Ghoul (2018) রিভিউঃ লুকিয়ে থাকা পিশাচের গল্প

Source: geektyrant.com
0

ভারতীয় সিরিজ হঠাৎ করে ব্যাপক আলোচনায় আসে Sacred Games এর সফলতার পর থেকে। Sacred Games এ অসাধারণ সাড়ার পর একই বছর আরেকটি ভারতীয় ৩ পর্বের নেটফ্লিক্স সিরিজ Ghoul. রিভিউ লেখার শুরুতেই বলে নেই Ghoul বলতে আসলে কি বুঝায়!

ঘুল কি? আদৌ কি ঘুল বলতে কিছু আছে কি নেই, সেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে গিয়ে ঘুল নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হয়, ঘুল হচ্ছে একধরনের পিশাচ, খারাপ জীনদের একটি জাত । অনেক সময় Ghoul কে দানবও বলা হয়েছে। যারা নির্জন মরুভূমিতে বা কবরস্থানের আশপাশে থাকে। Ghoul বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। যার রক্ত মাংসের স্বাদ একবার নিবে ঠিক তার রূপ ধারণ করতে পারে। অনেকের মতে ঘুল বলতে রক্ত মাংস খেকো অশরীরী আত্মা। খারাপ প্ররোচিত মানুষদের মাধ্যমে এদের আবির্ভাব ঘটে। তারপর ঘুল তার ইচ্ছেমত রক্ত-মাংস-মানুষ নিয়ে খেলা করে। আর এসব কিছুর গুরু হচ্ছে ইবলিশ শয়তান। ইবলিশ শয়তান খারাপ জিন বা ঘুলদের পরিচালনা করে মানুষের মধ্যে কুমন্ত্রণা আর প্রতিহিংসা ঢুকিয়ে দেয়। যার ফলে মানুষও একে অপরকে খুন করতে দ্বিধাবোধ করেনা।

নিদা রহিম একজন সদ্য মিলিটারি ট্রেইনি অফিসার। নিদা তার কাজের প্রতি খুবই অনুগত। নিদার ট্রেনিং চলাকালেই তার বাবাকে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে সন্দেহে সংশোধনের জন্যে পুলিশের কাছে তুলে দেয়৷ পুরো ডিপার্টমেন্ট নিদাকে সততার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে নেয়। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সে দেশকে টেরোরিস্ট মুক্ত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। নিদা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নির্দোষ মানুষ মেরে যারা নিজের স্বার্থ হাসিল করে, তারা কখনো প্রকৃত মুসলিম হতে পারে না। নিদার কাজের প্রতি একনিষ্ঠতার জন্য ট্রেনিং শেষ হবার পাঁচ সপ্তাহ আগেই তাকে মেঘদূত ৩১ এ এপোয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়, যেখানে টেরোরিস্টদের আটকে রেখে নির্যাতন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নিদা রহিম

নিদা নতুন ক্যাম্পে পৌঁছে জানতে পারে টেরোরিজম এর মূল হোতা আলী সাঈদকে সেখানে বন্দী হিসেবে আনা হচ্ছে। আর আলী সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আনা হয়েছে নিদাকে। নিদা তার যোগ্যতা ও দেশের প্রতি ত্যাগ প্রমাণ করার জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ শুরু করে। তখন থেকে ঘটতে শুরু করে একের পর এক অঘটন। উন্মোচন হতে শুরু নতুন নতুন তথ্য। যে আবু সাঈদকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, খবর এসেছে সেই আবু সাঈদের বাসায় তার নিজের লাশ পাওয়া গেছে। ডিএনএ টেস্ট করে প্রমাণও মিলেছ। তাহলে নিদা যে আবু সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তাহলে জেলখানার ভিতর এ কে? কাকে এরেস্ট করা হলো? পরে অফিসাররা সে রুমের ভিতর প্রবেশ করে দেখে আলী সাঈদ নেই, কিন্তু পড়ে আছে অন্য কিছু। কি পড়ে আছে? কে মানুষ আর কে ঘুল সেটা একটা কনফিউশান সৃষ্টি করবে। মনে রাখা উচিত এক রূপ নিয়ে এরা থাকে না। আশপাশের মানুষের রূপ নিয়েও থাকে। বিশ্বস্ত সহকর্মীকেও একসময় আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না আসলে পাশে যিনি আছে সে মানুষ তো?

 

আলী সাঈদকে নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদের সময়

একের পর এক অঘটনের সম্মুখীন হতে শুরু করে নিদা ও তার টিম মেম্বারদের। নিজেদের মধ্যেই কলহ সৃষ্টি হয় আলী সাঈদের জন্যই। কলহ খুন পর্যন্ত গড়ায়। দর্শকও দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে অনেক সময়। আসলে কেনও হচ্ছে এমন? আর চোখের সামনে দর্শক যাকে দেখতে পাচ্ছেন, আসলে কি সেই? মানুষ? নাকি সেও ঘুল? হরর ধাঁচের হলেও থ্রিলিং এই কাহিনী আর প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দেখতে হবে ২৪ আগস্ট ২০১৮ মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্স ওয়েব সিরিজ Ghoul।

 

শেষ দৃশ্যে নিদা রহিম

প্রচলিত ধারনার ঘুলের মত হরর সিন না থাকলেও গল্পের যথার্থতার জন্য যেটুকু হরর ভাব রয়েছে তা যথেষ্ট মনে হয়েছে। IMBD তে ১০ এ ৭.৩ রিভিউ পেয়েছে প্রথম সপ্তাহে। অভিনয়ের কথা বলতে গেলে রাধিকা আপ্তের অভিনয় বরাবরের মতই অনবদ্য। তার অভিনয়ের পারফেকশন নিয়ে প্রশ্ন না করাই ভালো। সিরিজের মেকিং, এডিটিং অসাধারণ। স্পেশালি সাউন্ড এডিটিংয়ে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে পরিচালক প্যাট্রিক গ্রাহাম। ভারতে বর্তমানে যে নিরীহ মুসলিমদের উপর নির্যাতন চলছে তার প্রচ্ছন্ন একটা ছায়াও পাওয়া যায় পুরো সিরিজজুড়ে।
রাজকুমার রাও কে নিয়ে Trapped ( 2016) সিনেমা করার পর আরেকটি অনবদ্য কাজ Ghoul (2018)।শেষ দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে প্যাট্রিক গ্রাহাম পরবর্তী সিজনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে বলে গেলেন।

 

 

Comments
Loading...