<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Linux Archives - ইতিবৃত্ত</title>
	<atom:link href="https://itibritto.com/tag/linux/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://itibritto.com/tag/linux/</link>
	<description>বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র</description>
	<lastBuildDate>Thu, 02 Nov 2017 16:16:25 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>
	<item>
		<title>মুক্ত হোক সফটওয়্যার</title>
		<link>https://itibritto.com/libre-software/</link>
					<comments>https://itibritto.com/libre-software/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[মৃন্ময় আকাশ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 28 Oct 2017 08:30:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রযুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[Free Software]]></category>
		<category><![CDATA[GNU]]></category>
		<category><![CDATA[Linux]]></category>
		<category><![CDATA[ওপেন সোর্স]]></category>
		<category><![CDATA[গ্ন্যু]]></category>
		<category><![CDATA[প্রোগ্রামিং]]></category>
		<category><![CDATA[মুক্ত সফটওয়্যার]]></category>
		<category><![CDATA[রিচার্ড স্টলম্যান]]></category>
		<category><![CDATA[লিনাক্স]]></category>
		<category><![CDATA[স্বাধীনতা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://itibritto.com/?p=1358</guid>

					<description><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1079" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="A bird flying in freedom" decoding="async" fetchpriority="high" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920-1024x575.jpg 1024w" sizes="(max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1079;" /></div>
<p>মুক্ত সফটওয়্যার হতে হবে সবার জন্য উন্মুক্ত। সবাই নিজের মত তা পাল্টে নিতে পারবে, নিজের ইচ্ছেয় অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবে। কোন বাঁধানিষেধ থাকবে না, কোন অনৈতিক কপিরাইট পারবে না ব্যবহারকারীকে আটকাতে। কিন্তু মুক্ত সফটওয়্যারের ব্যবহারের জন্য সবার আগে যা লাগবে তা হলো একটি মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম।</p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/libre-software/">মুক্ত হোক সফটওয়্যার</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-bottom:20px;"><img width="1920" height="1079" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920.jpg" class="attachment-post-thumbnail size-post-thumbnail wp-post-image" alt="A bird flying in freedom" decoding="async" loading="lazy" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920.jpg 1920w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/gull-1635683_1920-1024x575.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 1920px) 100vw, 1920px" style="aspect-ratio: 1920/1079;" /></div><p style="text-align: center">১.</p>
<p>একটা কম্পিউটার সিস্টেম অনেকধরনের যন্ত্রপাতি মিলে তৈরী হয়। সেখানে একটা প্রসেসর থাকে যার কাজ হচ্ছে হিসেব-নিকেশ এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রন করা। এই যন্ত্রটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে অনেকে কম্পিউটার বলতে প্রসেসরকে বুঝায়। কারন কম্পিউটারের অন্য যে কোন অংশ সরিয়ে নিলেও তাকে কম্পিউটার বলা যায়, কিন্তু প্রসেসর ছাড়া কোন কিছুকে কম্পিউটার বলা সম্ভব নয়।</p>
<p>কম্পিউটারের বাকি সব অংশ ঘুরে ফিরে এই প্রসেসরের সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত থাকে। এই সবকিছুকে আলাদা আলাদা ভাবে নিয়ন্ত্রন করা বড় হ্যাপার কাজ। এদের কয়েকটা ইনপুট দেয়, সেগুলো থেকে আউটপুট পাওয়া যায় অন্য কোথাও, মাঝখানে অসংখ্য হিসেব-নিকেশ, উলট-পালট হয়। কম্পিউটারকে দিয়ে কোন কাজ করাতে গেলে সেটা করা হয় একটা প্রোগ্রাম লিখে। যদি আমাদের প্রোগ্রামের কম্পিউটারের এই প্রত্যেকটি যন্ত্রকে আলাদা আলাদা ভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হতো তাহলে দিনশেষে প্রোগ্রামারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া অত্যন্তু দুষ্কর একটি কাজ হতে পারতো।</p>
<p>সেই সমস্যায় পড়তে হয় না তার কারন কম্পিউটারের গভীরে চলতে থাকা জটিল জটিল প্রক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম থাকে, যাকে বলা হয় অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার। যেহেতু অপারেটিং সিস্টেম একজন ব্যবহারকারীর সাথে কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির যোগাযোগের কাজটি করে দেয় তাই একটি সফটওয়্যার তৈরী করতে গিয়ে প্রোগ্রামারদের খুব একটা ভাবতে হয় না।</p>
<p>একটি কম্পিউটারের জন্য ভালোরকমের অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করা খুব সহজ একটা কাজ নয়। কম্পিউটারের ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকে যা হতো তা হচ্ছে একেক কোম্পানি একেকভাবে কম্পিউটার তৈরী করতো। ঘুরেফিরে তারা সবাই কাজ করতো একই উপায়ে, কিন্তু একজনের সাথে অন্যজনের কোন মিল নেই। এই কারনে তখন প্রত্যেকটা কম্পিউটার সিস্টেমের জন্য আলাদা আলাদা অপারেটিং সিস্টেম বানাতে হতো।</p>
<p>তেমনই একটি কম্পিউটার সিস্টেম ছিলো PDP-10।</p>
<p>সেটা তখনকার কথা যখন ইন্টারনেট বলতে কিছু ছিলো না। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামারদের কিছু ছোট ছোট গ্রুপ তৈরী হয়েছিলো যারা পারলে একটা সিস্টেমের কঙ্কাল তো দূরের কথা পারলে ডিএনএ এর ভেতর ঢুকে যায়। এই গ্রুপগুলোর উদ্দেশ্যই ছিলো একসাথে মিলে নানারকম মজার মজার কাজ করা এবং একজন অন্যজনকে নিজেদের কাজগুলো দেখানো।</p>
<p>এই ছোট ছোট কমিউনিটিগুলো প্রায় একইসাথে গড়ে উঠলো এবং বাড়তে থাকলো। দুঃখজনকভাবে তাদের একদলের অপরদের সাথে যোগাযোগ করার কোন উপায় ছিলো না। ওরা যে জায়গাগুলোতে বেড়ে উঠতে লাগলো সেগুলো ছিলো এম.আই.টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্নেগি-মেলন বিশ্ববিদ্যালয়। এম.আই.টি বা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবের এই কমিউনিটিটা একসময় নিজেদের &#8216;হ্যাকার&#8217; বলে ডাকতে শুরু করলো। এবং এই ছোট কমিউনিটিগুলো তাই ইতিহাসের মত প্রথমবারের মত তৈরী করলো হ্যাকারদের সংস্কৃতি।</p>
<p>এখানে একটা কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ যে আজকাল যোগাযোগ মাধ্যমের কারনে যারা হ্যাকার বলে সাধারনভাবে পরিচিত তারা সত্যিকার অর্থে হ্যাকার নয়। হ্যাকাররা কেবলমাত্র আনন্দের জন্য কম্পিউটার সিস্টেম ভেঙেচুরে নিজের মত তৈরী করে, যা করলে হয়তো কোন কাজ হবে কিংবা যা করলে হয়তো কোন কাজ হবে না কোনকিছুই তাদের কৌতূহলের বাইরে নয়। আমরা যাদের হ্যাকার বলে থাকি তাদের কাজ কোন সিস্টেমের নিরাপত্তায় ত্রুটি খুঁজে বের করে সেখানে অনুপ্রবেশ করা, সেটা যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। সত্যিকারের হ্যাকাররা এই দলটিকে বলে থাকেন &#8216;ক্র্যাকার&#8217;।</p>
<p>১৯৬৯ সালে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ARPANET, যে প্রজেক্ট থেকে পরে একসময় ইন্টারনেটের জন্ম হবে, এর মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হলো। আমরা একটু আগেই যে PDP-10 সিস্টেমের কথা বলেছি, তখন কম্পিউটার গবেষণাগারগুলোর অধিকাংশই সেই সিস্টেম ব্যবহার করতো। PDP-10 এর জন্য যদিও একটি সাধারন অপারেটিং সিস্টেম ছিলো, কিন্তু সবাই নিজেদের সুবিধের জন্য নিজেরাই একটি করে অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করে নিয়েছিলো। যখন তারা ARPANET দিয়ে যুক্ত হয়ে গেলো, তখন দেখা গেলো এই নেটওয়ার্কটি নিয়ন্ত্রণ করার মত যথেষ্ট আগ্রহ তেমন কারোরই নেই। সেই কাজটি নিয়ে নিলেন আমাদের PDP-10 হ্যাকাররা।</p>
<p>এবং আস্তে আস্তে তৈরী হতে লাগলো হ্যাকার আন্দোলন। তারা একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করার উপায় পেয়ে গেলো। এই অসাধারন দলটি আস্তে আস্তে গড়ে তুলতে লাগলো একটি সংস্কৃতি। তারা একজন আরেকজনের সাথে নিজেদের করা কোড আদান-প্রদান করতে শুরু করলো, একজন আরেকজনের কাজ ব্যবহার করতে লাগলো। এম.আই.টির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারের PDP-10 ব্যবহার করতো যে অপারেটিং সিস্টেম তার নাম ছিলো ITS, একটা টাইম-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম, অনেকদিন  ধরে হ্যাকররা সে সিস্টেমটি আস্তে আস্তে উন্নত করে যাচ্ছিলেন।</p>
<p>এবং ১৯৭১ সালে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবে প্রোগ্রামার হিসেবে যোগ দিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র, রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">২.</p>
<p>রিচার্ড স্টলম্যান এম.আই.টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারে যে কাজটি করতেন তা হচ্ছে ITS অপারেটিং সিস্টেমকে উন্নত করার কাজে সাহায্য করা। অসাধারন একজন প্রোগ্রামার, প্রায় খ্যাপাটে, যা হবার তাই হলো। স্টলম্যান খুব সহজেই হ্যাকার সমাজে ঢুকে গেলেন। সবাই তাকে চিনতো rms নামে।</p>
<p>এটা বলার প্রয়োজন থাকে না যে এই পরিবেশ রিচার্ড স্টলম্যানের মত একজনের কাছে কতটা আকর্ষণীয় ছিলো। সফটওয়্যার আদান-প্রদান নতুন কিছু নয়, কিন্তু হ্যাকাররা এই কাজটা যেভাবে করতো সেটা ছিলো অন্য মাত্রায়। স্টলম্যান পুরো বিষয়টায় এতটাই ডুবে গেলেন যে ১৯৭৪ সালে পড়াশুনার প্রথম ধাপ শেষ করে তিনি নিজের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড ছেড়ে চলে এলেন এম.আই.টি. তে।</p>
<p>অন্ধকার ঘনিয়ে এলো খুব তাড়াতাড়ি।</p>
<p>বিপক্ষের সাথে যুদ্ধ জয়ের জন্য কিছু কিছু সফটওয়্যার কোম্পানি আস্তে আস্তে নিজেদের সফটওয়্যারের উপর কপিরাইট বসাতে শুরু করলো। যারা সফটওয়্যারগুলো কিনবে তারা না এগুলোকে নিজের মত পাল্টে নিতে পারবে, না অন্যদের মাঝে বিতরণ করতে পারবে। যে হ্যাকার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সহযোগীতার মাধ্যমে তাদের কাছে এই আচরণ একেবারেই নতুন। যেখানে তারা শিখে এসেছে প্রতিবেশীকে পরিবারের সদস্যের মত চিন্তা করতে সেখানে বলা হলো তোমার প্রতিবেশী গোল্লায় যাক তাকে একবেলার লবনও ধার দেওয়া যাবে না।</p>
<figure id="attachment_1362" aria-describedby="caption-attachment-1362" style="width: 482px" class="wp-caption alignleft"><img decoding="async" class=" wp-image-1362" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/maxresdefault-300x169.jpg" alt="রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান।" width="482" height="271" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/maxresdefault-300x169.jpg 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/maxresdefault-768x432.jpg 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/maxresdefault-1024x576.jpg 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/maxresdefault.jpg 1920w" sizes="(max-width: 482px) 100vw, 482px" /><figcaption id="caption-attachment-1362" class="wp-caption-text">রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান।</figcaption></figure>
<p>পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে গেলো যখন ১৯৮১ সালে এম.আই.টি. ল্যাবের প্রায় সব হ্যাকার সিম্বলিক্স নামের একটি কোম্পানিতে যোগ দিতে চলে গেলো। পরের বছর আরেকটি PDP-10 কেনা হলো, কিন্তু প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো ওতে ITS অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার না করে ডিজিটাল কোম্পানির একটি কপিরাইট করা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেছে, PDP-10 এর থেকে অনেক ভালো কম্পিউটার আসতে শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি এই সিস্টেমই এম.আই.টি. নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার থেকে সরিয়ে দিলো। এত বছর ধরে তৈরী করা ITS এর সব কাজ গেলো পানিতে।</p>
<p>নতুন যুগ আসবেই। কিন্তু নতুন যুগের কম্পিউটারগুলোতে যে অপারেটিং সিস্টেমগুলো ছিলো সেগুলোতে ব্যবহারকারীর কোন স্বাধীনতা ছিলো না। না তাদের সুযোগ ছিলো সফটওয়্যারগুলোর কোড দেখার কিংবা নিজের মত পাল্টে নেওয়ার। অনেকে কেন এটা কোন অপরাধ নয় তার পিছনে যুক্তি দেখাতে লাগলেন, কিন্তু সেই রিচার্ড স্টলম্যানের মনে হতে লাগলো কোনটাই ঠিক উপযুক্ত হচ্ছে না।</p>
<p>নিজের হ্যাকার সম্প্রদায় যখন প্রায় বিলুপ্ত তখন রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান এরপর কী করা যায় তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে শুরু করলেন। বেশ কিছু সম্ভাবনা তার মাথায় খেলতে লাগলো। তিনি কোন একটি আবদ্ধ নীতির সফটওয়্যার, যাকে আজ বলা হয় প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যার, এর জগতে প্রবেশ করতে পারতেন। কখনো তিনি আর পারবেন না নিজের কাজ সঙ্গী হ্যাকারদের মাঝে আদানপ্রদান করতে। দুঁদে প্রোগ্রামার স্টলম্যান, ইন্ডাস্ট্রির জন্য কোড লিখে তিনি যে কম কামাতেন না তা বুঝাই যাচ্ছে।</p>
<p>কিন্তু এও তার মনে হতে লাগলো এভাবে পৃথিবীকে ভাগ করে দিয়ে তিনি জীবনের শেষ মূহুর্তগুলো কি শান্তিতে থাকতে পারবেন?</p>
<p>আরেকটি খুব সহজ উপায় ছিলো কম্পিউটার এর জগত থেকেই দূরে সরে আসা। কিন্তু স্টলম্যান বুঝলেন এই কাজ করলে কিছু একটা করে জীবন হয়তো চলে যাবে, কিন্তু তার দক্ষতার ভাগ্যে রইবে  আজীবন নির্বাসন।</p>
<p>১৯৮০ সালে এম.আই.টি. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবে নতুন একটি লেজার প্রিন্টার লাগানো হলো, জেরক্স ৯৭০০। এর আগের লেজার প্রিন্টারটির প্রোগ্রাম রিচার্ড স্টলম্যান সকলের সুবিধের জন্য পাল্টে নিয়েছিলেন। কেউ ধরা যাক একটা কিছু প্রিন্ট করতে দিয়ে অন্য কাজ করছে, প্রিন্ট শেষ হলেই প্রিন্টারটি সাথে সাথে তাকে ম্যাসেজ করে জানিয়ে দিতে পারতো কাজ শেষ। এছাড়া ধরা যাক কোন কারনে যন্ত্রটিতে কোন ঘাপলা হয়েছে, তাহলে সব ব্যবহারকারী এই খবর পেয়ে যেতো। নতুন প্রিন্টারটি ঠিক এভাবে পাল্টে নেওয়ার জন্য সফটওয়্যারের সোর্স কোডটি স্টলম্যানরা চাইলেন। কিন্তু কিছুতেই তাদের সেটি দেওয়া হলো না! এরকম তিনি আশা করেননি। তিনি বুঝে গেলেন পৃথিবীর সব মানুষকে এভাবে বঞ্চিত করে তিনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না।</p>
<p>রিচার্ড স্টলম্যান একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন। সফটওয়্যারকে মুক্ত করতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">৩.</p>
<p>মুক্ত সফটওয়্যার হতে হবে সবার জন্য উন্মুক্ত। সবাই নিজের মত তা পাল্টে নিতে পারবে, নিজের ইচ্ছেয় অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবে। কোন বাঁধানিষেধ থাকবে না, কোন অনৈতিক কপিরাইট পারবে না ব্যবহারকারীকে আটকাতে। কিন্তু মুক্ত সফটওয়্যারের ব্যবহারের জন্য সবার আগে যা লাগবে তা হলো একটি মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম।</p>
<p>রিচার্ড স্টলম্যান বুঝতে পারলেন এই কাজটি তাকেই করতে হবে, কারন তিনি একজন অপারেটিং সিস্টেম প্রোগ্রামার। তখনকার সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম ছিলো বেল ল্যাবরেটরিতে কেন থম্পসন এবং ডেনিস রিচির তৈরী করা UNIX। স্টলম্যান সিদ্ধান্ত নিলেন এই ইউনিক্সের উপর ভিত্তি করেই তিনি মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমটি তৈরী করবেন যেন ইউনিক্স ব্যবহারকারীরা সহজেই সিস্টেমটিতে কাজ করতে পারে। অপারেটিং সিস্টেমটির নাম দেওয়া হলো হ্যাকারদের একটি ঐতিহ্যবাহী উপায়ে, GNU, যার মানে হচ্ছে GNU is Not Unix। গ্ন্যু ইউনিক্স নয়!</p>
<figure id="attachment_1359" aria-describedby="caption-attachment-1359" style="width: 343px" class="wp-caption alignright"><img decoding="async" class=" wp-image-1359" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1200px-Heckert_GNU_white.svg-300x293.png" alt="GNU" width="343" height="335" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1200px-Heckert_GNU_white.svg-300x293.png 300w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1200px-Heckert_GNU_white.svg-768x751.png 768w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1200px-Heckert_GNU_white.svg-1024x1001.png 1024w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1200px-Heckert_GNU_white.svg.png 1200w" sizes="(max-width: 343px) 100vw, 343px" /><figcaption id="caption-attachment-1359" class="wp-caption-text">গ্ন্যু এর লোগো, এই প্রাণীটির নাম ও গ্ন্যু</figcaption></figure>
<p>কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম তো কেবল অপারেটিং সিস্টেম নয়, তার সাথে আরও অনেকরকম সফটওয়্যার থাকে। প্রোগ্রামারদের জন্য এডিটর, কম্পাইলার, ডিবাগার থাকবে। হয়তো একটি সুন্দর চেহারা থাকবে। সবার জন্য গান শুনা, ভিডিও দেখা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। কেউ কেউ আবার মাঝে মাঝে গেম-টেমও খেলতে চায়।</p>
<p>তাছাড়া এত বড় একটা অপারেটিং সিস্টেম বানানো কম ঝক্কির কাজ নয়। তাই স্টলম্যান সিদ্ধান্ত নিলেন যেখান থেকে পারেন সেখান থেকে কোড এনে নিজের কাজ কমানোর। যেমন গ্ন্যু এর জন্য তিনি নতুন কোন উইন্ডো সিস্টেম না বানিয়ে আগে থেকেই তৈরী করা এক্স উইন্ডো সিস্টেম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলেন।</p>
<p>এম.আই.টি. তে চাকুরিরত অবস্থায় থাকলে সে সময় স্টলম্যান যে কাজ করেছেন সেটা পুরোপুরি এম.আই.টি.র দখলে চলে যেতে পারে, তখন তার আর কিছুই করার থাকবে না। তাই ১৯৮৪ সালে রিচার্ড স্টলম্যান এম.আই.টি. তে তার চাকুরিটি ছেড়েই দিলেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক উইনস্টন চাকুরি না থাকলেও স্টলম্যানকে ল্যাবের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে দিলেন।</p>
<p>স্টলম্যান অপারেটিং সিস্টেম বানানোর কাজ শুরু করলেন।</p>
<p>প্রোগ্রাম লিখতে হলে প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হচ্ছে একটি এডিটর। ১৯৮৪ এর সেপ্টেম্বরে স্টলম্যান Emacs নামের একটি এডিটর বানানোর কাজ শেষ করলেন এবং পরের বছরের শুরুর দিকে সেটি মোটামুটি ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠলো।</p>
<p>প্রোগ্রাম লিখবে প্রোগ্রামাররা, সেটি কম্পিউটারের ভাষায় অনুবাদ করার কাজটি যে করে তাকে বলা হয় কম্পাইলার। এডিটর হলো, এবার একটি কম্পাইলার লাগবে। প্যাস্টেল নামের একটি কম্পাইলার থেকে স্টলম্যান নিজের কম্পাইলার তৈরী করতে গিয়ে দেখলেন সেটির ডিজাইন এমনভাবে করা যে তখনকার ইউনিক্সে সিস্টেমে এটা চলতেই পারবে না। প্রচন্তু একরোখা লোক রিচার্ড স্টলম্যান। একেবারে শূন্য থেকে তিনি কম্পাইলার লেখা শুরু করলেন। তৈরী হলো GCC, GNU Compiler Collection, যা একাধিক প্রোগ্রামিং লেঙ্গুয়েজকে কম্পাইল করতে পারতো।</p>
<p>Emacs এডিটর এর ব্যবহারকারী বাড়তে লাগলো, স্টলম্যানের কাজে অন্যরাও আগ্রহ দেখাতে শুরু করলেন। তারা সবাই মিলে তাই ১৯৮৫ সালে তৈরী করলেন মুক্ত সফটওয়্যার সংগঠন কিংবা Free Software Foundation, যার কাজ সফটওয়্যার ব্যবহারের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করা এবং মুক্ত সফটওয়্যার সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। স্টলম্যানের সাথে গ্ন্যু তৈরীর কাজে তাদের সবাই যোগ দিলেন।</p>
<p>১৯৯০ সালের দিকে মোটামুটি সব কাজ শেষ হয়ে গেলো, কেবল একটি কাজ বাদে। প্রত্যেকটা অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটির নাম হচ্ছে কার্নেল। কার্নেলের কাজ হচ্ছে সফটওয়্যারের সাথে হার্ডওয়্যারকে যুক্ত করা এবং যা রিসোর্স আছে তা ঠিকমত ব্যবহার করা। Mach মাইক্রোকার্নেলের উপর ভিত্তি করে গ্ন্যু এর কার্নেল Hurd বানানোর কাজ শুরু হলো, তার নেতৃত্বে মাইকেল বুশনেল। কিন্তু এ কাজ একটু ধীরগতিতে এগুতে লাগলো।</p>
<figure id="attachment_1360" aria-describedby="caption-attachment-1360" style="width: 236px" class="wp-caption alignleft"><img loading="lazy" decoding="async" class=" wp-image-1360" src="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1444835774tux-275x300.jpg" alt="linux penguin" width="236" height="257" srcset="https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1444835774tux-275x300.jpg 275w, https://itibritto.com/wp-content/uploads/2017/10/1444835774tux.jpg 400w" sizes="auto, (max-width: 236px) 100vw, 236px" /><figcaption id="caption-attachment-1360" class="wp-caption-text">লিনাক্সের লোগো, একটি পেঙ্গুইন</figcaption></figure>
<p>ইউনিক্স ভিত্তিক একটি কার্নেল ছিলো মিনিক্স, যা কেবলমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতো। মিনিক্সের কোড সেসময় উন্মুক্ত থাকা সত্ত্বেও এর লাইসেন্সের কিছু বিধি-নিষেধের কারনে মিনিক্স পুরোপুরো মুক্ত সফটওয়্যার ছিলো না। যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মিনিক্স ব্যবহার করতো তাদের একটি ছিলো ফিনল্যান্ডের হেলনিসকি বিশ্ববিদ্যালয়। হেলনিসকির এক ছাত্র ছিলেন লিনাস টরভাল্ডস। মিনিক্সের লাইসেন্স নিয়ে লিনাস বড়ই হতাশ ছিলেন, তাই তিনি ঠিক করলেন নিজেই একটি কার্নেল লিখে ফেলবেন। তার কাজ শুরু হলো এবং ১৯৯১ সালে চলে এলো লিনাস টরভাল্ডস এর তৈরী করা কার্নেল বিখ্যাত লিনাক্স।</p>
<p>লিনাক্স পুরোপুরি ইউনিক্স সিস্টেমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো এবং ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন দেখলো নতুন করে এখন হার্ড কার্নেল বানানোর কোন প্রয়োজনই নেই, কাজের উপযুক্ত একটি কার্নেল চলে এসেছে। তাই গ্ন্যু এর টুলগুলো লিনাক্সের সাথে যুক্ত করে ১৯৯২ সালে জন্ম হলো একটি একশভাগ অপারেটিং সিস্টেমের, GNU/Linux।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">৪.</p>
<p>মুক্ত সফটওয়্যার ঠিক কাদের বলা হয় তা নিয়ে অনেকের দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। একটি বড় সংশয়ের কারন হলো ইংরেজি Free দিয়ে মুক্ত কিংবা স্বাধীন যেমন বুঝায় তেমন বিনামূল্যও বুঝানো যায়। একটা জিনিস তাই সম্পূর্ন ভাবে বলে রাখা উচিৎ যে Free Software মানে মুক্ত সফটওয়্যার, বিনামূল্যে পাওয়া সফটওয়্যার নয়। যেসব সফটওয়্যার মুক্ত কিংবা স্বাধীন ব্যবহারের উপযুক্ত নয় কিন্তু বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাদের সঠিক নাম হচ্ছে Freeware।</p>
<p>তাহলে একটি সফটওয়্যারকে কখন মুক্ত সফটওয়্যার বলা হবে? তখনই যখন সেটি ব্যবহারকারীকে নিচের চারটি স্বাধীনতা দিয়ে থাকে।</p>
<p><strong>স্বাধীনতা ০:</strong> (কেন শূন্য থেকে শুরু হলো সেটি যাদের প্রোগ্রামিং জ্ঞান আছে তারা বুঝতে পারবে) তুমি যেকোন উদ্দেশ্যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারবে।</p>
<p><strong>স্বাধীনতা ১: </strong>তুমি নিজের মত সফটওয়্যারটি পরিবর্তন করতে পারবে (এর জন্য অবশ্যই সফটওয়্যারের সোর্স কোড মুক্ত থাকতে হবে)।</p>
<p><strong>স্বাধীনতা ২: </strong>তুমি সফটওয়্যারটির কপি অন্যদের মাঝে ইচ্ছেমত বিতরণ করতে পারবে।</p>
<p><strong>স্বাধীনতা ৩: </strong>তুমি সফটওয়্যারটির পরিবর্তিত কপিও ইচ্ছেমত অন্যদের মাঝে বিতরণ করতে পারবে।</p>
<p>এই চারটি হচ্ছে মুক্ত সফটওয়্যারের নীতি। এবার এদের আরেকটু পরিষ্কার করা যাক, বিশেষত শেষের দুটো কথা।</p>
<p>সফটওয়্যার নিজের ইচ্ছেমত বিতরণ করা মানে তাই, নিজের ইচ্ছেমত বিতরণ করা। কেউ যদি আমাদের কাছে এসে সফটওয়্যারের একটি কপি চায় এবং আমরা দিতে অস্বীকার করি তাহলে সেটা মুক্ত সফটওয়্যারের নীতিবিরুদ্ধ নয়। ভোটের সময় এলেই একটি পংক্তি টেলিভিশনে শুনা যায় যেটি আমরা এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারি &#8220;আমার সফটওয়্যার আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো&#8221;।</p>
<p>এবার একটি বড় ধাক্কা সকলের জন্য। মুক্ত সফটওয়্যার মানেই বিনামূল্যে পাওয়া সফটওয়্যার নয়!</p>
<p>কেউ যদি সফটওয়্যার বিতরণের জন্য কোন মূল্য নির্ধারন করতে চায় তাহলে অবশ্যই করতে পারে। কেউ যদি এই সফটওয়্যারটি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে সিডিতে ঢুকিয়ে প্রতি কপি হাজার টাকায় বিক্রি করে তাহলেও কোন ক্ষতি নেই। কারন এই সফটওয়্যারটি নিয়ে যা খুশি তা করার অধিকার ব্যবহারকারীর আছে। সত্যি কথা বলতে কি, মুক্ত সফটওয়্যার সংগঠন এই কাজটি করতে উৎসাহ দেয়, কারন এতে পরবর্তীতে আরও কাজ করার জন্য অর্থ উঠে যায়।</p>
<p>যাদের এ নিয়ে মন একটু ইতস্তত করছে যে মুক্ত সফটওয়্যার আবার বিক্রি করে কেমন করে তাদের জন্য একটি ছোট গল্প বলা যাক। স্টলম্যান যখন Emacs প্রথম তৈরী করলেন তখন অনেকেই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠলো। একটা এফ.টি.পি. সার্ভারে যদিও সফটওয়্যারটি স্টলম্যান রেখে দিয়েছিলেন সবার সেটায় প্রবেশ করার সুযোগ ছিলো না, সুতরাং তারা স্টলম্যানকে জিজ্ঞেস করলেন কেমন করে সফটওয়্যারটি পাওয়া যেতে পারে। স্টলম্যান মাত্র এম.আই.টি. তে চাকুরিটি ছেড়েছেন, টাকা পয়সার চিন্তা কিছুটা তো আছেই। তাই তিনি সবাইকে বললেন তাকে ১৫০ ডলার পাঠালেই তিনি একটি ডিস্কে ভরে সফটওয়্যারটি পাঠিয়ে দেবেন।</p>
<p>সত্যি কথা বলতে মুক্ত সফটওয়্যার বিক্রি করা ঠিক সম্ভব নয়, তাই এর দামকে বিক্রয় মূল্য না বলে বলা হয় বিতরণ মূল্য। মুক্ত সফটওয়্যার সংগঠনের আয়ের একটা বড় অংশ আশে সফটওয়্যার বিতরণ করার টাকা থেকে।</p>
<p>রিচার্ড স্টলম্যান যে উদ্দেশ্যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা হচ্ছে সকলের সফটওয়্যার ব্যবহারের স্বাধীনতা। তবে এই কমিউনিটির মাঝে একটা ছোট দ্বিমত তৈরী হলো, এবং ১৯৯৮ এর দিকে তাদের কয়েকজন &#8216;মুক্ত সফটওয়্যার&#8217; এর বদলে &#8216;ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার&#8217; শব্দটি ব্যবহার করা শুরু করলেন।</p>
<p>বাইরে থেকে দেখলে মুক্ত সফটওয়্যার এবং ওপেস-সোর্স সফটওয়্যার প্রায় একই জিনিস। কিন্তু অর্থের দিক থেকে তারা এক নয়। মুক্ত সফটওয়্যার হচ্ছে সেগুলো যা ব্যবহার করার অধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত। মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন, একটি বিভেদহীন সমাজ সৃষ্টি করার পথে পদক্ষেপ। ওপেন-সোর্সের কথা হচ্ছে যদি ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার উন্নত করার সুযোগ দেওয়া যায় তাহলে আরও ভালো এবং শক্তিশালী একটি সফটওয়্যার পাওয়া সম্ভব, তাই সফটওয়্যারের সোর্স কোডটি সবার জন্য ওপেন করে দাও। এটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করার একটি পদ্ধতি।</p>
<p>মুক্ত সফটওয়্যার আদর্শ দ্বারা পরিচালিত একটি মানবিক আন্দোলন। ওপেস সোর্সের সমর্থকরা এর প্রচার করতে গিয়ে এই আদর্শগুলো তুলে ধরতে ভুলে যান। এবং এ নিয়েই মুক্ত সফটওয়্যার সংগঠনের আপত্তি। প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যারকে মানুষ স্বাভাবিক সমাজব্যবস্থার অংশ হিসেবে মনে করতে শুরু করেছে, মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের উদ্দেশ্য তা ভেঙে দেওয়া। তাই যদি মনে করিয়ে দেওয়া না হয় কেন সফটওয়্যারের সোর্স কোড উন্মুক্ত, তাহলে মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সন্দিহান রয়ে যাবে।</p>
<p>তবে মুক্ত সফটওয়্যার এবং ওপেন-সোর্স একে অপরের শত্রু নয়। খুব সহজেই এই দুই দল একসাথে কাজ করতে পারে, কারন দিন শেষে তাদের গতিপথ এক। শত্রু ওরা যারা ব্যবহারকারীদের তারা কী ব্যবহার করছে তা জানতে এবং বাছাই করার পথ বন্ধ করে রেখেছে এবং মানুষকে আটকে রেখেছে সহযোগীতার পথ থেকে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">৫.</p>
<p>এ বিষয়টি এতক্ষনে পাঠকের পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন কেবলমাত্র সফটওয়্যারের স্বাধীনতার আন্দোলন নয়, সফটওয়্যারের &#8216;পরাধীনতা&#8217;র বিরুদ্ধেও আন্দোলন।</p>
<p>তাহলে কেমন হবে যদি কোন সফটওয়্যার কোম্পানি একটি মুক্ত সফটওয়্যারকে পরিবর্তিত করে কিংবা অন্য কিছুর সাথে যুক্ত করে একটি প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে? খুবই বড় একটি বিভ্রান্তি তাহলে তৈরী হয়।</p>
<p>সত্যি বলতে এরকম ঘটনা বহুবার ঘটেছে। গ্ন্যু যে উইন্ডো সিস্টেমটি প্রথমে ব্যবহার করতো সেটা হচ্ছে এক্স উইন্ডো সিস্টেম। একটি উইন্ডো সিস্টেমের কাজ অপারেটিং সিস্টেমকে একইসাথে ডিসপ্লেতে আলাদা আলাদা অংশ ব্যবহার করতে দেওয়া। যাদের এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে তাদের বলে রাখছি, উইন্ডো সিস্টেম এবং মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এক জিনিস নয়।</p>
<p>এক্স উইন্ডো সিস্টেমের কপিরাইট ছিলো উন্মুক্ত, অর্থাৎ যে যেভাবে হোক যেখানে হোক যা করেই হোক সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারবে। এধরনের সফটওয়্যারের উদ্দেশ্য ঠিক সফটওয়্যারের মুক্তি নয়, বরং অসংখ্য ব্যবহারকারী তৈরী করা। এবং কিছু ইউনিক্স সিস্টেম এক্সকে ব্যবহার করতে শুরু করলো একটি প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যার হিসেবে। সুতরাং একে আর ঠিক মুক্ত সফটওয়্যার বলার সুযোগ রইলো না।</p>
<p>প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যার ডেভেলপারদের এই সুযোগ না দেওয়ার জন্য তাই রিচার্ড স্টলম্যান একটি অসাধারন ধারনা তৈরী করলেন, যা কপিরাইট আইনকে ব্যবহার করে কিন্তু উল্টোভাবে। এর নাম দেওয়া হলো কপিলেফট।</p>
<p>সফটওয়্যার কপিলেফট করার মানে হলো এতে মুক্ত সফটওয়্যারের চারটি স্বাধীনতা অবশ্যই বজায় থাকবে। কিন্তু একটি নতুন শর্ত থাকবে, সেটি হচ্ছে &#8216;<em>ব্যবহারকারী সফটওয়্যারটি পরিবর্তন করে একটি প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যার হিসেবে কিংবা এই সফটওয়্যারের কোন অংশ একটি প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যারে ব্যবহার করতে পারবে না।</em><em>&#8216;</em></p>
<p>খুব সহজে বলতে গেলে কপিলেফটের মানে হচ্ছে &#8216;কারও সবকিছুর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, কেবল অপরের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা&#8217;। যেসব লাইসেন্স কপিলেফটের ধারনা ব্যবহার করে তাদের মধ্যে অন্যতম GNU General Public License।</p>
<p>নিজেদের যাত্রাপথে মুক্ত সফটওয়্যারকে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যেমন খুব স্বাভাবিক একটি হলো, মুক্ত সফটওয়্যার কি সত্যিই নৈতিকতার প্রশ্ন কিংবা মানবিকতার বিষয়? সফটওয়্যার প্রোগ্রামারের বুদ্ধিমত্তা থেকে তৈরী তাই এটা কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়?</p>
<p>খুব সহজেই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় একটি উদাহরন থেকে। পাবলো পিকাসো অত্যন্ত বিখ্যাত একজন শিল্পী, অসংখ্য দামে তার শিল্পকর্ম বিক্রি হয় এবং যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তাহলে সেই বিক্রির অধিকার তারই থাকতো। কিন্তু কেমন হবে যদি পাবলো পিকাসো তার আঁকার ধরনকে কপিরাইট করে দিতেন? কিংবা যদি আগাথা ক্রিস্টি গোয়েন্দা গল্পকে কপিরাইট করে নিতেন? কিংবা মাইকেল মধুসূদন বাংলা সনেট লেখার পদ্ধতিটাকে নিজের সম্পত্তি বলে দাবী করতেন?</p>
<p>তা হয় না। যে কেউ পাবলো পিকাসোর মত আঁকার চেষ্টা করে। সত্যি বলতে, কেউ পাবলো পিকাসোর কোন ছবি হুবহু এঁকে বিক্রি করলেও কোন ক্ষতি নেই, তবে তা অবশ্যই নিজের নামে। যদি পিকাসোর আঁকা ছবি বলে বিক্রি করা হয় তাহলে নিঃসন্দেহে এটা ধোঁকাবাজির অপরাধ।</p>
<p>এগিয়ে যাচ্ছে মুক্ত সফটওয়্যার সংগঠন। এফ.এস.এফ. এর তৈরী করা অসংখ্য শক্তিশালী সফটওয়্যার ইতোমধ্যেই আছে, সারা পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ তাদের কাজে জেনে-না জেনে সাহায্য করে যাচ্ছেন। কারন সত্যিকারের শক্তি সহযোগীতায়। জ্ঞানচর্চার সুযোগ গুটিকয়েকজনের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে নিঃসন্দেহে তা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে।</p>
<p>কাজটা একেবারেই সহজ নয়। লিনাক্স কার্নেলের উপযোগীতা বাড়ানোর জন্য তার মাঝে কিছু অবমুক্ত অংশ যুক্ত করা হয়েছিলো, যার সাথে এফ.এস.এফ. পুরোপুরি একমত হতে পারেনি। তবে লিনাক্সের একেবারে মুক্ত একটি ভার্সনও আছে &#8211; লিনাক্স লিবরে। তার উপর লিনাক্সের সাথে জড়িত লোকজন লিনাক্সের উপর তৈরী করা অপারেটিং সিস্টেমগুলোকে বলে লিনাক্স, কিন্তু এফ.এস.এফ.  দাবী করে তাদের ডাকা উচিৎ গ্ন্যু/লিনাক্স। লিনাক্স ফাউন্ডেশন এবং ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশনের মাঝে তাই টক-ঝাল-মিষ্টি সম্পর্ক রয়েছে।</p>
<p>কিন্তু তবু লিনাক্স এবং গ্ন্যু কে কোনভাবেই দুঃসম্পর্কের আত্মীয় ভাবা যাবে না, তারা কাছের লোক। লিনাস টরভালডস যতটা না মুক্ত সফটওয়্যার তার চেয়ে বেশি ওপেন সোর্সের সমর্থক, কিন্তু তিনি নিজেই বলেছেন যদি গ্ন্যু ১৯৯২ এর আগে তাদের কার্নেলটি তৈরী করে ফেলতো তাহলে লিনাক্স তৈরীর কোন প্রয়োজন পড়তো না। মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের খুব বড় একটি অস্ত্র আজ গ্ন্যু/লিনাক্স।</p>
<p>প্রোপ্রায়েটরি সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো এই আন্দোলনকে নিজেদের মত বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করা যাচ্ছে। অসংখ্য সফটওয়্যার আছে যেগুলো লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে চালানোর জন্য উপযুক্ত নয়, অসংখ্য হার্ডওয়্যার নির্মাতা তাদের যন্ত্রাংশের গ্ন্যু/লিনাক্সের জন্য কোন সাপোর্ট দেয় না।</p>
<p>কিন্তু এক রিচার্ড স্টলম্যান আজ হাজার-হাজার হয়ে গেছেন, যাদের সবাই আন্দোলন করে যাচ্ছেন মুক্ত সফটওয়্যারের জন্য। স্টলম্যানের আজ আর ঘরে বসে প্রোগ্রাম করতে হয় না। তিনি সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ান এবং মুক্ত সফটওয়্যারের প্রচারণা করেন। মুক্তির আন্দোলনই তার কাছে বড়, তাই খুবই সাধারন তার জীবনযাপন। লম্বা সময় এম.আই.টি. তে তাকে দেওয়া অফিসকেই নিজের বাসা বানিয়ে রেখেছিলেন পনেরটি অনারারি ডক্টরেট এবং প্রফেসরশিপ পাওয়া মানুষটি। তার উৎসাহের কমতি দেখা যাচ্ছে না অবশ্য, কারনটা আমরা অনুমান করতে পারি।</p>
<p>কারন, মুক্ত হোক সফটওয়্যার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993366"><em>* </em><em>Free Software Foundation </em><em>সম্পর্কে আরও জানার জন্য পাঠক </em><a href="http://www.fsf.org/">http://www.fsf.org/</a><em> এবং </em><a href="http://www.gnu.org/">http://www.gnu.org</a><em> থেকে ঘুরে আসতে পারেন।</em></span></p>
<p><span style="color: #993366"><em>* </em><em>ব্যবহার করা সকল পরিসংখ্যান উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত। উৎসভেদে সেগুলো ভিন্ন হতে পারে।</em></span></p>
<p>The post <a href="https://itibritto.com/libre-software/">মুক্ত হোক সফটওয়্যার</a> appeared first on <a href="https://itibritto.com">ইতিবৃত্ত</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://itibritto.com/libre-software/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
