের অধিভুক্ত অঞ্চল। ভারতের এরূপ বেপরোয়া আচরণের উদ্দেশ্য ছিল চীনের সংকল্প ও অভিসন্ধি সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং প্রয়োজনে সীমান্তে চৈনিক সেনাদের সরবরাহ ব্যাবস্থা বিঘ্নিত করা। হিমালয়ের প্রতিকূল আবহাওয়ায় দুই দেশ যেন এক ভয়ংকর দাবার আসরে মেতে ওঠে যা ১০ই অক্টোবর চীন ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশকিছু সংখ্যক সৈন্য নিহত হয় এবং ভারতীয়রা বাধ্য হয় পিছু হটতে। ভারত সরকার অনেক দেরিতে হলেও বুঝতে পারে যে সীমান্তে তাদের এই পদক্ষেপ ছিল চরম ভুল। নেহেরু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন, কিন্তু ১৮ই অক্টোবর নাগাদ সীমান্তে চীনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে চীন অতি শীঘ্রই এক অপ্রস্তুত ভারতকে আক্রমণ করবে।</p>
<p>১৯৬২ সালের ২০ অক্টোবর চীনের পিপল্স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যুগপৎ ইস্টার্ন থিয়েটারে নামকা চু নদীর তীরএ এবং ১০০০ কি:মি: দূরে ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে আকসাই চিনের চিপ চ্যাপ ভ্যালীতে আক্রমণ করে, উদ্দেশ্য নামকা চু নদীর উভয় তীর দখল এবং চিপ চ্যাপ ভ্যালী হতে ভারতীয় সৈন্যদের উৎখাত করা।</p>
<figure id="attachment_2462" aria-describedby="caption-attachment-2462" style="width: 483px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-2462" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/war-india-china.jpg" alt="চীন-ভারত যুদ্ধ " width="483" height="600" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/war-india-china.jpg 483w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/war-india-china-242x300.jpg 242w" sizes="auto, (max-width: 483px) 100vw, 483px" /><figcaption id="caption-attachment-2462" class="wp-caption-text">চীন ভারত সীমান্ত</figcaption></figure>
<p>২০শে অক্টোবর মধ্যরাতে তিন রেজিমেন্ট চৈনিক সৈন্য নামকা চু নদীর উত্তর তীরে অবস্থান নেয়। দক্ষিণ তীরে অবস্থানকারী সংখ্যা ও শক্তি উভয়ের নিরিখে তুচ্ছ এক ব্যাটেলয়ান ভারতীয় সৈন্যের ধারণা ছিল আক্রমণকারীরা দু-তীর সংযোগকারী পাঁচটি সেতুর যেকোন একটি ব্যবহার করে পার হবে। কিন্তু চৈনিকরা রাতের আধারে ভারতীয় সৈন্যদের অগোচরে নদী পার হয়ে ঠিক তাদের পিছনে অবস্থান নেয় এবং সব ধরনের যোগাযোগের মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেদিন ভোরে উত্তর থেকে চালানো মর্টার হামলায় বিধ্বস্ত ভারতীয় সেনাদের উপর চৈনিক পদাতিক বাহিনী পিছন থেকে আচমকা আক্রমণ করে। হতভম্ব ভারতীরা আর কোন উপায় না দেখে নামকা চুর তীর ত্যাগ করে ভুটানে পলায়ন করে। নামকা চু দখলের পর চৈনিকরা নেফার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। ২২শে অক্টোবর ম্যাকমাহন লাইনের উপর ওয়ালং-এ ভারতীয়রা আক্রান্ত হয়। ভারতীয়দের নিঁখুত মর্টার হামলার কারণে প্রাথমিক ভাবে চৈনিকরা কিছুটা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও একের পর এক আক্রমণের মাধ্যমে তারা ভারতীয়দের পিছু হটতে বাধ্য করে। ২৩শে অক্টোবর একটি সংকীর্ণ স্থানে বেশ কিছু সংখ্যক চৈনিক সৈন্য একত্রিত হলে ভারতীয়রা তাদের উপর মর্টার ও মেশিন গান সহযোগে আক্রমণ চালায়, সেদিন সন্ধ্যায় চৈনিক সৈন্যদের সেখান থেকে প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষ চলতে থাকে। ভারতীয়রা কোন প্রতিরোধ ছাড়াই ত্যাগ করলে অরুণাচল প্রদেশের অন্তর্গত তাওয়াঙ সাময়িকভাবে চৈনিক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।</p>
<figure id="attachment_2463" aria-describedby="caption-attachment-2463" style="width: 842px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-large wp-image-2463" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/boarder-842x1024.jpg" alt="চীন-ভারত যুদ্ধ " width="842" height="1024" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/boarder-842x1024.jpg 842w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/boarder-247x300.jpg 247w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/boarder-768x934.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/boarder.jpg 1038w" sizes="auto, (max-width: 842px) 100vw, 842px" /><figcaption id="caption-attachment-2463" class="wp-caption-text">চীন ভারত পশ্চিম সীমান্ত</figcaption></figure>
<p>অপরদিকে ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে বিতর্কিত অঞ্চলের অধিকাংশই ইতোমধ্যে চৈনিক নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। তারা ১৯ শে অক্টোবর রাতেই পুরো ওয়েস্টার্ন থিয়েটার জুড়ে অবশিষ্ট ভারতীয়দের বিতাড়নের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০শে অক্টোবরের মধ্যেই জনসন লইনের পূর্বে চীনের দাবিকৃত ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন সকল পোস্ট যথা: চিপ চ্যাপ ভ্যালী, গালওয়ান ভ্যালী, প্যাংমং লেক প্রভৃতি চৈনিকদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এসকল পোস্টে ভারতীয় সেনারা যথাসাধ্য প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, ভারতীয় কতৃপক্ষের সহায়তার অভাবে অধিকাংশ সৈন্য নিহত বা ধৃত হয়। ২৪শে অক্টোবর, নিকটস্থ একটি বিমানপোত রক্ষার্থে রেজাং লা নামক শৈলশিরায় ভারতীয়রা আপ্রাণ লড়াই করে। কিন্তু সুপরিকল্পিত ও সুসজ্জিত চৈনিক আক্রমণের সামনে অপ্রস্তুত ভারতীয়দের পক্ষে পশচাৎপসরণ ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না এবং অতিশীঘ্রই তারা সংগঠিত হতে সকল বিচ্ছিন্ন সম্মুখ পোস্ট ত্যাগ করে। ফলে সমগ্র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার অনায়াসেই চৈনিকদের আয়ত্তে চলে আসে।</p>
<p>২৪শে অক্টোবর নাগাদ চৈনিক সেনাবাহিনী বিতর্কিত অঞ্চলের অধিকাংশ নিজেদের দখলে এনে সংঘাতপূর্ব নিয়ন্ত্রণরেখার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রবেশ করে। অপরদিকে ভারতীয় সেনারা সংঘবদ্ধ হয়ে সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান নেয়, যা আক্রমণ করা ছিল চৈনিকদের পক্ষে বিপজ্জনক। চৈনিক প্রধানমন্ত্রী ঝোউ এনলাই তার সেনাবাহিনীকে আর অগ্রসর হতে নিষেধ করেন এবং আকসাই চিনে বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখা মেনে নেবার ও উভয়পক্ষের সৈন্য প্রত্যাহারের শর্তে, নেহেরুকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে আলোচনায় বসার আহবান জানান। ঝোউ নেফায় ম্যাকমাহন লাইন ও তিব্বতে ম্যাকডোনাল্ড লাইন, যা আকসাই চিনকে চীনের অন্তর্গত করে, মেনে নেবার প্রস্তাব করেন। প্রাথমিকভাবে নেহেরু শান্তি পুনরুদ্ধারে আন্তরিক হলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে ভারতীয় জাতীয় সংসদ ‘বহিরাগত শত্রুদের ভারতের পবিত্র ভূমি হতে বিতাড়নের’ অঙ্গীকার করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। ভারতের এহেন পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সমর্থন জানালে ১৪ই নভেম্বর নেহেরু ঝোউ-এর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং এরই সাথে অবসান ঘটে চার দিনের তীব্র যুদ্ধের পর তিন সপ্তাহব্যাপি অঘোষিত যুদ্ধবিরতির।</p>
<figure id="attachment_2464" aria-describedby="caption-attachment-2464" style="width: 964px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-2464" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/article-2584673-1C6DE57600000578-939_964x477.jpg" alt="চীন-ভারত যুদ্ধ " width="964" height="477" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/article-2584673-1C6DE57600000578-939_964x477.jpg 964w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/article-2584673-1C6DE57600000578-939_964x477-300x148.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/12/article-2584673-1C6DE57600000578-939_964x477-768x380.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 964px) 100vw, 964px" /><figcaption id="caption-attachment-2464" class="wp-caption-text">Source: Daily Mail</figcaption></figure>
<p>এরপর ছিল ভারতীয়দের পালটা জবাবের পালা। ১৪ই নভেম্বরই ভারতীয় সেনারা ইস্টার্ন থিয়েটারে ওয়ালং-এ অবস্থানকারী চৈনিকদের উপর সে লা নামক সুউচ্চ সুবিধাজনক স্থান হতে আকস্মিক আক্রমণ করে এবং চৈনিকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। উচ্চতার কারণে সে লা আক্রমণ করা ছিল নির্বুদ্ধিতা, তাই চৈনিকরা ১৭ই নভেম্বরই সে লা-র কাছাকাছি থেমবাং নামক স্থান দখল করে ভারতীয়দের সরবরাহ ব্যাবস্থা বিনষ্ট করে দেয়। পিএলএ ভারতের অভ্যন্তরে আসামের তেজপুর পর্যন্ত ঢুকে পরলে, ভারতীয় মুদ্রা রিসার্ভ ধবংস করে সেখান থেকে সাধারণ জনগণকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৮ই নভেম্বর ভোরে, ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে বিশেষ করে চুষুলে অবস্থানকারী ভারতীয়দের উপর পিএলএ ভয়াবহ আক্রমণ করে। ঘন কুয়াশা এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগের কারণে কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক ভারতীয় অবস্থান চৈনিকদের দখলে চলে যেতে থাকে। আক্রমণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীন তার দাবীকৃত সীমানা পর্যন্ত জয় করতে সক্ষম হয়। পুনরায় ভারতীয়রা অপর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে পিছু হটে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।</p>
<p>১৯শে নভেম্বর, উভয়পক্ষে ব্যাপক জান-মালের ক্ষতির পর চীন উপলব্ধি করে তাদের সকল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তারা একক ভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং আকসাই চিন ব্যতিত ভারত হতে বিজিত সকল স্থান হতে সৈন্য প্রত্যাহার করে। এখানে উল্লেখ্য ভারতের সাহায্যার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিমানবাহী রণতরী প্রেরণ করে যা যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। চীন যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সুকৌশলে আমেরিকার জড়িত হওয়া রোধ করে।</p>
<p>প্রায় এক মাসব্যপি চলা যুদ্ধে দুদেশের কেউ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেনি। তাছাড়া কোন পক্ষের দ্বারাই বিমানবাহিনী বা নৌবাহিনী ব্যবহৃত হয়নি। এ যুদ্ধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হিমালয়ের উচ্চতায় লড়াই-এর জন্য।</p>
<p>১৯৬২-এর চীন-ভারত যুদ্ধে ভারতীয়দের প্রায় তিন হাজার সৈন্য নিহত হয়, প্রায় দেড় হাজার সৈন্য ধৃত ও চার হাজার সৈন্য নিখোঁজ হয়। তাছাড়া ভূরাজনৈতিক নেতিবাচক প্রভাবের নিরিখে ভারত এ যুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে পরাজিত হয়।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/">১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (২য় পর্ব)</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (১ম পর্ব)</title>
		<link>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india/</link>
					<comments>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সৌরভ চক্রবর্তী]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 29 Nov 2017 12:07:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=2275</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1008" height="672" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M.jpg 1008w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M-300x200.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M-768x512.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1008px) 100vw, 1008px" style="aspect-ratio: 1008/672;" /></div>
<p>সত্তরের দশকের প্রধান বৈশিষ্ট্য, দুই বিশ্ব-পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধের স্নায়বিক চাপের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি। এই দশকের শুরুতেই, ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকট পৃথিবীকে পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। ঠিক এই সময় যখন গোটা বিশ্বের নজর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার দিকে, তখন অনেকটা সকলের অগোচরেই [&#8230;]</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india/">১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (১ম পর্ব)</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1008" height="672" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M.jpg 1008w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M-300x200.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/41j7M-768x512.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 1008px) 100vw, 1008px" style="aspect-ratio: 1008/672;" /></div><p>সত্তরের দশকের প্রধান বৈশিষ্ট্য, দুই বিশ্ব-পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার <a href="https://itibritto.com/cold-war-part-1/"><strong>স্নায়ুযুদ্ধে</strong></a>র স্নায়বিক চাপের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি। এই দশকের শুরুতেই, ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকট পৃথিবীকে পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। ঠিক এই সময় যখন গোটা বিশ্বের নজর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার দিকে, তখন অনেকটা সকলের অগোচরেই এশিয়ার দুই উদীয়মান শক্তি ভারত ও চীন লিপ্ত হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, যা আপাতদৃষ্টিতে এক মাস স্থায়ী হলেও সুদূরপসারী প্রভাব ফেলে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে।</p>
<p>হাজার বছরের পুরনো দুই সভ্যতা ভারত ও চীন দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক দাসত্বের পর যথাক্রমে ১৯৪৭ ও ১৯৪৯ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। প্রথম দিকে, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক যথেষ্ট উষ্ণ ছিল, যার পিছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর। কিন্তু বিস্তৃত অমীমাংসিত সীমান্ত এবং চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব আন্তরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে বরাবরই বাধা হয়ে দাঁড়ায় যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় সশস্ত্র সংঘর্ষে। ১৯৬২ সালে চীনের আকস্মিক ভারত আক্রমণের পিছনে প্রধানত তিনটি কারণ ছিলঃ</p>
<figure id="attachment_2276" aria-describedby="caption-attachment-2276" style="width: 660px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-2276" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/উপমহাদেশের-ম্যাপ-এ-সীমান্ত.jpg" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (১ম পর্ব)" width="660" height="497" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/উপমহাদেশের-ম্যাপ-এ-সীমান্ত.jpg 660w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/উপমহাদেশের-ম্যাপ-এ-সীমান্ত-300x226.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/উপমহাদেশের-ম্যাপ-এ-সীমান্ত-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 660px) 100vw, 660px" /><figcaption id="caption-attachment-2276" class="wp-caption-text">উপমহাদেশের ম্যাপ এ সীমান্ত</figcaption></figure>
<h4><strong>তিব্বত</strong> <strong>সঙ্কট</strong><strong>:</strong></h4>
<p>১৯৫০ সালের অক্টোবরে চ্যাম্ব্ড সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে চীন জোরপূর্বক তিব্বতকে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে এবং আধিপত্য জোরদার করার লক্ষ্যে ব্যাপক নির্মাণকাজ হাতে নেয়। প্রাথমিকভাবে ভারতের প্রতিক্রিয়া লিখিত প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে ভারত চীনকে কূট-নৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানায়। ১৯৫৯ সালের মার্চে, তিব্বতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা চতুর্দশ দালাই লামা চৈনিক শাসনযন্ত্রের বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ভারতে পলায়ন করেন এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন, যা চীনের শাসনকর্তাদের বিশেষ করে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান মাও জেডংকে অতিশয় ক্রুদ্ধ করে তোলে।</p>
<h4><strong>আকসাই</strong> <strong>চিন</strong><strong>:</strong></h4>
<p>তিব্বত ও চীনের উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ জিনজিয়াং-এর মাঝে অবস্থিত আকসাই চিন, যা মূলত এক সুউচ্চ মরুভূমি। ১৮৫৬ সালে প্রস্তাবিত জনসন লাইন অনুসারে আকসাই চিন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশের অন্তর্গত লাদাখের একটি অংশ হবার কথা। কিন্তু চীন জনসন লাইনকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি, স্বভাবতই আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে মেনে নেয়নি। তিব্বত অধিগ্রহনের পর ১৯৫১ সালে চীন তৎকালীন ভারত নিয়ন্ত্রিত আকসাই চিনের মধ্য দিয়ে তিব্বত ও জিনজিয়াংকে সংযোগকারী প্রায় ২০৮৬ কি:মি: দীর্ঘ ‘চায়না ন্যাশনাল হাইওয়ে ২১৯’ নির্মান শুরু করে। রাস্তাটি যে ভারতের সীমানা লঙ্ঘন করে নির্মিত হচ্ছে তা ভারতীয় সরকারের দৃষ্টিগোচর হয় ১৯৫৭ সালে নির্মানকাজ সম্পন্ন হবার পর, কেননা ইতোমধ্যে বহুবার চাইনিজ কর্তৃপক্ষ ভারতকে আশ্বস্ত করেছিল যে সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড ভারতীয় সীমানা লঙ্ঘন করবে না।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-2280 size-full" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/main-qimg-b2e428b861cb12b65406aa3f9e536fd3-c.jpg" alt="১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ " width="602" height="442" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/main-qimg-b2e428b861cb12b65406aa3f9e536fd3-c.jpg 602w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/main-qimg-b2e428b861cb12b65406aa3f9e536fd3-c-300x220.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/11/main-qimg-b2e428b861cb12b65406aa3f9e536fd3-c-86x64.jpg 86w" sizes="auto, (max-width: 602px) 100vw, 602px" /></p>
<h4><strong>অরুণাচল</strong> <strong>প্রদেশ</strong><strong>:</strong></h4>
<p>১৯১৪ সালে সিমলা সম্মেলনে প্রস্তাবিত ম্যাকমাহন লাইন অরুণাচল প্রদেশ তথা নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এরিয়াকে (নেফা) ভারতের অন্তর্ভূক্ত করে। ম্যাকমাহন লাইনকেও অস্বীকৃতি জানানোর ফলস্বরূপ চীন আরুণাচল প্রদেশকে নিজের অংশ হিসেবে মনে করে । ১৯৫৯ সালের আগে খুব একটা জোরালো দাবি না তুললেও দালাই লামার ভারতে আশ্রয় লাভের পর ক্ষুব্ধ চীন এক প্ররোচনামূলক পদক্ষেপে জাতীয় মানচিত্রে আরুণাচল প্রদেশ ও নেফাকে অন্তর্ভূক্ত করে।</p>
<p>তিব্বত অধিগ্রহন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনের কর্মতৎপরতায় ভারত-সরকারের টনক নড়ে। তারা কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়, যার ফলস্বরূপ ১৯৫৪ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সংগঠিত হয়। আলোচনায় আকসাই চিন ও নেফাকে অন্তর্ভূক্ত করে একটি ভারতীয় মানচিত্র প্রস্তাবিত হয়, যা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃত হয়। এই সময়েই নেহেরু “হিন্দি-চীনি ভাই-ভাই” স্লোগান প্রচার করেন। কিন্তু সীমান্তে চীনের কথা ও কাজের মিল না থাকায় ভারতীয়দের মনে চীনের অভিসন্ধি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। ১৯৫৭ সাল নাগাদ ভারত স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে যে সীমান্ত নিয়ে চীনের আশ্বাস প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এদিকে দালাই লামাকে আশ্রয় দানের পর থেকে তিব্বত-সংলগ্ন সীমান্তে চৈনিক ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে ঘনঘন সংঘর্ষ হতে থাকে, যার একটিতে ভারতের নয়জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়। চীনের সাথে অধোগামী সম্পর্ক এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি ভারতকে বাধ্য করে চীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক কূট-নৈতিক তৎপরতা হাতে নিতে, যার মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে একঘরে হয়ে থাকা চীনের উপর সীমান্ত-সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য চাপ বাড়ানো এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে পাশে পাওয়া।</p>
<p>অপরদিকে চীন অনেকদিন ধরেই সন্দেহ করছিল তিব্বতে অস্থিতিশীলতার পিছনে ভারতের মদদ আছে। ১৯৫৯ সালে ভারত দালাই লামাকে আশ্রয় দিলে এই সন্দেহ নিশ্চয়তায় পরিণত হয়। একই সালে সীমান্তে চীনকে মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ভারত ‘সম্মুখ নীতি’ গ্রহন করে। এই নীতির অংশ হিসাবে ভারত বিতর্কিত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনা মোতায়েন এবং বিভিন্ন স্থানে চৌকি নির্মান শুরু করে, যার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিল ম্যাকমাহন লাইনের উত্তরে অর্থাৎ চীন নিয়ন্ত্রত এলাকায়।</p>
<p>ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল চীনের সাথে টানাপোড়েন সীমান্তে ও কূট-নৈতিক মহলে অকিঞ্চিৎকর বিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং সম্মুখ-সমর পর্যন্ত কখনোই গড়াবে না। কারণ ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের প্রতি মৌখিক সমর্থন জানিয়েছিল। তাছাড়া চীন এসময় তাইওয়ানের জাতীয়তাবাদী সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিচলিত ছিল। ভারতের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, এরূপ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভারতীয় মূল ভূ-খণ্ডে আক্রমণের মত দু:সাহসী সিদ্ধান্ত চীন নেবে না আর নিলেও ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মত শক্তিশালী মিত্রকে পাশে পাবে।</p>
<p>কিন্তু চীনের শাসকগোষ্ঠী তিব্বতের ব্যাপারে কোন আপস করতে রাজি ছিল না এবং তিব্বতের উপর দৃঢ় আধিপত্যের জন্য আকসাই চিন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিয়ে ভারতের সকল তৎপরতা তাদের কাছে মূঢ় স্পর্ধা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ভারতকে সমীচীন জবাব দেওয়া হয়ে ওঠে নিছক সময় ও সুযোগের ব্যাপার।</p>
<p>চীন কয়েক মাস ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। ১৯৬২ সালের ২৩শে জুন, আমেরিকার মধ্যস্থতায় চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা সাময়িক ভাবে প্রশমিত হলে চীন বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম তিব্বতে ভারতীয় সীমান্ত বরাবর মোতায়েন করে। এমনকি, চীন আসন্ন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কলকাতা বন্দর ব্যাবহার করে বিপুল পরিমাণে বেসামরিক রসদ তীব্বতে প্রেরণ করে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে ভারতীয় নেতৃত্ব কিছুই আন্দাজ করতে পারেনি, সোজাসাপটা ভাষায় চীন ভারতের নাকের ডগায় বসে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। এখন শুধু মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষা।</p>
<p>অতঃপর, ১৯৬২ সালের ১৬ই অক্টোবর শুরু হয় ‌’কিউবান মিসাইল সংকট’, সম্ভবত প্রায় অর্ধ-শতাব্দী ধরে চলা শীতল যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনা যেখানে এক পরাশক্তি সরাসরি অবস্থান নেয় অপর পরাশক্তির বিপরীতে এবং মানবসভ্যতা অবস্থান নেয় পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে। গণচীন ঠিক এই রকম একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দূর প্রাচ্যে ঘটে যাওয়া কোন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না, কেননা সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধের তুলনায় চীন-ভারত যুদ্ধ ছিল নিতান্তই নগন্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india-part-2/">দ্বিতীয় পর্ব</a></p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-8070" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg" alt="" width="1080" height="1080" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook.jpg 1080w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-150x150.jpg 150w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-300x300.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-768x768.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2018/06/see-first-facebook-1024x1024.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1080px) 100vw, 1080px" /></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india/">১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ (১ম পর্ব)</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/1962-war-between-china-and-india/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
